Translate

বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১

তুলশি ‎টি ‎

★★তুলশি টি ★★

শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম  তথা রোগ প্রতি রোধ ক্ষমতা বাডাতে যা বর্তমান করোনার পরিস্থিতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

 তাছাডা  যাবতীয় চর্মরোগ  সর্দি কাশি  হাঁপানী এর  এর অব্যর্থ  মহৌষধ। 


উপাদান ও সেবন বিধি  ঃ 

শুকনো তুলশি পাতা  হাতে মছডিয়ে  গুডো করে নিন 
এর পর  পরিমান মত চূর্ণ  বা গুডো দিয়ে  ১গ্লাস পানিতে ১০/১৫ মিনিট হালকা  জালে  ফুটিয়ে নিন । এবং ছেকে নিয়ে এর সাথে পরিমান মত মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে  সেবন করুন। 

বর্তমান করোনার পরিস্থিতিতে এর চেয়ে  সস্তা  ও সহজলভ্য  এন্টিবডি তৈরিতে  অন্য কোন পথ্য আছে কিনা সন্দেহ  তাই  আমরা সকলেই  চাইলে এর ব্যবহার করতে পারি।

সৌজন্যে 
 ভূঁইয়া ন্যাচরাল হার্বস 
০১৮২৯৩১৮১১৪

মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১

আসলে ওয়াহ্হাবী ‎কে ‎বা ‎কারা? ‎

আমি ছাত্র জীবন শেষ করে  শিক্ষকতার জীবন মিলে প্রায় দীর্ঘ ২১ বছর অতিবাহীত করার পর প্রবাস জীবনও  প্রায় ২১ বছর অতিবাহীত করার পর একটা বিষয়ে চিন্তা করলাম যে , দেশে বিদেশে প্রচলিত একটি শব্দ "ওয়াহ্হাবি " শুনতে অত্যন্ত খারাপ লাগে, তাই স্হীর করলাম এ বিষয়ে কিছু গবেষনা করব।

 
তাই বিভিন্ন মনিষীদের বই লেখনি ওয়েবসাইট সহ বিভিন্ন গবেষনা মূলক বই অধ্যয়ন করলাম।
তাই গবেষনা পূর্বক যে কথাটি আমি বুঝতে পেরেছি তাই পাঠকদের উদ্দ্যেশে উপস্হাপন করলাম,

এর পর  ও আপনাদের কাছে কোন তথ্য থাকলে অবশ্যই শেয়ার করার অনুরোধ রইল। কারণ আমরা সকলেই সত্য অন্বেষনকারী ।

তাহলে আসা যাক ওহহাবী বা ওহাবী আন্দোলন আসলে  কি ?আসলে কে বা কারা ওহহাবী তা জেনে নেয়া  যাক।
======================

আসলে ওহাবী আন্দোলন বলে খ্যাত  খ্রিষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর আরবের একটি সংস্কার আন্দোলন। এ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব (১৭০৩-১৭৯২ খ্রি.)
যা আজ থেকে প্রায়  দুইশত ত্রিশ বছর আগের কথা। 

  তিনি একজন ধর্মীয় আলেম এবং সংস্কারক ছিলেন। তিনি আমাদের এ ভারতীয় উপমহাদেশের বিপ্লবী আলেম মাওলানা শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভীর সমসাময়িক ছিলেন। দ্বাদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত আলিম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহ্হাব নজদী (রহঃ) (মৃতঃ ১২০৬ হিঃ) মূলত হাম্বলী মায্হাবেরই মুক্বাল্লিদ্ ছিলেন।

 তৎকালীন সৌদি আরবে বিশেষত নজ্‌দ এলাকায় কুফর শিরক্, বিদয়া’ত, কবরপূজা, মাযারপূজা, গাছপূজা, আগুনপূজা ও প্রতিমা-মানব ইত্যাদি পূজা-উপাসনার মোকাবিলা ও প্রতিরোধে তার কার্যকরী, সাহসী ও বীরবিক্রম পদক্ষেপ আসলেও গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসার দাবী রাখে। তাঁরই অবদানে তদানীন্তন আরব মধ্যযুগীয় বর্বরতা, সীমাহীন ভ্রষ্টতা ও শিরক কুফরের অতুলনীয় অন্ধকারাচ্ছন্নতা থেকে রেহাই পেয়েছিল ততকালীন  সৌদি আরব।

 তবে অনেক বিষয়ে বাড়াবাড়ির ফলে তাঁর সঙ্গে তদানীন্তন সউদী আরবের  অনেক  আলেম উলামাদের সাথে  মহামতানৈক্য ও সৃষ্টি হয়।  এবং এর বিরোধীরা  তাঁকে ওহহাবী বলে তিরস্কার করতে আরম্ভ করলেন ।

 এদিকে ভারতবর্ষের লা-মায্হাবীরাও যেহেতু মুসলমানদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হিসেবে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহ্হাব নজদীর  মতবাদ গ্রহণ করত বলে তাদেরকেও মুসলমানদের একটি গ্রুপ তাদেরকেও  ওহ্হাবী বলে আখ্যায়িত করতে থাকেন।

  আর তখন তারা নিজেদেরকে মুহাম্মদী,  আহলে হাদীস বলে প্রচারের চেষ্টায় মেতে উঠে।  বর্তমান   অন্য সকল নাম বাদ দিয়ে  আহলে হাদীস আন্দোলন নামের ব্যানারে নিজেদের  কে প্রকাশ করছে ৷অপরদিকে সৌদি আরবে তারা নিজেদের কে সালাফী হিসাবে পরিচয় দিয়ে থাকে।

   তবে  ওয়াহহাবী এ নামটি মূলত ইংরেজ কতৃক সীকৃত যা আমি আমার এই ব্লগেও উপস্হাপন করেছি।

কিন্তু  বাংলাদেশের কোন কোন স্হানে দেওবন্দী ওলামাদের কে ওহহাবী বলে তিরস্কার করতে দেখা যায়।

 কিন্তু দেওবন্দী ওলামাদের সাথে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহ্হাব নজদীর সাথে কোন সমপর্কই নেই , কারন একেতো তিনি হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী আর সকল দেওবন্দী ওলামাগন   হানাফী মাযহাব এর অনূসারী ,

,তিনি হলেন লামাযহাবী গায়রেমোকল্লিদদের ইমাম  দেওবন্দীদের ইমাম নয়, দেওবন্দীগন সঠিক আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর অনুসারী   ৷ 

তাছাড়া সৌদি আরবের সেই মুহাম্মদ বিন আবদুল ওহহাবের মতবাদ কে কেন্দ্র করে ইতিহাসে ঘৃনিত সেই ওহহাবী ফেরক্বার সাথে ও তুলনা অকল্পনীয় মনে হয়।

