Translate

বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মুসলমানদের বিরুদ্ধে আহলে হাদীস বা লা-মায্‌হাবীদের আক্রমণ ও তার জবাব


      মুসলমানদের বিরুদ্ধে আহলে হাদীস বা লা-মায্‌হাবীদের আক্রমণ তার জবাব         

মায্‌হাব মানা বা তাক্বলীদ করা এবং মায্‌হাব্‌-অবলম্বীদের প্রতি বিরাগ-বিদ্বেষ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিয়েই কথিত আহলে হাদীস মতবাদের আত্নপ্রকাশ। তাই, মায্‌হাব্‌ ও মায্‌হাব্‌পন্থীদের প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অসংগতিপূর্ণ, জঘণ্যতম ও ন্যাক্কারজনক কটুক্তিপূর্ণ বই-পুস্তক তারা বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে বিতরণ করে যাচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ তাদের পুস্তকগুলো থেকে কয়েকটি উক্তি নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ


লা-মায্‌হাবীদের বহুল আলোচিত বই কাটহুজ্জাতীর জাওয়াব বইয়ের লিখক মাওঃ আবু তাহের বর্দ্ধমানী লিখেছেঃ
তাক্বলীদ হচ্ছে ঈমানদারদের জন্য শয়তানের সৃষ্ট বিভ্রান্তি। ” ( কাটহুজ্জাতীর জাওয়াবঃ পৃ - ৮৩)
 ২/ অত্যন্ত বিতর্কিত বই তাওহীদী এটম বোম বইয়ের প্রণেতা মাওঃ আব্দুল মান্নান সিরাজনগরী (বগুড়া) লিখেনঃমুক্বাল্লিদগণকে মুসলমান মনে করা উচিত নয় । ” ( তাওহীদী এটম বোমঃ পৃ - ১৫
৩/ রংপুর শোলবাড়ী নিবাসী মোঃ আব্দুল কাদের লিখেনঃমায্‌হাবীগণ ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত, তাদের মধ্যে ইসলামের কোন অংশ নেই। ” ( তান্বিহুল গাফেলীন, আব্দুল কাদির রচিতঃ পৃ

/ তেছামুস সুন্নাহগ্রন্থের রচয়িতা মাওঃ আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদী লিখেঃচার ইমামের মুক্বাল্লেদ এবং চার তরিকার অনুসারীগণ মুশরিক ও কাফির। ইতেছামুস্‌ সুন্নাহ্‌: পৃঃ ৭-৮ )


৫/ এভাবে জফরুল মুবিন প্রণেতা মৌঃ মুহিউদ্দীন, তরজমানে ওহ্‌হাবিয়্যাহ প্রণেতা নবাব ছিদ্দীক হাসান খান এবং লা-মায্‌হাবীদের সর্বশ্রেষ্ঠ ফাতওয়ার কিতাব ফতোয়ায়ে নাজিরিয়ার সংকলক মৌঃ নাজিমুদ্দীন প্রমুখ মায্‌হাব-অবলম্বীদেরকে কাফির, মুশরিক, বিদআতী ও জাহান্নামী বলে ফতোয়া দিয়েছে।

(
দ্রঃ জফরুল মুবিনঃ পৃঃ ১৮৯-২৩০-২২৩; তরজমানে ওহ্‌হাবিয়্যাহঃ পৃঃ ৩৫-৩৬; ফতোয়ায়ে নাযীরিয়াঃ পৃঃ ১/৬৯-৯৭)

পর্যালোচনা  ১ / কথিত আছেঃ যে কাপড় খুলে রাস্তার পার্শ্বে মলত্যাগ করে তার তো কোন লজ্জানুভূতি নেই। কিন্তু যে প্রত্যক্ষ করছে সে লজ্জায় কাতর। ঠিক অনুরূপভাবে যারা এ সমস্ত মাতলামী প্রলাপ ব্যক্ত করেছে তাদের কোন লজ্জানুভূতি না হলেও মূলতঃ এগুলোর আলোচনা-পর্যালোচনা করতে আমাদের লজ্জাবোধ হচ্ছে।

 ২ / শিয়া সম্প্রদায় ও লা-মায্‌হাবীদের গুটিকয়েক ব্যতীত মুসলিম উম্মাহর পূর্ববতী ও পরবর্তী শরীয়ত বিশেষজ্ঞগণ, সমস্ত মুফাস্‌সির, মুহাদ্দিস, হাদীস সংকলক, ব্যাখ্যাকারক প্রায় সবাই কোন না কোন মায্‌হাবের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু-দাউদ, তাহাবী, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে-মুঈন, ইবনে তাইমিয়্যাহ, মোল্লা আলী ক্বারী, হাফেয যাহাবী, ইবনে-হাজার আসক্বালানী মুহামমদ বীন  আবদুল ওহহাব নজদী  প্রমুখ সকলেই তো এ পথের পথিক।
তারা সবাই যদি কাফির-মুশরিকই হয়ে থাকে তাহলে, তাদের সংকলিত হাদীস ও মতামত তারা গ্রহণ করে কোন্‌ হাদীসের ভিত্তিতে? অনুরূপভাবে হাদীসের বর্ণনাকারীগণও তো কোন না কোন মায্‌হাবের মুক্বাল্লিদ ছিলেন।
এদের বর্ণনার উপর লা-মায্‌হাবীদের আস্থা ও বিশ্বাস হয় কোন্‌ দলীলের মাধ্যমে? দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে বিদআতী, কাফির, মুশরিক ও জাহান্নামী আখ্যায়িত করতঃ শুধু তারা গুটি কয়েকজন বেহেশতে বসবাস করতে চায়। আল্লাহর বেহেশত কি তাদের সংকীর্ণ হৃদয়ের মত এতোই ছোট? বিদআতী, কাফির, মুশরিক আর জাহান্নামী আখ্যায় আখ্যায়িত করেছে তারা দুনিয়ার সবাইকে, কিন্তু প্রশ্ন হল, তারা এ যাবৎ মুসলমান ও বেহেশতী বানিয়েছে কয়জনকে? তারা কি মানুষকে কাফির-মুশরিক বানানোর দায়িত্ব পেয়েছে না মুসলমান বানানোর? যেমনটি করেছে বেরোলোভি মাজার পন্থিরা ও সমানে সকল কে  কথায় কথায়  কাফের বানাচ্ছে ,  কিন্তু প্রশ্ন হলো এরা মানুষকে মুসলিম বানাবে কবে ? আল্লাহর নবীর মিশনতো মুসলিম কে কাফের বানানোর জন্য নয় , কিন্তু আমরা কাউকে এমন কঠাক্ষ করার ওকালতি পাইনি বলেই এমন মনতব্য করবোনা ৷ আল্লাহ সকলকেই হেদায়েত নসিব করুন ৷

তাদের এ অবস্থার প্রতি বিব্রতবোধ করেই মুজাদ্দেদে আলফে সানী (রহঃ) কতইনা সুন্দর কথা বলেছেনঃ

মায্‌হাব অমান্যকারীরা যদি এমন বিশ্বাস নিয়ে বসে থাকে, তাহলে তাদের এ ভ্রান্ত ধারণা অনুযায়ী মুসলমানদের সামান্য কয়জন বাদ দিয়ে, বৃহত্তর অংশই তো বিদআতী, মুশরিক, কাফির বা পথভ্রষ্ট হিসেবে বিবেচিত হতে বাধ্য। তাই এমন ধারণা তো শুধু এই মূর্খ বা আহ্‌মকই করতে পারে, যে স্বয়ং তার মূর্খতারই খবর রাখে না।

