Translate

মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১২

অবশ্য পালনীয় বাসর রাতে

  


বাসর রাত মুমিন জীবনের অন্যতম রাত। যারা পরকীয়া করে, লিভ টুগেদার করে, তারা এ রাতের মর্ম বুঝবে না। যারা বেশ্যা বা বহুগামিতা তাদের কাছে এ রাত বাতুলতা মাত্র। আমরা এ পর্বে বাসর রাতে অবশ্য পালনীয় কিছু টিপ্স নিয়ে আলোচনা করব।
০১. গোলাপ ফুল দিয়ে দুজন দুজনাকে বরণ করে নিতে হবে।
০২. উভয়ই মহান আল্লাহকে যে ভালবাসবেন তা পরিষ্কারভাবে দুজনা বোঝা পড়া করবেন।
০৩. হানিমুনে কোথায় যাবেন তা বাসর রাতেই ঠিক করবেন, সে ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীকে এটা ঠিক করতে হবে যে, সবচেয়ে পৃথিবীর মূল্যবান যায়গা মক্কা মদীনায় যাওয়া এবং ওমরা করার পরিকল্পনা করা।
০৪. ছোট খাট ভুলের জন্য কাউকে তিরষ্কার না করা। কাউকে ছোট না করা।
০৫. কোন পক্ষের আত্নীয় স্বজনকে ছোট না করা, গালি না দেওয়া, অপমান না করা।
০৬. জীবনের প্রথম ভালবাসার রাত, তাই ভালবাসা অক্ষুন্ন রাখা।
০৭. দুজনাতে একটু খোশ গল্প করা, জীবন থেকে কোন গল্প বলা।
০৮. ভবিষ্যত জেনারেশনের ব্যাপারে আলাপ সেরে নেওয়া। তবে বেশী দূর অগ্রসর না হওয়াই ভাল।
০৯. মোহরানা যদি বাকি থাকে সেটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া, অল্প দিনের মধ্যেই মোহরানা পরিশোধ করা। স্ত্রী যদি চাকুরি করে তবে টাইম টেবিলটা নিয়ে একটু পরিষ্কার করা। চাকুরি না করলে ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা বলা।
১০. এ রাতই হল উত্তম ভালবাসার রাত। দুজনার সব আকুতি মেশানো ভালবাসা দিয়ে দুজনাকে জয় করা। কোন ভাবেই যেন ফজরের নামাজ কাজা না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা্। আরো আরো কত কি? সব লিখতে পারলাম না। আমারওতো একটু লজ্জা……………………..


 
ইসলামে নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিয়েই হচ্ছে একমাত্র বৈধ উপায়। বিয়েতে মোহরানা ধার্য করা এবং তা যথারীতি আদায় করার জন্য ইসলামে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে মোহরানা প্রদান করা ফরজ।

কোরআন ও হাদীসের আলোকে মোহরানাঃ

মোহরানা সম্পর্কে কোরআনের বানীঃ

আল্লাহ তায়ালা বলেন,
‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের নিকট যে যৌন স্বাধ গ্রহন কর, তার বিনিময়ে তাদের মোহরানা ফরজ মনে করে আদায় কর।’ (সূরা নিসা-২৪)

আল্লাহ তায়ালা বলেন,
‘অতঃপর নারীদের অভিভাবকের অনুমুতি নিয়ে তাদের বিয়ে কর এবং তাদের মোহর যথাযথভাবে আদায় করে দাও।’ (সূরা নিসা-২৫)

আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“স্ত্রীদের প্রাপ্য মোহরানা আদায় করে দাও, খূশী হয়ে ও তাদের প্রাপ্য অধিকার মনে করে।’ (সূরা নিসা-৪)

অত্র আয়াত সমুহ প্রমাণ করে যে, মোহরানা ফরজ বা আদায় করা অপরিহার্য।

মোহরানা সম্পর্কে রাসুল (সাঃ) এর বানীঃ

উক্ববা ইবনু আমের (রাঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “অবশ্যই পূরণীয় শর্ত হচ্ছে, যার বিনিময়ে তোমরা স্ত্রীর যৌনাঙ্গ নিজেদের জন্য হালাল মনে কর।’ (বুখারী,মুসলিম)

মহানবী (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন মেয়েকে মোহরানা দেয়ার ওয়াদায় বিয়ে করেছে, কিন্তু সে মোহরানা আদায় করার তার ইচ্ছে নেই, সে কেয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে অপরাধী হিসেবে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।’ (মুসনাদে আহমেদ)।

সুতরাং মোহরানা স্ত্রীর এমন একটি প্রাপ্য যা তিনি স্বামীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার আগে পাওনা হন, তবে স্ত্রী (স্বেচ্ছায় ও স্বত:স্ফূর্তভাবে) সময় দিলে বাকি রাখা যাবে। কিন্তু মোহরানার অর্থ আবশ্যিকভাবে পরিশোধ করতে হবে। বিবাহিত স্ত্রীকে অসহায় মনে করে ছলে-বলে-কৌশলে বা অজ্ঞতার সুযোগে মাফ করিয়ে নিলে মাফ না হয়ে তা হবে জুলুম-প্রতারণা। এ জুলুম প্রতিরোধকল্পে মহান আল্লাহপাক ঘোষণা করেন-‘যদি স্ত্রী নিজের পক্ষ থেকে স্বত:প্রবৃত্ত হয়ে মোহরের কিছু অংশ ক্ষমা করে দেয়, তবে তোমরা তা হৃষ্টচিত্তে গ্রহণ করতে পার।’ (সূরা নিসা, আয়াত-৪)।

মোহরানা এককালীন আদায় করতে অক্ষম হলে, উত্তম হল কিছু অংশ নগদ আদায় করে বাকি অংশ পরে আদায় করা, তা ধীরে ধীরে কিস্তিতে পরিশোধ করা। তবে মোহরানা নির্ধারণ করতে হবে স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী যাতে তিনি সহজেই তা পরিশোধ করতে পারেন। কিন্তু বর্তমান সমাজের দু:খজনক ঘটনা হলো-বিশাল আকারের মোহরানা বাধা হয় নামেমাত্র অথচ বহুলাংশে তা পরিশোধ করতে দেখা যায় না।

আমাদের সমাজে কি দেখতে পাচ্ছি?

আজ থেকে ২০/২৫বছর আগেও বিয়েতে অল্প পরিমান মোহরানা ধার্য করা হতো। স্ত্রীকে প্রদান করতো কিনা আমার জানা নেই। তবে বর্তমানে বিয়েতে বেশী পরিমানে মোহরানা ধার্য করা হচ্ছে তার অন্যতম কারন হচ্ছেঃ

বিবাহ বিচ্ছেদ দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই মোহরানা বেশী ধার্য করা হয় যাতে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিতে ভয় পায়।

*** বর্তমানে ধনী পরিবারের বিয়েতে লোক দেখানোর জন্য কোটি টাকা মোহরানা ধার্য করা হয়।

*** মধ্যেবিত্ত পরিবারের বিয়েতেও ১০ লক্ষ টাকার উপরে মোহরানা ধার্য করা হয়।

*** নিম্মবিত্ত পরিবারের বিয়েতে ২ লাখ টাকার উপরে মোহরানা ধার্য করা হয়।

*** বিয়েতে স্ত্রীকে দেয়া স্বর্ন ক্রয়ের টাকাটা অর্ধেক অথবা পুরাটাই মোহরানা থেকে কর্তন করা হয়। আর বাকীটা পরে প্রদান করার প্রতিশ্রতি দিয়ে থাকে।


মিথ্যা ওয়াদা দিয়েই নব-দম্পর্তির সংসার জীবন শুরু হয়ঃ

স্ত্রীকে মোহরানা আদায় করা ফরজ। আর এই ফরজ কাজটি না করে কিভাবে সংসার জীবন শুরু করবে? তাই বিয়ের পর স্ত্রীর সাথে প্রথম সাক্ষাতেই এই বিষয়টি ফয়সালা করা হয়। বউকে পরবর্তীতে প্রদান করার ঘোষনা দিয়েই সংসার জীবন শুরু করতে হয়। অচত আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের নিকট যে যৌন স্বাধ গ্রহন কর, তার বিনিময়ে তাদের মোহরানা ফরজ মনে করে আদায় কর।’ তারপর মোহরানা আদায় না করে বছরের পর বছর স্ত্রীর সাথে বসবাস করে। স্ত্রীও সংসারের সুখ-শান্তি নষ্ট হবার ভয়ে স্বামীর কাছে মোহরানা অর্থ চাইতে সংকোচ করে। অনেকে স্বামী মোহরানার অর্থ আদায় না করেই কোন এক সময় না ফেরার দেশে চলে যায়। অনেকে সংসারে অশান্তি দেখা দিলে তালাকের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘঁটান আর তখনই স্বামীকে আদালতের রায়ের মাধ্যমে মোহরানার অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হয়।

আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশকে অমান্য করে আজ আমরা বিয়েতে মোহরানা কে কত বেশী দিতে পারি, কে কত নিতে পারি সেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছি। যার ফলে সংসারে অশান্তি,ভূল-বোঝাবুঝি, পরিশেষে বিচ্ছেদের মত ঘঁটনা ঘটে।

তাই সবাইকে বলছি, বিয়েতে সমতা রক্ষা করুন। কম মোহরানা ধার্য করুন। আর মোহরানা আদায় করেই সংসার জীবন শরুন। মনে রাখবেন, পরবর্তীতে প্রদান করার মিথ্যা প্রতিশ্র“তি দিয়ে সংসার শুরু করলেও যে কোন মুহুত্বে আপনার মৃত্যু হতে পারে। তখন আপনার স্ত্রী কার কাছে মোহরানা চাইবে? যদি মোহরানা আদায় করার মত কিছু না থাকে? স্ত্রীর মোহরানা আদায় না করে আপনি কি জান্নাতে যেতে পারবেন?

