Translate

শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১

যৌন ‎সমস্যায় ‎ব্যবহারীত ‎খাদ্য ‎ও ‎পথ্য ‎

আজকে এখানে যৌন সমস্যার সমাধান করতে 
 আয়ুর্বেদিক  ইউনানী ফর্মুলায় তৈরী কৃত ব্যবহারীত খাদ্য পথ্য উপকারীতা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকারে  উপস্থাপন করবো  তবে এ সকল খাদ্য পথ্য গুলো আবশ্যই যে কোন ডাঃ  হাকীম কবিরাজদের পরামর্শে সেবনের বিকল্প নেই। 

★★★
যেমন যাবতীয় যৌন সমস্যা, টাইমিং, উত্থান জনিত সমস্যা,  
স্বপ্ন দোষ /  পেশাবের আগে পরে ক্ষয় সংক্রান্ত বিভিন্ন  খাদ্য পথ্য। তবে এখানে একটা কথা বলতে হয় যে কেউ  যৌন সমস্যার চিকিৎসা নিতে হলে  আগে পেটের কোন সমস্যা  যদি থেকেই  থাকে তাহলে পেটের চিকিৎসাও নিতে হবে।


======
১, মাজুন আরদে খোরমা ==

কার্যকরীতাঃ 
ক্ষয়  রোগ, মেহ, প্রমেহ, শুক্র তারল্য, সর্দি  কাশি, অপুষ্টি তে কার্যকর। 
৪৫০ গ্রাম,  ৫৫০ t
২০০ গ্রাম, ৩৬৫t   
ইউনানী।। 

২,  কুশতা কলয়ী==  
কার্যকরীতাঃ 
বীর্য  গাঢ, স্বপ্নদোকষ, শুক্র মেহ,শুক্র তারল্য,দ্রুত  বীর্য পাত রোধ, ও সাদা স্রাবে দ্রুত কার্যকর। 
৩০ ট্যাব ৮০t  ইউনানি 

৩, লিভার কেয়ার - দীনার সিরাপ ==
কার্যকরীতাঃ 
জন্ডিস, হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিরোধ,হাত পা জালাপোডা,যকৃত প্রদাহ ও স্বপ্ন দোষ  প্রতিরোধক।
৪০০ মিলি ১৫০ t
১৮০ মিলি  ৬৫t ইউনানি। 

( ৪,  এ্যালকুলি  (শরবত সানতারা== ইউনানি- ৪০০ মিলি ১৭০ t 
কার্যকরীতাঃ 
পেশাবের জালাপোডা ইনফেকশন এ কার্যকর, অধিক জ্বর,জন্ডিস শরীর পেশাবের জালাপোডা  অধিক পিপাসা দূর করতে কার্যকর।
  
৫, শরবত জিনসিন ==
কার্যকরীতাঃ 
যৌন শক্তি  বর্ধক,সাধারণ  বলকারক,প্রফুল্ল কারক,স্নায়ু ও যৌনশক্তি  বর্ধক,বিশেষ  অঙ্গের অনূভুতিহীনতা দূর করে ও  মানসিক শক্তি  বৃদ্ধি তে কার্যকর। 
১৮০ মিলি ১৫০ t
৪০০ মিলি ২৩০t ইউনানী।

৬, এনার্জি প্লাস ক্যাপ, ==
( হাব্বে আম্বর মোমিয়াবী ) 
কার্যকরীতাঃ 

যৌনশক্তি  বর্ধক,, হারানো যৌনশক্তি  ও উদ্যম ফিরিয়ে আনে,শারীরিক  দুর্বলতা  দূর করে। 
(১-২ টি সহবাসের আগে সেব্য) 
৩০ ক্যাপ ৩৭০t ইউনানি।  

৭, মুকাব্বি খাছ ক্যাপ -==
( মাল্টিভিটামিন  এটু জেড) 
কার্যকরীতাঃ 
২৬ প্রকার ভিটামিনের সমাহার,পুরুষ  ও নারীদের  শক্তিবর্ধক,   ক্ষুধা বর্ধক,বীর্য  স্তবক, হরমোন নিয়ন্ত্রন ও যৌবন শক্তিবৃদ্ধি  কারক। 
৩০ ক্যাপ -৪২০t ইউনানী। 

৮, শ্রী গোপাল তেল ==
কার্যকরীতাঃ 
নারী ও পুরুষের বিশেষ অঙ্গে কার্যকর, লিঙ্গের উত্থান জনিত  সমস্যা  যৌন দূর্বলতা  ও নারীদের স্তনের সৌন্দর্যে বিশেষ  কার্যকর। 
৫০ মিলি ১১০t ইউনানি। 

৯, চ্যবন প্রাশ==
কার্যকরীতাঃ 
সর্দিকাশি জ্বর,ক্ষয় রোগ,মেহ প্রমেহ,শ্বাসকষ্ট, কাশি,অপুষ্টিতে কার্যকর  ও রোগ প্রতি রোধ  ক্ষমতা বৃদ্ধিতে  কার্যকর।  
২০০ g 260 t
৪৫০ গ্রাম  ৫০০t আয়ুর্বেদীক।  

১০, জিনসেং + ক্যাপ ==
কার্যকরীতাঃ 
যৌনশক্তি  বর্ধক, শারীরিক  শক্তি, ও উদ্যম ফিরিয়ে  আনতে, তারুন্যদিপ্ত যৌবন ধরে রাখতে, ও মস্তিষ্কের  কার্যক্ষমতা  বাডাতে,ডায়াবেটিস  ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। 
৩০ ক্যাপ ৪৫০t  হারবাল। 

১১, ফাইভ ফস সুপার  ট্যাব ==
কার্যকরীতাঃ 
শারীরিক  শক্তি  বৃদ্ধি  করে,শরীরের  টিসু ঘঠন, ও ক্ষয় রোধ, মস্তিষ্ক  ও হাডের পুষ্টি  যোগায়, এবং যৌনশক্তি  বৃদ্ধি  করে । 
৫০ ট্যাব ১২৫ t 
১০০ ট্যাব ২০০t  হোমিও।
  
১২, এ্যারালিয়া কুইনকিউফোলিয়া  জিংসিং  ইকোনো  ট্যাব  ==
কার্যকরীতাঃ 

দ্রুত  শারীরিক শক্তি  বৃদ্ধি  করে  মৈথুন  জনিত  সমস্যা সমাধান করে। 
৩০ ট্যাব১৩০t হোমিও।

১৩, সিলেনিয়াম প্লাস ট্যাব ==
কার্যকরীতাঃ 

দ্রুত  বীর্যপাত  রোধ, শুক্র তারল্য,আর্সেনিক  বিষ ক্রিয়া,ক্যানসার, এবং দূর্বলতা  প্রতি রোধ  ও জীবনি শক্তি  বৃদ্ধি করে। 
৫০ ট্যাব ১০০t হোমিও 

১৪, কুস্তুরী সুপার  ট্যাব== 
কার্যকরীতাঃ 

যৌবন ধরে রাখে,যৌন দূর্বলতা,,কাজ করার অক্ষমতা,স্নায়ুবিক  দূর্বলতা,অবসাদ, ক্লান্তি দূর করে, উত্তেজনা  বৃদ্ধি  করতে  কার্যকর। 
৫০ ট্যাব১৩০t 
১০০ ট্যাব ২৫০t হোমিও।

১৫,  সিলিনিয়াম ক্যাপ ==
কার্যকরীতাঃ 

বীর্য  ঘন থেকে ঘন ও গাঢ  করতে, শুক্র তারল্য দ্রুত  বীর্যপাত  রোধ  ও ক্যান্সার  প্রতি রোধ  করে।
৩০ ক্যাপ -১৮০t হোমিও।  

১৬, জিনসেং 3 x==  
কার্যকরীতাঃ 
হারানো যৌনশক্তি  ও উদ্যম ফিরিয়ে  আনতে  উচ্চ  রক্তচাপ  ও ডায়াবেটিস  নিয়ন্ত্রণে  কার্যকর। 
৫০ ট্যাব ৬৫t হোমিও 

১৭, এসিড ফস   3 x =
কার্যকরীতাঃ 

স্বপ্ন দোষ  শুক্র ক্ষয় মানসিক দূর্বলতা  পায়োরিয়ায় কার্যকর। 
৫০ ট্যাব ৬৫t হোমিও।

১৮, সুপার গোল্ড কস্তুরী ক্যাপ ==
কার্যকরীতাঃ 
স্পেশাল 
পুরুষদের  জেনিটো ইউরিনারী  ট্রাস্টে কার্যকরী,বলে লিঙ্গোত্থান ও যৌবনশক্তি বৃদ্ধিতে দ্রুত  কার্যকর,   
১০ ক্যাপ ১০০০t ইউনানি। 

১৯, টিটিনিয়াম =
কার্যকরীতাঃ 
যৌন আকাঙ্খা কম পুরুষ,উত্থান জনিত সমস্যা, মহিলাদের যৌন আকাঙ্খা কমে গেলে,   
১৮০-২৩৫ 

বিঃদ্রঃ 
পুরুষাঙ্গের উত্থান জনিত সমস্যা,, যোন আকর্ষণ কমে যাওয়া ও দ্রুত বীর্যস্খলন সমস্যা  সমাধান  এ 
জিংসিং  প্লাস ১ টি করে 
টিটানিয়াম  ১-/২ টি করে ২ বার 
হাব্বে আম্বর মোমিয়াবী  ১-২ টি করে সহবাসের পূর্বে। 

যে কোন রেজিস্ট্রার ডাঃ হাকীম কবিরাজ দের পরামর্শে সেবন করতে হবে।

সৌজন্যে 
ভূঁইয়া ন্যাচরাল হার্বস  
০১৮২৯৩১৮১১৪ 
শুধু মাত্র ইমু তে। 

বৃহস্পতিবার, ২২ জুলাই, ২০২১

খৃষ্টান ‎মিশনারীর অপততপরতা ‎ও ‎আমাদের ‎করনীয়

 খৃষ্টান মিশনারির অপতৎপরতা ও আমাদের করণীয়----
★এম এম আবদুল্লাহ ভূঁইয়া ★

( কিছু জানতে হলে সর্ব প্রথম বিনীতভাবে আরজ করব একটু ধৈর্য্য সহকারে সময় নিয়ে সব টুকু পডার অনুরোধ রইল)

 ২০২৫ সাল পর্যন্ত খৃষ্টানদের বিভিন্ন টার্গেট ও পরিকল্পনা

১৯৭৮ সালে উত্তর আমেরিকার লুওয়াজিন নামক স্থানে সমকালীন খৃষ্টবাদ প্রচারের ধারাবাহিকতায় এক ঐতিহাসিক কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। তাতে সারা দুনিয়ার প্রায় দেড়শ প্রথম সারির খৃষ্টান ধর্মগুরু ও ধর্মনেতাগণ যোগদান করেন। তাদের প্রত্যেকেই বিভিন্ন দেশের বড় বড় গির্জা, মিশনারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ছিলেন। উক্ত কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী সবাই নিজ নিজ অভিজ্ঞতা, জ্ঞান-গবেষণা এবং বোধ ও বুদ্ধিমত্তার আলোকে বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে মুসলমানদের মাঝে খৃষ্টবাদ প্রচারের স্বার্থে এ ব্যাপারে অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেন যে, দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার সময় যদি তাৎক্ষণিকভাবে মুসলমানদেরকে খৃষ্টবাদের বিষাক্ত ট্যাবলেট গলধকরণ করানো নাও যায় তাহলে সমস্যা নেই; 

কিন্তু কমপক্ষে অতি অবশ্যই মুসলমানদের মাঝে নৈতিক ও চারিত্রিক স্খলন ঘটানো এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রে তাদেরকে পঙ্গু করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যেতে হবে। 
★★ তারা এতে সফল ও হয়েছে  বলা যায়।

কনফারেন্সে যোগদানকারী ধর্মনেতাগণ এ প্রস্তাবকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে একটি রিসার্চ ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবী জানান। যা পরবর্তীতে একজন প্রসিদ্ধ উগ্র ও চরমপন্থী খৃষ্টান ধর্মপ্রচারক স্যমুয়েল জেইমারের নামে পরিচিতি লাভ করে।