অথবা সেই যিন্দীক্ব বা নাস্তিকের জন্যই এমন ধারণা-পোষণ শোভা পায়, যার উদ্দেশ্য বা আকাংখা হচ্ছে মুসলমানদের বৃহত্তর অংশের মধ্যে নিরাশা সৃষ্টি করতঃ খোদ দ্বীন ইসলামকেই আংশিক বা পুরোপুরি অচল করে দেয়া। উক্ত ধারণা পোষণকারী শ্রেণীর লোকজন গুটিকয়েক হাদীস মুখস্থ করতঃ শরীয়তের সমস্ত বিধি-বিধান শুধু এই কয়েকটি হাদীসের মধ্যেই সীমিত হবার বদ্ধমূল ধারণা নিয়ে বসে আছে। নিজের অজানা সবকিছুকে তারা অস্বীকার করে চলেছে। ( মাক্‌তুবাতে ইমাম রাব্বানীঃ ২/১০৭-১০৮ মাক্‌তুব নং ৫৫ (ফার্সী) )
কিছু কথাঃ

মায্‌হাব চতুষ্টয়ের {  হানাফী মালেকী শাফেয়ী হাম্বলী} তাক্বলীদের ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে 'ইজমা' সংঘটিত হয়েছে হিজরী ৪র্থ শতাব্দীর পূর্বেই। এবং সাথে সাথে মুসলিম উম্মাহর  উলামায়ে কিরাম ও বিশেষজ্ঞ ফক্বীহগণ সর্বসম্মতভাবে একাধিক মায্‌হাবের অনুসরণের দ্বার রুদ্ধ করে কেবল একই মায্‌হাবের অনুসরণকে জরুরী ও ওয়াজিব বলে ফাত্‌ওয়া দেন। যা প্রায় ১০০০ হাজার বছর পর্যন্ত  চলে আসছে, এসময়ের মধ্যে আহলে হাদীস নামধারী  দের কোন অনাঘোনা ও ছিলনা , হঠাৎ করে মনে হয় যেন গর্তের  থেকে বের হয়ে নতুন রঙ্গীন চশমা পরে  সকল মুসলিম কে কাফের মুশরেক ও বেদআতী বানানোর ইহুদী-খৃষ্টানদের চক্রান্তে মেতে উঠেছে ৷    

নিচে মুহাদ্দিসগণের কিছু মতামত তুলে ধরছিঃ

১। মুসলিম শরীফের প্রসিদ্ধতম ও সর্বশ্রেণীতে গৃহীত ব্যাখ্যা আল্ মিনহাজপ্রণেতা ইমাম নববী (রহঃ) (মৃঃ ৬৭৬ হিঃ) রাওযাতুত তালেবীননামক গ্রন্থে লিখেনঃউলামাগণ বলেন, ইজতিহাদে মুতলাক, ইমাম চতুষ্টয় পর্যন্ত খতম হয়ে গেছে। তাই তাঁরা ইমাম চতুষ্টয়ের কোন একজনের তাক্বলীদমুসলিম উম্মাহর জন্য ওয়াজিব সাব্যস্ত করে দিয়েছেন। ইমামুল হারামাইন জুয়াইনী (মক্কা-মদীনা শরীফের ইমাম সাহেব রহঃ, মৃঃ ৪৭৮ হিঃ) মায্হাব চতুষ্টয়ের তাক্বলীদ ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ইজ্মাউল্লেখ করেছেন। ”( নুরুল হিদায়া হতে সংকলিত, পৃ ১০; দেখুনঃ ফয়যুল কাদীরঃ পৃ ১/২১০; শরহুল মুহায্যাব, নববীঃ পৃ ১/৯১, আদাবুল মুস্তাফতী অধ্যায় )
অন্যত্র তিনি লিখেনঃ  যে কোন একটি মায্হাব বেছে নিয়ে একনিষ্ঠভাবে তা অনুসরণ করাই বর্তমানে অপরিহার্য।
(
আল্-মাজমুশরহুল মুহায্যাব্, পৃ ১/১৯ )
২। গাইরে মুক্বাল্লিদ্দের অন্যতম মান্যবর ইমাম, আরব বিশ্বের সর্বনন্দিত লিখক শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহঃ) (মৃঃ ৭২৮ হিঃ) লিখেছেন মুসলিম উম্মাহর ইজ্মাউপেক্ষা করে মায্হাব চতুষ্টয়ের বিপরীতে কোন মায্হাব রচনা বা গ্রহণ বৈধ হবে না। ”( ফাত্ওয়া-ইবনে তাইমিয়্যাঃ পৃ ২/৪৪৬ )  ইচ্ছামত চার মায্হাবের যখন যেটি খুশি সেটি অনুসরণ করা সকল ইমামের ঐক্যমতে হারাম বা অবৈধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।  (ফাত্ওয়া-ইবনে তাইমিয়্যাঃ পৃ২/২৪১ )
৩। প্রখ্যাত উসূলে হাদীস বিশারদ, ইবনি নুজাইম (রহঃ) (মৃঃ ৯৭০ হিঃ) লিখেনঃ যে ব্যক্তি ইমাম চতুষ্টয়ের বিপরীত মতামত পোষণ করবে সে মুসলিম উম্মাহর ইজমাতথা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত-বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত হবে।  ( আল্-আশ্বাহ্ ওয়ান নাযাইরঃ পৃ ১৩১ )
৪। আল্লামা ইমাম ইবনে হাজার মক্কী (রহঃ) (মৃঃ ৯৭৩ হিঃ) তাঁর স্বীয় প্রসিদ্ধ কিতাব ফাত্হুল মুবীনএ লিখেনঃ
আমাদের যুগের বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবু হানীফা, শাফেয়ী, মালেক ও আহমদ বিন হাম্বল এ চার ইমাম ব্যতীত অন্য কারও তাক্বলীদ (অনুসরণ) জায়িয নয়। ”( ফাত্হুল মুবীনঃ পৃ ১৯৬ )
৫। আল্লামা শারানী (রহঃ) (মৃঃ ৯৭৩ হিঃ) তাঁর বিখ্যাত কিতাব আল্-মিযানে লিখেনঃ
রহঃ) (মৃঃ ১১৭৬ হিঃ), লা-মায্হাবীদের কাছেও যিনি গ্রহণযোগ্য, তাঁর সুপ্রসিদ্ধ কিতাব হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগায় লিখেনঃ সু-বিন্যস্ত গ্রন্থবদ্ধ এ চার মায্হাবের উপর সকল ইমামগণের ইজ্মাতথা ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
(
হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাঃ পৃ ১/১২৩ )

৭। আহলে হাদীস নামক দলের অন্যতম আলিম মুফতী ছদরুদ্দীন বলেনঃ চার মায্হাবের কোন নির্দিষ্ট মায্হাব নির্বাচন করা রসূল (সঃ) এর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। ”( তামবীহুদ্দাল্লীনঃ পৃ ৪৫ )
 

রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৩

কবিরাহ-ছগিরাহ গুনাহ শারিরীক মানষীক অশান্তী সৃষ্টি করে , সমাজে অবহেলীত ও ঘৃনীত হতে হয় , আখেরাতে ভয়াবহ শাস্তি

যে কোন ধরনের পাপ কাজ  মানুষকে  বিব্রত করে ,  শারিরীক মানষীক অশান্তী সৃষ্টি  করে ,  সমাজে অবহেলীত ও ঘৃনীত  হতে হয় ,
মানুষের আয়ু কমে যায় যা  অকাল মৃত্যুর কারন ও বটে,তাছাডা আখেরাতেই রয়েছে চরম শাস্তি  ৷ তাই সকল মানুষ কে আল্লাহ-রসুল পদত্ত নির্দেশীত পথে চলা অপরিহায্য ৷
নিন্মে এ রকম ১০০টি কবিরা  -ছগিরা গুনাহর লিষ্ট দেয়া হল ,, তবে এর মধ্যে এমন  কিছু গুনাহ রয়েছে যা আল্লাহ তায়ালা খালেছ তাওবাহ ছাডা ক্ষমা করবেন না ৷
 আল্লাহ আমাদের সকলকে যাবতীয় গুনাহ থেকে দূরে থাার তাওফিক দান করুন আমিন ৷
1. আল্লাহর সাথে শিরক করা
2. নামায পরিত্যাগ কর
3. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া
4. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা
 5. পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা
6. যাদু-টোনা করা
7. এতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা
8. জিহাদের ময়দান থেকে থেকে পলায়ন
9. সতী-সাধ্বী মু‘মিন নারীর প্রতি অপবাদ
10. রোযা না রাখা
11. যাকাত আদায় না করা
12. ক্ষমতা থাকা সত্যেও হজ্জ আদায় না করা
13. যাদুর বৈধতায় বিশ্বাস করা
14. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া
15. অহংকার করা
16. চুগলখোরি করা (ঝগড়া লাগানোর উদ্দেশ্যে একজনের কথা আরেকজনের নিকট লাগোনো)
17. আত্মহত্যা করা
18. আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করা
19. অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ ভক্ষণ করা
20. উপকার করে খোটা দান করা
21. মদ বা নেশা দ্রব্য গ্রহণ করা
22. মদ প্রস্তুত ও প্রচারে অংশ গ্রহণ করা
23. জুয়া খেলা
24. তকদীর অস্বীকার করা
25. অদৃশ্যের খবর জানার দাবী করা
26. গণকের কাছে ধর্না দেয়া বা গণকের কাছে অদৃশ্যের খবর জানতে চাওয়া
27. পেশাব থেকে পবিত্র না থাকা
28. রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নামে মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করা
29. মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করা
30. মিথ্যা কথা বলা
31. মিথ্যা কসম খাওয়া
32. মিথ্যা কসমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করা
33. জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া
34. সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া
35. মানুষের গোপন কথা চুপিসারে শোনার চেষ্টা করা
36. হিল্লা তথা চুক্তি ভিত্তিক বিয়ে করা।
37. নেকাহে মোতা করা
38. মানুষের বংশ মর্যাদায় আঘাত হানা
39. মৃতের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করা
40. মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা
41. মুসলিমকে গালি দেয়া অথবা তার সাথে লড়ায়ে লিপ্ত হওয়া
42. খেলার ছলে কোন প্রাণীকে নিক্ষেপ যোগ্য অস্ত্রের লক্ষ্য বস্তু বানানো
43. কোন অপরাধীকে আশ্রয় দান করা
44. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু জবেহ করা
45. ওজনে কম দেয়া
46. ঝগড়া-বিবাদে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা
47. ইসলামী আইনানুসারে বিচার বা শাসনকার্য পরিচালনা না করা
48. জমিনের সীমানা পরিবর্তন করা বা পরের জমি জবর দখল করা
49. গীবত তথা অসাক্ষাতে কারো দোষ চর্চা করা
50. দাঁত চিকন করা
51. সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে মুখ মণ্ডলের চুল তুলে ফেলা বা চুল উঠিয়ে ভ্রু চিকন করা
52. অতিরিক্ত চুল সংযোগ করা
53. পুরুষের নারী বেশ ধারণ করা
54. নারীর পুরুষ বেশ ধারণ করা
55. বিপরীত লিঙ্গের প্রতি কামনার দৃষ্টিতে তাকানো
56. কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা
57. পথিককে নিজের কাছে অতিরিক্ত পানি থাকার পরেও না দেয়া
58. পুরুষের টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পোশাক পরিধান করা
59. মুসলিম শাসকের সাথে কৃত বাইআত বা আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করা
60. চুরি করা ডাকাতি করা
61.
62. সুদ লেন-দেন করা, সুদ লেখা বা তাতে সাক্ষী থাকা
63. ঘুষ লেন-দেন করা
64. গনিমত তথা জিহাদের মাধ্যমে কাফেরদের নিকট থেকে প্রাপ্ত সম্পদ বণ্টনের পূর্বে আত্মসাৎ করা
65. স্ত্রীর পায়ু পথে যৌন ক্রিয়া করা
66. জুলুম-অত্যাচার করা
67. অস্ত্র দ্বারা ভয় দেখানো বা তা দ্বারা কাউকে ইঙ্গিত করা
68. প্রতারণা বা ঠগ বাজী করা
69. রিয়া বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সৎ আমল করা
70. স্বর্ণ বা রৌপ্যের তৈরি পাত্র ব্যবহার করা
71. পুরুষের রেশমি পোশাক এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য পরিধান করা
72. সাহাবীদের গালি দেয়া
73. নামাযরত অবস্থায় মুসল্লির সামনে দিয়ে  {সেজদার জায়গা }দিয়ে গমন করা
74. মনিবের নিকট থেকে কৃতদাসের পলায়ন
75. ভ্রান্ত মতবাদ জাহেলী রীতিনীতি অথবা বিদআতের প্রতি আহবান করা
76. পবিত্র মক্কা ও মদীনায় কোন অপকর্ম বা দুষ্কৃতি করা
77. নিজের বংশের পরিচয় গোপন করে অন্য বংশর পরিচয় দয়া
78. আল্লাহর ব্যাপারে অনধিকার চর্চা করা
79. বিনা প্রয়োজনে তালাক চাওয়া
80. যে নারীর প্রতি তার স্বামী অসন্তুষ্ট
81. স্বামীর অবাধ্য হওয়া
82. স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর অবদান অস্বীকার করা
83. স্বামী-স্ত্রীর মিলনের কথা জনসম্মুখে প্রকাশ করা
84. স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিবাদ সৃষ্টি করা
85. বেশী বেশী অভিশাপ দেয়া
86. বিশ্বাস ঘাতকতা করা
87. অঙ্গীকার পূরণ না করা
88. আমানতের খিয়ানত করা
89. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া
90. ঋণ পরিশোধ না করা
91. বদ মেজাজি ও এমন অহংকারী যে উপদেশ গ্রহণ করে না
92. তাবিজ-কবজ, রিং, সুতা ইত্যাদি ঝুলানো এবং এর প্রভাব আছে বলে বিশ্বাস করা
93. পরীক্ষায় নকল করা
94. ভেজাল পণ্য বিক্রয় করা
95. ইচ্ছাকৃত ভাবে জেনে শুনে অন্যায় বিচার করা
96. আল্লাহ বিধান ব্যতিরেকে বিচার-ফয়সালা করা
97. দুনিয়া কামানোর উদ্দেশ্যে দীনী ইলম অর্জন করা
98. কোন ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জানা সত্যেও তা গোপন করা
99. নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা
100. আল্লাহর রাস্তায় বাধা দেয়া