তাই কেবল সামাজিক স্টাটাস রক্ষার জন্য মোটা অংকের মোহরানা নয়; বরং সামর্থ্যরে মধ্যে মোহরানা বেঁধে নির্দিষ্ট সময়ে বাসর হওয়ার আগেই তা পরিশোধ করে দেয়া উচিত।


 

  


কাহিনীঃ জাফর তানিয়াকে ১৬ লাখ টাকা মোহরানা ধার্য করে বিয়ে করেছে। বিয়েতে জাফর তানিয়াকে দশ ভরি স্বর্ণ উপহার দেয়। দুই পরিবারের সম্মতিতে স্বর্নের মূল্য থেকে তিন লাখ টাকা উসুল দেখিয়ে বাকী টাকা পরে পরিশোধ করার অঙ্গীকার করে বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পরে বাসর রাতে জাফরের ভাবী রুমে প্রবেশ করে মোহরানার বাকী টাকাটা কিভাবে পরিশোধ করবে জাফরের কাছে জানতে চায়। জাফর পরবর্তীতে পরিশোধ করবে বলে ভাবীর সামনে তানিয়াকে জানায়। তানিয়া এই প্রস্তাবে রাজী হয়ে জাফরকে নিয়ে স্বপ্নের বাসর রাত পার করে।

বাসর রাতে বিড়াল মারা নিয়ে বিবাহিত/অবিবাহিত নারী/পুরুষরা নানা গুঞ্জন করে থাকে। একেক একজন একেক দৃষ্টি ভঙ্গিতে দেখে। সবাই এই বিষয়টিকে নিয়ে হাসি-তামাশা করে। বিড়াল মারতে পারলে সবাই খুশী। তবে দুঃখ জনক হলেও সত্য যে আজকাল স্বামীরা বাসর রাতে বিড়াল মারা তো দুরের কথা উল্টো বউয়ের কাছে মাফ চাইতে হয়। কেন মাফ চাইতে হয় জানেন? তাহলে শুনুন।

আজ থেকে কয়েক দশক আগেও বিয়েতে খুব অল্প পরিমান মোহরানা ধার্য করা হত। বেশীর ভাগ স্বামী মোহরানা আদায় করে দিত। কেউবা বউয়ের নামে জমি লিখে দিত। কিন্তু আজকাল মোহরানা নিয়ে বর-কনে দু'পক্ষের মধ্যে দর কষাকষি শুরু হয়।

ডিজিটাল এই যুগে তালাকের পরিমান দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই তালাক ঠেকাতে এখন মোহরানার পরিমান বেশী ধার্য করা হয়। মোহরানার টাকা স্বামী স্ত্রীকে দিতে পারবে কি পারবে না তা আর কেউ দেখে না। এখন বেশী টাকা মোহরানা ধার্য করে বিয়ে ঠিকিয়ে রাখার জন্য সবাই চেষ্টা করে। স্বামীকে চাপের মধ্যে রাখে। এই সুযোগে স্ত্রীদের পক্ষ থেকে তালাকের প্রস্তাব বেশী আসছে। তাই তালাকের পরিমান দিন দিন বেড়েই চলেছে।

ইসলামে মোহরানা আদায় করে স্ত্রীর কাছে যেতে বলা হয়েছে। বর্তমানে বিয়েতে স্ত্রীকে উপহার দেয়া স্বর্নের মূল্য হিসাব করে কিছু টাকা উসুল দেখিয়ে মোহরানার বাকী টাকাটা বাকীর খাতায় রেখে দেয়া হয়। তাই মোহরানার টাকা শত ভাগ পরিশোধ না করে বাসর রাতে স্বামী স্ত্রীকে মোহরানার বাকী টাকা পরে পরিশোধ করার ওয়াদা করে থাকে। স্ত্রীও স্বামীর কথায় বিশ্বাস করে সংসার জীবন শুরু করে। তাই বাসর রাতে বিড়াল মারার পরিবর্তে উল্টো স্ত্রীর কাছে মোহরানার টাকা নিয়ে ছোট হতে হয়।

দাম্পত্য জীবনে কোন এক সময় ভুল-বুঝাবুঝি হলে তালাকের মাধ্যমে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইলে স্বামী স্ত্রীকে মোহরানার টাকা পরিশোধ করতে হয়। মোহরানার টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে স্বামী জেলের ভাত খেতে হয়।

তাই বাসর রাতে বিড়াল মারা নিয়ে যারা অতি উৎসাহী তাদেরকে বলতে চাই, বাসর রাতে বিড়াল মারার আগে স্ত্রীর মোহরানা আদায় করুন। মোহরানা আদায় না করে যদি আপনার মৃত্যু হয় তাহলে আপনাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে-

۩۞۩ ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বাসর রাতে স্বামী-স্ত্রীর করণীয় কি পড়ে দেখুনঃ ۩۞۩


۩۞۩ বাসরঘর ও কনে সাজানো এবং তাদের জন্য দোয়া করাঃ ۩۞۩

নতুন বর ও কনের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যেখানে সুন্দরভাবে সাজিয়ে সুসজ্জিত করে বরের নিকট পেশ করা হবে। যেসব মহিলারা কনেকে সাজাবে তারা তাদের (বর-কনে) জন্য কল্যাণ, বরকত ও সৌভাগ্যবান হওয়ার জন্য দোয়া করবে।

বর-কনের জন্য ঘরের ব্যবস্থা করা এবং কনেকে সাজানো সুন্নত। আসমা বিনতে ইযাযিদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসুল (সাঃ) এর জন্য আয়েশাকে সুসজ্জিত করেছিলাম।

(আহমদ, আদাবুয যিফাফ ১৯ পৃষ্টা)


۩۞۩ বাসর রাতে স্ত্রীর সাথে সদয়, স্নেহময়, কোমল, ভদ্র ও নম্র হওয়া উত্তম এবং মিষ্টান্নর ব্যবস্থা থাকা উচিতঃ ۩۞۩

বাসর রাতে স্ত্রীর নিকট যাওয়ার সময় স্বামীকে কোমন হওয়া উচিত। সেখানে কিছু শরবত ও কিছু সুস্বাদু খাদ্য রাখা সুন্নত, যা স্বামী-স্ত্রী উভয়েই খাবে। যারা ব্যবস্থাপনায় থাকবে তারাও এ খাদ্য অংশগ্রহন করতে পারে।



 

সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১২

কুরবানীর মাসলা মাসায়েল

কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আদায় করা ওয়াজিব।

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করে না তার ব্যাপারে হাদীস শরীফে এসেছে, ‘যার কুরবানীর সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’-মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস : ৩৫১৯; আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব ২/১৫৫

ইবাদতের মূলকথা হল আল্লাহ তাআলার আনুগত্য এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই যেকোনো ইবাদতের পূর্ণতার জন্য দুটি বিষয় জরুরি। ইখলাস তথা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করা এবং শরীয়তের নির্দেশনা মোতাবেক মাসায়েল অনুযায়ী সম্পাদন করা। এ উদ্দেশ্যে এখানে কুরবানীর কিছু জরুরি মাসায়েল উল্লেখ হল।

কার উপর কুরবানী ওয়াজিব

মাসআলা : ১. প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।

আর নিসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষেত্রে নিসাব হল এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্ত্ত মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫

নেসাবের মেয়াদ

মাসআলা ২. কুরবানীর নেসাব পুরো বছর থাকা জরুরি নয়; বরং কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দিন থাকলেই কুরবানী ওয়াজিব হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২

কুরবানীর সময়

মাসআলা : ৩. মোট তিনদিন কুরবানী করা যায়। যিলহজ্বের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তবে সম্ভব হলে যিলহজ্বের ১০ তারিখেই কুরবানী করা উত্তম। -মুয়াত্তা মালেক ১৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৮, ২৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৫

নাবালেগের কুরবানী

মাসআলা : ৪. নাবালেগ শিশু-কিশোর তদ্রূপ যে সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন নয়, নেসাবের মালিক হলেও তাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। অবশ্য তার অভিভাবক নিজ সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে কুরবানী করলে তা সহীহ হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬

মুসাফিরের জন্য কুরবানী

মাসআলা : ৫. যে ব্যক্তি কুরবানীর দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে (অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে) তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। -ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৪, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫

নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী

মাসআলা : ৬. নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী দেওয়া অভিভাবকের উপর ওয়াজিব নয়; বরং মুস্তাহাব।-রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৫; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫

দরিদ্র ব্যক্তির কুরবানীর হুকুম

মাসআলা : ৭. দরিদ্র ব্যক্তির উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়; কিন্তু সে যদি কুরবানীর নিয়তে কোনো পশু কিনে তাহলে তা কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায়। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯২

কুরবানী করতে না পারলে

মাসআলা : ৮. কেউ যদি কুরবানীর দিনগুলোতে ওয়াজিব কুরবানী দিতে না পারে তাহলে কুরবানীর পশু ক্রয় না করে থাকলে তার উপর কুরবানীর উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করে ছিল, কিন্তু কোনো কারণে কুরবানী দেওয়া হয়নি তাহলে ঐ পশু জীবিত সদকা করে দিবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৪, ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫

প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে

মাসআলা : ৯. যেসব এলাকার লোকদের উপর জুমা ও ঈদের নামায ওয়াজিব তাদের জন্য ঈদের নামাযের আগে কুরবানী করা জায়েয নয়। অবশ্য বৃষ্টিবাদল বা অন্য কোনো ওজরে যদি প্রথম দিন ঈদের নামায না হয় তাহলে ঈদের নামাযের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম দিনেও কুরবানী করা জায়েয।-সহীহ বুখারী ২/৮৩২, কাযীখান ৩/৩৪৪, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮

রাতে কুরবানী করা

মাসআলা : ১০. ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত রাতেও কুরবানী করা জায়েয। তবে দিনে কুরবানী করাই ভালো। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ১৪৯২৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/২২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, কাযীখান ৩/৩৪৫, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

কুরবানীর উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত পশু সময়ের পর যবাই করলে

মাসআলা : ১১. কুরবানীর দিনগুলোতে যদি জবাই করতে না পারে তাহলে খরিদকৃত পশুই সদকা করে দিতে হবে। তবে যদি (সময়ের পরে) জবাই করে ফেলে তাহলে পুরো গোশত সদকা করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে গোশতের মূল্য যদি জীবিত পশুর চেয়ে কমে যায় তাহলে যে পরিমাণ মূল্য হ্রাস পেল তা-ও সদকা করতে হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০-৩২১

কোন কোন পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে

মাসআলা : ১২. উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয। এসব গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন হরিণ, বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫

নর ও মাদা পশুর কুরবানী

মাসআলা : ১৩. যেসব পশু কুরবানী করা জায়েয সেগুলোর নর-মাদা দুটোই কুরবানী করা যায়। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫

কুরবানীর পশুর বয়সসীমা

মাসআলা : ১৪. উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে ১ বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস বয়সের হতে হবে।

উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানী জায়েয হবে না। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫-২০৬

এক পশুতে শরীকের সংখ্যা

মাসআলা : ১৫. একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা শুধু একজনই কুরবানী দিতে পারবে। এমন একটি পশু কয়েকজন মিলে কুরবানী করলে কারোটাই সহীহ হবে না। আর উট, গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাত জন শরীক হতে পারবে। সাতের অধিক শরীক হলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৯, কাযীখান ৩/৩৪৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭-২০৮

সাত শরীকের কুরবানী

মাসআলা : ১৬. সাতজনে মিলে কুরবানী করলে সবার অংশ সমান হতে হবে। কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম হতে পারবে না। যেমন কারো আধা ভাগ, কারো দেড় ভাগ। এমন হলে কোনো শরীকের কুরবানীই সহীহ হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭

মাসআলা : ১৭. উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কুরবানী করা জায়েয। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭

কোনো অংশীদারের গলদ নিয়ত হলে

মাসআলা : ১৮. যদি কেউ আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কুরবানী না করে শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কুরবানী করে তাহলে তার কুরবানী সহীহ হবে না। তাকে অংশীদার বানালে শরীকদের কারো কুরবানী হবে না। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরীক নির্বাচন করতে হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮, কাযীখান ৩/৩৪৯

কুরবানীর পশুতে আকীকার অংশ

মাসআলা : ১৯. কুরবানীর গরু, মহিষ ও উটে আকীকার নিয়তে শরীক হতে পারবে। এতে কুরবানী ও আকীকা দুটোই সহীহ হবে।-তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২

মাসআলা : ২০. শরীকদের কারো পুরো বা অধিকাংশ উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না।

মাসআলা : ২১. যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা কুরবানী দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা করলে অন্যকে শরীক করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে একা কুরবানী করাই শ্রেয়। শরীক করলে সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরীব হয়, যার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, তাহলে সে অন্যকে শরীক করতে পারবে না। এমন গরীব ব্যক্তি যদি কাউকে শরীক করতে চায় তাহলে পশু ক্রয়ের সময়ই নিয়ত করে নিবে।-কাযীখান ৩/৩৫০-৩৫১, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১০

কুরবানীর উত্তম পশু

মাসআলা : ২২. কুরবানীর পশু হৃষ্টপুষ্ট হওয়া উত্তম।-মুসনাদে আহমদ ৬/১৩৬, আলমগীরী ৫/৩০০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

খোড়া পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৩. যে পশু তিন পায়ে চলে, এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা ভর করতে পারে না এমন পশুর কুরবানী জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩, আলমগীরী ৫/২৯৭

রুগ্ন ও দুর্বল পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৪. এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, আলমগীরী ৫/২৯৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪

দাঁত নেই এমন পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৫. যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে, ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না এমন পশু দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয নয়। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৫, আলমগীরী ৫/২৯৮

যে পশুর শিং ভেঙ্গে বা ফেটে গেছে

মাসআলা : ২৬. যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে

মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। পক্ষান্তরে যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে বা শিং একেবারে উঠেইনি সে পশু কুরবানী করা জায়েয। -জামে তিরমিযী ১/২৭৬, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪, আলমগীরী ৫/২৯৭

কান বা লেজ কাটা পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৭. যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। আর যদি অর্ধেকের বেশি থাকে তাহলে তার কুরবানী জায়েয। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, মুসনাদে আহমদ ১/৬১০, ইলাউস সুনান ১৭/২৩৮, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ৫/২৯৭-২৯৮

অন্ধ পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৮. যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা এক চোখ পুরো নষ্ট সে পশু কুরবানী করা জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ২৯৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪

নতুন পশু ক্রয়ের পর হারানোটা পাওয়া গেলে

মাসআলা : ২৯. কুরবানীর পশু হারিয়ে যাওয়ার পরে যদি আরেকটি কেনা হয় এবং পরে হারানোটিও পাওয়া যায় তাহলে কুরবানীদাতা গরীব হলে (যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়) দুটি পশুই কুরবানী করা ওয়াজিব। আর ধনী হলে কোনো একটি কুরবানী করলেই হবে। তবে দুটি কুরবানী করাই উত্তম। -সুনানে বায়হাকী ৫/২৪৪, ইলাউস সুনান ১৭/২৮০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯, কাযীখান ৩/৩৪৭

গর্ভবতী পশুর কুরবানী

মাসআলা : ৩০. গর্ভবতী পশু কুরবানী করা জায়েয। জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায় তাহলে সেটাও জবাই করতে হবে। তবে প্রসবের সময় আসন্ন হলে সে পশু কুরবানী করা মাকরূহ। -কাযীখান ৩/৩৫০

পশু কেনার পর দোষ দেখা দিলে

মাসআলা : ৩১. কুরবানীর নিয়তে ভালো পশু কেনার পর যদি তাতে এমন কোনো দোষ দেখা দেয় যে কারণে কুরবানী জায়েয হয় না তাহলে ওই পশুর কুরবানী সহীহ হবে না। এর স্থলে আরেকটি পশু কুরবানী করতে হবে। তবে ক্রেতা গরীব হলে ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারাই কুরবানী করতে পারবে। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, ফাতাওয়া নাওয়াযেল ২৩৯, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫

পশুর বয়সের ব্যাপারে বিক্রেতার কথা

মাসআলা : ৩২. যদি বিক্রেতা কুরবানীর পশুর বয়স পূর্ণ হয়েছে বলে স্বীকার করে আর পশুর শরীরের অবস্থা দেখেও তাই মনে হয় তাহলে বিক্রেতার কথার উপর নির্ভর করে পশু কেনা এবং তা দ্বারা কুরবানী করা যাবে। -আহকামে ঈদুল আযহা, মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ. ৫

বন্ধ্যা পশুর কুরবানী

মাসআলা : ৩৩. বন্ধ্যা পশুর কুরবানী জায়েয। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫

নিজের কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা

মাসআলা : ৩৪. কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা উত্তম। নিজে না পারলে অন্যকে দিয়েও জবাই করাতে পারবে। এক্ষেত্রে কুরবানীদাতা পুরুষ হলে জবাইস্থলে তার উপস্থিত থাকা ভালো। -মুসনাদে আহমদ ২২৬৫৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২২-২২৩, আলমগীরী ৫/৩০০, ইলাউস সুনান ১৭/২৭১-২৭৪

জবাইয়ে একাধিক ব্যক্তি শরীক হলে

মাসআলা : ৩৫. অনেক সময় জবাইকারীর জবাই সম্পন্ন হয় না, তখন কসাই বা অন্য কেউ জবাই সম্পন্ন করে থাকে। এক্ষেত্রে অবশ্যই উভয়কেই নিজ নিজ যবাইয়ের আগে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ পড়তে হবে। যদি কোনো একজন না পড়ে তবে ওই কুরবানী সহীহ হবে না এবং জবাইকৃত পশুও হালাল হবে না। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩৩৪

কুরবানীর পশু থেকে জবাইয়ের আগে উপকৃত হওয়া

মাসআলা : ৩৬. কুরবানীর পশু কেনার পর বা নির্দিষ্ট করার পর তা থেকে উপকৃত হওয়া জায়েয নয়। যেমন হালচাষ করা, আরোহণ করা, পশম কাটা ইত্যাদি।সুতরাং কুরবানীর পশু দ্বারা এসব করা যাবে না। যদি করে তবে পশমের মূল্য, হালচাষের মূল্য ইত্যাদি সদকা করে দিবে।-মুসনাদে আহমদ ২/১৪৬, নায়লুল আওতার ৩/১৭২, ইলাউস সুনান ১৭/২৭৭, কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০০