   কারণ  সম্রাজ্যবাদী ইহুদী-খৃষ্টানরা তাদের হীন চন্ত্রান্ত চরিতার্থ করার স্বার্থে হিজরি ২য়/৩য় শতাব্দীতে উত্তর আফ্রিকায় প্রচারিত সেখানকার জনৈক আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে রুস্তম  খারিজীর ফেরকার নামের সাথে  সৌদি আরবের তথাকথিত সেই আবদুল ওয়াহহাব নজদীর  নামটিকে ও সৈই ঘৃনীত বাতেল ওহাবী ফেরকার নামটি ব্যবহার করে এক বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন ,
 এটি ছিল আবাজী খারেজী মতবাদে বিশ্বাসী এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের শিক্ষার পরিপন্থী একটি ভ্রান্ত ফিরকা।  এরাই হল আসলে ওহহাবী ফেরক্বাহ। 

সে তার এলাকায় ( আফ্রিকায়) ইসলামী শরিয়ত বন্ধ ঘোষনা করার সাথে সাথে হজ্বের যাত্রা বাতেল করে এবং তার মতাদর্শ বিরোধীদের কাফের বলে ঘোষনা দেন। এর ফলে সেখানে যুদ্ধ বিদ্রোহ সহ নানান ফেতনা দেখা দিয়েছিল । কিন্তু তৎকালীন সঠিক   আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বিদাহ ধারী ওলামারা  উল্টো তাকে কাফের বলে ঘোষনা করেছিলেন । যাকে সকলেই ঘৃনা করেন , আমরাও ঘৃনা করি,   সময়কাল ছিল  হিজরী ২য শতাব্দী,  মৃ্ত্যু 197 হিজরী ।



আর   মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব রহ. আরব উপদ্বীপে ১২০০/১৩০০ হিজরীতে যে মহান সংস্কারের ডাক দিয়েছিলেন, যার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াত-তাওহীদ ও সুন্নাতের ডাক, কুসংস্কার, শিরক, বিদআত বর্জনের উদাত্ত আহবান।  তাঁর আসল নাম হল মুহাম্মদ কিন্তু পিতার নাম আব্দুল ওয়াহহাব ,,
আর নাজদ হল ঐ এলাকা বা জন্মস্হান। 


তবে স্বার্থম্বেসী  মহল বিভ্রান্ত ছডানোর জন্য সেই হিজরি ২য়/৩য় শতাব্দীতে উত্তর আফ্রিকায় প্রচারিত সেখানকার  আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে রুস্তম  খারিজী  নামের সাথে ওহাবী ফেরকার নামটি ব্যবহার করে।   সৌদি আরবের সেই সংস্কারক কেও ওয়াহহাবী বলে  আখ্যায়ীত করতে থাকেন ।

উভয়ের মধ্যকার  সময়ের অনেক ডিপারেন্স ।  যখন এ ফেরকাটি উদ্ভব হয়েছি তখন  শাইখ   মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব রহ. এর 20/22 তম পূর্ব পুরুষের ও জন্ম হয়নি । তাসত্বেও তাকে ওহহাবী হিসাবে সম্বোধন করা হয়েছে। যা নিতান্ত ভূল ছিল মনে হয়। বা উদ্দেশ্য প্রণীত।
 তাছাডা বর্তমান সৌদি আরবের সেই  মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব রহ. কে ওহহাবী না বলে মুহাম্মদী বলাই উচিত ছিল, তার নাম অনুসারে , কারন  আবদুল ওহহাব তো পিতার নাম,
 মুহাম্মদ যেহেতু সংস্কার করেছিলেন ।  সে হিসাবে মুহাম্মদীই বলা যেত। 
 কিন্তু  তাকে বলা হল ওয়াহহাবী
কিন্তুু
আর সেই আফ্রিকার সেই প্রবক্তার নামই ছিল কিন্তু  আবদুল ওহহাব।  মূলত সেইই ছিল ওহহাবী মতবাদের প্রবক্তা, যার ইশারা হাদীসে রসুলেও এসেছে ।


কিন্তু পরবর্তিতে  আমাদের  দেশে একটি কুচক্রি মহল তথা মাজার পন্থিরা  সহ নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী তথা শাহরিয়ার কবির গংরা  সৌদি  ওহহাবী,   দেওবন্দি ওহহাবী  বলে সকলকে একাকার করে তিরস্কার/উপহাস করাে থাকেন  অথচ  এদের সাথে সেই ফেরকায়ে ওয়াহহাবিয়্যতর সাথে কোন সম্পর্কই নেই।  তাছাডা দেওবন্দি ওলামা ও সৌদি ওলামা উভয়ে দুটো ভিন্ন দ্বারায় পরিচালিত যদিও উভয়েই হক্ব ও আহলে সুন্নাতের মতাদর্শে  বিশ্বাসী। 

 কিন্তু এদের কেউ ( সৌদি আরবের কেউ বা ওলামায়ে দেওবন্দীদের কেউ)   সেই ইতিহাসে ঘৃনিত  আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে রুস্তম  খারিজীর আক্বিদা বা মতাদর্শে বিশ্বাসী নয় । কারন সেই আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে রুস্তম  খারিজী   যেহেতু তার এলাকায়  ইসলামী শরিয়ত বন্ধ ঘোষনা করার সাথে সাথে হজ্বের যাত্রা বাতেল করে এবং তার মতাদর্শ বিরোধীদের কাফের বলে ঘোষনা করেছিলেন কিন্তু  সৌদি আরবের সেই শেখ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওহহাব নজদী বা দেওবন্দি ওলামা  কতৃক শরিয়তের কোন হুকুম কে কি কখনো বন্ধ বা নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন বা এদের কেউ হজের সফর কে বাতেল করেছিলেন বা তাদের মতাদর্শ  কেউ মেনে না চললে কাফের বলে সম্বোধন করেছিলেন ? না কখনো করেননি ।তাহলে এরা সেই  ইতিহাসে ঘৃনিত সেই ওহাবীর অনূসারী হয় কি ভাবে ? এটাই বিবেকের কাছে প্রশ্ন ।  

তাছাডা আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে রুস্তম  খারিজী ইতিহাসের এক  ঘৃনীত ব্যক্তি এতে কোন সন্দেহ নেই কারণ তার আক্বিদাহ সমপূর্ণ আহলে সুন্নাতের বিপরীত ছিল তাছাড়া হযরত আলী রাঃ এর জামানার সেই ফেরক্বায়ে খারেজীয়া আরও জগন্য বাতেল ফেরক্বাহ ছিল  যা সকলেরই জানা কথা , কিন্তু     আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে রুস্তম  খারিজী     সেই বাতিল ফেরক্বার প্রতিনিধিত্ব করত বলেও তার নামের সাথে খারেজীর উপাধীও দেয়া হয়েছিল  । 

কিন্তু বর্তমানে যাদের দিকে এ ঘৃনীত নিসবতটি করা হয় এদের সাথে ওদের কোন সম্পর্কই নেই।