 পোস্টটা আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন মুসলিম ভাই ।
 যাতে করে আপনার সকল বন্ধুরা আপনার কাছে থেকে শিখতে পাড়ে ও জানতে পাড়ে ।
 রাসুল (সাঃ) বলেনঃ “তোমাদের উপরে দায়িত্ব দিচ্ছি-- তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি হাদিস হলেও তা প্রচার কর। তবে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত আমার নামে মিথ্যা বলবে, তার আবাসস্থল হবে জাহান্নাম।”
[বুখারী]

বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৩

নারী উন্নয়ন নীতিমালা-২০১১ , কয়েকটি ধারা ও কোরআনের ভাষ্য বা সাংঘ্ষীক


বর্তমান সরকার নারী উন্নয়ন নীতিমালার নামে যে খসড়া নীতি অনুমোদন করেছে, তা সিডও বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের একটি কৌশলপত্র মাত্র। সিডও সনদের ধারাগুলোর হুবহু প্রতিধ্বনি করা হয়েছে নারী উন্নয়ন নীতিমালা-২০১১ এর খসড়ায়।
সিডও সনদে মুসলিম দেশগুলোর পক্ষ থেকে যেসব ধারার উপর আপত্তি জানানো হয়েছে সেগুলো হলো— ২, ৩, ৯, ১৩ এবং ১৬ নং ধারা। এই ধারাগুলোর বক্তব্য আমরা হুবহু উদ্ধৃত করছি।
২. অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে—নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্যের প্রতি নিন্দা জানিয়েছে সনদে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো। নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে তারা নিজ নিজ দেশে প্রয়োজনীয় আইন তৈরির ঘোষণা দিচ্ছে। সংবিধানে সমঅধিকারের ঘোষণা না থাকলে সমঅধিকারের নিশ্চয়তা দিয়ে সংবিধান নতুন করে প্রণয়ন করবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আইনকানুন ও বিধিবিধান বিলোপ করবে।
৩. রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সবক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করবে রাষ্ট্র।
১৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের সবক্ষেত্রে নারীর প্রতি সব বৈষম্য দূর করে সমতার ভিত্তিতে নারী ও পুরুষেরা সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ অধিকারের মাঝে পারিবারিক সুযোগ-সুবিধা ও ব্যাংক লোনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
১৫. চলাফেরার স্বাধীনতা, বাসস্থান পছন্দ এবং স্থায়ী নিবাস স্থাপনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা।
১৬. বিয়ে এবং পারিবারিক সম্পর্কসহ সব বিষয়ে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে রাষ্ট্র পদক্ষেপ নেবে এবং এসব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করবে।
১৬-১. বিবাহিত জীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার থাকবে।
১৬.২ বিবাহ, স্বামী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধিকার।
১৬-৩. বিয়ে এবং তালাকের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও সমান দায়দায়িত্ব থাকবে।
১৬-৫. শিশু লালন-পালনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও সমান দায়দায়িত্ব থাকবে।
১৬.৭ : সম্পত্তির মালিকানা, ব্যবস্থাপনা এবং বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সমান দায়িত্ব ও অধিকার।
বাংলাদেশ এই ধারাগুলোর ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিল। এতে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, কোরআন সুন্নাহ ও ইসলামী আইন এবং মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যে কারণে অতীতের সব কটি সরকার সিডও সনদের ইসলাম ও কোরআনবিরোধী ধারাগুলো প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তারপরও কোন স্বার্থে বর্তমান সরকার সেই আপত্তি প্রত্যাহার করেছে
 ইসলামপ্রিয় ৯০ শতাংশ নাগরিকের আজ সেটিই জিজ্ঞাসা।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, নারী উন্নয়ন নীতিমালায় ইসলামবিরোধী কোন কিছু নেই। অথচ দেশের বিজ্ঞ আলেম-ওলামা ও ইসলামী বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নারী উন্নয়ন নীতিমালা কোরআন সুন্নাহ ও ইসলামী শরীয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিগত ৭ মার্চ মন্ত্রিসভায় নারী উন্নয়ন নীতিমালা অনুমোদনের পর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) পরিবেশিত খবরে বলা হয়, ‘ভূমিসহ সম্পদ-সম্পত্তিতেও উত্তরাধিকারে নারীর সমান অধিকার স্বীকৃতি দিয়ে নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ এর খসড়া অনুমোদন করছে মন্ত্রিসভা’। (প্রথম আলো, যুগান্তর, কালের কণ্ঠ)
আমাদের দৃষ্টিতে নারী উন্নয়ন নীতিমালার সমস্যাগুলো এবং ইসলামের সঙ্গে তথা কোরআন সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো নিম্নরূপ :
১. এই নীতিমালা সিডও সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের কৌশল হিসাবে প্রণয়ন করা হয়েছে। সিডও সনদের ২, ৩, ৯, ১৩, ১৬ ধারায় ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নারীর নীতিতে সিডও বাস্তবায়নের অঙ্গীকার স্পষ্ট ভাষায় বারবার ব্যক্ত করা হয়েছে। (দ্রষ্টব্য নারী উন্নয়ন নীতিমালা ৪ নং ধারার শেষ প্যারা। ৪.১, ১৭.২)
২. এই নীতিমালায় সিডও-এরই প্রতিধ্বনি করা হয়েছে মাত্র। সিডও সনদে নারীকে উপস্থাপন করা হয়েছে ইউরোপিয়ান জীবন ধারা ও সংস্কৃতির আলোকে। ফলে এই নীতিমালায় মুসলিম নারীর জীবন ধারা ও ইসলামী সংস্কৃতির মোটেই প্রতিফলন ঘটেনি, যে কারণে এই নীতিমালা ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশের জীবনাচারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আমাদের বিশ্বাস, এই নীতিমালার মাধ্যমে মুসলমানদের মুসলিম সংস্কৃতি বর্জন করে ইউরোপিয়ান সংস্কৃতি অবলম্বনের দক্ষ কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।
৩. ইসলাম নারী উন্নয়ন ও নারী অধিকারে সর্বোচ্চ প্রবক্তা হলেও এবং নারী নির্যাতনরোধে সর্বাধিক বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করলেও পুরুষ প্রধান সমাজব্যবস্থার প্রবক্তা। পরামর্শের সব পর্যায়ে নারীকে সমঅধিকার প্রদান করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অধিকার পুরুষকেই প্রদান করেছে। আল-কোরআনে এ মর্মে স্পষ্টতই উল্লেখ আছে।
দ্রষ্টব্য : সূরা বাকারা আয়াত-২২৮, সূরা নিসা : আয়াত-৩৮, বুখারি শরীফ : খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-১০৫৭, মুসলিম শরীফ : খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-১২২
৪. নারী উন্নয়ন নীতিমালা যেহেতু ইউরোপিয়ান নারীর কল্পচিত্রকে সামনে রেখে প্রণীত হয়েছে। অতএব, নীতিমালাটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ইসলামের অলংঘনীয় বিধান পর্দার বিষয়টির প্রতি মোটেও লক্ষ রাখা হয়নি, ফলে এর অধিকাংশ ধারা পর্দার বিধান লংঘন না করে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। ফলে উন্নয়ন পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপিত বিষয়গুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোরআনের বিরুদ্ধে প্রকাশ পেয়েছে এবং পর্দার বিধান লংঘন হওয়ার কারণে তা কোরআনবিরোধী বলে প্রতিপন্ন হয়েছে।
৫. ইসলাম মূলত নারী-পুরুষের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পারিবারিক জীবন গড়ে তুলতে চেয়েছে, নারী নীতি বাস্তবায়ন হলে তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাবে। অধিকারের টানাটানিতে পারিবারিক জীবন এক সংঘাতময় যুদ্ধ ক্ষেত্রে পরিণত হবে। পারিবারিক সৌহার্দ্য শেষ হয়ে যাবে, যা এখন ইউরোপের সমাজ ব্যবস্থায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং এদিক থেকে এই নীতিমালা ইসলামের পারিবারিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
৬. ইসলাম পৈতৃক উত্তরাধিকারে নারীকে পুরুষের তুলনায় অর্ধেক প্রদান করেছে। এই বিধান সূরা নিসার ১১নং আয়াতের সুস্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে :
يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ ۖ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ ۚ فَإِن كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ ۖ وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ ۚ وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ ۚ فَإِن لَّمْ يَكُن لَّهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ ۚ فَإِن كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۗ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا ۚ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا [
‘আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেনঃ একজন পুরুষের অংশ দু?জন নারীর অংশের সমান। অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু' এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের পুত্র থাকে। যদি পুত্র না থাকে এবং পিতা-মাতাই ওয়ারিস হয়, তবে মাতা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। অতঃপর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ ওছিয়্যতের পর, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত অংশ নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞাতা ও প্রজ্ঞাময়।’ [সূরা নিসা : আয়াত-১১]
সুতরাং উত্তরাধিকারে যদি নারীকে পুরুষের সমান প্রদান করা হয়, তাহলে এটি হবে সুস্পষ্ট কোরআনবিরোধী।
অথচ সরকার মুখে বলছে, কোরআনবিরোধী কোনো বিষয় নারী নীতিতে নেই। সরকারের এই বক্তব্যকে অন্যক্ষেত্রে না হলেও শুধু উত্তরাধিকারের প্রশ্নে সরল অর্থে গ্রহণ করা যেত যদি সিডও বাস্তবায়নের অঙ্গীকার দৃঢ়তার সঙ্গে নারী নীতিতে ব্যক্ত না করা হতো। সিডও সনদের আগে ধারাগুলো যে কুরআন সুন্নাহ ও ইসলামী জীবন দর্শনের পরিপন্থী তা আন্তর্জাতিকভাবেই স্বীকৃত। যে কারণে মুসলিম দেশগুলো তা মেনে নেয়নি। স্বয়ং বাংলাদেশও সেগুলোকে কোরআন সুন্নাহর পরিপন্থী মনে করে সেগুলো সংরক্ষণ করে সিডও সনদে স্বাক্ষর করেছিল। সবক্ষেত্রে নারীর সম-অধিকারের ঘোষণার মাধ্যমে মুসলিম উত্তরাধিকার আইনকে অকার্যকর করাই যে সিডও সনদের মূল লক্ষ্য তা অন্ধজনও বুঝতে সক্ষম।
নারী নীতির ভূমিকা ২য় লাইন ৪, ৪.১, ১৬.১, ১৬.৮, ১৬.১২, ১৭.১, ১৭.৪, ২৩.৫ ধারাগুলো যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, তাতে যে কোনো ব্যক্তি তাদ্বারা উত্তরাধিকারে নারী-পুরুষের সমান পাবে এই সিদ্ধান্ত উপনীত হতে পারবে। সিডও বাস্তয়নের অঙ্গীকারে আবদ্ধ সরকার পরে সেই ধারাগুলোকে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সমতার ব্যাখ্যা করবে না এ নিশ্চয়তা কে দেবে? (সংগৃহীত)

শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৩

ফাযায়েল মাছায়েল রমজান মোবারক

বছরের অন্যতম ফযীলতপূর্ণ মাস হল রমযান।
 প্রত্যেক মুসলিমের জীবনে রমযানের গুরুত্ব অপরিসীম। রমযান হল পূণ্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ মৌসুম। দীর্ঘ এক মাসের রোযা, তারাবী, তাহাজ্জুদ, কুরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য অর্জন করে এবং সব ধরনের গুনাহ থেকে বিরত থেকে অর্জন করে হৃদয় ও আত্মার পরিশুদ্ধি। মাসজুড়ে তাকওয়ার অনুশীলনের মাধ্যমে তৈরি হয় বছরের বাকি দিনগুলো পাপ-পঙ্কিলতামুক্ত থাকার যোগ্যতা।
 বান্দার এই অনুশীলনকে যথার্থ ও তার সংযমকে স্বার্থক করার জন্য প্রয়োজন যথাযথভাবে এ মাসের বন্দেগীগুলো আগ্রহের সঙ্গে সঠিকভাবে আদায় করা।
 এ লক্ষ্যেই রমযানকে সামনে রেখে কুরআন হাদীস ও আছারের আলোকে রমযানের কিছু ফাযাইল ও মাসাইল নিম্নে উল্লেখ করা হল।
 ফাযাইল প্রসঙ্গ
=============
ভয়, মহব্বত,
রোযার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ তাআলা দিবেন রোযা একমাত্র আল্লাহর জন্য। শুধু আল্লাহর ভয়েই বান্দা পানাহার থেকে বিরত থাকে। নইলে পৃথিবীর কোন শক্তি এমন আছে যা তাকে গোপনে এক ঢোক পানি পান করা থেকে বিরত রাখতে পারে? রোযাদার পিপাসায় কাতর হয়, ওযুর জন্য মুখে পানি নেয়, কিন্তু' এক কাতরা পানি হলকের নিচে নামতে দেয় না। কার ভয়ে, কার মুহাব্বতে? একমাত্র আল্লাহ তাআলার ভয়ে, আল্লাহ তাআলার মুহাব্বতে। কেউ দেখছে না, কিন্তু' আল্লাহ দেখছেন। কেউ জানছে না, কিন্তু' আল্লাহ জানছেন।
 আহা! জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যদি এই অনুভূতি লাভ করতে পারতাম! এজন্যই তো রোযার প্রতিদান দিবেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। তাঁর শান অনুযায়ী।
 হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বনী আদমের প্রতিটি আমলের প্রতিদান বহু গুণে বৃদ্ধি হতে থাকে, ১০ গুণ থেকে ৭০০গুণ, এমনকি আল্লাহ চাইলে তার চেয়েও বেশি দেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তবে রোযার বিষয়টি ভিন্ন। কেননা, রোযা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি স্বয়ং এর প্রতিদান দিব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য পানাহার ও প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকে।
 রোযাদারের জন্য দু’টি আনন্দ :
 *****************
এক. ইফতারের মুহূর্তে দুই. রবের সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্তে।
 আর রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও উত্তম।-সহীহ মুসলিম হাদীস : ১১৫১
 রোযাদারের জন্য জান্নাতের বিশেষ দরজা
***************************
হযরত সাহ্ল ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত, জান্নাতে রাইয়ান নামে একটি দরজা আছে। এই দরজা দিয়ে শুধু রোযাদাররা প্রবেশ করবে। ঘোষণা করা হবে, রোযাদাররা কোথায়? তখন তারা উঠে দাঁড়াবে। যখন তাঁরা প্রবেশ করবে তখন ঐ দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করবে না।-সহীহ বুখারী হাদীস : ১৮৯৬
 অন্য রেওয়াতে আছে, জান্নাতে একটি দরজা আছে, যার নাম রাইয়ান। শুধু রোযাদারগণ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। আর যে তাতে প্রবেশ করবে সে কখনো পিপাসার্ত হবে না।-জামে তিরমিযী ৭৬৫; ইবনে মাজাহ : ১৬৪০
 রোযা রোযাদারের জন্য সুপারিশ করবে
***************************
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রোযা এবং কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও প্রবৃত্তির চাহিদা মেটানো থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন দু’জনের সুপারিশই গ্রহণ করা হবে।-মুসনাদে আহমদ হাদীস : ৬৫৮৯; তবারানী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/৪১৯