কুরবানীর পশুর দুধ পান করা

মাসআলা : ৩৭. কুরবানীর পশুর দুধ পান করা যাবে না। যদি জবাইয়ের সময় আসন্ন হয় আর দুধ দোহন না করলে পশুর

কষ্ট হবে না বলে মনে হয় তাহলে দোহন করবে না। প্রয়োজনে ওলানে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দেবে। এতে দুধের চাপ কমে যাবে। যদি দুধ দোহন করে ফেলে তাহলে তা সদকা করে দিতে হবে। নিজে পান করে থাকলে মূল্য সদকা করে দিবে। -মুসনাদে আহমদ ২/১৪৬, ইলাউস সুনান ১৭/২৭৭,

রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৯, কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০১

কোনো শরীকের মৃত্যু ঘটলে

মাসআলা : ৩৮. কয়েকজন মিলে কুরবানী করার ক্ষেত্রে জবাইয়ের আগে কোনো শরীকের মৃত্যু হলে তার ওয়ারিসরা যদি মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করার অনুমতি দেয় তবে তা জায়েয হবে। নতুবা ওই শরীকের টাকা ফেরত দিতে হবে। অবশ্য তার

স্থলে অন্যকে শরীক করা যাবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৬, কাযীখান ৩/৩৫১

কুরবানীর পশুর বাচ্চা হলে

মাসআলা : ৩৯. কুরবানীর পশু বাচ্চা দিলে ওই বাচ্চা জবাই না করে জীবিত সদকা করে দেওয়া উত্তম। যদি সদকা না করে তবে কুরবানীর পশুর সাথে বাচ্চাকেও জবাই করবে এবং গোশত সদকা করে দিবে।-কাযীখান ৩/৩৪৯, আলমগীরী ৫/৩০১, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩

মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী

মাসআলা : ৪০. মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়েয। মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে। কুরবানীর স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি কুরবানীর ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবে না। গরীব-মিসকীনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। -মুসনাদে আহমদ ১/১০৭, হাদীস ৮৪৫, ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬, কাযীখান ৩/৩৫২

কুরবানীর গোশত জমিয়ে রাখা

মাসআলা : ৪১. কুরবানীর গোশত তিনদিনেরও অধিক জমিয়ে রেখে খাওয়া জায়েয।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, সহীহ মুসলিম ২/১৫৯, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৮, ইলাউস সুনান ১৭/২৭০

কুরবানীর গোশত বণ্টন

মাসআলা : ৪২. শরীকে কুরবানী করলে ওজন করে গোশত বণ্টন করতে হবে। অনুমান করে ভাগ করা জায়েয নয়।-আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৭, কাযীখান ৩/৩৫১

মাসআলা : ৪৩. কুরবানীর গোশতের এক তৃতীয়াংশ গরীব-মিসকীনকে এবং এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দেওয়া উত্তম। অবশ্য পুরো গোশত যদি নিজে রেখে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলমগীরী ৫/৩০০

গোশত, চর্বি বিক্রি করা

মাসআলা : ৪৪. কুরবানীর গোশত, চর্বি ইত্যাদি বিক্রি করা জায়েয নয়। বিক্রি করলে পূর্ণ মূল্য সদকা করে দিতে হবে। -ইলাউস সুনান ১৭/২৫৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫, কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০১

জবাইকারীকে চামড়া, গোশত দেওয়া

মাসআলা : ৪৫. জবাইকারী, কসাই বা কাজে সহযোগিতাকারীকে চামড়া, গোশত বা কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েয হবে না। অবশ্য পূর্ণ পারিশ্রমিক দেওয়ার পর পূর্বচুক্তি ছাড়া হাদিয়া হিসাবে গোশত বা তরকারী দেওয়া যাবে।

জবাইয়ের অস্ত্র

মাসআলা : ৪৬. ধারালো অস্ত্র দ্বারা জবাই করা উত্তম।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

পশু নিস্তেজ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা

মাসআলা : ৪৭. জবাইয়ের পর পশু

নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া খসানো বা অন্য কোনো অঙ্গ কাটা মাকরূহ। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

অন্য পশুর সামনে জবাই করা

মাসআলা : ৪৮. এক পশুকে অন্য পশুর সামনে জবাই করবে না। জবাইয়ের সময় প্রাণীকে অধিক কষ্ট না দেওয়া।

কুরবানীর গোশত বিধর্মীকে দেওয়া

মাসআলা : ৪৯. কুরবানীর গোশত হিন্দু ও অন্য ধর্মাবলম্বীকে দেওয়া জায়েয।-ইলাউস সুনান ৭/২৮৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০

অন্য কারো ওয়াজিব কুরবানী আদায় করতে চাইলে

মাসআলা : ৫০. অন্যের ওয়াজিব কুরবানী দিতে চাইলে ওই ব্যক্তির অনুমতি নিতে হবে। নতুবা ওই ব্যক্তির কুরবানী আদায় হবে না। অবশ্য স্বামী বা পিতা যদি স্ত্রী বা সন্তানের বিনা অনুমতিতে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করে তাহলে তাদের কুরবানী আদায় হয়ে যাবে। তবে অনুমতি নিয়ে আদায় করা ভালো।

কুরবানীর পশু চুরি হয়ে গেলে বা মরে গেলে

মাসআলা : ৫১. কুরবানীর পশু যদি চুরি হয়ে যায় বা মরে যায় আর কুরবানীদাতার উপর পূর্ব থেকে কুরবানী ওয়াজিব থাকে তাহলে আরেকটি পশু কুরবানী করতে হবে। গরীব হলে (যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়) তার জন্য আরেকটি পশু কুরবানী করা ওয়াজিব নয়।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯

পাগল পশুর কুরবানী

মাসআলা : ৫২. পাগল পশু কুরবানী করা জায়েয। তবে যদি এমন পাগল হয় যে, ঘাস পানি দিলে খায় না এবং মাঠেও চরে না তাহলে সেটার কুরবানী জায়েয হবে না। -আননিহায়া ফী গরীবিল হাদীস ১/২৩০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, ইলাউস সুনান ১৭/২৫২

নিজের কুরবানীর গোশত খাওয়া

মাসআলা : ৫৩. কুরবানীদাতার জন্য নিজ কুরবানীর গোশত খাওয়া মুস্তাহাব। -সূরা হজ্ব ২৮, সহীহ মুসলিম ২২/১৫৯, মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৯০৭৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪

ঋণ করে কুরবানী করা

মাসআলা : ৫৪. কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তিও ঋণের টাকা দিয়ে কুরবানী করলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে কুরবানী করা যাবে না।

হাজীদের উপর ঈদুল আযহার কুরবানী

মাসআলা : ৫৫. যেসকল হাজী কুরবানীর দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে তাদের উপর ঈদুল আযহার কুরবানী ওয়াজিব নয়। কিন্তু যে হাজী কুরবানীর কোনো দিন মুকীম থাকবে সামর্থ্যবান হলে তার উপর ঈদুল আযহার কুরবানী করা জরুরি হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৩, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৬৬

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কুরবানী করা

মাসআলা : ৫৬. সামর্থ্যবান ব্যক্তির রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কুরবানী করা উত্তম। এটি বড় সৌভাগ্যের বিষয়ও বটে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রা.কে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করার ওসিয়্যত করেছিলেন। তাই তিনি প্রতি বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকেও কুরবানী দিতেন। -সুনানে আবু দাউদ ২/২৯, জামে তিরমিযী ১/২৭৫, ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮, মিশকাত ৩/৩০৯

কোন দিন কুরবানী করা উত্তম

মাসআলা : ৫৭. ১০, ১১ ও ১২ এ তিন দিনের মধ্যে প্রথম দিন কুরবানী করা অধিক উত্তম। এরপর দ্বিতীয় দিন, এরপর তৃতীয় দিন। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬

খাসীকৃত ছাগল দ্বারা কুরবানী

মাসআলা : ৫৮. খাসিকৃত ছাগল দ্বারা কুরবানী করা উত্তম। -ফাতহুল কাদীর ৮/৪৯৮, মাজমাউল আনহুর ৪/২২৪, ইলাউস সুনান ১৭/৪৫৩

জীবিত ব্যক্তির নামে কুরবানী

মাসআলা : ৫৯. যেমনিভাবে মৃতের পক্ষ থেকে ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরবানী করা জায়েয তদ্রূপ জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার ইসালে সওয়াবের জন্য নফল কুরবানী করা জায়েয। এ কুরবানীর গোশত দাতা ও তার পরিবারও খেতে পারবে।

বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির কুরবানী অন্যত্রে করা

মাসআলা : ৬০. বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির জন্য নিজ দেশে বা অন্য কোথাও কুরবানী করা জায়েয।

কুরবানীদাতা ভিন্ন স্থানে থাকলে কখন জবাই করবে

মাসআলা : ৬১. কুরবানীদাতা এক স্থানে আর কুরবানীর পশু ভিন্ন স্থানে থাকলে কুরবানীদাতার ঈদের নামায পড়া বা না পড়া ধর্তব্য নয়; বরং পশু যে এলাকায় আছে ওই এলাকায় ঈদের জামাত হয়ে গেলে পশু জবাই করা যাবে। -আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮

কুরবানীর চামড়া বিক্রির অর্থ সাদকা করা

মাসআলা : ৬২. কুরবানীর চামড়া কুরবানীদাতা নিজেও ব্যবহার করতে পারবে। তবে কেউ যদি নিজে ব্যবহার না করে বিক্রি করে তবে বিক্রিলব্ধ মূল্য পুরোটা সদকা করা জরুরি। -আদ্দুররুল মুখতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১

কুরবানীর চামড়া বিক্রির নিয়ত

মাসআলা : ৬৩. কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি করলে মূল্য সদকা করে দেওয়ার নিয়তে বিক্রি করবে। সদকার নিয়ত না করে নিজের খরচের নিয়ত করা নাজায়েয ও গুনাহ। নিয়ত যা-ই হোক বিক্রিলব্ধ অর্থ পুরোটাই সদকা করে দেওয়া জরুরি। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১, কাযীখান ৩/৩৫৪

কুরবানীর শেষ সময়ে মুকীম হলে

মাসআলা : ৬৪. কুরবানীর সময়ের প্রথম দিকে মুসাফির থাকার পরে ৩য় দিন কুরবানীর সময় শেষ হওয়ার পূর্বে মুকীম হয়ে গেলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। পক্ষান্তরে প্রথম দিনে মুকীম ছিল অতপর তৃতীয় দিনে মুসাফির হয়ে গেছে তাহলেও তার উপর কুরবানী ওয়াজিব থাকবে না। অর্থাৎ সে কুরবানী না দিলে গুনাহগার হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৬, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৯

কুরবানীর পশুতে ভিন্ন ইবাদতের নিয়তে শরীক হওয়া

মাসআলা : ৬৫. এক কুরবানীর পশুতে আকীকা, হজ্বের কুরবানীর নিয়ত করা যাবে। এতে প্রত্যেকের নিয়তকৃত ইবাদত আদায় হয়ে যাবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬, আলমাবসূত সারাখছী ৪/১৪৪, আলইনায়া ৮/৪৩৫-৩৪৬, আলমুগনী ৫/৪৫৯

কুরবানীর গোশত দিয়ে খানা শুরু করা

মাসআলা : ৬৬. ঈদুল আযহার দিন সর্বপ্রথম নিজ কুরবানীর গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত। অর্থাৎ সকাল থেকে কিছু না খেয়ে প্রথমে কুরবানীর গোশত খাওয়া সুন্নত। এই সুন্নত শুধু ১০ যিলহজ্বের জন্য। ১১ বা ১২ তারিখের গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত নয়। -জামে তিরমিযী ১/১২০, শরহুল মুনয়া ৫৬৬, আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৬, আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৩

কুরবানীর পশুর হাড় বিক্রি

মাসআলা : ৬৭. কুরবানীর মৌসুমে অনেক মহাজন কুরবানীর হাড় ক্রয় করে থাকে। টোকাইরা বাড়ি বাড়ি থেকে হাড় সংগ্রহ করে তাদের কাছে বিক্রি করে। এদের ক্রয়-বিক্রয় জায়েয। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু কোনো কুরবানীদাতার জন্য নিজ কুরবানীর কোনো কিছু এমনকি হাড়ও বিক্রি করা জায়েয হবে না। করলে মূল্য সদকা করে দিতে হবে। আর জেনে শুনে মহাজনদের জন্য এদের কাছ থেকে ক্রয় করাও বৈধ হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫, কাযীখান ৩/৩৫৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১

রাতে কুরবানী করা

মাসআলা : ৬৮. ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত রাতে কুরবানী করা জায়েয। তবে রাতে আলোস্বল্পতার দরুণ জবাইয়ে ত্রুটি হতে পারে বিধায় রাতে জবাই করা অনুত্তম। অবশ্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকলে রাতে জবাই করতে কোনো অসুবিধা নেই। -ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৫, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৬, আহসানুল ফাতাওয়া ৭/৫১০

কাজের লোককে কুরবানীর গোশত খাওয়ানো

মাসআলা : ৬৯. কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া জায়েয নয়। গোশতও পারিশ্রমিক হিসেবে কাজের লোককে দেওয়া যাবে না। অবশ্য এ সময় ঘরের অন্যান্য সদস্যদের মতো কাজের লোকদেরকেও গোশত খাওয়ানো যাবে।-আহকামুল কুরআন জাস্সাস ৩/২৩৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলবাহরুর রায়েক ৮/৩২৬, ইমদাদুল মুফতীন

জবাইকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়া

মাসআলা : ৭০. কুরবানী পশু জবাই করে পারিশ্রমিক দেওয়া-নেওয়া জায়েয। তবে কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া যাবে না। -কিফায়াতুল মুফতী ৮/২৬৫

মোরগ কুরবানী করা

মাসআলা : ৭১. কোনো কোনো এলাকায় দরিদ্রদের মাঝে মোরগ কুরবানী করার প্রচলন আছে। এটি না জায়েয। কুরবানীর দিনে মোরগ জবাই করা নিষেধ নয়, তবে কুরবানীর নিয়তে করা যাবে না। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৪, ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৯০, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২০০ ষ 

http://www.alkawsar.com/article/740

পূর্নাঙ্গ হজ্বের নিয়ম [সংক্ষিপ্ত ] ও কিছু পরামশ

উমরার বর্ণনা উমরার রুকন তিনটি:
(১) ইহরাম বাঁধা।
(২) ত্বাওয়াফ করা।
(৩) সায়ী করা।

উমরার ওয়াজিব দু’টি:
(১) মীক্বাত থেকে ইহরাম বাঁধা।
(২) মাথা মুন্ডন করা কিংবা সম্পূর্ণ মাথা থেকে চুল ছোট করা ।