তাছাড়া এখানে প্রসঙ্গক্রমে একটা কথা না বললে হয়না যে বাংলাদেশের কোন কোন অঞ্চলে দেওবন্দ ভিত্তিক কওমী মাদ্রাসা গুলোকে অনেকে না জেনে না বুঝে খারেজী মাদ্রাসা হিসাবেও অবহিত করে থাকেন কিন্তু এটা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন যে এরা কি আসলে সেই ইতিহাসের সেই ঘৃনীত খারেজীদর প্রতিনিধিত্বকারী মাদ্রাসা? না আসলে তা না বর্তমান পৃথিবীতে ফেরক্বায়ে খারেজীয়ার  অস্তিত্ত ও খুজে পাওয়া যায়না, 

 তবে এদেরকে কেন খারেজী বলা হয়? তাহলে বুঝতে হবে  খারেজী শব্দের অর্থ কি? খারেজী শব্দের অর্থ " হল বাহির হয়ে যাওয়া" মূলত যারা ততকালীন হযরত আলী রাঃ এর জামাত থেকে বের হয়ে গিয়েছিল তাদের কে ইতিহাসে  খারেজী হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। বর্তমানে  তাদের অস্তিত্ব ও নেই  পৃথিবীতে। 

আর বর্তমানে কওমী মাদরাসা গুলো কখনো সেই অর্থে খারেজী নয় বা খারেজী মাদরাসা নয় বরং 
   কওমী মাদ্রাসা গুলো সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাহিরে থাকায় এসকল প্রতিষ্ঠানকে অনেকে খারেজী মাদ্রাসা হিসাবেও অবহিত করেন ।আর কওমী মাদ্রাসা যেহেতু কওমের সাহায্য সহযোগিতায় চলে বিধায় কওমী মাদ্রাসা বলা হয়।আর ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসার আদলে  দেওবন্দী নেসাব আর অবকাঠামো মতে চলে বিধায় দেওবন্দি মাদ্রাসা বলা হয়।
যাহোক আবার মূল কথায় ফিরে আসি ।

 স্বীয় মতের  বিরোধীদের কে ঘায়েল করতে ওহহাবী বলে তিরস্কার করা একটি হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহর করে থাকেন অনেকে ।যেটি বৃটিশদের থেকে দ্বার করা।

যেমনটি   বৃটিশ আমলে আমাদের বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা নিসার আলী ওরফে তীতুমীর এবং হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজী আন্দোলন সবই বৃটিশ ঐতিহাসিক ও আমলা ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টার প্রমুখ কর্তৃক (ওহাবী) বলে অভিহিত হয়।

কারণ হান্টারের ভাষ্যমতে, সৈয়দ আহমদ বেরলভী মক্কায় গিয়ে ওহাবী আন্দোলনে দীক্ষিত হয়ে আসেন,যেটি ডাহা মিথ্যা  অপবাদ ছিল কারণ  তিনি বা আমাদের তীতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রমুখ বীরপুরুষগণ যখন ১৮২০ সালের দিকে হজে যান তখন মক্কা-মদীনায় সুদৃঢ় তুর্কী শাসন চলছিল এবং ঐ সময় ঐ  সব পবিত্র নগরীতে তথাকথিত  ওহাবী আন্দোলনের নামটি উচ্চারণ করাও ছিল গুরুতর অপরাধ। 

এর এক দশক পূর্বেই তুর্কী সুলতানরা ১২৪৪ হিজরীতে/১৮১৩ খ্রি.  সেই কথিত সৌদি আরবের তথা কথিত ওহাবীদেরকে হটিয়ে মুক্ত করে ফেলেছিলেন। তখন  ওহাবীদের কোন কতৃত্বই ছিলনা  
সুতরাং ওটা ছিল নেহাৎই রাজনৈতিক প্রচারণা এবং অসত্য বিবরণ। 
এখানে আরও একটা কথা বলে রাখি তাহল  হক্ব ও ন্যায়ের পক্ষে অন্যায় অত্যাচার জুলুমের বিরুদ্বে কথা বলেছেন ইংরেজদের বিরুদ্বে জেহাদের ফতোয়া দিয়েছিলেন  বলেই ইংরেজরা দেওবন্দি ওলামাসহ সমসাময়ীক আজাদী আন্দোলনের সকল কে ওহাবী বলে তিরস্কার করেছিলেন ৷

 আজও যারা হক্বের পক্ষে কুফর শীরক বেদআতের বিরুদ্ধে  কবর পুজা, ভন্ড পীরের  বিরুদ্বে কথা বলেন তাদের কে ও ঐ সেই ইংরেজদের দালাল তথা মাজার পুজারীরা  ওহাবী বলে তিরস্কার করে থাকেন ৷

 অথচ সেই  ২য় শতাব্দীর সেই আসল ওহাবী আন্দোলনের আক্বিদাহ  আর সৌদি আরবের সেই মুহাম্মদ বিন আবদুল ওহহাব নজদীর কথিত ওহহাবীর আক্বিদাহ, আর দেওবন্দি ওলামাদের আক্বিদার মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান । কাজেই ভারত উপমহাদেশের দেওবন্দি ওলামাদের কে ওহহাবী বলে তিরস্কার করা জগন্য ঘৃন্য অপরাধ  আর মারাত্বক ঘৃন্য অপবাদ ছাডা আর কিছুই না ।

ইংরেজ আমলে 
১৮৬৪ সালে ‘গ্রেট ওহাবী ট্রায়াল’ নামে উপমহাদেশীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরুদ্ধে  ইংরেজ‘ কতৃক কোলকাতা হাইকোর্টে’ সরকারী মামলা হয়েছিল-যার ভিত্তিতে অনেকেরই ফাঁসি ও দ্বীপান্তরের শাস্তি হয়েছিল। সে মামলার অভিযুক্তগণ আদালতে তাদেরকে ওহাবী বলে অভিহিত করার প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, আমরা ওহাবী নই, আমরা  মুহাম্মাদী তরীকারই অনুসারী।’ তারা ওহাবীর পরিবর্তে তাদেরকে সুন্নী বলে অভিহিত করার দাবী ও করেছিলেন। কিন্ত  ইংরেজরা তা মানেন নি। 
 স্বয়ং হান্টার লেখেন, কার্যত ওহাবীরা হচ্ছে সুন্নী সম্প্রদায়ের একটি অগ্রগামী অংশ এবং ইসলামের শুদ্ধাচারপন্থী অংশ। বাংলা ও উত্তর পশ্চিম ভারতের প্রায় সকল মুসলমানই সুন্নী সম্প্রদায়ভুক্ত। (ইন্ডিয়ান মুসলিমস পৃ. ৪৫-৪৬) 

বর্তমানে ‘ওহাবী তত্ত্ব’ পুনঃআবিষ্কারকারীগণ সেই নোংরা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে জানান দিলেন, ব্রিটিশ বেনিয়ারা ৬৫ বছর পূর্বেই এদেশ থেকে পাততাড়ি গোটাতে বাধ্য হলেও তাদের নিমক হালাল অনুগামীরা এখনো বেঁচে আছেন এবং যে কোন বাতিল শক্তিকেই তারা মদত যোগাতে সদা প্রস্ত্তত! 
এবং তাদের  মতের বিরুদ্ধে হলেই তাকে ওয়াহহাবী বলে গালি দেন। এবং নিজেদের কে সুন্নি বলে দাবী করেন,অথচ করছে সুন্নতের বিপরীত বেদআত সহ নানান কুসংস্কার।আর যারাই প্রকৃত সুন্নাত আর তাওহিদের উপর প্রতিষ্ঠিত , যারা সারা জীবন কুফর শীর্ক  বেদআত আর কুসংস্কারের বিরুদ্বে লডাই করছেন তারা হয়ে গেল ওহহাবী আর বেদআতিরা হয়ে গেল সুন্নি এ কি হাস্যকর ব্যপার! 