 রোযাদারের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না
****************************
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না : ১. রোযাদারের দুআ ইফতার করা পর্যন- ২. ন্যায়পরায়ণ বাদশাহের দুআ ও ৩. মাজলুমের দুআ। আল্লাহ তাআলা তাদের দুআ মেঘমালার উপরে উঠিয়ে নেন এবং এর জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। আর আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার ইজ্জতের কসম! বিলম্বে হলেও আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব।- মুসনাদে আহমদ হাদীস : ৯৭৪৩; জামে তিরমিযী হাদীস : ৩৫৯৮; ইবনে হিব্বান হাদীস : ৩৪২৮; ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৭৫২
 রোযাদারের জন্য মাগফিরাতের পুরষ্কার,
 **************************
পূর্ণ এক মাস বান্দা রোযা রাখল। প্রতিদিন ঘোষণা হচ্ছিল, ‘কে আছ ক্ষমাপ্রার্থী, আমার কাছে ক্ষমা চাও। আমি ক্ষমা করে দিব।’ মাস শেষ। বান্দা তার মালিকের হুকুম পালন করেছে। এবার তাঁর পক্ষ থেকে আসছে ক্ষমার ঘোষণা।
 হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ছওয়াবের আশায় রমযানের রোযা রাখবে আল্লাহ তাআলা তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’-সহীহ বুখারী হাদীস : ১৯০১; জামে তিরমিযী হাদীস : ৬৮৩; ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৩২৬
 সেহরী ও ইফতার
*************
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সেহরী খাও, সেহরীতে বরকত রয়েছে।-সহীহ বুখারী হাদীস : ১৯২৩; সহীহ মুসলিম হাদীস : ১০৯৫
 অন্য হাদীসে আছে, আমাদের রোযা ও আহলে কিতাবীদের রোযার মাঝে পার্থক্য হল সেহরী খাওয়া (আমরা সেহরী খাই তারা খায় না)।-সহীহ মুসলিম হাদীস : ১০৯৬