উমরা আদায়ের নিয়মঃ
মীক্বাতে পৌছার পর পূর্বে বর্ণিত ইহরাম বাঁধার সুন্নত নিয়ম মোতাবেক ইহরাম বাঁধবে।
তার পর গাড়ীতে চড়ার পর অন্তরে নিয়ত করবে এবং মুখেও 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা উমরাতান' বলে বায়তুল্লাহ পৌঁছা পর্যন্ত উচ্চস্বরে তালবিয়া অর্থাৎ ’লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বইকা লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইকা ইন্নালহামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল্ মুলকা লা শারীকা লাকা’ পাঠ করতে থাকবে।
মসজিদুল হারামে পৌছার পর প্রবেশের পূর্বে সম্ভব হলে গোসল করবে অথবা ওযু বিহীন অবস্থায় থাকলে ওযু করে নিবে।
তার পর প্রথমে ডান পা দিয়ে নিম্নের দু’আ টি পড়ে প্রবেশ করবে। দু’আটি এই - ’আউযু বিল্লাহিল আযীম ওয়া বিওয়াজহিহিল কারীম ওয়া সুলতানিহিল ক্বাদীম মিনাশ্ শায়তানির রাজীম বিসমিল্লাহি ওয়াছছালাতু ওয়াসসালামু আ’লা রাসুলিল্লাহি আল্লাহুম্মাফ্ তাহলী আবওয়াবা রাহমতিকা'
মসজিদে প্রবেশের পর প্রথম কাজ হ’ল ত্বাওয়াফ করা।ত্বাওয়াফের জন্য আল্লাহর ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত হাজরে আস্ওয়াদ বরাবর দাঁড়াবে এবং পুরুষেরা ’ইযতিবা’ করবে অর্থাৎ ডান বগলের নীচে দিয়ে ইহরামের কাপড় বাম কাঁধের উপরে উঠিয়ে রাখবে এবং ডান কাঁধ খোলা রাখবে। শুধুমাত্র প্রথম ত্বাওয়াফেই ইযতিবা করা সুন্নত।এছাড়া অন্য কোন সময়ে তা সুন্নত নয় বরং হাজী সবসময় উভয় কাঁধ ঢেকে রাখবে। অতঃপর যদি সুযোগ হয় তা হলে হাজরে আসওয়াদ কে চুমা দিবে। যদি চুমা দিতে না পারে তা হলে হাতে বা লাঠি দ্বারা স্পর্শ করবে এবং হাত বা লাঠিতে চুমা দিবে। আর যদি স্পর্শ করতে না পারে তাহলে হাত উঠিয়ে সে দিকে ইঙ্গিত করবে কিন্তু চুমা দিবে না। হাজরে আসওয়াদ কে চুমা, স্পর্শ বা সেদিকে ইঙ্গিতের সময় প্রতিবারই بسم الله والله أكبر 'বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার' বলবে।
হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে ঘুরে এসে হাজরে আসওয়াদে শেষ করবে। এক বার ঘুরে আসলে এক চক্কর হবে। এমনিভাবে সাত চক্কর দিতে হবে তাহলে এক তাওয়াফ হবে। প্রথম তিন চক্করে পুরুষদের জন্য 'রমল' অর্থাৎ জোরে হাঁটা সুন্নত। বাকী চার চক্করে সাধারণভাবে চলবে। তাওয়াফের প্রতি চক্করের জন্য বিশেষ কোন দু’আ বর্ণিত নেই। সুতুরাং যা ইচ্ছা নিজের ভাষায় মন দিয়ে দু’আ করবে। ইচ্ছা হলে কুরআন মজীদ তেলাওয়াত করতে পারে। তাওয়াফের সময় হাজরে আসওয়াদ এবং রুকুনে ইয়ামানী ব্যতীত কা’বা ঘরের অন্য কোন স্থানে হাত লাগাবে না। রুকুনে ইয়ামানী থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত মধ্যবর্তী স্থান ত্যাগ করার সময়ঃ
ربناآتنافى الدنيا حسنه وفى الاخرة حسنة وَقنا عذاب النَار
’রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুন্য়া হাসানাতান ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতান ওয়া ক্বিনা আযাবান্নার’ পড়তে থাকবে। রুকুনে ইয়ামানী কে ষ্পর্শ করতে না পারলে ইঙ্গিত করতে হবে না বা কিছু বলতেও হবে না।
মনে রাখবে, আল্লাহর ঘরের ত্বাওয়াফ করা ছালাতের সমান। সুতুরাং ত্বাওয়াফের সময় কথা কম বলবে এবং বেশী বেশী যিকির-আযকার ও দুআ’ দরুদ পড়বে। অতি অনুনয় বিনয়ের সহিত ত্বাওয়াফ সম্পন্ন করবে।ত্বাওয়াফের সময় পবিত্র থাকা আবশ্যক।ত্বাওয়াফ শেষ হয়ে গেলে উভয় কাঁধ ঢেকে চাদর পরিধান করবে। তারপরঃ واتخذوامن مقام ابراهيم مصلى ’ওয়াত্তাখিযু মিম্মাক্বামি ইবরাহীমা মুছাল্লা’ বলে মাক্বামে ইবরাহীমের দিকে আসবে এবং তার পিছনে মসজিদের যে কোন স্থানে দু’রাকাত ছালাত পড়বে। প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ইখলাছ পাঠ করবে। ছালাত শেষে মন ভরে যমযম পান করবে এবং মাথায় ও বুকে ঢালবে। তার পর পুনরায় হজরে আসওয়াদ কে ছুঁয়ে কিংবা তার দিকে ইঙ্গিত করে তাকবীর বলে ’ছাফা’ পাহাড়ের দিকে যাবে। ছাফা পাহাড়ে চড়ার পর
’ইন্নাচ্ছাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআ’ইরিল্লাহি ফামান হজ্জাল বায়তা আউয়ি’তামারা ফালা জুনাহা আলাইহি আঁইয়াত্তাওয়াফা বিহিমা ওয়া মান তাত্বাওয়াআ’ খায়রান ফাইন্নাল্লাহা শাকিরুন আলীম’ বলবে। তারপর বলবে’আবদাউ বিমা বাদাআল্লাহূ বিহী’।
তারপর পাহাড়ের একটু উপরে উঠে কেবলামুখী হয়ে তিনবার নিম্নের এদু’আ টি পড়বে-
’আল্লাহূ আকবার আল্লাহূ আকবার আল্লাহূ আকবার লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহূ লা শারীকালাহূ লাহূল মুলকু ওয়া লাহূল হাম্দু ওয়াহূয়া আ’লা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর লাইলাহা ইল্লাল্লাহূ ওয়াহদাহূ আনজাযা ওয়া’দাহূ ওয়া নাছারা আ’বদাহূ ওয়া হাযামাল আহ্যাবা ওয়াহ্দাহূ’।
এবং তিনবার উভয় হাত উঠিয়ে দু’আ করবে। তারপর মারওয়ার দিকে যাবে। ছাফা থেকে মারওয়ায় গেলে এক চক্কর হবে। আবার মারওয়া থেকে ছাফায় আসলে আর এক চক্কর হবে। এমনিভাবে সাত চক্কর আসা-যাওয়া করতে হবে।ছাফা থেকে শুরু হবে এবং মারওয়াতে শেষ হবে। সবুজ রঙ্গের বাতির মধ্যবর্তী স্থানে প্রতি বার দৌড়তে হবে।কিন্তু মহিলারা আস্তে আস্তে চলবে। মারওয়াতে গিয়েও ছাফার মত আমল করবে। ছাফা মারওয়ায় সাঈ করার সময় বিশেষ কোন দু’আ বর্ণিত নেই। নিজের ভাষায় যা ইচ্ছা দু’আ করবে। ছাফা মারওয়ার সাঈ শেষ করার পর পুরুষেরা মাথার চুল সম্পূর্ণ ফেলে দিবে বা খাট করবে আর মহিলারা চতুর্পাশ্ব থেকে দুএক ইঞ্চি চুল কাটবে। তার পর ইহরামের কাপড় খোলে সাধারণ কাপড় পরিধান করবে। এভাবে উমরা সম্পন্ন হয়ে যাবে।

হজ্জের বর্ণনা
হজ্জের রুকনসমুহঃ
হজ্জের রুকন বা ফরয চারটি যথাঃ
(১) ইহরাম বাঁধা
(২) আরাফায় অবস্থান করা
(৩) ত্বাওয়াফে ইফাযাহ (তাওয়াফে যিয়ারত) করা
(৪) সাঈ করা ।

হজ্জের ওয়াজিবসমূহঃ
(১) মীকাত থেকে ইহরাম বাধাঁ
(২) মাগরীব পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা
(৩) মুযদালিফাতে রাত্রি যাপন করা
(৪) তাশরীকের রাতসমুহ মিনাতে অবস্থান করা
(৫) জামরাতে পাথর নিক্ষেপ করা।
(৬) জামরাতুল আক্বাবাতে পাথর নিক্ষেপের পর মাথা মুন্ডানো
(৭) বিদায়ী ত্বাওয়াফ করা।
মনে রাখবেন, হজ্জের রুকন আদায় না করলে হজ্জে হবেনা। আর হজ্জের ওয়াজিব আদায় না হলে তার জন্য একটি কুরবানী করতে হবে। তবে হজ্জের সুন্নাতসমুহে কোন ত্র“টি হলে তার জন্য কোন পাপ হবেনা কিংবা কুরবানীও ওয়াজিব হবেনা।

হজ্জের প্রকারভেদঃ
হজ্জ তিন প্রকার। যথাঃ তামাত্তু, ক্বিরাণ ও ইফরাদ। তামাত্তু হল, হজ্জের মাস সমূহে ভিন্ন ভিন্ন ইহরামে দ্বারা প্রহমে উমরা তারপর হজ্জ আদায় করা। ক্বিরাণ হল, একই ইহরামে উমরা-হজ্জ একসাথে আদায় করা। আর ইফরাদ হল, শুধু হজ্জ আদায় করা।

(১) হজ্জে তামাত্তু করার নিয়মঃ
হজ্জে তামাত্তু হ’ল, হজ্জের মাসে উমরার ইহরাম বেঁধে বায়তুল্লাহর ত্বাওয়াফ ও ছাফা-মারওয়ার সাঈ শেষে মাথা মুন্ডন করে বা চুল ছোট করে ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যাবে। অতঃপর ৮ই জিলহজ্জ তারিখে স্বীয় অবস্থানস্থল থেকে হজ্জের ইহরাম বেঁধে পূর্বাহ্নে মিনায় গমন করবে। তথায় পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত অর্থাৎ যুহর, আছর, মাগরিব, ইশা এবং ফজরের ছালাত স্ব স্ব সময়ে ক্বছর [অর্থাৎ চার রাকাত বিশিষ্ট ছালাতকে দু’রাকাত] করে আদায় করবে।৯ই জিলহজ্জ সুর্যোদয়ের পর মিনা হতে ধীরস্থিরভাবে তালবিয়া পাঠ করতঃ আরাফা ময়দান অভিমুখে রওয়ানা হবে এবং ময়দানের চিহ্ণিত সীমানার মধ্যে সুবিধা মত স্থানে অবস্থান করবে। যুহর ও আসরের ছলাত একত্রে এক আযান ও দুই ইক্বামত দিয়ে ক্বছর করে আদায় করে নিবে। এখানে অবস্থানকালে সর্বদা যিকর, তাসবীহ ও তেলাওয়াতে রত থাকবে। রাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সর্ব শ্রেষ্ঠ দু’আ হল আরাফার দু’আ। আর তা হ’লঃ ’লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহূ লা শারীকা লাহু লাহূল মুলকু ওয়া লাহূল হাম্দু ওয়াহূয়া আ’লা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর’।
এসময় সহীহ হাদীসে বর্ণিত বিভিন্ন দু’আ যার যা আছে তা পড়বে ও কুরআন তেলাওয়াতে মগ্ন থাকবে। অতঃপর সুর্য অস্ত যাবার পর তালবিয়া ও তাওবা ইস্তেগফার করতে করতে ধীরে সুস্থে মুযদালিফা অভিমুখে রওয়ানা হবে। মুযদালিফায় পৌঁছে ইশার সময় মাগরিব-ইশা উভয় ছালাত একত্রে এক আযান ও দুই ইক্বামত দিয়ে ক্বছর করে আদায় করবে। অতঃপর ফজর পর্যন্ত ঘুমাবে এবং ফজরের ছালাতের পর দীর্ঘক্ষণ কেবলামুখী হয়ে দু’আ করবে এবং সুর্যোদয়ের পূর্বে মিনা অভিমুখে রওয়ানা হবে। মিনা পৌঁছে প্রথমে ’জামরাতুল আক্বাবায়’ [যা মক্কার নিকটবর্তী] সাতটি কংকর নিক্ষেপ করবে। প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সময় 'আল্লাহু আকবার' বলবে। কংকরগুলি হাউজে পড়লেই হবে। তার পরে কুরবানী করবে এবং মাথা মুন্ডন করে কিংবা সমস্ত চুল ছোট করে মক্কায় গিয়ে ত্বাওয়াফে ইফাযা করবে। ১০ই জিলহজ্জের এই কাজগুলির কোনটি আগপিছ হয়ে গেলে তাতে কোন দোষ নেই। ত্বাওয়াফে ইফাযার পর সাঈ করবে। এতে করে পূর্ণ হালাল হবে। তারপর সন্ধ্যার পূর্বে মিনায় চলে আসবে এবং তথায় ১০,১১,১২ ও ১৩ তিন দিন কিংবা চার দিন অবস্থান করবে।১১ থেকে ১৩ পর্যন্ত প্রতি দিন সুর্য ঢলার পর তিনটি জামরায় সাতটি করে মোট ২১টি কংকর নিক্ষেপ করবে। কারো তাড়া থাকলে ১২ তারিখে সূর্যাস্তের পূর্বে মিনা ত্যাগ করে তাওয়াফে বিদা করে চলে আসতে পারবে। অন্যথায় ১৩ তারিখ পর্যন্ত মিনায় থাকতে হবে। এভাবে হজ্জে তামাত্তু শেষ হবে।