আর যদি কাউকে  ওয়াহহাবী  বলতেও যদি কারো মনে চায় তাহলে সেই  সৌদি আরব এর শেখ আবদুল ওয়াহহাব নজদীর নামের সাথে  যেহেতু ওয়াহহাব শব্দটি যুক্ত আছে সেহেতু তাদের কে বা তাদের অনুসারীদের কে ওয়াহহাবী বলতেও পারেন। 
কিন্তু ক্বওমী ওলামায়ে কেরাম বা দেওবন্দি ওলামায়ে কেরাম কে কোন যুক্তি তে ওয়াহহাবী বলা হবে? এটাতো নিতান্ত  হাস্যকর ছাডা কিছুই নয়। 

কারণ  শেখ আবদুল ওয়াহহাব নজদী হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী,  যদিও তারা এখন নিজেদের কে সালাফী বা লা মাযহাবী হিসাবে দাবী করেন, ভারতবর্ষে তারা আহলে হাদীস হিসাবে পরিচিত। 

 আর  দেওবন্দী ওলামায়ে কেরাম হানাফি মাযহাবের অনুসারী। ওদের সাথে এদের  কি সম্পর্ক? 
যদি ও এখনো কাউকে ওয়াহহাবী  হিসাবে আখ্যায়িত করতে কারো মনে চয় তাহলে বর্তমান সালাফী বা লা মাযহাবী  তথা আহলে হাদীসের  অনুসারীদের কে ওয়াহহাবী বলে আখ্যায়িত করতে পারেন দেলবন্দী বা কওমী ওলামাদেরকে নয়।

আল্লাহ সকলকে তাওহিদে খালেছ বুঝার ও মানার তাওফিক দান করুন আমিন ।
আল্লাহ সকলর সহায় হউক 

সংকলন সংযোজন এম এম আবদুল্লাহ ভূঁইয়া 
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক  নূরুল গনি ইসলামি একাডেমী কাটাছরা জোরারগঞ্জ মিরসরাই চট্টগ্রাম 

শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১

চিয়াসীড ‎পেটের ‎যাবতীয় ‎সমস্যার ‎সমাধানে ‎অব্যর্থ ‎পথ্য ‎

সুপার ফুড চিয়া সীড 

চিয়াসিড এর অবাক করা পুষ্টি গুন জানলে কেউ না খেয়ে থাকবেনা তাহলে জেনে নিন। 
যেমন 
দুধের চেয়ে ৫ গুণ বেশী ক্যালসিয়াম
কমলার চেয়ে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন সি
পালং শাকের চেয়ে ৩ গুণ বেশী আয়রন (লোহা)
কলার চেয়ে দ্বিগুণ পটাশিয়াম
স্যামন মাছের থেকে ৮ গুণ বেশী ওমেগা-৩। 

চিয়া সিড সরাসরি যে কোন ফলের স্মুদি বা জুসের সাথে পান করা যায়। শুধু পানিতে মিশিয়েও পান করা যায়। চিয়া বীজের নিরপেক্ষ স্বাদের কারণে এটা সব ধরনের খাবারের সাথে মিশিয়ে ও  খাওয়ার উপযুক্ত। বেক করা খাবার (বিস্কুট, কেক ইত্যাদি), সুপ, সালাদ ইত্যাদির সাথে মিশিয়েও চিয়া সীড খাওয়া যায়।

সুপারফুড চিয়া সীডের ১৫টি উপকারিতা

১। এটা শক্তি এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে

২। চিয়া সীড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে

৩। চিয়া বীজ ওজন কমাতে সহায়তা করে

৪। চিয়া সিড ব্লাড সুগার (রক্তের চিনি) স্বাভাবিক রাখে, ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়

৫। চিয়া বীজ হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ উপকারি

৬। চিয়া সিড মলাশয় (colon) পরিষ্কার রাখে ফলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

৭। চিয়া সিড শরীর থেকে টক্সিন (বিষাক্ত পদার্থ) বের করে দেয়

৮। চিয়া সীড প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করে

১০। চিয়া বীজ ক্যান্সার রোধ করে

১১। চিয়া সিড হজমে সহায়তা করে

১২। চিয়া বীজ হাঁটু ও জয়েন্টের ব্যথা দূর করে

১৩। চিয়া সীড এটেনশান ডেফিসিট হাইপার এক্টিভিটি ডিসর্ডার (Attention deficit hyperactivity disorder ADHD) দূর করে

১৪। চিয়া সিড ত্বক, চুল ও নখ সুন্দর রাখে

১৫। চিয়া সীড গৃহপালিত পশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
১৬। চিয়াসীড কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্টিক আই বি এস  অর্শ পাইলস পিস্টোলা সমস্যার সমাধান করতে কার্যকর। 

খাবার নিয়ম :
১ গ্লাস পানিতে ১ চা চামচ চিয়া বীজ দিয়ে নেড়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। স্বাদ বাড়াতে চাইলে এতে লেবুর রস, কমলার রস, গোল মরিচ গুড়ো, বা মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

তাছাডা ক্লোন পরিস্কার কোষ্ঠকাঠিন্য  অর্শ পাইলস পিস্টোলা সমস্যার সমাধান করতে  ১ চা চামচ চিয়াসীডের সাথে সমপরিমাণ  ইসুবগুল ভুষি  ও তোকমা দানা  মিশিয়ে  খালি পেটে সেব্য। 
অথবা একক ভাবে চিয়াসীড আধা ঘন্টা বা ততোধিক  ভিজিয়ে রেখে   সকালে খালি পেটে সেব্য।
সৌজন্যে ভূঁইয়া ন্যাচরাল হার্বস 
০১৮২৯৩১৮১১৪ ইমু ওয়াতসাফ এ।

রবিবার, ২৩ মে, ২০২১

নারীদের ‎যৌন ‎রস ‎ও ‎যৌন ‎শীথিলতা ‎সমস্যার ‎সমাধান ‎

নারীদের যৌনরস ও যৌন শিথিলতা  সমস্যার সমাধানঃ 
যে সকল নারী শারীরিক  সব কিছু  ঠিক থাকার পরও যৌন মিনলের সময় যৌনি পথে পিচ্ছিল জাতীয়  যৌন রস বের হয় না, বা কম বের হয় তখন এর কারনে মিলনের সমস্যা  হয় ব্যথা হয় মজা পাওয়া যায়না।স্বামী  স্ত্রী উভয়ের জন্য  অস্বস্তি কর, তাই এ সমস্যার সমাধান  করতে  করনীয়  ঘরোয়া চিকিৎসা 