 শেষ ওয়াক্তে সেহরী খাওয়া সুন্নত
***********************
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মত কল্যাণের মাঝে থাকবে যতদিন তারা সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করবে ও শেষ ওয়াক্তে সেহরী খাবে।-মুসনাদে আহমদ ৫/১৭৪ হাদীস :
অন্য হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেহরী খাওয়া ও আযানের মাঝের সময়ের ব্যবধান ছিল পঞ্চাশ আয়াত তেলাওয়াত পরিমাণ।-সহীহ বুখারী হাদীস : ১৯২১; সহীহ মুসলিম হাদীস : ১০৯৬
 ইফতারের সময় দুআ কবুল হয়
**********************
ইফতারের সময় হওয়ার কিছু পূর্বেই দস-রখানে বসা উচিত। কত সুন্দর দৃশ্য! সামনে কত রংবেরঙের খাবার, কিন' বান্দা সেদিকে হাত বাড়াচ্ছে না শুধু রবের অনুমতির অপেক্ষায়। আহা! দুনিয়ার চাকচিক্যের প্রতিও যদি রবের অনুমতি ছাড়া হাত না বাড়াতাম! ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে বেশি বেশি দুআ ও ইসি-গফার করা উচিত। হাদীস শরীফে এসেছে, ইফতারের সময় রোযাদারের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।-ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৭৫৩
 এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আছ রা. ইফতারের সময় নিম্নোক্ত দুআ পড়তেন : অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার ঐ রহমতের ওছিলায় প্রার্থনা করছি, যা সকল বস'তে পরিব্যাপ্ত, আমাকে ক্ষমা করে দিন।-ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৭৫৩;
আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ হাদীস : ৪৮১ হযরত আয়েশা রা.কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শবে কদরে পড়ার জন্য একটি দুআ শিখিয়েছেন। শেষ দশকের রাতে এই দুআ বেশি বেশি পড়া উচিত। ইফতারের পূর্বেও তা পড়া যায়। অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। ক্ষমা করতে ভালবাস। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দাও। প্রতিদিন ইফতারের সময় অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্তি দেওয়া হয় হযরত জাবির রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রতিদিন ইফতারের সময় অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং এটা প্রতি রাতে।-ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৬৪৩
 সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করুন হাদীস শরীফে আছে,
মানুষ যতদিন সময় হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের মাঝে থাকবে।-সহীহ মুসলিম হাদীস : ১০৯৮; জামে তিরমিযী হাদীস : ৬৯৯
 ইফতারের দুআ
*************
‘পিপাসা নিবারিত হল, শিরা উপশিরা সতেজ হল আর সওমের ছাওয়াব প্রাপ্তির খাতায় লিখিত হয়ে গেল।-সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ২৩৫৭;
আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলা হাদীস : ৪৭৮ ‘হে আল্লাহ! আপনার সন'ষ্টির উদ্দেশ্যেই রোযা রেখেছি এবং আপনার দেওয়া রিযিক দিয়ে ইফতার করছি।-সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ২৩৫৮
 খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার শুরু করুন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন কেউ ইফতার করে সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা, তা বরকতের খাদ্য। যদি তা না থাকে তাহলে পানি দ্বারা। কেননা তা পবিত্র বস'।-জামে তিরমিযী হাদীস : ৬৯৫; সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ২৩৫৫
 কীভাবে রমযান মাসকে অধিক ফলপ্রসূ করা যায় রমযান মাসের সর্বোত্তম আমল যে রোযা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ রোযার ব্যাপারেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন স্বয়ং আমি এর প্রতিদান দিব। রোযা ঢাল; এ ঢাল যেন অক্ষুণ্ন থাকে
 হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রোযা ঢাল স্বরূপ।-সহীহ মুসলিম হাদীস : ১১৫১; ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৬৩৯
 অন্য হাদীসে আছে, যুদ্ধে ব্যবহৃত ঢালের মতো রোযা জাহান্নাম থেকে ঢাল। রোযা যেহেতু জাহান্নাম থেকে ঢাল সুতরাং তা আমাকে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে এবং কী করলে তা ভেঙ্গে যায় তাও জানতে হবে। এক হাদীসে এসেছে, রোযা ঢাল যতক্ষণ না তা বিদীর্ণ করে ফেলা হয়।-মুসনাদে আহমদ হাদীস : ১৬৯০
 কীভাবে এই ঢালকে বিদীর্ণ হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রোযা হচ্ছে ঢাল। যখন তোমাদের কেউ রোযা থাকে সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং মূর্খের ন্যায় কাজ না করে। কেউ যদি তাকে গালি দেয় বা ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয় তাহলে সে যেন বলে, আমি রোযাদার, আমি রোযাদার।-সহীহ বুখারী হাদীস : ১৯০৪; সহীহ মুসলিম হাদীস : ১১৫১
 অন্য হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ বর্জন করল না তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।-সহীহ বুখারী হাদীস : ১৯০৩
 নিয়মিত তারাবীহ পডুন
*******************
এ মাসের বিশেষ আমলের মধ্যে তারাবী নামায অন্যতম। এ নামায সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে ছওয়াবের আশায় রমানের রাতে দণ্ডায়মান হয় তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।-সহীহ বুখারী হাদীস : ২০০৯
 বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করুন কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে, (অর্থ) রমযান মাস, মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে। যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ এবং হক বাতিলের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।-সূরা বাকারা : ১৮৫ হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত জিবরীল আ. রমযানের প্রতি রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসতেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কুরআন তেলাওয়াত করে শোনাতেন।-সহীহ বুখারী হাদীস : ১৯০২
 যথাসাধ্য দান করুন
****************
দান করার অর্থ অন্যকে দেওয়া নয়, নিজের জন্য আখিরাতের সঞ্চয় করা। সুতরাং দান করি আর হিসাব করি যে, আখেরাতের জন্য কী পরিমাণ সংরক্ষণ করলাম। আর এর জন্য সর্বোত্তম সময় হল রমযান মাস। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার সকল মানুষ অপেক্ষা অধিক দাতা ছিলেন। রমযানে তাঁর দানের হাত আরো প্রসারিত হত।-সহীহ বুখারী হাদীস : ১৯০২
 তাহাজ্জুদের সুযোগকে কাজে লাগান এবং তা অভ্যাসে পরিণত করুন হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘ফরয নামাযের পরে সর্বোত্তম নামায হল রাতের নামায (অর্থাৎ তাহাজ্জুদ)।’-সহীহ মুসলিম হাদীস : ১১৬৩; মুসনাদে আহমদ হাদীস : ৮৫৩৪; জামে তিরমিযী হাদীস : ৪৩৮
 রমযান মাসে যেহেতু সেহরীর জন্য ওঠা হয়। তাই একটু আগে উঠে দুই চার রাকাত তাহাজ্জুদ পড়া খুবই সহজ। এজন্য এই বিষয়ে মনোযোগী হওয়া উচিত। পাশাপাশি ফিকির করা উচিত যে, এটাকে যেন আগামীর জন্য অভ্যাসে পরিণত করতে পারি। পরিবারের লোকদেরকেও উঠিয়ে দিই। বেশি বেশি দুআ ও ইসে-গফার করুন এক হাদীসে এসেছে, ‘রোযাদারের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ অন্য রেওয়ায়েতে আছে, রমযানে রোযাদারকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। বিশেষ করে শেষ রাত দুআ ও ইসে-গফারের সবচেয়ে উপযোগী সময়।
 হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকি থাকে তখন আল্লাহ তাআলা নিকটবর্তী আসমানে নেমে আসেন এবং ঘোষণা করতে থাকেন, কে আমাকে ডাকছ আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে প্রার্থনা করছ আমি তাকে দান করব। কে আছ ক্ষমাপ্রার্থী আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।-সহীহ বুখারী হাদীস : ১১৪৫; সহীহ মুসলিম হাদীস : ৭৫৮
 শবে কদরের অন্বেষণে থাকুন
=================
 কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে,
  (অর্থ) নিশ্চয়ই আমি তা (কুরআন) নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।-সূরা কদর : ১-৩ হাদীস শরীফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ছওয়াবের আশায় কদরের রাতে নামাযে দণ্ডায়মান থাকবে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।-সহীহ মুসলিম হাদীস : ৭৬০; সহীহ বুখারী হাদীস : ২০১৪
 সুতরাং এই ফযীলত লাভে সচেষ্ট হওয়া কর্তব্য। অন-ত ইশা ও ফজর যদি জামাতের সাথে হয় তবুও সারারাত নামায পড়ার সমান ছওয়াব পাওয়া যাবে এবং শবে কদরের ন্যূনতম ফযীলত লাভ করা যাবে। কারণ এক হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি ইশা ও ফজর জামাতের সাথে পড়ল সে যেন সারারাত দাঁড়িয়ে নামায পড়ল।-সহীহ মুসলিম হাদীস : ৬৫৬; মুসনাদে আহমদ হাদীস : ৪০৮
 শেষ দশকে ইতিকাফ করুন শবে কদর লাভ করার সবচেয়ে উত্তম উপায় হল শেষ দশকে ইতিকাফ করা। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা শেষ দশকে শবে কদর অন্বেষণ কর।’ অন্য রেওয়ায়েতে আছে, ‘তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে শবে কদর তালাশ কর।’-সহীহ বুখারী হাদীস : ২০১৭; ২০২০
 নির্দিষ্টভাবে সাতাশের রাতকে শবে কদর বলা ঠিক নয়। কারণ হাদীসে শেষ দশকে শবে কদর অন্বেষণ করতে বলা হয়েছে। তাই শেষ দশকের সব রাতেই যথাসম্ভব বেশি বেশি ইবাদাত করা চাই। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের মাঝের দশ দিন ইতিকাফ করতেন। এক বছর এভাবে ইতিকাফ শেষ করার পর যখন রমযানের একুশতম রাত এল তখন তিনি ঘোষণা করলেন, যে ব্যক্তি আমার সাথে ইতিকাফ করেছে সে যেন শেষ দশকে ইতিকাফ করে। কারণ আমাকে শবে কদর সম্পর্কে অবগত করা হয়েছিল (যে তা শেষ দশকের অমুক রাতে)। এরপর তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ... সুতরাং তোমরা শেষ দশকে শবে কদর খোঁজ কর।’-সহীহ বুখারী হাদীস : ২০২৭; সহীহ মুসলিম হাদীস : ১১৬৭
 সুতরাং বুঝা গেল যে, শেষ দশকে যে ইতিকাফ করবে তার শবে কদর নসীব হবে। মাসনূন ইতিকাফ দশ দিন। যাদের দশ দিন ইতিকাফ করার সুযোগ নেই বা সাহস হয় না তারা দুই তিন দিন নফল ইতিকাফ করতে পারেন। হাদীস শরীফে এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন'ষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন ইতিকাফ করবে আল্লাহ তাআলা তার এবং জাহান্নামের মাঝে তিন খন্দক দূরত্ব সৃষ্টি করে দিবেন। অর্থাৎ আসমান ও যমীনের দূরত্ব থেকে অধিক দূরত্ব সৃষ্টি করে দিবেন।-শুআবুল ঈমান হাদীস ”: ৩৯৬৫ মাসাইল প্রসঙ্গ রোযার হুকুম, সময় ও শর্ত ১. রমযানের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রোযা রাখা ফরয। দেখুন : সূরা বাকারা : ১৮৩ ও ১৮৫; সহীহ মুসলিম ১/৩৪৭ ২. প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস'মসি-ষ্ক ব্যক্তির উপর রমযানের রোযা ফরয। ৩. রোযার সময় হচ্ছে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস- পর্যন-। দেখুন : সূরা বাকারা : ১৮৭; সহীহ মুসলিম ১/৩৪৯ ৪. রোযার নিয়ত করা জরুরি। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, সকল আমলই নিয়তের উপর নির্ভরশীল। দেখুন : সহীহ বুখারী ১/২ ৫. সুবহে সাদিকের পূর্বেই রোযার নিয়ত করে নেওয়া উচিত। দেখুন : মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/১৬৬
 যেসব কারণে রোযা ভঙ্গ হয় না
**********************
১. ভুলে কোনো কিছু খেলে বা পান করলে। দেখুন : সহীহ বুখারী ১/২৫৯; সহীহ মুসলিম ১/৩৬৪; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/১৭৩ ২.
ভুলে স্ত্রী সহবাস করলে। দেখুন : সহীহ বুখারী ১/২৫৯; শরহে মুসলিম, নববী ১/৩৫৪; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/১৭৪ ৩.
দিনের বেলা স্বপ্নদোষ হলে। দেুখন : জামে তিরমিযী ১/১৫২ ৪.
চোখে সুরমা ব্যবহার করলে। দেখুন : জামে তিরমিযী ১/১৫৪; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/২০৭-২০৮ ৫.
অনিচ্ছাকৃত মুখভর বমি হলে। দেখুন : সহীহ বুখারী ১/২৬০; জামে তিরমিযী ১/১৫২; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/২১৫ ৬.
ধুলাবালি, ধোঁয়া, মশা-মাছি ইত্যাদি যা পরিহার করা সম্ভব নয় অনিচ্ছায় হলকের (কণ্ঠনালি) ভিতরে চলে গেলে। দেখুন : সহীহ বুখারী ১/২৫৯; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/১৪৯ ৭.
জুনুবী অবস'ায় সুবহে সাদিক হয়ে গেলে। দেখুন : সূরা বাকারা : ১৮৭; সহীহ বুখারী ১/২৫৮; সহীহ মুসলিম ১/৩৫৩-৩৫৪; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/১৭৯; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/২৮০