মোটকথা, গির্জাপতি আর ধর্মনেতাগণ খৃষ্টধর্ম প্রচার-প্রসারের পথকে সহজ ও সুগম করতে কোন কল্পনা-পরিকল্পনা বাকি রাখেননি। একজন মুসলমানের অমূল্য সম্পদ ঈমানকে ছিনতাই করা, মুসলিম যুবসমাজের চরিত্রকে নষ্ট করা এবং ইসলামবৃক্ষের গোড়াকর্তন করার – সার্বিক অর্থেই যতো পথ ও পন্থা হতে পারে তারা সব আবিস্কার করেছে এবং মুসলমানদেরকে সে অনুযায়ী পরিচালিত করছে। 
কিন্তু পরিতাপের কথা হলো, মুসলমানরা নিজেদের সঠিক পথ ছেড়ে ইয়াহুদি-খৃষ্টানদের বাতলানো পথে চলতে লজ্জা ও অনুশোচনাবোধ তো দূরের কথা, বরং সেটাকেই গর্ব ও আভিজাত্যের বিষয় মনে করছে। যারা এ ব্যাপারে সামান্য “নাক গলায়”, তাদেরকে সেকেলে, চরমপন্থী,  জঙ্গী প্রগতির পথে বাধা ইত্যাদি নানা বিশেষণে বিশেষায়িত করছে। কিছু নামধারী মুসলিম ও এতে শামীল আছে যা সকলেই জানি। 

★★আপনাদের সামনে একটি রিপোর্ট পেশ করছি, আশা করছি এর দ্বারা আপনি খৃষ্টানদের বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে কিঞ্চিৎ ধারণা লাভ করতে পারবেন।★★

আন্তর্জাতিক খৃষ্টান মিশনারি প্রতিষ্ঠান তার তেরতম বাৎসরিক রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে রয়েছে খৃষ্টান মিশনারিদের অতীত সফলতাসহ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি সংক্ষিপ্ত খসড়া। চলতি শতাব্দীর প্রথম ২৫ বছরে তাদের কি কি অভিসন্ধি রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে কোন পথে এগুতে হবে, কি পরিমাণ অর্থসম্পদ তাতে ব্যয় হবে, কতজন ধর্মপ্রচারক ও মিশনারি এই মিশনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তার সম্ভাব্য ফলাফল কি দাঁড়াতে পারে ইত্যাদি বিষয়ের সামান্য চিত্র তাতে তুলে ধরা হয়েছে। আমেরিকার অরজিনা ভার্সিটির খৃষ্টান প্রফেসর ডক্টর ডিওড বেরিয়েট এ প্রতিবেদনের উপর বিস্তর গবেষণা-পর্যালোচনা করার পর মন্তব্য করেছেন –

“নিশ্চয়ই এই প্রতিবেদন দুনিয়াজুড়ে খৃষ্টানদের একচ্ছত্র আধিপত্যের ইঙ্গিত বহন করছে। এ আধিপত্য সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও হতে পারে, আবার হতে পারে চিন্তানৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক অঙ্গনে। 

★★খৃষ্টানদের কর্মতৎপরতা ও সফলতার একটি চিত্র দেখুন –★★
 শুধুমাত্র ১৯৯৬ সালের এক বছর সময়েই খৃষ্টানরা সারা দুনিয়ায় বাইবেলের ২৮ বিলিয়ন কপি (আঠারশত কোটি কপি) বিতরণ করেছে। আর এ কথা শুনলে তো রীতিমত অবাক হতে হয় যে, গেলো বছর পর্যন্ত পৃথিবীর নামী-দামী বড় বড় লাইব্রেরীগুলোতে যীশু খৃষ্টের নামে লেখা বই-পত্রের সংখ্যা ৬৫৭৫১ এ দাঁড়িয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৫৩০৯৪ টি বইয়ের প্রচ্ছদে উজ্জ্বল ও স্পষ্ট অক্ষরে যীশু খৃষ্টের নাম লেখা আছে।”।


ডক্টর বেরিয়েট আরো বলেন, উক্ত প্রতিবেদনে সে সকল অঞ্চলের আলোচনাও এসেছে যেগুলোতে এখনো পর্যন্ত খৃষ্টধর্মের দাওয়াত পৌঁছেনি। উক্ত প্রতিবেদনে অ-খৃষ্টান রাজ্যসমূহকে ‘আলিফ’ ও ‘বা’ – এই দুটো শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে।

“আলিফ’ দ্বারা উদ্দেশ্য সে সকল রাজ্য, যেগুলোতে খৃষ্টধর্মের আওয়াজ বিলকুল পৌঁছেনি। আর ‘বা’ দ্বারা সে সকল রাজ্য উদ্দেশ্য, যেগুলো খৃষ্টান রাজ্যের পার্শ্ববর্তী ও ভৌগলিক দিক থেকে তার সাথে মিলিত। 

উক্ত প্রতিবেদনে দাবী করা হয় যে, অ-খৃষ্টান রাজ্যসমূহে অনতিবিলম্বে খৃষ্টধর্মের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভৌগলিক তথ্য, ভাষা ও আঞ্চলিক সব রীতি অভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ইতিমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদনের একটি পরিসংখ্যান ছিল এই যে, বর্তমানে অ-খৃষ্টান রাজ্যে বসবাসকারী জনগণের সংখ্যা হলো তের বিলিয়ন। আর এই জনপদগুলোতে বছরে প্রায় ৪৭ মিলিয়ন লোক বাড়ছে। এ হিসেবে দৈনিক ১২৯০০০ নবজাতক শিশু জন্মগ্রহণ করছে। উনিশ শতকে জনসংখ্যার বাৎসরিক প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র এক মিলিয়ন। এ হিসেবে আশা করা যায়, বিশ শতকে অ-খৃষ্টানদের রাজ্যের জনসংখ্যা ১৪ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে ১৫ বিলিয়নে পৌঁছে যাবে। (এডিটেডঃ হিসাবে কোন একটা প্রবলেম হয়েছে, তবে এটা শিউর যে, “বিলিয়ন” হবে না। 

হতে পারে মিলিয়নের পরিবর্তে ভুল করে বিলিয়ন লেখা হয়েছে, কিন্তু শিউর না হয়ে কারেক্ট করতে পারছি না।)

পৃথিবীর শতকরা ৮১ ভাগ লোক কোন না কোন ধর্ম পালন করে। এ হিসেবে পৃথিবীতে বর্তমানে নাস্তিক বা স্রস্টায় অবিশ্বাসী লোকের সংখ্যা হলো ১১১০ মিলিয়ন। সারা পৃথিবীতে ১৫ হাজারেরও বেশী ধর্মের প্রচলন রয়েছে। আর দিন দিন তো নতুন ধর্মের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এই বৃদ্ধি খৃষ্টানদের ধর্ম প্রচারে বড় বাঁধা। 

★★★★এখন আমরা বাংলাদেশে খৃষ্টান মিশনারীদের কর্মফলাফল, গির্জার সফলতা ও অন্যান্য সংস্থার কারগুজারী ধারাবাহিক উল্লেখ করবো ইন শা আল্লাহ। যা দ্বারা অনুমান করা সহজ হবে যে, বাংলাদেশে তাদের অপতৎপরতা কি পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 ★★★বাংলাদেশে মিশনারির আগমন★★

মিশনারি হলো খৃষ্টানদের দাওয়াতি সংস্থা। সারা দুনিয়াতে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে লক্ষ্ লক্ষ প্রচারকের মাধ্যমে খৃষ্টানরা খৃষ্টধর্মের দাওয়াত দিয়ে আসছে। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে, আজ থেকে পাঁচশ বা ছয়শ বছর আগে খৃষ্টান মিশনারিরা এই বাংলায় আসে। পর্তুগিজরা যখন বাংলায় বা ভারতে আসে তখন সাথে করে খৃষ্টান মিশনারিদেরও নিয়ে আসে। জেসুইস ও অগস্টেইনিয়া নামক ক্যাথলিক খৃষ্টানদের দুটো দল পর্তুগিজ ব্যবসায়ীদের ছত্রছায়ায় ২০০ বছর যাবত বাংলায় খৃষ্টধর্ম প্রচার করে আসছে। মোগল সম্রাট আকবর ভারতের বাঙাল প্রদেশের প্রসিদ্ধ স্থান হুগলিতে পর্তুগিজদের বসতি স্থাপনের অনুমতি দিলে তাদের ছত্রছায়ায় মিশনারিরা এসে এলাকায় গির্জা প্রতিষ্ঠা করলো, স্কুল বানালো, হাসপাতাল চালু করলো। হুগলিকে কেন্দ্র করে খৃষ্টধর্ম প্রচার করতে তারা ঢাকাতেও নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করলো।

এভাবে ১৬২১ খৃষ্টাব্দে এতদাঞ্চলে খৃষ্টান মিশনারি তৎপরতা পূর্ণ উদ্যমে শুরু হয়। ১৬৩৩ খৃষ্টাব্দে সম্রাট শাহজাহান ৭৭৭ বিঘা জমি বিনা খাজনায় (লা-খেরাজ) খৃষ্টান মিশনারিদের দান করলেন। ফলে তারা আরো বেশী উৎসাহিত হয়। ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোঘল আমলে খৃষ্টান মিশনারিরা অগস্টেইনিয়া গির্জা গড়ে তোলে। (আমাদের মধ্যে যেমন বিভিন্ন দল-উপদল আছে, তেমন খৃষ্টানদের মধ্যে বিভিন্ন দল আছে, যেমন – জেসুইল, অগস্টেইনিয়া, ক্যাথলিক, ব্যাপটিস্ট, প্রটেস্ট্যান্ট ইত্যাদি) 
মোগল আমলে মোগল বাদশাহদের পৃষ্ঠপোষকতার ফলে বাংলায় ১৬৩৩ খৃষ্টাব্দের পরে ১৩ টি অগস্টেইনিয়া গির্জা গড়ে উঠে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রোমান ক্যাথলিকদের সংখ্যা বেশী। ব্যাপটিস্টদের সংখ্যাও কম নয়।

১৯০৮ সালে ব্রিটিশ আমলে চট্টগ্রামের চন্দ্রঘোনায় ব্যাপটিস্টরা এসে একটি সোসাইটি হাসপাতাল গড়ে তোলে। লেবৃসি হসপিটাল কুষ্ঠনিরাময় কেন্দ্র খোলে। বাংলাদেশে মোট খৃষ্টান সংখ্যা ৫ লাখ, এর মধ্যে ব্যাপটিস্ট খৃষ্টানদের সংখ্যা বর্তমানে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন ছলে বলে কৌশলে পুরো ভারতের ক্ষমতা হাতে নিলো, তখন মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে খৃষ্টান মিশনারিদের তৎপরতা চালু হয়। পর্যায়ক্রমে পাকিস্তান আমলে এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে খৃষ্টান মিশনারিদের তৎপরতা অব্যাহতভাবে চলতে থাকে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখি, খৃষ্টানরা যেখানেই গেছে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে আর সমাজের বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা-উপকরণ সরবরাহ করেছে। হাসপাতাল স্থাপন, ঋণসুবিধা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং দরিদ্রতা বিমোচনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। নারীদের ক্ষমতায়ন তাদের অন্যতম শ্লোগান আজ। তবে খৃষ্টধর্ম প্রচারই তাদের মূল লক্ষ্য। যা সেবার ছলনায় শুরু থেকেই তারা বাস্তবায়ন করে আসছে।

১৮৫৭ সালে আযাদী আন্দোলনের পর এই উপমহাদেশে ৯০ টি প্রটেস্ট্যান্ট খৃষ্টান মিশনারি কর্মরত ছিল। তারা এদেশে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্যে বড় বড় ডাক্তার, সার্জনদের ইংল্যান্ড থেকে নিয়ে আসে এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের মালুম ঘাট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাসপাতাল তৈরি করে বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা দেয়। এর আড়ালে সমতল ভূমি ও পার্বত্য এলাকায় খৃষ্টধর্ম প্রচার পুরোপুরি অব্যাহত রাখে।

মূলত তারা সেবার আডালে খৃষ্টান ধর্ম প্রচারই একমাত্র  উদ্দেশ্য যদিও সেবার নাম দিয়ে থাকে।


