Translate

সোমবার, ২৮ মার্চ, ২০২২

আলেম মুক্তি যোদ্ধা

মুক্তিযুদ্ধে আলেমদের অবদান!
 গোপন রাখা ইতিহাস! 

 আসুন এবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন প্রসিদ্ধ আলেমের নাম উল্লেখ করছি। নিঃসন্দেহে এর বাহিরে শতশত মুসলিম স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন যারা যুদ্ধ করেছিলেন ততকালীন পাকিস্তানিদের জুলুমের বিরুদ্ধে। তারা সেকুলার রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে যুদ্ধ করে নি। 

৬৬ জন আলেম বীর মুক্তিযোদ্ধার
 তালিকা 👇
১/ মুক্তিযুদ্ধের অগ্রসেনানী মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী (টাঙ্গাইল) 
২/ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মোহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (নোয়াখালী) 
৩/ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা শাহ আহমদুল্লাহ আশ্রাফ (ঢাকা) 
৪/ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ 
৫/ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ বু্দ্ধীজীবি মাওলানা অলিউর রহমান 
৬/ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী (সিলেট) 
৭/ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী (সিলেট) 
৮/ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আব্দুর রহমান (কুমিল্লা) 
৯/ হাতিয়া দ্বীপের সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মুস্তাফির রহমান (হাতিয়া দ্বীপ) 
১০/ মুক্তিযুদ্ধে অকুতোভয় সৈনিক মুহাদ্দিস আব্দুস সোবহান 
১১/ মুক্তিযোদ্ধা মুফতি আব্দুস সালাম (চট্টগ্রাম) 
১২/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আবু ইসহাক 
১৩/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আবুল কালাম 
১৪/ মুক্তিযোদ্ধা মৌলভী আব্দুল মালেক (পটিয়া) 
১৫/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা দলিলুর রহমান (চন্দ্র কোনা) 
১৬/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মতিউর--রাসুল (রানীর হাট) 
১৭/ সাহসী বীর গেরিলা কমান্ডার মাওলানা মৌলভী সৈয়দ (চট্রলা) 
১৮/ মুক্তিযোদ্ধা আল্লামা দানেশ (পটিয়া) 
১৯/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা নোমান আহমদ 
২০/ মুক্তিযোদ্ধা মৌলভী মোঃ মকসুদ আহমদ 
২১/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আব্দুল মতিন মজুমদার (কুমিল্লা) 
২২/ মুক্তিযোদ্ধা মৌলভী নুরুল আফসার (ফেনী) 
২৩/ মুক্তিযোদ্ধা নানু ক্বারী (কুমিল্লা) 
২৪/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা কাজী আব্দুল মতিন (চাঁদপুর) 
২৫/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মতিউর রহমান (নারায়ণগঞ্জ) 
২৬/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মির্জা মোঃ নূরুল হক (নারায়ণগঞ্জ) 
২৭/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আলিফুর রহমান (রংপুর) 
২৮/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ক্বারী আব্দুস সালাম সরকার (রংপুর) 
২৯/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মোহাম্মদ আলী 
৩০/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মাহতাফ উদ্দিন (কুড়িগ্রাম) 
৩১/ সেক্টর কমান্ডার মাওলানা সামসুল হুদা (কুড়িগ্রাম) 
৩২/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আমজাদ হোসেন (কুড়িগ্রাম) 
৩৩/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা কামরুজ্জামান (নরসিংদী) 
৩৪/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা বশির উদ্দিন (টাঙ্গাইল) 
৩৫/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা বজলুর রহমান 
৩৬/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মাহমুদুল হাসান (ময়মনসিংহ) 
৩৭/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ 
৩৮/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা সাইফুল মালেক সাহেব (জামালপুর) 
৩৯/ মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী খাঁন (চরমোনাই মাদ্রাসা) 
৪০/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ইউসুফ 
৪১/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ইসহাক রহঃ (চরমোনাই) 
৪২/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মৌলভী মির্জা আব্দুল হামিদ (বরিশাল) 
৪৩/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মুখলিসুর রহমান (চান্দিনা) 
৪৪/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা লোকমান আহমেদ আমিনী 
৪৫/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মোঃ ফিরোজ আহমদ (নোয়াখালী) 
৪৬/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা উসমান গণি (নোয়াখালী) 
৪৭/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আব্দুল আউয়াল (চাঁদপুর) 
৪৮/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আতাউর রহমান খাঁন (কিশোরগঞ্জ) 
৪৯/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আতাহার আলী রহঃ (কিশোরগঞ্জ) 
৫০/ মুক্তিযোদ্ধা মৌলভী আব্দুস সোবহান (চট্টগ্রাম) 
৫১/ মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবু ইউসুফ (চট্টগ্রাম) 
৫২/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ফজলুল হক (নূর নগরী) 
৫৩/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা খায়রুল ইসলাম (যশোর) 
৫৪/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মহিউদ্দিন (ময়মনসিংহ) 
৫৫/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ক্বারী আব্দুল খালেক সাহেব 
৫৬/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা সামসুদ্দিন কাশেমী (ঢাকা) 
৫৭/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা জহিরুল হক (বি-বাড়ীয়া) 
৫৮/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ইসহাক ওবায়দী (নোয়াখালী) 
৫৯/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মুফতি নূরুল্লাহ রহঃ (বি-বাড়ীয়া) 
৬২/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মিরাজ রহমান (যশোর) 
৬৩/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা শওকত আলী (শরীয়তপুর) 
৬৪/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা এমদাদুল হক আড়াই হাজারী (চট্টগ্রাম) 
৬৫/ মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ (কিশোরগঞ্জ) 
৬৬/ মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানী (মোমেন শাহী)। 
❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️
বিস্তারিত 👇
 বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে আলেম সমাজের ভূমিকা অস্বীকার করার প্রবণতা শুরু হয়েছে বহুদিন। এর ধারাবাহিকতায় '৭১ এ আলেম সমাজের ভূমিকাকে খাঁটো করার প্রবণতাও শুরু হয়েছে। রাজাকারের তকমা দেয়া হচ্ছে তাদের দীর্ঘদিন ধরে। অথচ রাজাকারদের কারো মুখে দাড়ির সামান্য প্রমাণ আজ অবধি খুঁজে পাওয়া যায়নি। যারা এ কুকাজটি করছে তাদের বেশীরভাগ মুক্তিযুদ্ধই করেনি। কেউ কেউ আবার ছিল পাকিদের দোশর। শাহরিয়ার কবির তার জলন্ত উদাহরণ। সে মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত না থাকলেও, এখন ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সে আহবায়ক। তার মানবাধিকার মানে হলো হিন্দু অধিকার। কেননা হিন্দুদের বিষয়েই তাকে সবসময় সরব হতে দেখা যায়। ভারতের মাটিতে মুসলিম নির্যাতনে সে বরাবরই নিরব। 