উপাদান ঃ কলা গাছের থো বা থোর বা অনেকে কলাগাছের  মোছা বা মোছডা ও বলে থাকে, এর একেবারেই ভিতরের সাদা কচি অংশ টুকু নিয়ে  পেষ্ট  করে কয়েক চামচ খাটি মধু  মিশিয়ে  সেবন  করুন  দৈনিক  এক  বার  ১৫ দিন কমাজকম। 
তাছাডা এ থোঁ বা থোর ভিতরের অংশ  তথা ফুল গুলোকে রান্ন বা ভাজি বা ভত্তা করে ও এর সাথে খেতে পারেন। এবং কলার বোগলী টা রান্না করে খাওয়ার চেষ্টা  করুন  কমাজ কম ১৫ দিন। 
তবে মাস্ট ইনফোর্টেন থোঁ  বা মোছা বা মোছডার  ভিতরের সাদা অংশ যেটাকে অনেকে মুধা ও বলে থাকেন।  এটাকে পেষ্ট  করে মধু সহকারে সেবন করতে হবে ১৫ দিন কমাজকম। বেশী সম্ভব হলে আরও ভাল।

তাছাডা 
চিকিৎসা হিসাবে 
টিটানিয়াম 
সিলানিয়াম 
জিংসিং 
মাজুন আরদে খোরমা 
ইত্যাদি চিকিৎসক এর পরামর্শে সেবন করতে পারেন।

অপর দিকে নারীদের  যৌন শিথিলতা দূর করতে কার্যকর

অনেক সময়  দেখা  যায়  যে  স্বামী যৌন মিলনে আগ্রহী হলেও স্ত্রী তাতে অনীহা প্রকাশ করে অর্থাৎ  যৌন মিলনে অনাগ্রহ বা চাহিদাই থাকেনা।এ জন্য  নারীদের  যৌন শিথিলতা দূর করতে  প্রাথমিক চিকিৎসা হিসাবে ১০০% প্রাকৃতিক এ টিপস টি ব্যবহার করতে পারেন। 

সাজনার ডাটা ও পাতা  আলাদা করে পাক করে নিয়মিত খাওয়া প্রয়োজনে সাপ্তাহিক  ৩-৫ দিন।  
তাছাডা সাজনার পাতা চূর্ণ  করে চা র  মত খাওয়া যেতে পারে তাহলে চমৎকার  রেজাল্ট  আসবে। 
অথবা সাজনার ক্যাপসুল ও সেবন করা যেতে পারে।  ফার্মেসিতে পাওয়া যায়।

  হরমোনের ঘাটতি পুরন 
বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় 

টেস্টেস্টেরন হরমোন নারী পুরুষ,শুক্র, শুক্রানু বৃদ্ধি,ও শক্তিশালী করতে,যৌনশক্তি বাডাতে খাবার ও চিকিৎসা ঃ
১, দৈনিক ১০ টি খেজুর,১০ টি কিসমিস, ২০ টি বাদাম,৩ মাস 
২, কালোজিরা ফুলের মধু,কালোজিরা তেল,ও জয়তুন তেল ১ চামচ করে মিশিয়ে সেব্য ৩ মাস।
৩, তাছাডা পদ্ধ ফুলের মধু,আধা সিদ্ধ ডিম,দুধ  ৩ মাস সেবনে আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করতে পারেন। 
তাছাডা চিকিৎসা হিসাবে
১, মাজুন আরদে খোরমা,জিংসিং ক্যাপ,আর জেলী ক্যাপ,জিংসিং ইকোনো ট্যাব, ব্যবহার করা যেতে পারে। 
নারী পুরুষ উভয়ের জন্য
টেস্টোস্টেরণ হরমোন বৃদ্ধি ও যৌন ও প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত কার্যকর।  

নারী পুরুষ উভয়ের যৌন সমস্যায় পানিফল বা শিঙ্গাড়া 
পানি ফল অত্যন্ত পুষ্টি কর, যৌন সমস্যা ও মাসিকের গোন্ডগোল দূর করতে কার্যকর। গাছাডা পানি ফলের শাস শুকিয়ে  চূর্ণ করে  রুটি তৈরী করেও খেতে পারেন। 

সৌজন্যে 
ভূঁইয়া ন্যাচরাল হার্বস 
এম আবদুল্লাহ ভূঁইয়া  
০১৮২৯৩১৮১১৪
ইমু ওয়াতসাফ এ

বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১

অনিয়মিত ঋতুস্রাব ‎সমস্যার ‎সমাধান ‎৮ ‎টি ‎ঘরোয়া ‎উপায় ‎

অনিয়মিত ঋতুস্রাব নিয়মিত করতে ৮ টি  ঘরোয়া টিপস ঃ 

সর্ব প্রথম  জেনে নিন দু’টি দুর্দান্ত ঘরোয়া উপায় বা টোটকা। এগুলির যে কোনও একটি বা ২ টি  এক মাস মেনে চলতে পারলেই অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা চিরকালের জন্য মিটে যাবে ইনশাআল্লাহ। 
.. 
অনিয়মিত ঋতুস্রাবের (পিরিয়ড) সমস্যা যে কোনও বয়সের মহিলাদের মধ্যেই দেখা যায়। বিশেষ করে যাঁরা অবিবাহিত, তাঁদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। অনিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণে সন্তান ধারণে সমস্যা-সহ আরও নানা রকমের শারীরিক সমস্যা হতে পারে। কিন্তু কী করবেন? কী ভাবে মুক্তি পাবেন এই সমস্যা থেকে? জেনে নিন অনিয়মিত ঋতুস্রাবকে নিয়মিত করা দু’টি দুর্দান্ত ঘরোয়া উপায় বা টোটকা। এই দু’টো টোটকার যে কোনও একটি মাত্র এক মাস মেনে চলতে পারলেই অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা চিরকালের জন্য মিটে যাবে...

প্রথম টোটকা:

পিরিয়ডকে নিয়মিত করতে একটি অত্যন্ত কার্যকরী উপাদান হল দারচিনি। এই দারচিনি ব্যবহার করে অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি ঋতুকালীন ব্যথা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। জেনে নিন কী ভাবে ব্যবহার করবেন দারচিনি...