৭১ এ স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ৩০,০০০ এনজিও কাজ করে যাচ্ছে। এই এনজিওরা কোটি কোটি টাকা খরচ করে। প্রশ্ন জাগে, এই টাকা দেয় কারা ? তাদের তো টাকশাল নেই, তারা টাকা বানায় না। বিশ্বের বড় বড় ধনকুবেররা ইয়াহুদি ও খৃষ্ট ধর্মাবলম্বী। আর কোন ধনকুবের বরং সাধারণ সম্পদশালীও তার অর্থ বেকার খরচ করে না। সুতরাং এটা সুস্পষ্ট যে, মুসলমানদের খৃষ্টান বানানোর জন্য তারা কোটি কোটি টাকা খৃষ্টান মিশনারিতে দেয়।

 🔶Board of Directors এর প্রস্তাব

আযাদী আন্দোলনের পর ১৮৫৭ খৃষ্টাব্দে খৃষ্টানদের Board of Directors গৃহীত প্রস্তাবে যে বক্তব্য রাখা হয়েছে তাতে খোলাখুলি বলা হয়েছে যে, “প্রকৃতি ভারতীয় উপমহাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলটি এই জন্যে ব্রিটেনের কাছে সোপর্দ করে, যাতে এতদঅঞ্চলের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত মিশনারিদের বিজয় পতাকা উড্ডীন হয়। তাই এতদঞ্চলকে খৃষ্টান রাষ্ট্রে পরিণত করার আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিৎ।” (সূত্রঃ তারিখে পাকিস্তান)

🔻🔷🔻বর্তমানে এটাই বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চলছে।

যে সমস্ত এনজিও সেবার নামে সরাসরি ধর্ম প্রচার করছে

অসহায়, নিরক্ষর মানুষকে সেবা দেওয়ার নামে খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত করতে যে সংস্থাগুলো উল্লেখযোগ্য তৎপরতা চালাচ্ছে তার মধ্যে কিছু হলো –

(১) কারিতাস, (২) এন.সি.সি. (ননলাইট সেন্ট্রাল কমিটি), (৩) লুথারান মিশন, (৪) দ্বীপশিখা, (৫) সালভেশন আর্মি, (৬) ওয়ার্ল্ড ভিশন, (৭) সি.ডি.এস. (সেন্ট্রাল ফর ডেভেলপম্যান্ট সার্ভিস), (৮) আর.ডি.আর.এস. (রংপুর দিনাজপুর রোড এন্ড সার্কেল), (৯) সি.সি.ডি.ভি. (খৃষ্টান কমিশন অফ ডেভেলপম্যান্ট), (১০) হিড বাংলাদেশ, (১১) সেভেন ডে এডভেঞ্চারিস্ট, (১২) চার্চ অফ বাংলাদেশ, (১৩) পের ইন্টারন্যাশনাল, (১৪) সুইডিশ ফ্রেমিশন, (১৫) কনসার্ন, (১৬) এডরা, (১৭) অস্ট্রেলিয়ান ব্যাপটিস্ট সোসাইটি, (১৮) এমসিনি, (১৯) ওয়াই.ডব্লিউ.সি. (২০) ফেমিলিজ ফর চিলড্রেন, (২১) আল-হানিফ কল্যাণ ট্রাস্ট ইত্যাদি।

এসব সংস্থা বাজেটের ৯০ ভাগ খৃষ্টানদের অথবা খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনায়ময় ব্যক্তিদের পিছনে ব্যয় করে থাকে।

 🔻🔷🔻এনজিওদের কার্যক্রম 

চার্চ অফ বাংলাদেশ

ডঃ জিগা বি. আলসেনের পরিচালনায় “চার্চ অফ বাংলাদেশ” নামে একটি খৃষ্টান মিশনারি এনজিও “মৌলবাদী এনজিও”, ১৯৬৫ সালে কক্সবাজারের মালুমঘাটে “মেমোরিয়াল হসপিটাল” নামে একটি খৃষ্টান হাসপাতাল তৈরি করে। এলাকার লোকজন ছিল অভাবগ্রস্ত ও নিরক্ষর। এই সুযোগে ড. ভিগা বি আলসেন তার প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে সেবাদানের মাধ্যমে ৩৮ বছর এই মালুমঘাটের চকরিয়ায় খৃষ্টধর্ম প্রচার করতে থাকেন। ১৯৬৪ সালে মালুমঘাটে যেখানে একজনও খৃষ্টান ছিল না, তার প্রচেষ্টায় ২০০৩ সালে সেখানে খৃষ্টানদের সংখ্যা ৪০ হাজারে উন্নীত হয়েছে।
তাহলে ২০২১ সনে এসে তা কতটুকু হয়েছে তার হিসাব এখনও অজানা।

 তারা আশেপাশের জমি ক্রয় করে নয়া খৃষ্টানদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের দৌলতপুরে মরিয়াম আশ্রমের পাশে তারা বিশাল খৃষ্টান এলাকা গড়ে তুলেছে। সেখানে দুর্গম এলাকায় পাহাড়ের ভিতরে তারা গির্জা নির্মাণ করেছে।

সেভেন ডে এডভেঞ্চারিস্ট
এই “সেভেন ডে এডভেঞ্চারিস্ট” খৃষ্টান মিশনারি তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে ৮৫ টি প্রাইমারী স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল পরিচালনা করে। এসব স্কুলে কোন মুসলমানের সন্তান ভর্তি নেওয়া হয় না। ১৯৯০-৯১ সনে এই “সেভেন ডে চার্চ” ২৩০ মিলিয়ন টাকা খরচ করে বহু মানুষকে খৃষ্টান বানিয়েছে।
হিড বাংলাদেশ
“হিড বাংলাদেশ” নামে এ এনজিও মৌলভী বাজারে, কমলগঞ্জে, সুন্দরবনে সেবার আড়ালে খৃষ্টধর্ম প্রচার করে যাচ্ছে। সূচনাতেই তারা ৬ লক্ষ মার্কিন ডলার নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে।
সি. সি. ডি. ভি.

“সি. সি. ডি. ভি.” নামক সংস্থা রংপুর, দিনাজপুরসহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে কাজ করছে। আর “ডি.আর. আর. এস.” এর সমস্ত সংগঠন টাকা নেয় সুইডেন, ডেনমার্ক, ইংল্যান্ড থেকে। টাকা আনে মিস্টার টরবেন পিটারসের নেতৃত্বে ১৯৮৬ সালে ২১৮ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা ব্যয় করে বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর অঞ্চলে সাঁওতাল উপজাতিদেরকে দাওয়াত দিয়ে ৩৫ হাজার সাঁওতালকে তারা খৃষ্টান বানিয়েছে।

 🔻পাহাড়িদের বিভিন্ন উপজাতি

এগুর্ণা, চাকমা, মারমা, তনচৈঙ্গা, চাক, ক্ষুমি, ভৌম, ত্রিপুরা, খাশিয়া, মনিপুরী, খিয়াং, মাংখু, লুশাই, মগ, গারো, মুরু, সাঁওতাল, রাখাইন, হাজং, রাজবংশী, মুরং, কুকি, হুদি, পাংখো, উড়াও, বোনজোগী, দালই, লুসাই, খুশী, তংচংগা, বংশাই, বোম, মুনী চাক, চোক, হরিজন, মুন্ডা ইত্যাদি –
 এগুলো আলাদা আলাদা জাতিগোষ্ঠী। এক গোত্র আরেক গোত্রের সাথে বিয়ে-বন্ধনে আবদ্ধ হয় না। বৈবাহিক ক্ষেত্রে তারা বংশীয় সীমাবদ্ধতার মধ্যে আবদ্ধ। এসব সম্প্রদায়ের মধ্যে শুধু “পাঙন” সম্প্রদায় ছাড়া অন্য উপজাতির অধিকাংশ লোক ধর্মান্তরিত হয়ে খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করেছে। আবার ১০.৫ % হিন্দু জনসংখ্যার বিপুল পরিমাণ লোক ধর্মান্তরিত হয়ে খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করেছে।

🔶মুসলমানের সন্তান নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে চিনে না, মেরী ও যীশুকে চিনে !

বারিধারা নতুন বাজারের পিছনে একটি বড় বস্তি আছে। একদিন বিকালে বন্ধুবর মাওলানা মুজিব সাহেবসহ ঐ এলাকায় ঘুরছিলাম। চোখের সামনে পড়লো একটি স্কুল, সাথে গির্জা। স্কুলটি দেখে আমাদের কৌতূহল হলো।

স্কুলের সামনে ১০ / ১২ বছর বয়সের কয়েকটি ছেলে খেলাধুলা করছে। একজনকে তার নাম জিজ্ঞেস করলে “রাকিবুল ইসলাম” বলে উত্তর দিলো এবং এও জানতে পারলাম যে, সে এই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশুনা করে। তাকে কালেমা জিজ্ঞাসা করলে “পারি না” বলে উত্তর দেয়। এবার আমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাম জিজ্ঞাসা করলাম। উত্তরে বললো “জানি না”। এবার জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কি মেরী বা যীশুকে চেনো ? সে উত্তর দিলো – হ্যা, চিনি। আবার জিজ্ঞাসা করলাম – কিভাবে চেনো। সে বললো, আমাদের স্যার আমাদের শিখিয়েছেন।

দেখুন, আমাদের উদাসীনতার সুযোগে আমাদের সন্তানদেরকে তারা খৃষ্টান বানাচ্ছে। এটাই হলো তাদের সেবার আসল রূপ।

 🔶মিশনারির স্বরূপ সন্ধানে

পৃথিবী জুড়ে খৃষ্টধর্ম প্রচার কাজে তাদের সেবার ছদ্মাবরণে বহুরূপী কর্মকাণ্ড দেখে সচেতন মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে – “খৃষ্টধর্ম কি আসলেই কোন ঐশী ধর্ম ?”

তা যদি ঐশীই হয়, তাহলে মিশনারিদের খৃষ্টধর্ম প্রচার কাজে কেন এতো ব্যাপক কৃত্রিমতা, জালিয়াতি, অপপ্রচার ও প্রলোভন ? 

বর্তমানে খৃষ্টধর্মের ধ্বজাধারীগণ বিশ্বব্যাপী শান্তি তথা পাপ মুক্তির জন্য ত্রাণকর্তার ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। অথচ তারাই আড়াই শতাব্দী আগে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে বাদ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রতিষ্ঠা করে। যার ফলে বর্তমান খৃষ্টধর্মের কেন্দ্রভূমি পাশ্চাত্যেই ব্যক্তি স্বার্থ, বর্ণবাদের উন্মত্ততা, নৈতিক অধঃপতন তথা অনৈতিক কর্মকাণ্ড বহুগুণে বেড়ে গিয়েছে। খৃষ্টবাদের প্রচারকগণ এদেশেও তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থে নানা সূক্ষ্ম কুটচালের মাধ্যমে অগ্রসর হচ্ছে।

আজ তাই প্রতিটি সচেতন ধার্মিক ব্যক্তির তাদের এই অশুভ ও মানবতাবিরোধী কর্মতৎপরতা সম্পর্কে অবহিত হওয়া আবশ্যক। আসুন তাদের রূপ উদঘাটন করি।

 🔷মিশনারি শ্রেণীবিভাগ

বিশ্বে খৃষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ১৫৬ টি প্রধান এবং ২৮,০০০ টি উপদল রয়েছে। মূল দলগুলোর মধ্যে দুটো দলই প্রধান – ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্ট। এদের মধ্যে শুধু ধর্ম-বিশ্বাসের পার্থক্যই নয় বরং মূল ধর্মগ্রন্থ বাইবেলের মধ্যেও রয়েছে পার্থক্য। তাছাড়া তাদের বাইবেল সংস্করণগুলোর একটির সাথে অন্যটির বহুলাংশেই মিল নেই।

  🔷বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক

যদিও প্রচলিত খৃষ্টধর্ম ছিল সেমেটিক অর্থাৎ প্রাচ্যের, কিন্তু বর্তমানে পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদীরাই এর ধারক-বাহক হয়ে বসেছে। পাশ্চাত্যের বিভিন্ন সরকার ও সংস্থার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাহায্য সহযোগিতায় খৃষ্টান মিশনারীরা বিশ্ব জুড়ে গড়ে তুলছে খৃষ্টধর্ম প্রচার ও প্রচারের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক।