এরাই এখন বলে বেড়াচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল একটি সেকুলার রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে। শেখ মুজিব কি কখনও একটি বারের জন্য এ কথা উচ্চারণ করেছিলঃ এবারের সংগ্রাম সেকুলার রাস্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম? বলেনি। তাহলে তারা কেন এ মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে? আসলে সেকুলার রাস্ট্র প্রতিষ্ঠার গল্প নাস্তিক ও ইসলামের দুশমনদের বানানো তথ্য। ইসলামকে হ্যায় করার জন্য এটা আমদানি করা। এরা যে কারণে এধরনের মিথ্যা তথ্য দেয়ার প্রয়াস পাচ্ছে তার অন্যতম কারণগুলো হলোঃ
১. আমাদের আলেম সমাজ প্রচার বিমুখ
২. আমাদের নিউ জেনারেশনকে সঠিক ইতিহাস থেকে বঞ্চিত করা
৩. আমাদের নিজেদেরও ইতিহাস চর্চার ব্যাপারে অনাগ্রহ 

ইতিহাসের পাতায় ৬৬ জন আলেম বীর মুক্তিযোদ্ধা

মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ, কিশোরগঞ্জ

জালেমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ,মজলুমের পক্ষে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ মূখর হয়ে উঠা সকল ধর্ম ও শ্রেষ্ঠ মতাদর্শ গুলোর প্রাণ কথা। আর ইসলাম তো এ ব্যাপারে শত ভাগ আপোষহীন। তাই ইসলামের সত্য, সুন্দর এবং মানবতা ও শান্তির ধারক বাহক উলামায়ে-কেরাম সব সময় জালেমের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে আপোষহীন থেকে মানব সমাজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। 

পাকিস্তানিদের দ্বারা পূর্ব পাকিস্তান তথা আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের নিরীহ মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল নির্মম ভাবে। তখন পাক জালিমদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন এই দেশের লড়াকু আমজনতার সঙ্গে তৎকালীন আলেম সমাজও। প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলেন দুর্বার গতিতে। এটা ইতিহাসের অবিসংবাদিত সত্য ও অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। স্বাধীনতার পর ৪৯ বছর পর্যন্ত এই সত্যকে পদদলিত করা হয়েছে। ইতিহাসের পবিত্র দেহকে করা হয়েছে ক্ষতবিক্ষত। আলেম সমাজ সহ সাধারণ জনগণ যারা ধর্মের কারণে দাড়ি, টুপি ব্যবহার করে তাদের গায়েও ঢালাও ভাবে সেঁটে দেয়া হয়েছে রাজাকার,আল-বদর ও আল-সামসের অভিশপ্ত ফলক। তারা প্রজন্ম ৭১-এর পরে জন্ম হলেও!