এক গ্লাস দুধে আধা চামচ দারচিনির গুঁড়ো মেশান। এর সঙ্গে মধুও দিতে পারেন। এ বার এই মিশ্রণ ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ নিয়মিত পান করুন। দেখবেন অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা কেটে যাবে। এ ছাড়াও খেতে পারেন দারচিনির চা বা প্রতিদিন আধা ইঞ্চির এক টুকরো দারুচিনি চিবিয়ে খেতে পারলেও কাজে দেবে।

দ্বিতীয় টোটকা:

বহুগুণ সম্পন্ন আদা সর্দি-কাশির সমস্যা সারানোর পাশাপাশি অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেও এর জুড়ি মেলা ভার! কী ভাবে ব্যবহার করবেন এই আদা? জেনে নিন...
এক কাপ জল নিন। এতে এক চামচ মিহি করে কুচানো আদা ৫-৬ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এর সঙ্গে সামান্য চিনি বা মধু মিশিয়ে নিন। এই পানীয়টি খাবার খাওয়ার পর দিনে ৩ বার করে খান।
এই মিশ্রণটি এক মাস নিয়মিত খেতে পারলে অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা সহজেই দূর হবে।

ZEENEWS24।  

অনিয়মিত পিরিয়ড নিয়মিত করার আরও  ৬ সহজ উপায়

প্রাপ্তবয়স্ক একজন কিশোরী কিংবা তরুণীর নিয়মিত ও সময়মতো পিরিয়ড বা মাসিক হওয়াটা স্বাভাবিক। তা না হয়ে মাসিক যদি অনিয়মিত হয়ে পড়ে, তখন বুঝতে হবে আপনার শারীরিক কোনো সমস্যা আছে।
এ ক্ষেত্রে কোনো অসুস্থতা শরীরে ভর করেছে কিনা বা জীবনচর্চায় কোনো ক্ষতিকর অভ্যাস যুক্ত হয়েছে কিনা, তার দিকে নজর দেয়া উচিত

অতিরিক্ত কাজের চাপ, ওজন হ্রাস, থাইয়রেড সমস্যা, মানসিক চাপ, ওভারির সমস্যা, অতিরিক্ত ব্যায়াম, হরমোন ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদি কারণে সাধারণত মাসিক অনিয়মিত হতে পারে।
মাসিক অনিয়মিত হলে নারীরা দুশ্চিন্তা শুরু করেন। এটি আরও ক্ষতি করে থাকে।
হঠাৎ আপনার মাসিক অনিয়মিত হয়ে পড়লে সেটিকে নিয়মিত করার উপায়ও আছে। চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে আপনি মাসিক নিয়মিত করতে পারে। আসুন উপায়গুলো জেনে নিই।

১, ব্যায়াম
যেসব নারী নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের মাসিকের সমস্যা থাকে না। নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম আছে, সেগুলো করলে অনেক সময় মাসিক হয়ে যায়।

ব্যায়ামের কারণে পেশি বাঁধা পেয়ে থাকে, যার কারণে পেশি সংকোচন শুরু করে, শরীরে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দিয়ে থাকে। ঋতুস্রাব শেষ হওয়ার পর ব্যায়াম করলে পরবর্তী সময়ে সঠিক সময়ে মাসিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২,  টকজাতীয় ফল

টকজাতীয় ফল যেমন- তেঁতুল, মাল্টা, জলপাই মাসিক নিয়মিত করতে সাহায্য করে থাকে। চিনি মেশানো পানিতে তেঁতুল এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এর পর এর সঙ্গে লবণ, চিনি ও জিরা গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এটি দিনে দুবার পান করুন। এটি আপনার অনিয়মিত মাসিককে নিয়মিত করে দেবে।

৩, আদা
মাসিকের চক্রকে নিয়মিত করতে আদা বেশ কার্যকর। ১ কাপ পানিতে ১/২ চা চামচ আদা কুচি দিয়ে ৫-৭ মিনিট সিদ্ধ করে পানিতে মিশিয়ে নিন। খাবার খাওয়ার পর তিনবেলা এটি পান করুন। নিয়মিত এক মাস এটি পান করুন।

৪,  তিল

তিল একটি উপকারী উপাদান। এটি আপনার অনিয়মিত মাসিককে নিয়মিত করতে সাহায্য করবে। তিলের উপাদান হরমোন উৎপাদন করে থাকে। অল্প পরিমাণের তিল ভেজে গুঁড়ো করে নিন। এর সঙ্গে এক চামচ গুড় মিশিয়ে নিন। এটি রোজ খালি পেটে এক চা চামচ করে খান। দেখবেন উপকার পাচ্ছেন।

৫, আপেল সাইডার ভিনেগার

খাবার খাওয়ার আগে ২ টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার পানিতে মিশিয়ে পান করুন। এটি রক্তের ইনসুলিন ও ব্লাড সুগার কমিয়ে দিয়ে থাকে, যা মাসিক নিয়মিত করে থাকে।

৬, স্বাস্থ্যকর জীবন

যেসব নারীর মেনোপজের বয়স হয়ে এসেছে, তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আরও বেশি জরুরি। কারণ মেনোপজের পর পরই অনেক রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে।

মনে রাখবেন একবার মাসিক দেরিতে হলে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তবে পিরিয়ডের দিকে খেয়াল রাখুন। তিন মাস টানা পিরিয়ড না হলে, বছরে ৯ বারের কম পিরিয়ড হলে বা প্রতিবার পিরিয়ড হওয়ার মাঝে ৩৫ দিনের বেশি বিরতি থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

সূত্র 
দৈনিক যুগান্তর স্ব্যাস্হ বিষয়ক লাইফস্টাইল ডেস্ক।

আমি এখানে স্ব্যাস্হ বিষয়ক ২ টি ওয়েবসাইট থেকে  সংকলন করে ৮ টিপস  বা ঘরোয়া চিকিৎসা  সকলের  উপকার্থে সংযোজন করলাম আশা করি এতে সচেতন  মা বোনদের জন্য  উপকার হবে এর পর ও না হলে অভিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হউন।  

সৌজন্যে
 ভূঁইয়া ন্যাচরাল হার্বস 
০১৮২৯৩১৮১১৪ 
ইমু ওয়াতসাফ এ।

সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১

কওমী ‎সনদের ‎স্বীকৃতি ‎ভবিষ্যত ‎পজন্মের ‎জন্য ‎ দেশ গডার শক্তিশালী ‎হাতিয়ার ‎

ক্বওমী সনদের স্বীকৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশ গডার এক শক্তিশালী হাতিয়ার --

হাইয়্যাতুল উলইয়ার পরীক্ষা বর্জন করা বা কওমি সনদের স্বীকৃতি বর্জনের ডাক দেওয়া কেমন যেন বউয়ের সাথে রাগ করে নিজের কামাই করা নিজের ঘরের খাবার  না খাওয়ার নামান্তর। 

পরীক্ষা বর্জন করে কী লাভ হবে আমি ক্লিয়ার না। তাতে সরকারের কিছু যায় আসেনা। নিজেদের পায়ে কুঠারাঘাত করার নামান্তর, এটি আমাদের অধিকার কারো করুণা নয়। 

পরীক্ষা বর্জন, হাইয়্যাকে বর্জন, এগুলো করে মারাত্মক ভুল করছে ছাত্র ভাইয়েরা।এ গুলো অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত। এবং অতি-আবেগের বহিঃপ্রকাশ। 

বর্তমান  মৌদি বিরোধী আন্দোলন  এর সাথে পরীক্ষা বর্জনের কি সম্পর্ক?  বা
হাইয়্যাতুল উলইয়ার সাথে কি সম্পর্ক?  
 হ্যাঁ, পরীক্ষার তারিখ পেছানোর আবেদন করা যেতে পারে সেটা ভিন্ন কথা। কেউ  পরীক্ষা  বর্জন করলে সেটা তার ব্যক্তিগত জীবনের জন্যই ক্ষতি কারো কিছুই  যায় আসেনা।

সনদের স্বীকৃতি যদিও আমাদের বডরা দীর্ঘ  সংগ্রামের পর হাসিনা সরকার থেকে আদায় করে নিয়েছে এটা তো আমাদের  অধিকার এটা কারো করুনা নয়।
 সরকার আসবে যাবে পরিবর্তন  হবে এতে কিছু যায় আসেনা কিন্তু  মূল অধিকার আমাদের আদায় করে নিতে হবে যে কোন সরকার থেকে সে যেইই হউক না কেন? 