🔷প্রতিষ্ঠান ও প্রচার মাধ্যম

বর্তমানে ৭০ হাজারের বেশী মিশনারি ক্রুসেডার (ধর্ম যোদ্ধার) শিকার মুসলিম বিশ্ব। এ প্রেক্ষিতে তারা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় গড়ে তুলেছে চার্চ ও বিভিন্ন ছদ্মবেশী সেবা, শিক্ষা ও আর্থিক দাতা প্রতিষ্ঠান “এনজিও” সমূহ।

সরাসরি মিশনারির মধ্যে “হ্যাগাই ইন্সটিটিউট” এমন একটি সংস্থা, যার কাজ হলো ধর্মের অসারতা প্রমাণ ও ইসলামের নবজাগরণকে প্রতিহত করা এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। এ ব্যাপারে জার্মান, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত থেকে প্রচুর নিষিদ্ধ ও ইসলাম বিরোধী বই এদেশে বহু কথিত বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, নাট্যকর্মী, কণ্ঠশিল্পী এবং প্রগতিবাদীদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। “হ্যাগাই ইন্সটিটিউট” ২০০০ অ্যালুমনই (সদস্য) নিয়ে ৫ টি মহাদেশের ৭০ টি প্রদেশে ১,০০,০০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ২০০০ সালের মধ্যে ১০ লক্ষ মানুষকে দক্ষ প্রচারকরূপে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বে খৃষ্টধর্ম প্রচারের জন্য পাঠাবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক খৃষ্টান মিশনারি গবেষণা বুলেটিন থেকে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানের মাধ্যমে জানা যায় যে, ১৯৯১ সালে বিশ্বব্যাপী খৃষ্টধর্ম প্রচার ও ইসলামী জাগরণকে প্রতিহত করতে ১,২০,৮৮০ টি প্রতিষ্ঠান ও এজেন্সী প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তার মধ্যে বাংলাদেশে প্রটেস্ট্যান্ট গোত্রের ইয়াং খৃষ্টান ওয়ার্কস এবং এভরী হোম কান্ট্রাস্ট, খৃষ্টান কমিশন ফর ডেভেলপম্যান্ট ইন বাংলাদেশ (সি. সি. ডি. বি.) ইয়াং ম্যানস খৃষ্টান এসোসিয়েশন (ওয়াই. এম. সি.) উল্লেখযোগ্য। তারা বাংলাদেশের নানা স্থানে বিভিন্ন নামে অসংখ্য সংস্থা স্থাপন করেছে। যেমন –

* নুর-ই-ইলাহী, পোস্টবক্স নং ৩৫০৭, ঢাকা,

* খোদার পথ, পোস্টবক্স নং ৫৮, ঢাকা – ১০০০,

* মাসীহী জামাত, পোস্টবক্স নং ৩৫০৭, ঢাকা,

* আল হানিফ কল্যাণ ট্রাস্ট,

* ডাকযোগে বাইবেল শিক্ষার জন্য পোস্টবক্স ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

১৯৯৭ সালের তথ্য ও পরিসংখ্যানের সংরক্ষণ ও প্রচারে ব্যবহৃত হয় ৩১ কোটি ৫০ লক্ষ কম্পিউটার সেট। তাছাড়া ৩৪০০ রেডিও ও টেলিফোন সেন্টার খৃষ্টধর্ম প্রচারে নিয়োজিত ছিল। দেশে বর্তমানে “ঈমানের পথ” নামে ইসলামী আঙ্গিকে রেডিও অনুষ্ঠান চালু করেছে।

🔷🔶প্রকাশনা     

বই প্রচার ও পত্রাদি বিলি

উল্লিখিত আন্তর্জাতিক খৃষ্টান মিশনারি গবেষণা বুলেটিন থেকে জানা যায়, খৃষ্টধর্ম বিষয়ক ১ লাখ ৯ হাজার ৯ শত ধরনের বই ও একত্রিশ হাজার তিনশত রকম ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়। মুসলিম বিশ্বে বিনামূল্যে বিলিকৃত বাইবেলের সংখ্যা প্রায় ৬৩ কোটি ৯ লক্ষ ৪০ হাজার এবং মুসলমানদের জন্য ইসলামী পরিভাষায় রচিত বাইবেল অর্থাৎ “কিতাবুল মুকাদ্দাস” আঠারো কোটি তিরাশি লক্ষ তিরিশ হাজার। সর্বোপরি খৃষ্টবাদ, ইউরোপীয় ধর্মদর্শ ও সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লক্ষ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণ্যতম মিথ্যাচারে সমৃদ্ধ অগণিত পুস্তক-পুস্তিকা ও প্রচারপত্র প্রকাশ করে চলেছে। ১৬ ই এপ্রিল ১৯৯৮ ইং সনে টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এডওয়ার্ডের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ১৮৯০ সাল থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে অর্থাৎ ২৫ বছরে ইসলামের বিরুদ্ধে ষাট হাজার রকম বই প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়াও ভিডিও, অডিও ক্যাসেট প্রকাশ করা এবং “স্বর্গমত ম্যাগাজিন” উল্লেখযোগ্য।

 🔷🔶প্রকাশনায় অপকৌশল

ধর্মগ্রন্থ ও সংস্থার নাম পরিবর্তন

মিশনারিরা মানুষকে ধর্মান্তরিত করার জন্য বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করে থাকে। যেমন খৃষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ সারা বিশ্বে বাইবেল নামেই বহুল পরিচিত। কিন্তু স্থান-কাল-পাত্রভেদে নাম পরিবর্তন করার কৌশলে খৃষ্টান মিশনারিদের জুড়ি নেই। সর্ব প্রথম বাংলা ভাষায় খৃষ্টানরা বাইবেলকে “ধর্ম পুস্তক” নামে ১৯৬৩ সালে “পাকিস্তান বাইবেল সোসাইটি” থেকে প্রকাশ করে। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে একই সংস্থা “বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি” (বি. বি. এস.) তাদের গ্রন্থের নাম পরিবর্তন করে “পবিত্র বাইবেল” নামে প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, উভয় নামের বাইবেলে (তথাঃ ধর্ম পুস্তক
 – ১. “বাংলাদেশ বাইবেল”, ২. “পবিত্র বাইবেল”; মৌলিকভাবে দুটো অংশ রয়েছে – ১. “নতুন নিয়ম”, ২. “পুরাতন নিয়ম”) পরবর্তীতে সংস্থার নাম পাল্টিয়ে “মসীহী জামাত” নামকরণ করে তাদের পবিত্র বাইবেলকে “কিতাবুল মুকাদ্দাস” নামে প্রকাশ করে। এই কিতাবুল মুকাদ্দাসে “পুরাতন নিয়ম” অংশের নামকরণ করেছে “তৌরাত, জবুর ও নবীদের কিতাব” এবং “নতুন নিয়ম” অংশের নামকরণ করেছে “ইঞ্জিল শরীফ”। প্রমাণ্য ঐতিহাসিক সত্য হলো, ওসব নামের তৌরাত, জবুর ও ইঞ্জিল শরীফ আল্লাহ’র পক্ষ থেকে অবতীর্ণ অবিকৃত কিতাব নয়।

★★মুসলিম ঐতিহ্যবাহী নকশা নকল★করে কি ভাবে ধোকায় ফেলার চক্রান্ত করছে দেখুন।

খৃষ্টান মিশনারিরা তাদের “কিতাবুল মুকাদ্দাস” 
ও “ইঞ্জিল শরীফ” এর মলাট সম্পূর্ণ ইসলামী ঐতিহ্যের ধারক প্রচ্ছদে অলংকৃত করে প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন রঙের সুদৃশ্য কভারের উপর সোনালী রঙের ইসলামী ধাঁচের প্রচ্ছদ দেখে এটাকে পবিত্র কুরআনের তাফসীর বা পবিত্র হাদিসগ্রন্থ বলে ভুল করা অস্বাভাবিক নয়।

তারা এখন তাদের যাবতীয় ধর্মীয় বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা, পত্রাদির প্রচ্ছদ, মসজিদ, কালেমা, আরবি বর্ণের শৈল্পিক নকশা দ্বারা অলংকৃত করার অপকৌশল অবলম্বন করছে। এমনকি ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি যেমন পর্দা, নামায, নারী শিক্ষা, ওযু ইত্তাদিকে বিকৃত উপস্থাপনে ও বক্তব্যে সমৃদ্ধ করে বই প্রকাশ করে চলেছে।

এ গুলোতে সাধারণ  মুসলিমরা বিভ্রান্ত হচ্ছে  ধর্মীয় শিক্ষার অভাবের কারণে। 

 🔷ইসলামী পরিভাষা ও নামাবলী ব্যবহার

খৃষ্টান মিশনারিরা এতটুকুতেই ক্ষান্ত হয়নি। তারা তাদের ধর্ম গ্রন্থের নাম পরিবর্তনের সাথে সাথে ইসলামী পরিভাষা, শব্দ ও নামাবলী চুরি করে তাদের ধর্মগ্রন্থ ও বইগুলো প্রকাশ করে চলেছে। তাদের পবিত্র বাইবেলের কিছু শব্দ উল্লেখ করা হলো, যে শব্দগুলোকে তারা তাদের গ্রন্থ কিতাবুল মুকাদ্দাসে ইসলামী পরিভাষা ও নামের রূপ দিয়েছে (কিতাবুল মুকাদ্দাসের পরিবর্তিত রূপ ব্র্যাকেটে উল্লেখ করা হলো) –

আদিপুস্তক (আল-তৌরাত), প্রথম সিপারা (পয়দায়েশ), পরমগীত (নবীদের কিতাব সোলায়মান), গীতসংহিতা (আল জবুরঃ প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম সিপারা), ঈশ্বর (আল্লাহ), ঈশ্বর পুত্র (ইবনুল্লাহ), পরিত্রাণ (নাজাত), ভাববাদী (নবী), ভজনা (এবাদত), বিশ্বাস (ঈমান), ব্যবস্থা (শরীয়ত), আব্রাহাম (ইব্রাহীম), মোশি (মুসা), দায়ুদ (দাউদ), যীশুখৃষ্ট (ঈসা মসীহ), দূত (ফেরেশতা), শির্ষ (সাহাবী), প্রায়শ্চিত্ত (কাফফারা), উবড় (সিজদা), যাচঞা (মুনাজাত), অলৌকিক কার্য (মোযেজা) ইত্যাদি।

 🔷বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম জালিয়াতি

সর্বোপরি তাদের নির্লজ্জ ও জঘন্যতম জালিয়াতির দৃষ্টান্ত হলো দীর্ঘ ১৬ বছর সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার পর কুরআনের বিভিন্ন আয়াত চুরি করে প্রতিটি অধ্যায়ে আরবিতে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” দিয়ে শুরু করে তাদের কথিত ইঞ্জিল শরীফ প্রকাশ করেছে। অথচ তাদের কোন কিছু শুরু করা হয় “পিতা-পুত্র ও পবিত্র আত্মা” এর নামে। বিশ্বের ইতিহাসে ধর্মের নামে এতো বড় জালিয়াতির নজির আর নেই।

 🔷পবিত্র কুরআনের অপব্যাখ্যা

ইদানিং তাদের ঘৃণ্য প্রতারণা ও ধোঁকাবাজী চরমে পৌঁছেছে। তারা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের আংশিক প্রয়োগ এবং নিজেদের মনগড়া বানোয়াট অনুবাদ ও বাইবেলের স্বপক্ষে অপব্যাখ্যা দিয়ে নানা রকম পুস্তিকাদি প্রকাশ ও প্রচার করছে। যেমন ত্রিত্ববাদের মাঝে আল্লাহ এক, ইঞ্জিল ও কুরআনে ঈসা কালিমাতুল্লাহ’র ব্যক্তিসত্তা রক্তমাংসের দেহে আবৃত, আমরা কিভাবে সালাত কায়েম করি ?