(২) হজ্জে ক্বিরান আদায়ের নিয়মঃ
হজ্জে ক্বিরান করতে চাইলে এক সাথে হ্জ্জ ও উমরার ইহরাম বাঁধতে হবে এবং বলতে হবে ’লাব্বাইকা আল্লাহূম্মা উমরাতান ওয়া হাজ্জান’।
বাকী কাজগুলি উপরে বর্ণিত উমরা ও হজ্জের মত আদায় করতে হবে। তবে হজ্জে কিরান আদায়কারী উমরার সাঈর পর মাথা মুন্ডন করে বা ছোট করে ইহরামের কাপড় খোলে হালাল হবে না। বরং ইহরামাবস্থায় হজ্জের সময়ের অপেক্ষা করতে থাকবে। ৮ই জিলহজ্জ ইহরামাবস্থায় মিনায় গমন করবে এবং বাকী কাজগুলো পূর্বের বর্ণনা মত করবে। হজ্জে ক্বিরানে একটি সাঈ যথেষ্ট হয়ে যায়। হজ্জে কিরানে কুরবানী ওয়াজিব হবে। আর কুরবানী করতে না পারলে দশদিন রোযা রাখতে হবে।

(৩) হজ্জে ইফরাদ করার নিয়মঃ
হজ্জে ইফরাদ করতে চাইলে মীক্বাত থেকে শুধু হজ্জের নিয়তে ইহরাম বাঁধবে এবং "লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা হাজ্জান" বলে অন্তরে নিয়ত করবে। তারপর যদি সময় থাকে তা হলে বায়তুল্লাহ শরীফে পৌঁছে ত্বাওয়াফ করবে আর যদি সময় না থাকে তাহলে সরাসরী মিনায় চলে যাবে এবং উপরে বর্ণিত নিয়মে হজ্জের কার্যগুলি সস্পন্ন করবে। 


মক্কা মদীনায় হাজী সাহেবানদের করনীয় ,বর্জনীয় **********
*******************************
সব সময় জিকর , কোরান তেলাওয়াত , তাওয়াফ বেশী করা দুরুদ শরীফ বেশী পডা , বাজে আলাপ না করা, এখানে এসে সংসারের চিন্তা না করে আখেরাতের সফলতার কথা মাথায় রাখা , গিবত শেকায়েত থেকে বিরত থাকা , আর নিজের জন্য ,সংসারের সকলের জন্য , সকল বন্ধুবান্ধব ও সকল মুসলমানের জন্য বিশেষ ভাবে দোয়া করা , বারংবার দোয়া করা , তওবা করা , বেশী বেশী নফল

নামাজ পডা ইত্যদি, আর৫ওয়াক্ত নামাজ বাজামায়াত হারাম শরীফে পড়া কারন সেখানে ১ রাকাতে ১ লক্ষ রাকাত নামাজের ছওয়াব , তাই ১ ওয়াক্তে ৪ রাকাতে ৪ লক্ষ রাকাতের ছাওয়াব, যা এক জন মানুষের সারা জিন্দেগীর তথা ৬০ বৎসর হায়াতের নামাজের প্রায় ৩ চথতুর্থাংয়ের সমান
যেমন-----
দৈনিক =========== ১৭ রাকাত ফরজ নামাজ
মাসিক ======= ১৭*৩০ = ৫১০ রাকাত
বৎসর ========= ৫১০*১২ =৬১২০ রাকাত
জিন্দেগীতে =====
৬০ বৎসর বয়স হলে নাবালিগী বাদে ৪৫ বৎসর এর নামাজ = ৬১২০*৪৫ বৎসর = ২৭৫৪০০ রাকাত
আর মক্কার হারাম শরীফে শুধু মাত্র এক ওয়াক্ত নামাজের ৪ রাকাতে ছওয়াব চার লক্ষ রাকাত সমতুল্য
যা একজন মানুষের সারা জিন্দিগীর নামাজের চেয়েও বেশী ,
আবার মদীনার মসজিদে নববীতে এক রাকাতে ১০০০ হাজার রাকাতের ছওয়াব পাওয়া যায় ,
ছোবহানাল্লাহ .তাহলে একমাত্র হতভাগারাই হারাম শরীফের পাশে আবস্হান করা সত্বেও মসজিদে হারামে না গিয়ে নিজ বাসায় একা একি নামাজ আদায় করেন ৷

পরামর্শ ==
১৷ হারাম শরীফে যথা সম্ভব আজানের ১ঘন্টা/আধাঘন্টা আগে যাওয়া, নতুবা বিতরে জায়গা পাবেন্না,দেরীতে আসলে জায়নামাজ আবশ্যই সাথে আনবেন ৷
২৷ পেটে বা প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে পানি ও খাওয়া দাওয়া কন্ট্রোল করুন ,
৩ ৷ জুতা সেন্ডেল পলিথিন করে সাথেই রাখুন ৷
৪৷ মানুষের চলাচল রাস্তা এডিয়ে বসুন ৷
৫৷ সাথিদের ফোন নং ,মোয়ালি্লমের ফোন সাথেই রাখুন ৷
৬৷হারাম শরীফের প্রবেশ পথ তথা গেইট নং খেয়াল রাখুন ৷যাতে আসা যাওয়ায় পথ ভূলে না যান ৷
৭ ৷ সাথী/ তাবু/হোটেল হারিয়ে ফেললে অযথা ঘূরা ঘূরি না করে অধৈয্য না হয়ে নিজের সাথে থাকা কার্ড নিরাপত্তা কর্মিদের দেখান ,
৮৷সাথীদের কয়েক জনের নাম্বর রাখুন
৯৷ যে কোন সময় সফরের দিন তারিখ ও সময় ভাল করে জেনে নিন ৷
১০৷ কংকর নিক্ষেপের সময় তাডা হুডা না করে , ধীরস্হীর ভাবে সূযোগ বুঝেই অগ্রসর হউন ৷



লেখক কে ভূলবেননা আপনাদের দোয়ার মধ্যে ,
দোয়াই কামনা
আল্লাহ সকলকে হজ্বে মাবরুর নছীব করুন আমিন

http://www.sonarbangladesh.com/blog/DaliaNuzha/132157 



http://www.sonarbangladesh.com/blog/DaliaNuzha/127188


 

রবিবার, ৭ অক্টোবর, ২০১২

..জল মানব নওশের আলী

কিভাবে থাকবেন পানির নিচে দিনের পর দিন, জেনে নিন এই জলমানবের কাছে

  


জল মানব নওশের আলী

মিরসরাই, ৭ অক্টোবর: ১৯৭১ সালে কথা। নওশের আলী তখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়েন। স্কুল ছুটির পর কয়েকজন বন্ধু মিলে ঠিক করলেন, যে বেশিক্ষণ পানিতে ডুবে থাকতে পারবে সবাই মিলে তাকে মিষ্টি খাওয়াতে হবে। সেদিন নওশের ডুবে থাকেন টানা দুই মিনিটি। জিতে নেন এক কেজি মিষ্টি।

সেই থেকে শুরু আরো বেশিক্ষণ ডুবে থাকলে আরো বেশি মিষ্টি পাওয়া যাবে। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও দুই মিনিটের বেশি থাকা যাচ্ছিল না। কারণ খুঁজতে গিয়ে নেমে পড়েন কোমর বেঁধে। মনে প্রশ্ন আসে, পানিতে মাছ কিভাবে বেঁচে থাকে? শুরু হলো কিশোর নওশেরের বিশেষ এক্সপেরিমেন্ট! কাচের পাত্রে মাছ রেখে ঘাপটি মেরে দেখতে লাগলেন মাছের চলাফেরা।

এরপর নিজে নিজে বানিয়ে ফেললেন এয়ারটাইট ট্যাংক। কয়েকটা মাছ রাখেন তাতে। এরপর আলো-বাতাস যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বন্ধ করে দিলেন ট্যাংক। মারা গেল মাছগুলো। ট্যাংক খোলা রেখে দেখলেন মাছ আর মারা যাচ্ছে না।

এবার শুরু হলো মাছের শ্বাস-প্রশ্বাস পর্যবেক্ষণ প্রজেক্ট। দেখলেন, মাঝে মাঝে মাছ পানির উপরে এসেও হা করে শ্বাস নেয়। আবার কখনো লেজ-পাখনা নিয়ে বুদ্ধুদ সৃষ্টি করে তা থেকে অক্সিজেন গিলে নেয়। তা দেখেই আইডিয়া পেয়ে যান নওশের আলী।