হাইয়্যার পরীক্ষা বর্জন আত্মঘা‌তি হ‌বে ।
হাটহাজা‌রি পটিয়া  মাদ্রাসা সহ যেসব  মাদ্রাসার ছাত্ররা পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছে এ‌তে তা‌দের নি‌জে‌দেরই ক্ষ‌তি হ‌বে । তাই এসব চিন্তা প‌রিত‌্যাগ করা উ‌চিৎ । 


আর সনদ বা‌তি‌লের দা‌বিও যৌ‌ক্তিক নয় । 
কারণ এ সনদ শায়খুল হাদীস আ‌জিজুল হক রহঃ শায়খুল ইসলাম আহমদ শ‌ফি রহঃ শায়খ হারুন ইসলামাবাদী রহঃ,  শায়খুল হা‌দিস আব্দুল বা‌সিত বরকতপু‌রি রহঃ সহ আসংখ‌্য অগ‌নিত ওলামা‌য়ে কেরা‌মের ঘাম ঝরা‌নো প‌রিশ্রমের ফসল ।
এটা কওমী ওলামা তালাবা‌দের প্রাপ‌্য অ‌ধিকার । এটা সরকা‌রের দয়া ও দান দ‌ক্ষিণা নয় ।
তাই  এ অ‌ধিকার ফি‌রি‌য়ে দেওয়ার জন‌্য জন সমর্থন আদা‌য়ের চেষ্টা করাও কল‌্যানকর ন‌হে ।

এ সনদের স্বীকৃতির বিলের প্রতিটি লাইন ও বাক্য  ভাল করে পডে দেখুন ছাত্র  ভাইয়েরা,
  সেখানে কি কি লেখা আছে। একটু অনুধাবনের চেষ্টা করুন  আমাদের বডরা খুব বিচক্ষণতার  সাথে সেই  স্বকৃীতি আদায় করে নিয়েছেন। 

আজকে  যদি কোন  কওমী সনদধারী ওসী হাটহাজারী থানায় থাকত তাহলে  কি এ ঘটনা ঘটত?

এ সনদ আমাদের ছাত্রদের ভবিষ্যৎ  উজ্জল  করার ধার উন্মোচন করেছে।
কিন্তু যারা পিছনের টেবিলে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে  মতরখায়ী করতে করতে সময় পার করেছেন তাদের তো কোন ভবিষ্যৎ  নেই  তাদের স্বীকৃতিরও দরকার কি  সনদের ও দরকার কি? 
তারা বর্জন করলেও লাভ কি না করলে ও লাভ কি? কিন্তু যারা মেধাবী  দেশের জন্য কিছু করতে চায় তাদের জন্য  এ স্বীকৃতি  অতি গুরুত্বপূর্ণ। 

সনদের স্বীকৃতি  এ দেশের ক্বওমীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য   কার্যকর  একটি হাতিয়ার ও বটে। কিন্তু  অপরিপক্ক  ছাত্রদের সেটা বুঝে আসার করা নয়। 

এম এম আবদুল্লাহ ভূঁইয়া

কওমী ‎সনদের ‎স্বীকৃতি ‎আমাদের ‎অধিকার ‎করুনা ‎নয় ‎

কওমী সনদে সরকারী স্বীকৃতি আমার অধিকার অনুগ্রহ নয়  
এম এম আবদুল্লাহ ভূঁইয়া 

কওমী সনদের সরকারী স্বীকৃতির আদায়ের জন্য  যুগ যুগ ধরে এদেশের অনেক রাহবর মনিষীগন আন্দোলন সংগ্রাম করে গেছেন তাদের মধ্যে 
আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী রহঃ,আল্লামা হারুন ইসলামাবাদী রহঃ, 
খতিবে আজম ছিদ্দিক সাহেব রহঃ, শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক, চরমোনাই মরহুম পীর সাহেব, মুফতি আমিনী সাহেব অন্যতম।

 তারা    সকলই কওমি সনদের সরকারী স্বীকৃতির জন্য আমরণ আন্দোলন করে গেছেন। কিন্তু  স্বীকৃতি আদায় করতে পারেনি, সর্ব শেষ শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফি রহঃ কওমী   স্বকীয়তা বজায় রেখে কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতি আদায় করেন। এটাকে হেলায়ে হেলিয়ে নস্যাত করা যাবেনা বরং  এটাকে আরও বেগবান করতে হবে।

সম্প্রতি  ২৬ মার্চ ২০২১ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে কওমী সনদের স্বীকৃতি বাতিল অথবা হাইয়্যাতুল উলইয়ার পরীক্ষা বর্জনের মত কর্মসূচি নিচ্ছে  অনেকে  আবেগের বহিঃপ্রকাশ  হিসাবে যা কোন প্রকারে কাম্য নয়। 


    পাকিস্তান বেফাক বোর্ড ও দারুল উলুম দেওবন্দ ও দারুল উলুম নদোয়া সহ স্বকীয়তা বজায় রেখে সনদে সরকারি স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছেন, ভারত সরকার থেকে যার অনুসরণ করছেন বাংলাদেশের কওমি বোর্ড গুলো। 
  এখন যারা সনদের বা সাটিফিকেটে সরকারি স্বীকৃতি বাতেল করতে চান তাদের নিকট প্রশ্ন------------
 (১) পাকিস্তান বেফাক ও দারুলউলুম দেওবন্দ সরকারী স্বীকৃতি নিলেন, অনুরুপ আমরাও নিলে সমস্যা কি? একটু বললেন কি?

 (২) অভিন্ন প্রশ্নে সমস্ত কওমি মাদ্রাসার পরীক্ষা' অনুষ্টিত হওয়া'র বিরোধিতা কোন উদ্দেশ্যে? নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ হওয়ার ভয়?  নাকি অন্য কিছু? 

(৩) সংবিধান অনুযায়ী দেশের নাগরিকত্ব পেতে দেশের প্রচলিত সংবিধান ( যা অনৈসলামিক বা কুফরি) মেনেই  নাগরিক হতে হবে। আপনারা কি এখন নিজেদের নাগরিকত্ব বাতেল করবেন?

(৪) আন্দোলন হরতাল প্রতিবাদ মিটিং মিছিল এসব একজন নাগরিকের গনতান্ত্রিক অধিকার? গনতন্ত্র হারাম বিধায় আপনারা এসব অধিকার বাদ দিবেন কি? 