তারা এখন তাদের বইয়ে সরাসরি কুরআনের আরবি আয়াত সংযোজন করছে। মুসলমানরা কুরআনের আয়াতকে সম্মান করে বলে তাদের ঘরে মিশনারিদের রচিত বই-পুস্তক স্থান পায়। কালার সমৃদ্ধ তাদের এ বইগুলো পড়ে সরল মনের সাধারণ মুসলমানরা বিভ্রান্ত হয় এবং ঈমান আমল হারিয়ে চিরস্থায়ী জাহান্নামের পথ ধরে। এভাবে মিশনারিগুলো তাদের (ঈমান ধংসের) লক্ষ্যে পৌছতে সক্ষম হয়।
এ জন্য  যেন তেন বই কিনতে নেই  পডতে ও নেই,  যদিও পডা হয় সন্দেহ  লাগলে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন  আলেম ওলামাদের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী, যাচাই বাছাই করার জন্য। 

তাদের প্রত্যেক বইয়ের শেষে প্রশ্নপর্ব থাকে। সেগুলোর উত্তর প্রদানে আরো বই ও উপহারের আশ্বাস দেওয়া হয়। বইয়ের বিকৃত বিষয়ের কোন প্রশ্ন করার সুযোগ নেই। তবুও কেউ প্রশ্ন করলে তারা নীরবতার কৌশল অবলম্বন করে। এভাবে যে কোন মূল্যে পাঠক থেকে মিথ্যার সাক্ষ্য নিয়ে কুফরীর পক্ষে স্বীকৃতি আদায় করে নেয়।

 🔷এলাকা ও জনগণ নির্ধারণ

তারা সমগ্র বাংলাদেশকে প্রচারের আওতাভুক্ত করার জন্য ১৯৬৮ সালে ১লা সেপ্টেম্বর তৎকালীন ঢাকা মহাপ্রদেশের অধীনে পুরো পূর্ব পাকিস্তানকে চারটি ধর্ম প্রদেশে বিভক্ত করে, এগুলো হলো –

চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশঃ এ ধর্মপ্রদেশের আওতাভুক্ত এলাকা প্রদেশের সমস্ত দক্ষিণাঞ্চল।

দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশঃ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে এ ধর্মপ্রদেশ। এ ধর্মপ্রদেশের পরিধি যমুনা নদীর পশ্চিমাঞ্চল তীর থেকে দক্ষিণে পদ্মা এবং পশ্চিমে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত।

খুলনা ধর্মপ্রদেশ।

ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশ।

এ সকল এলাকায় তারা সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। আর হবেই না কেন ? তাদের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য রয়েছে বিশাল অর্থের যোগান। ১৯৯৭ সালে খ্রিস্টবাদের প্রচার সংস্থাগুলোর মধ্যে শুধু ওয়ার্ল্ড ভিশনের অর্থ পরিকল্পনা ছিল ২১২৯ মিলিয়ন ইউ.এস. ডলার।

 
🔶🔶প্রচার ও প্রচারণার অপকৌশল

নকল ইমাম তৈরি

তারা গোপনে খৃষ্টান দেশগুলোতে ছদ্মবেশী ইমাম তৈরি করে মুসলিম দেশে পাঠিয়ে দেয়। ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসকে নষ্ট করে তাদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করাই হলো এর মূল উদ্দেশ্য। এ বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাদ্রীদের সম্মেলনে “জবাজ” নামক এক পাদ্রী বিশেষ সভায় সভাপতিত্বের ভাষণে বলেনঃ মুসলমানদের সাথে বিতর্কে আমরা বিজয়ী হতে পারবো না। তাই আমরা তাদের পরস্পরে ঝগড়া বিবাদ লাগিয়ে দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করছি। এটা আমাদের সফলতার একমাত্র পথ। সুতরাং আমাদের সবাইকে দেশে বিদেশে এ ব্যাপারে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।

তারা একধাপ এগিয়ে নিজেদের খৃষ্টান পরিচয় না দিয়ে নিজেদের পরিচয় দেয় ঈসায়ী মুসলমান। তারা কালিমাও বানিয়েছে – লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ঈসা মসীহুল্লাহ।


🔻যুবতী প্রচারক

খৃষ্টান মিশনারির নারী সদস্যরা তাবলীগের ছদ্মবেশে মুসলিম নারীদের ধর্মান্তরিত করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষিত খৃষ্টান নারীরা (ধর্মান্তরিত করার) লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য মুসলমানদের সাথে বৈবাহিকসূত্রে আবদ্ধ হচ্ছে, যাতে পরবর্তী জেনারেশনকে তাদের ধর্মে দীক্ষিত করতে পারে। কারণ স্বামী মুসলমান হলেও পরবর্তী জেনারেশনই তাদের টার্গেট। এমনকি মহিলা ফেরীওয়ালাদের মাধ্যমে তারা ধর্মপ্রচার করে থাকে।

🔷🔶একটি পরিসংখ্যান

দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়ন মূল দাবী হলেও তাদের কোন কোন এনজিও এসব কর্মকাণ্ডের আড়ালে খৃষ্টান মিশনারির “ধর্মান্তর কর্মসূচি” প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তারা সমাজের অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণীকে ধর্মান্তরের প্রধান টার্গেট বানায়।
এ গুলোর প্রমান ভরি ভরি।
 খৃষ্টান মিশনারি ও তাদের সহযোগী এনজিওগুলো কাজের ও কর্মসূচীর দিক দিয়ে ভিন্ন হলেও তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অভিন্ন। উভয়ের প্রধান লক্ষ্য বিশ্বে খৃষ্টান জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ঘটানো। এ লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের দেশে এনজিও ও মিশনারিগুলো কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তারা অনেকটা সফল। বাংলাদেশের খৃষ্টান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার লক্ষ্য করলে সে কথার প্রমাণ মিলে।

১৮৮১ সালে প্রতি ৬ হাজার লোকের মাঝে ১ জন খৃষ্টান ছিল। সে সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৭৪ সালে প্রতি ৩২৬ জনের মাঝে ১ জন, ১৯৮১ সালে প্রতি ২৯ জনের মাঝে ১ জন, ১৯৯১ সালে প্রতি বাইশজনের মাঝে একজন খৃষ্টান রয়েছে বলে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। 

★★১৯৩৯ সালে খৃষ্টান জনসংখ্যা ছিল ৫০ হাজার। তা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯১ সালে আদমশুমারিতে খৃষ্টান জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখে। ২০০১ সালের আদমশুমারিতে খৃষ্টান জনসংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকায় খৃষ্টানদের সবচেয়ে বড় গির্জা “হলি রোজারি”। ১৮৭৭ সালে পর্তুগিজ ব্যবসায়ীগণ এটি নির্মাণ করেন। ১৯৫২ সালে উক্ত গির্জায় উপস্থিতির সংখ্যা ছিল ১৫৩ জন আর ১৯৭৬ সালে তা ৩০০০ জনে উন্নীত হয়, ১৯৮৩ সালে উপস্থিতি ৬০০০ জনে আর ১৯৯৮ সালে উপস্থিতির সংখ্যা ৫০,০০০ এ পৌঁছে।

বাংলাদেশে এনজিও ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী বিদেশী সাহায্যপুষ্ট এনজিও সংখ্যা ৮৫০। এর বাইরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন নিয়ে কাজ করছে এমন এনজিওর সংখ্যা বিশ থেকে ত্রিশ হাজার অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রতি ১.১৮ বর্গমাইলের মাঝে একটি এনজিও কাজ করছে। নামে বে- নামে। হয়তো অনেকে জানেইনা যে এ গুলো খৃষ্টান মিশনারী। 


★★বাংলাদেশে এনজিও কার্যক্রমের বিস্তার সম্পর্কিত ব্যাপারগুলোর পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত এনজিও আওতাধীন গ্রামের সংখ্যা ৪০ হাজার, পরিবারের সংখ্যা ৩৫ লাখ। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে এনজিওদের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকা। উপ-আনুষ্ঠানিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩০ হাজার। ছাত্র ছাত্রীদের সংখ্যা ১০ লাখ, বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ৪৪ লাখ, এনজিওদের রোপণকৃত বৃক্ষের সংখ্যা ৪ কোটি। উপরোক্ত তথ্য ও সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছ?

পরিশেষে এ দীর্ঘ আলোচনার পর বলতে চাই। 
যে,  এ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ইসলামের ঐতিহ্য হেফাজতে এ দেশের সর্ব সাধারণের সাথে সাথে আলেম ওলামা পীর মাশায়েখ দায়ী ইলাল্লাহ সহ সচেতন  দেশ প্রেমিক ইসলাম প্রিয় নাগরিক  সমাজের  ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় খৃষ্টান মিশনারীদের অপতৎপরতা কে রুখে দিতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ। এ জন্য  কৌশল অবলম্বন করে অগ্রসর হতে হবে।


সংকলন সংযোজন 
এম এম আবদুল্লাহ ভূঁইয়া 

বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১

তুলশি ‎টি ‎

★★তুলশি টি ★★

শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম  তথা রোগ প্রতি রোধ ক্ষমতা বাডাতে যা বর্তমান করোনার পরিস্থিতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

 তাছাডা  যাবতীয় চর্মরোগ  সর্দি কাশি  হাঁপানী এর  এর অব্যর্থ  মহৌষধ। 


উপাদান ও সেবন বিধি  ঃ 

শুকনো তুলশি পাতা  হাতে মছডিয়ে  গুডো করে নিন 
এর পর  পরিমান মত চূর্ণ  বা গুডো দিয়ে  ১গ্লাস পানিতে ১০/১৫ মিনিট হালকা  জালে  ফুটিয়ে নিন । এবং ছেকে নিয়ে এর সাথে পরিমান মত মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে  সেবন করুন। 

বর্তমান করোনার পরিস্থিতিতে এর চেয়ে  সস্তা  ও সহজলভ্য  এন্টিবডি তৈরিতে  অন্য কোন পথ্য আছে কিনা সন্দেহ  তাই  আমরা সকলেই  চাইলে এর ব্যবহার করতে পারি।

সৌজন্যে 
 ভূঁইয়া ন্যাচরাল হার্বস 
০১৮২৯৩১৮১১৪

মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১

আসলে ওয়াহ্হাবী ‎কে ‎বা ‎কারা? ‎

আমি ছাত্র জীবন শেষ করে  শিক্ষকতার জীবন মিলে প্রায় দীর্ঘ ২১ বছর অতিবাহীত করার পর প্রবাস জীবনও  প্রায় ২১ বছর অতিবাহীত করার পর একটা বিষয়ে চিন্তা করলাম যে , দেশে বিদেশে প্রচলিত একটি শব্দ "ওয়াহ্হাবি " শুনতে অত্যন্ত খারাপ লাগে, তাই স্হীর করলাম এ বিষয়ে কিছু গবেষনা করব।

 
তাই বিভিন্ন মনিষীদের বই লেখনি ওয়েবসাইট সহ বিভিন্ন গবেষনা মূলক বই অধ্যয়ন করলাম।
তাই গবেষনা পূর্বক যে কথাটি আমি বুঝতে পেরেছি তাই পাঠকদের উদ্দ্যেশে উপস্হাপন করলাম,

এর পর  ও আপনাদের কাছে কোন তথ্য থাকলে অবশ্যই শেয়ার করার অনুরোধ রইল। কারণ আমরা সকলেই সত্য অন্বেষনকারী ।

তাহলে আসা যাক ওহহাবী বা ওহাবী আন্দোলন আসলে  কি ?আসলে কে বা কারা ওহহাবী তা জেনে নেয়া  যাক।
======================

আসলে ওহাবী আন্দোলন বলে খ্যাত  খ্রিষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর আরবের একটি সংস্কার আন্দোলন। এ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব (১৭০৩-১৭৯২ খ্রি.)
যা আজ থেকে প্রায়  দুইশত ত্রিশ বছর আগের কথা। 

  তিনি একজন ধর্মীয় আলেম এবং সংস্কারক ছিলেন। তিনি আমাদের এ ভারতীয় উপমহাদেশের বিপ্লবী আলেম মাওলানা শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভীর সমসাময়িক ছিলেন। দ্বাদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত আলিম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহ্হাব নজদী (রহঃ) (মৃতঃ ১২০৬ হিঃ) মূলত হাম্বলী মায্হাবেরই মুক্বাল্লিদ্ ছিলেন।