 রোযা অবস'ায় যা করা মাকরূহ নয়
*************************
১. সকাল কিংবা সন্ধ্যায় মিসওয়াক করা। দেখুন : সহীহ বুখারী ১/২৫৮-২৫৯; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/২০০; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/১৭৩ ২.
শীতলতা লাভের জন্য মাথা, দেহে পানি ঢালা। আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন রোযা অবস'ায় বাইরে বের হলেন। যখন ‘আরাজ’ নামক স'ানে পৌঁছলেন তখন রোযা তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে দাড়াল। ফলে তিনি মাথায় পানি ঢেলেছিলেন।-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/২০৬ ৩.
সুরমা ব্যবহার করা।-প্রাগুক্ত।
 যেসব কারণে রোযা ভেঙ্গে যায় তবে কাফফারা ওয়াজিব হয় না
**********************************************
১. কানে ঔষধ বা তেল ঢাললে। তেমনিভাবে নাকে ঔষধ দিয়ে টেনে ভিতরে নিয়ে গেলে। দেখুন : সহীহ বুখারী ১/২৫৯ ২.
ইচ্ছা করে মুখভরে বমি করলে। আলী রা. বলেন, কেউ বমি করলে রোযা কাযা করতে হয় না। তবে ইচ্ছা করে বমি করলে তাকে কাযা করতে হবে।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/১৮০; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/২১৫; মুসতাদরাকে হাকেম ১/৪২৭ ৩.
রাত্র বাকি আছে মনে করে সময়ের পরে সেহরী খেলে। সাঈদ ইবনে জুবায়র রা. বলেন, কেউ (সুবহে সাদিক হয়নি মনে করে) সুবহে সাদিকের পর কিছু খেলে অবশিষ্ট দিন পানাহার থেকে বিরত থাকবে এবং অন্য একদিন তা কাযা করে নিবে। দেখুন : মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/১৪৯ ৪.
সূর্য অস- গিয়েছে মনে করে সময়ের আগেই ইফতার করে ফেললে। হযরত আলী ইবনে হানযালা রাহ. তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আমি রমযানে হযরত ওমর রা.-এর কাছে ছিলাম তখন তাঁর সামনে পানীয় পেশ করা হল। কিছু লোক সূর্য ডুবে গিয়েছে মনে করে ইফতার করে ফেললেন। এরপর মুআযযিন এসে বললেন, আমীরুল মু’মিনীন! সূর্য তো এখনো অস- যায়নি। তখন ওমর রা. ঘোষণা করলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে শিরক থেকে নিষেধ করেছেন। দুই বার কিংবা তিন বার তিনি একথা বলেছেন। এরপর বললেন, যারা ইফতার করেছে তারা যেন এই দিনের পরিবর্তে অন্য একদিন রোযা রাখে। আর যারা ইফতার করেনি তারা যেন সূর্যাস- পর্যন- তাদের রোযা পূর্ণ করে।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/১৫০ ৫.
ভুলক্রমে পানাহারের পর ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে।-প্রাগুক্ত।

 যেসব কারণে রোযা ভেঙ্গে যায় এবং কাফফারা দেওয়া ওয়াজিব হয়
**********************************************
১. ইচ্ছাকৃত পানাহার করা। দেখুন : সহীহ বুখারী ১/২৫৯; সহীহ মুসলিম ১/৩৪৯; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/১৯৭ ২.
ইচ্ছাকৃত স্ত্রী সহবাস করলে। দেখুন : প্রাগুক্ত; সহীহ মুসলিম ১/৩৫৪; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৪৬; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/১৮৮
 রোযা অবস'ায় যা করা মাকরূহ
************************
১. মুখে পানি নিয়ে গড়গড়া করলে। দেখুন : মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/১৮৫ ২.
নাকে বেশি বেশি পানি দেওয়া। আছেম ইবনে লাকীত ইবনে ছাবিরা তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নাকে ভালো করে পানি দাও। তবে যদি তুমি রোযাদার হও। দেখুন : মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৩৩ ৩
 বিনা প্রয়োজনে কোনো কিছু চাবানো। দেখুন : মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/১৭৯; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/২০৩

 রোযার দিন অবশিষ্ট সময় যা করা উচিত
********************************
১. অসুস'তা, বার্ধক্য ইত্যাদি শরীয়তসম্মত কোনো ওযরের কারণে কেউ রমযানের রোযা রাখতে সক্ষম না হলে সে পানাহার করতে পারবে। তবে রোযাদারদের অগোচরে পানাহার করা উচিত।
 ২. মুসাফির যদি দিনের বেলা সফর থেকে বাড়ি ফিরে আসে তাহলে অবশিষ্ট দিন পানাহার থেকে বিরত থাকবে। দেখুন : মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/২২১ ৩.
তদ্রূপ দিনের বেলা কোনো মহিলার হায়েয বন্ধ হলে অবশিষ্ট দিন পানাহার থেকে বিরত থাকবে। দেখুন : মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/২২০; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/১৭০