(৫) আমার জানা মতে দেশের অনেক কওমী মাদ্রাসায়  সরকারী বিশেষ  মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ অনুদান ও পেয়ে থাকেন। ঐসব অনুদান বাদ দিবেন কিনা? 
  এসব প্রশ্নের জবাব যদি না' সূচক হয়, তাহলে কোন মতলবে সনদের স্বীকৃতি বাতেল করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন? 

  সরকারী সাটিফিকেটদারী জামায়াত শিবিরের ভাইয়েরা ও আলিয়া মাদ্রাসা'র বিভিন্ন সংস্হা সংগঠন কওমী সাটিফিকেটে সরকারী স্বীকৃতির বিরোধিতা করে মামলাও করেছে, যাতে কওমী আলেম সমাজ ও ভবিষ্যত প্রজন্ম স্বকীয়তা নিয়ে দাঁড়াতে না পারে। কওমী শত্রুদের কাজটা এখন আপনারা কেন করছেন? 

আমার সাথী ভাই  km Habibullah খুব চমৎকার  লিখেছেন  হুবহু তুলে ধরা হল।

১/ হাইয়াতুল উলিয়া কওমিদের দ্বারা পরিচালিত হয়। সরকার দ্বারা নয়।  
২/ হাইয়ার অধীনে যে সনদ দেয়া হয়েছে সেটা সরকারী সনদ। কোনো দলের নয়। 
৩/ এই সনদ নেয়ার সময় যেসব শর্ত আদায় করা হয়েছে তাতে সরকারী হস্তক্ষেপের বিন্দুমাত্র ফাঁকফোকর রাখা হয়নি। 

৪/ এই সনদের স্বীকৃতি সংবিধানে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে এবং সেখানে কওমিদেরকে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। অনেকেই বলবেন কোনো জাহেল আমাকে আহলে সুন্নাহ স্বীকৃতি দিলেও কী? আর না দিলেও কী? কিন্তু এখানে কথা আছে। কোনো কওমি সনদধারী আলেমকে যদি কেও ধর্মব্যবসায়ী, ধর্মান্ধ, বেদাতী, খারেজি ইত্যাদি বলে তাহলে তিনি সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবিধান অবমাননার মামলা করতে পারবেন। এই সুযোগ রাখা হয়েছে সংবিধানে। যা অন্য ঘরাণার আলেমের জন্য রাখা হয়নি।

 ৫/ কওমি সনদের সরকারী স্বীকৃতির উপকার এবং অনেক সুবিধা আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারী চাকরি পাওয়ার বিষয়টি তেমন বড় ফায়দা বলে আমিও মনে করছি না, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই সনদ বাংলাদেশে ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য অনেক বড় হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত হবে। সেটা ব্যবহার করতে জানা বা না জানার সমস্যার আলোচনা ভিন্ন সময় করা যাবে।

৬/ কওমি আলেমদের জন্য বিদেশে অধ্যায়ন ও চাকরির সুযোগ এই সনদে আছে যা আমরা দ্বীনের খেদমতের নিয়তে করতে পারি।
 
তবে
সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ না রাখা সত্বেও কিছু কওমি আলেম নিজ থেকে জেঁচে গিয়ে সরকারের কাছে ধর্ণা দেয়ার কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে অনেকের কাছে মনে হচ্ছে এটা সনদের দোষ। আসলে দোষ সনদের নয়, বরং আমাদের কিছু অদূরদর্শী ও অপরিণামদর্শী আচরণ এর জন্য দায়ী। 
 
 কওমিরা বার বার বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তাদেরকে অন্য অনেকের মত দমিয়ে রাখা যাবে মনে করলে ভুল হবে। কিন্তু তারা নিজেরাই কেন ইচ্ছে করে দমে যাবে? "রাগ করে আমি খানা খাব না" বলার সময় এখন নাই। এখন সময় হলো "রাগ করে আমি খানা খেয়ে ফেলব" বলার। 

আর
কওমি সনদের ক্ষতির যে একেবারেই আশংকা নাই তাও কিন্তু নয়, তবে সেটা যতটা না অন্যের কারণে হবে তারচেয়ে বেশি আমাদের নিজের কারণে হবে। সেটা আমরা আজ না হয় কাল কাটিয়ে উঠতে পারব ইনশা আল্লাহ।
 
  এখন যা দরকার
 সমস্ত কওমি মাদ্রাসা দ্বীনি ও দুনিয়াবি বিষয়াদিতে একতাবদ্ধ থাকা। শরিয়তের মাসালা, রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচী গ্রহণের ক্ষেত্রে সবাই একই কথার মধ্যে থাকা। দাওয়াত ও সামাজিক কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য সবাই এক পরিবারের মত মিলেমিশে কাজ করা। 
 অনেকেই মনে করেন কওমিদের একতা হবে না। আমি মনে করি কওমিরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং এখনো আছে। সেটা প্রয়োজনের সময় বার বার দেখা গিয়েছে। তবে কিছুটা দুর্বলতা যা আছে সেটা কাটিয়ে উঠার জন্য এখনই কাজ করতে হবে। অভিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম সামান্য কষ্ট করলেই সেই দুর্বলতা কেটে উঠা যাবে ইনশা আল্লাহ।

 যেমনঃ প্রথমে বোর্ডগুলোর দায়িত্বশীলরা বসুন। তারপর বড় বড় মাদ্রাসাগুলোর দায়িত্বশীলরা বসুন। এরপর বোর্ডের অধীনে থাকা মাদ্রাসাগুলোকে একতার কথা জানিয়ে দিন। কাজটা বেশি কঠিন নয়। 
 আপাতত সরকারের সাথে সংঘাতে যাওয়ার দরকার নাই। তবে গায়ে পড়ে কেউ ঝগড়া করতে আসলে তাকে ছেড়ে কথা বলারও দরকার নাই। ঘটে যাওয়া হরতাল ও বিক্ষোভের পরে কওমি ছাত্র ও হেফাজতকর্মীদেরকে হয়রানী না করার জন্য কঠিন হুশিয়ারি দিন। কঠিন হুশিয়ারি দিলে রাস্তায় আর নামতে হবে না। আর হুশিয়ারি না দিলে ওরা সমস্যা করবে। পরিষ্কার বলে দিন সরকারের সাথে ঝগড়া করার কোনো ইচ্ছা আমাদের নাই। তবে আমাদেরকে হয়রানী করলে অবস্থা খারাপ হবে। আপনারাও শান্তিতে থাকুন,আর আমাদেরকেও শান্তিতে থাকতে দিন।

আর  
 সরকারের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য অভিজ্ঞ আলেমদের একটি দল থাকা চাই। যারা সরকারকে সৎ পরামর্শ দেবেন তবে সুবিধা গ্রহণ করবেন না, আবার ভয়ও করবেন না। তারা সরকারী চাকরিজীবী ও সরকারী দলের নেতা-কর্মীদেরকে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে দ্বীনি দাওয়াত ও তালিম দেবেন।

আমরা চাইনা আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে এমন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা থেকে রাহবর ওলামায়ে কেরাম বিরত থাকবেন  ইনশাআল্লাহ।