 তৎকালীন সৌদি আরবে বিশেষত নজ্‌দ এলাকায় কুফর শিরক্, বিদয়া’ত, কবরপূজা, মাযারপূজা, গাছপূজা, আগুনপূজা ও প্রতিমা-মানব ইত্যাদি পূজা-উপাসনার মোকাবিলা ও প্রতিরোধে তার কার্যকরী, সাহসী ও বীরবিক্রম পদক্ষেপ আসলেও গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসার দাবী রাখে। তাঁরই অবদানে তদানীন্তন আরব মধ্যযুগীয় বর্বরতা, সীমাহীন ভ্রষ্টতা ও শিরক কুফরের অতুলনীয় অন্ধকারাচ্ছন্নতা থেকে রেহাই পেয়েছিল ততকালীন  সৌদি আরব।

 তবে অনেক বিষয়ে বাড়াবাড়ির ফলে তাঁর সঙ্গে তদানীন্তন সউদী আরবের  অনেক  আলেম উলামাদের সাথে  মহামতানৈক্য ও সৃষ্টি হয়।  এবং এর বিরোধীরা  তাঁকে ওহহাবী বলে তিরস্কার করতে আরম্ভ করলেন ।

 এদিকে ভারতবর্ষের লা-মায্হাবীরাও যেহেতু মুসলমানদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হিসেবে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহ্হাব নজদীর  মতবাদ গ্রহণ করত বলে তাদেরকেও মুসলমানদের একটি গ্রুপ তাদেরকেও  ওহ্হাবী বলে আখ্যায়িত করতে থাকেন।

  আর তখন তারা নিজেদেরকে মুহাম্মদী,  আহলে হাদীস বলে প্রচারের চেষ্টায় মেতে উঠে।  বর্তমান   অন্য সকল নাম বাদ দিয়ে  আহলে হাদীস আন্দোলন নামের ব্যানারে নিজেদের  কে প্রকাশ করছে ৷অপরদিকে সৌদি আরবে তারা নিজেদের কে সালাফী হিসাবে পরিচয় দিয়ে থাকে।

   তবে  ওয়াহহাবী এ নামটি মূলত ইংরেজ কতৃক সীকৃত যা আমি আমার এই ব্লগেও উপস্হাপন করেছি।

কিন্তু  বাংলাদেশের কোন কোন স্হানে দেওবন্দী ওলামাদের কে ওহহাবী বলে তিরস্কার করতে দেখা যায়।

 কিন্তু দেওবন্দী ওলামাদের সাথে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহ্হাব নজদীর সাথে কোন সমপর্কই নেই , কারন একেতো তিনি হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী আর সকল দেওবন্দী ওলামাগন   হানাফী মাযহাব এর অনূসারী ,

,তিনি হলেন লামাযহাবী গায়রেমোকল্লিদদের ইমাম  দেওবন্দীদের ইমাম নয়, দেওবন্দীগন সঠিক আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর অনুসারী   ৷ 

তাছাড়া সৌদি আরবের সেই মুহাম্মদ বিন আবদুল ওহহাবের মতবাদ কে কেন্দ্র করে ইতিহাসে ঘৃনিত সেই ওহহাবী ফেরক্বার সাথে ও তুলনা অকল্পনীয় মনে হয়।

   কারণ  সম্রাজ্যবাদী ইহুদী-খৃষ্টানরা তাদের হীন চন্ত্রান্ত চরিতার্থ করার স্বার্থে হিজরি ২য়/৩য় শতাব্দীতে উত্তর আফ্রিকায় প্রচারিত সেখানকার জনৈক আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে রুস্তম  খারিজীর ফেরকার নামের সাথে  সৌদি আরবের তথাকথিত সেই আবদুল ওয়াহহাব নজদীর  নামটিকে ও সৈই ঘৃনীত বাতেল ওহাবী ফেরকার নামটি ব্যবহার করে এক বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন ,
 এটি ছিল আবাজী খারেজী মতবাদে বিশ্বাসী এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের শিক্ষার পরিপন্থী একটি ভ্রান্ত ফিরকা।  এরাই হল আসলে ওহহাবী ফেরক্বাহ। 

সে তার এলাকায় ( আফ্রিকায়) ইসলামী শরিয়ত বন্ধ ঘোষনা করার সাথে সাথে হজ্বের যাত্রা বাতেল করে এবং তার মতাদর্শ বিরোধীদের কাফের বলে ঘোষনা দেন। এর ফলে সেখানে যুদ্ধ বিদ্রোহ সহ নানান ফেতনা দেখা দিয়েছিল । কিন্তু তৎকালীন সঠিক   আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বিদাহ ধারী ওলামারা  উল্টো তাকে কাফের বলে ঘোষনা করেছিলেন । যাকে সকলেই ঘৃনা করেন , আমরাও ঘৃনা করি,   সময়কাল ছিল  হিজরী ২য শতাব্দী,  মৃ্ত্যু 197 হিজরী ।



আর   মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব রহ. আরব উপদ্বীপে ১২০০/১৩০০ হিজরীতে যে মহান সংস্কারের ডাক দিয়েছিলেন, যার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াত-তাওহীদ ও সুন্নাতের ডাক, কুসংস্কার, শিরক, বিদআত বর্জনের উদাত্ত আহবান।  তাঁর আসল নাম হল মুহাম্মদ কিন্তু পিতার নাম আব্দুল ওয়াহহাব ,,
আর নাজদ হল ঐ এলাকা বা জন্মস্হান। 


তবে স্বার্থম্বেসী  মহল বিভ্রান্ত ছডানোর জন্য সেই হিজরি ২য়/৩য় শতাব্দীতে উত্তর আফ্রিকায় প্রচারিত সেখানকার  আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে রুস্তম  খারিজী  নামের সাথে ওহাবী ফেরকার নামটি ব্যবহার করে।   সৌদি আরবের সেই সংস্কারক কেও ওয়াহহাবী বলে  আখ্যায়ীত করতে থাকেন ।

উভয়ের মধ্যকার  সময়ের অনেক ডিপারেন্স ।  যখন এ ফেরকাটি উদ্ভব হয়েছি তখন  শাইখ   মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব রহ. এর 20/22 তম পূর্ব পুরুষের ও জন্ম হয়নি । তাসত্বেও তাকে ওহহাবী হিসাবে সম্বোধন করা হয়েছে। যা নিতান্ত ভূল ছিল মনে হয়। বা উদ্দেশ্য প্রণীত।
 তাছাডা বর্তমান সৌদি আরবের সেই  মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব রহ. কে ওহহাবী না বলে মুহাম্মদী বলাই উচিত ছিল, তার নাম অনুসারে , কারন  আবদুল ওহহাব তো পিতার নাম,
 মুহাম্মদ যেহেতু সংস্কার করেছিলেন ।  সে হিসাবে মুহাম্মদীই বলা যেত। 
 কিন্তু  তাকে বলা হল ওয়াহহাবী
কিন্তুু
আর সেই আফ্রিকার সেই প্রবক্তার নামই ছিল কিন্তু  আবদুল ওহহাব।  মূলত সেইই ছিল ওহহাবী মতবাদের প্রবক্তা, যার ইশারা হাদীসে রসুলেও এসেছে ।


কিন্তু পরবর্তিতে  আমাদের  দেশে একটি কুচক্রি মহল তথা মাজার পন্থিরা  সহ নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী তথা শাহরিয়ার কবির গংরা  সৌদি  ওহহাবী,   দেওবন্দি ওহহাবী  বলে সকলকে একাকার করে তিরস্কার/উপহাস করাে থাকেন  অথচ  এদের সাথে সেই ফেরকায়ে ওয়াহহাবিয়্যতর সাথে কোন সম্পর্কই নেই।  তাছাডা দেওবন্দি ওলামা ও সৌদি ওলামা উভয়ে দুটো ভিন্ন দ্বারায় পরিচালিত যদিও উভয়েই হক্ব ও আহলে সুন্নাতের মতাদর্শে  বিশ্বাসী। 

 কিন্তু এদের কেউ ( সৌদি আরবের কেউ বা ওলামায়ে দেওবন্দীদের কেউ)   সেই ইতিহাসে ঘৃনিত  আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে রুস্তম  খারিজীর আক্বিদা বা মতাদর্শে বিশ্বাসী নয় । কারন সেই আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে রুস্তম  খারিজী   যেহেতু তার এলাকায়  ইসলামী শরিয়ত বন্ধ ঘোষনা করার সাথে সাথে হজ্বের যাত্রা বাতেল করে এবং তার মতাদর্শ বিরোধীদের কাফের বলে ঘোষনা করেছিলেন কিন্তু  সৌদি আরবের সেই শেখ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওহহাব নজদী বা দেওবন্দি ওলামা  কতৃক শরিয়তের কোন হুকুম কে কি কখনো বন্ধ বা নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন বা এদের কেউ হজের সফর কে বাতেল করেছিলেন বা তাদের মতাদর্শ  কেউ মেনে না চললে কাফের বলে সম্বোধন করেছিলেন ? না কখনো করেননি ।তাহলে এরা সেই  ইতিহাসে ঘৃনিত সেই ওহাবীর অনূসারী হয় কি ভাবে ? এটাই বিবেকের কাছে প্রশ্ন ।  

তাছাডা আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে রুস্তম  খারিজী ইতিহাসের এক  ঘৃনীত ব্যক্তি এতে কোন সন্দেহ নেই কারণ তার আক্বিদাহ সমপূর্ণ আহলে সুন্নাতের বিপরীত ছিল তাছাড়া হযরত আলী রাঃ এর জামানার সেই ফেরক্বায়ে খারেজীয়া আরও জগন্য বাতেল ফেরক্বাহ ছিল  যা সকলেরই জানা কথা , কিন্তু     আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে রুস্তম  খারিজী     সেই বাতিল ফেরক্বার প্রতিনিধিত্ব করত বলেও তার নামের সাথে খারেজীর উপাধীও দেয়া হয়েছিল  । 

কিন্তু বর্তমানে যাদের দিকে এ ঘৃনীত নিসবতটি করা হয় এদের সাথে ওদের কোন সম্পর্কই নেই।

তাছাড়া এখানে প্রসঙ্গক্রমে একটা কথা না বললে হয়না যে বাংলাদেশের কোন কোন অঞ্চলে দেওবন্দ ভিত্তিক কওমী মাদ্রাসা গুলোকে অনেকে না জেনে না বুঝে খারেজী মাদ্রাসা হিসাবেও অবহিত করে থাকেন কিন্তু এটা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন যে এরা কি আসলে সেই ইতিহাসের সেই ঘৃনীত খারেজীদর প্রতিনিধিত্বকারী মাদ্রাসা? না আসলে তা না বর্তমান পৃথিবীতে ফেরক্বায়ে খারেজীয়ার  অস্তিত্ত ও খুজে পাওয়া যায়না, 

 তবে এদেরকে কেন খারেজী বলা হয়? তাহলে বুঝতে হবে  খারেজী শব্দের অর্থ কি? খারেজী শব্দের অর্থ " হল বাহির হয়ে যাওয়া" মূলত যারা ততকালীন হযরত আলী রাঃ এর জামাত থেকে বের হয়ে গিয়েছিল তাদের কে ইতিহাসে  খারেজী হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। বর্তমানে  তাদের অস্তিত্ব ও নেই  পৃথিবীতে। 

আর বর্তমানে কওমী মাদরাসা গুলো কখনো সেই অর্থে খারেজী নয় বা খারেজী মাদরাসা নয় বরং 
   কওমী মাদ্রাসা গুলো সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাহিরে থাকায় এসকল প্রতিষ্ঠানকে অনেকে খারেজী মাদ্রাসা হিসাবেও অবহিত করেন ।আর কওমী মাদ্রাসা যেহেতু কওমের সাহায্য সহযোগিতায় চলে বিধায় কওমী মাদ্রাসা বলা হয়।আর ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসার আদলে  দেওবন্দী নেসাব আর অবকাঠামো মতে চলে বিধায় দেওবন্দি মাদ্রাসা বলা হয়।
যাহোক আবার মূল কথায় ফিরে আসি ।

 স্বীয় মতের  বিরোধীদের কে ঘায়েল করতে ওহহাবী বলে তিরস্কার করা একটি হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহর করে থাকেন অনেকে ।যেটি বৃটিশদের থেকে দ্বার করা।