মাছের মতোই হাতের ঝাপটায় পানিতে বাতাসের বুদ্ধুদ তৈরি করে চালাতে থাকেন অনুশীলন। এভাবে গড়িয়ে যায় এক বছর। এরপর একদিন ওই বয়সে পানির নিচে কাটিয়ে দিলেন ১৫ মিনিট।

তারপর ১৯৭২ সালে খুলনার পাইকগাছা থানার অফিসার শিশু নওশের আলীর কথা শুনে তাকে থানায় আমন্ত্রণ জানান। থানার পুকুরে প্রথমবারের মতো সবার সামনে ১৫ মিনিট পানিতে ডুবে থাকেন তিনি। তাঁকে দেখতে সেদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে অনেকেই। এরপর খুলনার রেডিও সম্প্রচার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয় তার সংবাদ।

এরপর থেকে কেউ তাকে ‘জলমানব’ আবার কেউ ‘মৎসকুমার’ ডাকতে শুরু করে দিল। পরের বছর ডুব দিতে গেলেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা কলেজের পুকুরে। দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিট ডুবে থেকে হতবাক করে দিলেন হাজার হাজার দর্শককে। একই বছর রাজশাহীর সোনাদীঘিতে ছিলেন তিন ঘণ্টা ১০ মিনিট।

১৯৭৫ সালে খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে খুলনা পাইওনিয়ার গার্লস স্কুলের পুকুরে এক ডুবে কাটিয়ে দিলেন ২৮ ঘণ্টা।

১৯৭৬ সালে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে আসেন নওশের আলী। প্রদর্শনী দেখতে লোকারণ্য হয়ে ওঠে লালদীঘি ময়দান। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজিত প্রদর্শনীতে সেবার লালদীঘিতে ৩০ ঘণ্টা ডুবেছিলেন নওশের আলী। এরপর আরো তিনবার আসেন বন্দরনগরীতে।

১৯৭৭ সালে বন্দর পুকুরে ৪০ ঘণ্টা, ১৯৮৮ সালে লালদীঘিতে ৪০ ঘণ্টা এবং ১৯৯০ সালে ৫২ ঘণ্টা পানির নিচে কাটিয়ে দেন নওশের আলী। এরপর আরো বেশি সময় ডুবে থাকার নেশায় চেপে বসে তাঁকে। নিজের রেকর্ড ভাঙতে চালান আপ্রাণ চেষ্টা; সফলও হন তিনি।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ২০০৪ সালে এক ডুবে টানা ৭২ ঘণ্টা তথা তিন দিন কাটিয়ে আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন নওশের আলী। এখানো অনায়াসে ৭২ ঘণ্টা ডুবে থাকতে পারবেন বলে মনে করেন এ জলমানব।

সর্বশেষ তিনি চট্টগ্রামে আসেন গত ২৮ সেপ্টেম্বর। ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার। ঘড়ির কাটা তখন সকাল সাড়ে অটটা ছুঁই ছুঁই। পুকরে চার পাশে শত শত মানুষের ভীড়। বৃদ্ধ, শিশু-কিশোর, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী কেউ বাদ নেই। তারা অধিক আগ্রহে বসে আছে জলমানব নওশের আলী কিভাবে পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুবে থাকবেন তা দেখার জন্য

ডুব দেয়ার আগে ডাক্তারি পরীক্ষা সেরে নেন নওশের আলী। ডাক্তার সায় দিলেই পানিতে নামেন। নামার আগে চুক্তিপত্র লিখে দেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। তারপর দেন ডুব।

অপেক্ষার পালা শেষ করে মাইকে ঘোষণা হলো বাংলাদেশের আলোচিত নওশের আলী পানিতে ডুবে দিতে যাচ্ছে। যথারীতি মাইকের মাধ্যমে উপস্থিত মানুষের কাছে দোয়া চেয়ে সকাল ১০টায় ডুব দিলেন পানিতে। সারাদিন শত শত মানুষ এই জলমানবকে দেখতে ভীড় জমান মিরসরাই উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া এলাকায় ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন পাশার পুকুরের পাড়ে।

বেলা সাড়ে ১২ টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, নওশের আলী নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে থেকে তার কৌশল দেখাচ্ছেন। মাঝে মধ্যে দুধ, কলা, আপেল, ডিম এমনকি চা সিগারেট নিয়েও খাচ্ছেন। কখনো গানের তালে তালে হাত উপরে তুলে নৃত্যের ভঙ্গি করছেন।

মাইকে প্রশ্ন করলে হাত তুলে ইশারায় প্রশ্নের জবাব দেন। পানির নিচে নওশের সিগারেট টানার সময় বাতাসে ধোঁয়া ভেসে উঠতে দেখা যায়। এ অবিশ্বাস্য দৃশ্য পুকুরের পাড়ে উপস্থিত দর্শকদের অবাক করে।

বিকেল তিন টায় গিয়েও পানির নিচে ডুবে থাকতে দেখা গেছে। ডুব প্রদর্শনী দেখতে আসা স্থানীয় ফজলে ওয়াহিদ আদর ও নিজামপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী খালেদা আক্তার বলেন, পত্র-পত্রিকায় তার নাম শুনেছি কিন্তু এভাবে ডুব প্রদর্শনী দেখতে পারব কখনো ভাবিনি।

প্রথমদিকে অনেকেই ভেবেছিলেন, নওশের আলী বুঝি অক্সিজেন ছাড়াই বাঁচেন। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেই তা নয়। জলের তলায় শ্বাস তাকে নিতেই নয়। ডুবন্ত অবস্থায় দুই হাত পানির উপরে এনে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এতে পানির নিচে তৈরি হয় বুদ্বুদ। আর কায়দা করে ওই বুদ্বুদ থেকেই বাতাস গিলে নেন নওশের আলী।

অক্সিজেন ছাড়া কোনো প্রাণী বাঁচতে পারে না। তাহলে কিভাবে এ কাজ সম্ভব জানতে চাইলে নওশর আলী জানান, “পানির নিচে বিশেষ কায়দায় অক্সিজেন তৈরি করে ডুবে থাকি। ডুবে থাকা অবস্থায় পানিতে হাত দিয়ে আঘাত করলে বড় জায়গা তৈরি হয়। এ জায়গা থেকে অক্সিজেন নিয়ে আবার পানিতে ছেড়ে দিই।”


পুরোটাই শারীরিক কসরতের ব্যাপার, কোনো তুকতাক জাদুমন্ত্র নয়। তবে খুঁটিনাটি দিকগুলো নিজের শিক্ষার্থী ছাড়া আর কাউকে জানাতে রাজি নন নওশের আলী। জলের তলায় যেন এক ঘেয়ে না লাগে সে জন্য বিনোদনের ব্যবস্থাও আছে।

পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নওশের আলীর দিকে তাকিয়ে থাকাটাও তো ধৈর্যের ব্যাপার। আর তাই নওশের আলীর বাহিনী সব সময় মেতে থাকে গান-বাজনায়। নাচ-গানের তালে পানির নিচেও চলে নওশের আলীর শারীরিক কসরত। এ দীর্ঘ সময় কার না খিদে লাগে।

কিন্তু পানির তলায় মাছ-ভাত তো আর খাওয়া সম্ভব নয়। তাই পুরোটা সময় নওশের আলী তরল খাবার খেয়েই কাটিয়ে দেন। প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধও খান। স্যুপ আর জুসের পাশাপাশি কদাচিৎ সেদ্ধ ডিম খান তিনি।

নওশের আলীর হিসাব মতে, ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট সাড়ে ১৩ হাজার ঘণ্টা কাটিয়েছেন। তার নাম শুধু দেশে মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বাংলাদেশের গণ্ডী পেরিয়ে আর্ন্তজাতিক পর‌্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে তার সুখ্যাতি।

১৯৭৫ সালে তিনি কলকাতার চব্বিশ পরগনায় ছড়িয়াল চেকপোস্টের এক পুকুরে ১২ ঘণ্টার ডুব দেন নওশের। এর দু-এক বছরের মধ্যে আবার কলকাতার বশীরহাটে আট ঘণ্টাব্যাপী চলে তাঁর প্রদর্শনী।

২০০৪ সালে পত্রিকায় প্রকাশের পর দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের এসবিএস টিভি চ্যানেলের আয়োজনে দেশটির একটি লেকে ৩০ ঘণ্টা চলে তার প্রদর্শনী। অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ এই তিন মাস হাড় কাঁপানো শীতের মাঝেই স্বপ্নপুরীর লেকে চলে নওশের আলীর প্রদর্শনী। বছরের অন্য সময় যান বাইরের প্রদর্শনীতে।

নওশের আলী এখন ডুবে থাকার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তার কয়েকজন সহযোগীকে। দক্ষ হয়ে উঠেছেন আবদুল মান্নান ও আবুল হোসেন। পানিতে বুদ্বুদ তৈরি করে ঘণ্টাখানেক ডুবে থাকতে পারেন তারা।

নওশের আলী মাকে হারিয়েছেন ছোট বেলায়। তরুণ বয়সে বাবাকেও হারান। তিন ভাই, চার বোনের মধ্যে নওশের আলী তৃতীয়। বিয়ে করেননি। গিনেস বুক অব রেকর্ডসে নাম উঠলেই তিনি করবেন, তার আগে নয়। এছাড়া আরেকটি স্বপ্ন-এক ডুবে পাড়ি দেবেন ইংলিশ চ্যানেল।

নওশের জানান, গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ তার আবেদনে সাড়া দিয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা কামনা করেন। Click this link...
ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড : ভিন্ন খবর