যেমনটি   বৃটিশ আমলে আমাদের বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা নিসার আলী ওরফে তীতুমীর এবং হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজী আন্দোলন সবই বৃটিশ ঐতিহাসিক ও আমলা ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টার প্রমুখ কর্তৃক (ওহাবী) বলে অভিহিত হয়।

কারণ হান্টারের ভাষ্যমতে, সৈয়দ আহমদ বেরলভী মক্কায় গিয়ে ওহাবী আন্দোলনে দীক্ষিত হয়ে আসেন,যেটি ডাহা মিথ্যা  অপবাদ ছিল কারণ  তিনি বা আমাদের তীতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রমুখ বীরপুরুষগণ যখন ১৮২০ সালের দিকে হজে যান তখন মক্কা-মদীনায় সুদৃঢ় তুর্কী শাসন চলছিল এবং ঐ সময় ঐ  সব পবিত্র নগরীতে তথাকথিত  ওহাবী আন্দোলনের নামটি উচ্চারণ করাও ছিল গুরুতর অপরাধ। 

এর এক দশক পূর্বেই তুর্কী সুলতানরা ১২৪৪ হিজরীতে/১৮১৩ খ্রি.  সেই কথিত সৌদি আরবের তথা কথিত ওহাবীদেরকে হটিয়ে মুক্ত করে ফেলেছিলেন। তখন  ওহাবীদের কোন কতৃত্বই ছিলনা  
সুতরাং ওটা ছিল নেহাৎই রাজনৈতিক প্রচারণা এবং অসত্য বিবরণ। 
এখানে আরও একটা কথা বলে রাখি তাহল  হক্ব ও ন্যায়ের পক্ষে অন্যায় অত্যাচার জুলুমের বিরুদ্বে কথা বলেছেন ইংরেজদের বিরুদ্বে জেহাদের ফতোয়া দিয়েছিলেন  বলেই ইংরেজরা দেওবন্দি ওলামাসহ সমসাময়ীক আজাদী আন্দোলনের সকল কে ওহাবী বলে তিরস্কার করেছিলেন ৷

 আজও যারা হক্বের পক্ষে কুফর শীরক বেদআতের বিরুদ্ধে  কবর পুজা, ভন্ড পীরের  বিরুদ্বে কথা বলেন তাদের কে ও ঐ সেই ইংরেজদের দালাল তথা মাজার পুজারীরা  ওহাবী বলে তিরস্কার করে থাকেন ৷

 অথচ সেই  ২য় শতাব্দীর সেই আসল ওহাবী আন্দোলনের আক্বিদাহ  আর সৌদি আরবের সেই মুহাম্মদ বিন আবদুল ওহহাব নজদীর কথিত ওহহাবীর আক্বিদাহ, আর দেওবন্দি ওলামাদের আক্বিদার মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান । কাজেই ভারত উপমহাদেশের দেওবন্দি ওলামাদের কে ওহহাবী বলে তিরস্কার করা জগন্য ঘৃন্য অপরাধ  আর মারাত্বক ঘৃন্য অপবাদ ছাডা আর কিছুই না ।

ইংরেজ আমলে 
১৮৬৪ সালে ‘গ্রেট ওহাবী ট্রায়াল’ নামে উপমহাদেশীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরুদ্ধে  ইংরেজ‘ কতৃক কোলকাতা হাইকোর্টে’ সরকারী মামলা হয়েছিল-যার ভিত্তিতে অনেকেরই ফাঁসি ও দ্বীপান্তরের শাস্তি হয়েছিল। সে মামলার অভিযুক্তগণ আদালতে তাদেরকে ওহাবী বলে অভিহিত করার প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, আমরা ওহাবী নই, আমরা  মুহাম্মাদী তরীকারই অনুসারী।’ তারা ওহাবীর পরিবর্তে তাদেরকে সুন্নী বলে অভিহিত করার দাবী ও করেছিলেন। কিন্ত  ইংরেজরা তা মানেন নি। 
 স্বয়ং হান্টার লেখেন, কার্যত ওহাবীরা হচ্ছে সুন্নী সম্প্রদায়ের একটি অগ্রগামী অংশ এবং ইসলামের শুদ্ধাচারপন্থী অংশ। বাংলা ও উত্তর পশ্চিম ভারতের প্রায় সকল মুসলমানই সুন্নী সম্প্রদায়ভুক্ত। (ইন্ডিয়ান মুসলিমস পৃ. ৪৫-৪৬) 

বর্তমানে ‘ওহাবী তত্ত্ব’ পুনঃআবিষ্কারকারীগণ সেই নোংরা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে জানান দিলেন, ব্রিটিশ বেনিয়ারা ৬৫ বছর পূর্বেই এদেশ থেকে পাততাড়ি গোটাতে বাধ্য হলেও তাদের নিমক হালাল অনুগামীরা এখনো বেঁচে আছেন এবং যে কোন বাতিল শক্তিকেই তারা মদত যোগাতে সদা প্রস্ত্তত! 
এবং তাদের  মতের বিরুদ্ধে হলেই তাকে ওয়াহহাবী বলে গালি দেন। এবং নিজেদের কে সুন্নি বলে দাবী করেন,অথচ করছে সুন্নতের বিপরীত বেদআত সহ নানান কুসংস্কার।আর যারাই প্রকৃত সুন্নাত আর তাওহিদের উপর প্রতিষ্ঠিত , যারা সারা জীবন কুফর শীর্ক  বেদআত আর কুসংস্কারের বিরুদ্বে লডাই করছেন তারা হয়ে গেল ওহহাবী আর বেদআতিরা হয়ে গেল সুন্নি এ কি হাস্যকর ব্যপার! 

আর যদি কাউকে  ওয়াহহাবী  বলতেও যদি কারো মনে চায় তাহলে সেই  সৌদি আরব এর শেখ আবদুল ওয়াহহাব নজদীর নামের সাথে  যেহেতু ওয়াহহাব শব্দটি যুক্ত আছে সেহেতু তাদের কে বা তাদের অনুসারীদের কে ওয়াহহাবী বলতেও পারেন। 
কিন্তু ক্বওমী ওলামায়ে কেরাম বা দেওবন্দি ওলামায়ে কেরাম কে কোন যুক্তি তে ওয়াহহাবী বলা হবে? এটাতো নিতান্ত  হাস্যকর ছাডা কিছুই নয়। 

কারণ  শেখ আবদুল ওয়াহহাব নজদী হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী,  যদিও তারা এখন নিজেদের কে সালাফী বা লা মাযহাবী হিসাবে দাবী করেন, ভারতবর্ষে তারা আহলে হাদীস হিসাবে পরিচিত। 

 আর  দেওবন্দী ওলামায়ে কেরাম হানাফি মাযহাবের অনুসারী। ওদের সাথে এদের  কি সম্পর্ক? 
যদি ও এখনো কাউকে ওয়াহহাবী  হিসাবে আখ্যায়িত করতে কারো মনে চয় তাহলে বর্তমান সালাফী বা লা মাযহাবী  তথা আহলে হাদীসের  অনুসারীদের কে ওয়াহহাবী বলে আখ্যায়িত করতে পারেন দেলবন্দী বা কওমী ওলামাদেরকে নয়।

আল্লাহ সকলকে তাওহিদে খালেছ বুঝার ও মানার তাওফিক দান করুন আমিন ।
আল্লাহ সকলর সহায় হউক 

সংকলন সংযোজন এম এম আবদুল্লাহ ভূঁইয়া 
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক  নূরুল গনি ইসলামি একাডেমী কাটাছরা জোরারগঞ্জ মিরসরাই চট্টগ্রাম 

শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১

চিয়াসীড ‎পেটের ‎যাবতীয় ‎সমস্যার ‎সমাধানে ‎অব্যর্থ ‎পথ্য ‎

সুপার ফুড চিয়া সীড 

চিয়াসিড এর অবাক করা পুষ্টি গুন জানলে কেউ না খেয়ে থাকবেনা তাহলে জেনে নিন। 
যেমন 
দুধের চেয়ে ৫ গুণ বেশী ক্যালসিয়াম
কমলার চেয়ে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন সি
পালং শাকের চেয়ে ৩ গুণ বেশী আয়রন (লোহা)
কলার চেয়ে দ্বিগুণ পটাশিয়াম
স্যামন মাছের থেকে ৮ গুণ বেশী ওমেগা-৩। 

চিয়া সিড সরাসরি যে কোন ফলের স্মুদি বা জুসের সাথে পান করা যায়। শুধু পানিতে মিশিয়েও পান করা যায়। চিয়া বীজের নিরপেক্ষ স্বাদের কারণে এটা সব ধরনের খাবারের সাথে মিশিয়ে ও  খাওয়ার উপযুক্ত। বেক করা খাবার (বিস্কুট, কেক ইত্যাদি), সুপ, সালাদ ইত্যাদির সাথে মিশিয়েও চিয়া সীড খাওয়া যায়।

সুপারফুড চিয়া সীডের ১৫টি উপকারিতা

১। এটা শক্তি এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে

২। চিয়া সীড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে

৩। চিয়া বীজ ওজন কমাতে সহায়তা করে

৪। চিয়া সিড ব্লাড সুগার (রক্তের চিনি) স্বাভাবিক রাখে, ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়

৫। চিয়া বীজ হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ উপকারি

৬। চিয়া সিড মলাশয় (colon) পরিষ্কার রাখে ফলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

৭। চিয়া সিড শরীর থেকে টক্সিন (বিষাক্ত পদার্থ) বের করে দেয়

৮। চিয়া সীড প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করে

১০। চিয়া বীজ ক্যান্সার রোধ করে

১১। চিয়া সিড হজমে সহায়তা করে

১২। চিয়া বীজ হাঁটু ও জয়েন্টের ব্যথা দূর করে

১৩। চিয়া সীড এটেনশান ডেফিসিট হাইপার এক্টিভিটি ডিসর্ডার (Attention deficit hyperactivity disorder ADHD) দূর করে

১৪। চিয়া সিড ত্বক, চুল ও নখ সুন্দর রাখে

১৫। চিয়া সীড গৃহপালিত পশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
১৬। চিয়াসীড কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্টিক আই বি এস  অর্শ পাইলস পিস্টোলা সমস্যার সমাধান করতে কার্যকর। 

খাবার নিয়ম :
১ গ্লাস পানিতে ১ চা চামচ চিয়া বীজ দিয়ে নেড়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। স্বাদ বাড়াতে চাইলে এতে লেবুর রস, কমলার রস, গোল মরিচ গুড়ো, বা মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

তাছাডা ক্লোন পরিস্কার কোষ্ঠকাঠিন্য  অর্শ পাইলস পিস্টোলা সমস্যার সমাধান করতে  ১ চা চামচ চিয়াসীডের সাথে সমপরিমাণ  ইসুবগুল ভুষি  ও তোকমা দানা  মিশিয়ে  খালি পেটে সেব্য। 
অথবা একক ভাবে চিয়াসীড আধা ঘন্টা বা ততোধিক  ভিজিয়ে রেখে   সকালে খালি পেটে সেব্য।
সৌজন্যে ভূঁইয়া ন্যাচরাল হার্বস 
০১৮২৯৩১৮১১৪ ইমু ওয়াতসাফ এ।

রবিবার, ২৩ মে, ২০২১

নারীদের ‎যৌন ‎রস ‎ও ‎যৌন ‎শীথিলতা ‎সমস্যার ‎সমাধান ‎

নারীদের যৌনরস ও যৌন শিথিলতা  সমস্যার সমাধানঃ 
যে সকল নারী শারীরিক  সব কিছু  ঠিক থাকার পরও যৌন মিনলের সময় যৌনি পথে পিচ্ছিল জাতীয়  যৌন রস বের হয় না, বা কম বের হয় তখন এর কারনে মিলনের সমস্যা  হয় ব্যথা হয় মজা পাওয়া যায়না।স্বামী  স্ত্রী উভয়ের জন্য  অস্বস্তি কর, তাই এ সমস্যার সমাধান  করতে  করনীয়  ঘরোয়া চিকিৎসা 

উপাদান ঃ কলা গাছের থো বা থোর বা অনেকে কলাগাছের  মোছা বা মোছডা ও বলে থাকে, এর একেবারেই ভিতরের সাদা কচি অংশ টুকু নিয়ে  পেষ্ট  করে কয়েক চামচ খাটি মধু  মিশিয়ে  সেবন  করুন  দৈনিক  এক  বার  ১৫ দিন কমাজকম। 
তাছাডা এ থোঁ বা থোর ভিতরের অংশ  তথা ফুল গুলোকে রান্ন বা ভাজি বা ভত্তা করে ও এর সাথে খেতে পারেন। এবং কলার বোগলী টা রান্না করে খাওয়ার চেষ্টা  করুন  কমাজ কম ১৫ দিন। 
তবে মাস্ট ইনফোর্টেন থোঁ  বা মোছা বা মোছডার  ভিতরের সাদা অংশ যেটাকে অনেকে মুধা ও বলে থাকেন।  এটাকে পেষ্ট  করে মধু সহকারে সেবন করতে হবে ১৫ দিন কমাজকম। বেশী সম্ভব হলে আরও ভাল।

তাছাডা 
চিকিৎসা হিসাবে 
টিটানিয়াম 
সিলানিয়াম 
জিংসিং 
মাজুন আরদে খোরমা 
ইত্যাদি চিকিৎসক এর পরামর্শে সেবন করতে পারেন।

অপর দিকে নারীদের  যৌন শিথিলতা দূর করতে কার্যকর

অনেক সময়  দেখা  যায়  যে  স্বামী যৌন মিলনে আগ্রহী হলেও স্ত্রী তাতে অনীহা প্রকাশ করে অর্থাৎ  যৌন মিলনে অনাগ্রহ বা চাহিদাই থাকেনা।এ জন্য  নারীদের  যৌন শিথিলতা দূর করতে  প্রাথমিক চিকিৎসা হিসাবে ১০০% প্রাকৃতিক এ টিপস টি ব্যবহার করতে পারেন। 

সাজনার ডাটা ও পাতা  আলাদা করে পাক করে নিয়মিত খাওয়া প্রয়োজনে সাপ্তাহিক  ৩-৫ দিন।  
তাছাডা সাজনার পাতা চূর্ণ  করে চা র  মত খাওয়া যেতে পারে তাহলে চমৎকার  রেজাল্ট  আসবে। 
অথবা সাজনার ক্যাপসুল ও সেবন করা যেতে পারে।  ফার্মেসিতে পাওয়া যায়।

  হরমোনের ঘাটতি পুরন 
বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় 

টেস্টেস্টেরন হরমোন নারী পুরুষ,শুক্র, শুক্রানু বৃদ্ধি,ও শক্তিশালী করতে,যৌনশক্তি বাডাতে খাবার ও চিকিৎসা ঃ
১, দৈনিক ১০ টি খেজুর,১০ টি কিসমিস, ২০ টি বাদাম,৩ মাস 
২, কালোজিরা ফুলের মধু,কালোজিরা তেল,ও জয়তুন তেল ১ চামচ করে মিশিয়ে সেব্য ৩ মাস।
৩, তাছাডা পদ্ধ ফুলের মধু,আধা সিদ্ধ ডিম,দুধ  ৩ মাস সেবনে আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করতে পারেন। 
তাছাডা চিকিৎসা হিসাবে
১, মাজুন আরদে খোরমা,জিংসিং ক্যাপ,আর জেলী ক্যাপ,জিংসিং ইকোনো ট্যাব, ব্যবহার করা যেতে পারে। 
নারী পুরুষ উভয়ের জন্য
টেস্টোস্টেরণ হরমোন বৃদ্ধি ও যৌন ও প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত কার্যকর।  

নারী পুরুষ উভয়ের যৌন সমস্যায় পানিফল বা শিঙ্গাড়া 
পানি ফল অত্যন্ত পুষ্টি কর, যৌন সমস্যা ও মাসিকের গোন্ডগোল দূর করতে কার্যকর। গাছাডা পানি ফলের শাস শুকিয়ে  চূর্ণ করে  রুটি তৈরী করেও খেতে পারেন। 

সৌজন্যে 
ভূঁইয়া ন্যাচরাল হার্বস 
এম আবদুল্লাহ ভূঁইয়া  
০১৮২৯৩১৮১১৪
ইমু ওয়াতসাফ এ

বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১

অনিয়মিত ঋতুস্রাব ‎সমস্যার ‎সমাধান ‎৮ ‎টি ‎ঘরোয়া ‎উপায় ‎

অনিয়মিত ঋতুস্রাব নিয়মিত করতে ৮ টি  ঘরোয়া টিপস ঃ 

সর্ব প্রথম  জেনে নিন দু’টি দুর্দান্ত ঘরোয়া উপায় বা টোটকা। এগুলির যে কোনও একটি বা ২ টি  এক মাস মেনে চলতে পারলেই অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা চিরকালের জন্য মিটে যাবে ইনশাআল্লাহ। 
.. 
অনিয়মিত ঋতুস্রাবের (পিরিয়ড) সমস্যা যে কোনও বয়সের মহিলাদের মধ্যেই দেখা যায়। বিশেষ করে যাঁরা অবিবাহিত, তাঁদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। অনিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণে সন্তান ধারণে সমস্যা-সহ আরও নানা রকমের শারীরিক সমস্যা হতে পারে। কিন্তু কী করবেন? কী ভাবে মুক্তি পাবেন এই সমস্যা থেকে? জেনে নিন অনিয়মিত ঋতুস্রাবকে নিয়মিত করা দু’টি দুর্দান্ত ঘরোয়া উপায় বা টোটকা। এই দু’টো টোটকার যে কোনও একটি মাত্র এক মাস মেনে চলতে পারলেই অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা চিরকালের জন্য মিটে যাবে...

প্রথম টোটকা:

পিরিয়ডকে নিয়মিত করতে একটি অত্যন্ত কার্যকরী উপাদান হল দারচিনি। এই দারচিনি ব্যবহার করে অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি ঋতুকালীন ব্যথা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। জেনে নিন কী ভাবে ব্যবহার করবেন দারচিনি...

এক গ্লাস দুধে আধা চামচ দারচিনির গুঁড়ো মেশান। এর সঙ্গে মধুও দিতে পারেন। এ বার এই মিশ্রণ ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ নিয়মিত পান করুন। দেখবেন অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা কেটে যাবে। এ ছাড়াও খেতে পারেন দারচিনির চা বা প্রতিদিন আধা ইঞ্চির এক টুকরো দারুচিনি চিবিয়ে খেতে পারলেও কাজে দেবে।

দ্বিতীয় টোটকা:

বহুগুণ সম্পন্ন আদা সর্দি-কাশির সমস্যা সারানোর পাশাপাশি অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেও এর জুড়ি মেলা ভার! কী ভাবে ব্যবহার করবেন এই আদা? জেনে নিন...
এক কাপ জল নিন। এতে এক চামচ মিহি করে কুচানো আদা ৫-৬ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এর সঙ্গে সামান্য চিনি বা মধু মিশিয়ে নিন। এই পানীয়টি খাবার খাওয়ার পর দিনে ৩ বার করে খান।
এই মিশ্রণটি এক মাস নিয়মিত খেতে পারলে অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা সহজেই দূর হবে।

ZEENEWS24।  

অনিয়মিত পিরিয়ড নিয়মিত করার আরও  ৬ সহজ উপায়

প্রাপ্তবয়স্ক একজন কিশোরী কিংবা তরুণীর নিয়মিত ও সময়মতো পিরিয়ড বা মাসিক হওয়াটা স্বাভাবিক। তা না হয়ে মাসিক যদি অনিয়মিত হয়ে পড়ে, তখন বুঝতে হবে আপনার শারীরিক কোনো সমস্যা আছে।
এ ক্ষেত্রে কোনো অসুস্থতা শরীরে ভর করেছে কিনা বা জীবনচর্চায় কোনো ক্ষতিকর অভ্যাস যুক্ত হয়েছে কিনা, তার দিকে নজর দেয়া উচিত

অতিরিক্ত কাজের চাপ, ওজন হ্রাস, থাইয়রেড সমস্যা, মানসিক চাপ, ওভারির সমস্যা, অতিরিক্ত ব্যায়াম, হরমোন ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদি কারণে সাধারণত মাসিক অনিয়মিত হতে পারে।
মাসিক অনিয়মিত হলে নারীরা দুশ্চিন্তা শুরু করেন। এটি আরও ক্ষতি করে থাকে।
হঠাৎ আপনার মাসিক অনিয়মিত হয়ে পড়লে সেটিকে নিয়মিত করার উপায়ও আছে। চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে আপনি মাসিক নিয়মিত করতে পারে। আসুন উপায়গুলো জেনে নিই।

১, ব্যায়াম
যেসব নারী নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের মাসিকের সমস্যা থাকে না। নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম আছে, সেগুলো করলে অনেক সময় মাসিক হয়ে যায়।

ব্যায়ামের কারণে পেশি বাঁধা পেয়ে থাকে, যার কারণে পেশি সংকোচন শুরু করে, শরীরে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দিয়ে থাকে। ঋতুস্রাব শেষ হওয়ার পর ব্যায়াম করলে পরবর্তী সময়ে সঠিক সময়ে মাসিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২,  টকজাতীয় ফল

টকজাতীয় ফল যেমন- তেঁতুল, মাল্টা, জলপাই মাসিক নিয়মিত করতে সাহায্য করে থাকে। চিনি মেশানো পানিতে তেঁতুল এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এর পর এর সঙ্গে লবণ, চিনি ও জিরা গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এটি দিনে দুবার পান করুন। এটি আপনার অনিয়মিত মাসিককে নিয়মিত করে দেবে।

৩, আদা
মাসিকের চক্রকে নিয়মিত করতে আদা বেশ কার্যকর। ১ কাপ পানিতে ১/২ চা চামচ আদা কুচি দিয়ে ৫-৭ মিনিট সিদ্ধ করে পানিতে মিশিয়ে নিন। খাবার খাওয়ার পর তিনবেলা এটি পান করুন। নিয়মিত এক মাস এটি পান করুন।

৪,  তিল

তিল একটি উপকারী উপাদান। এটি আপনার অনিয়মিত মাসিককে নিয়মিত করতে সাহায্য করবে। তিলের উপাদান হরমোন উৎপাদন করে থাকে। অল্প পরিমাণের তিল ভেজে গুঁড়ো করে নিন। এর সঙ্গে এক চামচ গুড় মিশিয়ে নিন। এটি রোজ খালি পেটে এক চা চামচ করে খান। দেখবেন উপকার পাচ্ছেন।

৫, আপেল সাইডার ভিনেগার

খাবার খাওয়ার আগে ২ টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার পানিতে মিশিয়ে পান করুন। এটি রক্তের ইনসুলিন ও ব্লাড সুগার কমিয়ে দিয়ে থাকে, যা মাসিক নিয়মিত করে থাকে।

৬, স্বাস্থ্যকর জীবন

যেসব নারীর মেনোপজের বয়স হয়ে এসেছে, তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আরও বেশি জরুরি। কারণ মেনোপজের পর পরই অনেক রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে।

মনে রাখবেন একবার মাসিক দেরিতে হলে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তবে পিরিয়ডের দিকে খেয়াল রাখুন। তিন মাস টানা পিরিয়ড না হলে, বছরে ৯ বারের কম পিরিয়ড হলে বা প্রতিবার পিরিয়ড হওয়ার মাঝে ৩৫ দিনের বেশি বিরতি থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

সূত্র 
দৈনিক যুগান্তর স্ব্যাস্হ বিষয়ক লাইফস্টাইল ডেস্ক।

আমি এখানে স্ব্যাস্হ বিষয়ক ২ টি ওয়েবসাইট থেকে  সংকলন করে ৮ টিপস  বা ঘরোয়া চিকিৎসা  সকলের  উপকার্থে সংযোজন করলাম আশা করি এতে সচেতন  মা বোনদের জন্য  উপকার হবে এর পর ও না হলে অভিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হউন।  

সৌজন্যে
 ভূঁইয়া ন্যাচরাল হার্বস 
০১৮২৯৩১৮১১৪ 
ইমু ওয়াতসাফ এ।