জনপ্রিয় লেখক সাংবাদিক শাকের হুসাইন শিবলী ইতিহাসের অনির্বায্য সত্যকে স্ব-মহিমায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। উন্মোচিত করেছেন চেপে রাখা এক অধ্যায়ের। এ জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রতিটি শহর,গ্রাম ঘুরে বেড়িয়ে কষ্টিপাথরে যাচাই করে রচনা করেছেন একটি প্রামান্য গ্রন্থ ‘আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে’ উক্ত গ্রন্থ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অংশ গ্রহণ কারী কয়েক জন আলেম মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রকাশ করা হল। যাতে আলেম সমাজ সম্পর্কে সৃষ্ট ভূল ধারনার অবসান ঘটে।

আমাদের আলেম সমাজ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে দেশকে শত্রুমূক্ত করেছিলেন এবং এটা যে সূর্যালোকের ন্যায় স্পষ্ট তার কিঞ্চিত নমুনা পেশ করা হল মাত্র। বিস্তারিত জানতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস গুলো অধ্যায়ন করুন।
❣️🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩❣️
বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদগণের মাগফেরাত কামনা করি, আমিন। 

[তথ্য সূত্রঃ-স্মৃতির পাতায় হাফেজ্জী]

বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ, ২০২২

নূরুলগনি ইসলামি একাডেমীর পরিচালকের বাণী ২০২২

অদ্য ২৪ শে মার্চ বৃহস্পতিবার ২০২২ 
নূরুলগনি ইসলামি একাডেমী কাটাছরা মিরসরাই’র চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে একাডেমি প্রাঙ্গনে 
মাষ্টার রফিকুল ইসলাম বি এ বি এড সাহেবের সভাপতিত্বে ৪র্থ বার্ষিক মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত  মাহফিলে  এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ সর্বস্তরের ধর্মপ্রান মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত  উপস্থিতি চোখে পডার মত।


উক্ত মাহফিলে একাডেমির  সন্মানিত প্রতিষ্ঠা ও পরিচালক মাওলানা  আবদুল্লাহ ভূঁইয়া  বিশেষ কারণে উপস্থিত  হতে না পারার কারণে  তিনি সন্মানিত  এলাকা বাসী শুভাকাঙ্ক্ষী ও মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে  লিখিত  বক্তব্য  প্রেরণ করেছেন। 

একাডেমির উন্নয়ন কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক জনাব আবুল কালাম আজাদ সাহেব  মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে পাঠ করে শুনান।


তাঁর  প্রেরীত বানিটি হুবহু তুলে ধরা হল।


আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ

সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য যার অশেষ মেহেরবানী আর দয়ায় নূরুলগনি ইসলামি একাডেমী ৪র্থ বর্ষ পূর্ণ করে ৫ম বর্ষে পদার্পন করেছে এ জন্য শাহেনশাহে রাজাধীরাজ মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে  শোকর গুজার করছি ’ আলহামদুলিল্লাহ’ ।

এবং লাখো কোটি দরুদ ও ছালাম প্রেরণ করছি তাজেদার মদীনা, রাহমাতু্ল্লীল আলামিন, খাতামুন নাবিয়্যীন ওয়াল মুরছালীন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ  
সাঃ এর উপর এবং তার প্রিয় ছাহাবী ও বংশধর সহ সকল মুত্তাকীনদের উপর ।

সন্মানীত এলাকাবাসী,
আজকের এ মুহর্তে   শত চেষ্টার পরও আপনাদের মাঝে উপস্হিত  হতে না পেরে আন্তরীক ভাবে দুঃখিত।আমার অনূপুস্হিতে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সর্বস্তরের মুরুব্বিয়ানে কেরাম ও যুব সমাজ যারা এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের উন্নতি কল্পে এগিয়ে আসছেন   তাদের কে জানাই আন্তরিক মেবারকবাদ।

বিশেষত এ করোনা পরিস্হিতে মাহফিল পরিচালনার ক্ষেত্রে যে আন্তরিক সহযোগিতা সহমর্মিতা দিয়ে সহায়তা করেছেন তাদের সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

কারণ রসুল সাঃ বলেছেন যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনা সে আল্লাহর  শুকরিয়া ও আদায় করেনা।তাই আমি পুনরায় মক্কার পবিত্র ভূমি থেকে আপনাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।দোয়া করি আল্লাহ যেন সকলের শ্রমকে কবুল ও মন্জুর করে দ্বীনের এক নিষ্ঠ খাদেম হিসাবে  সবাইকে কবুল করে নেন  আমিন। 

পেয়ারে হাজেরীন,
অত্র প্রতিষ্ঠান 
জাতীয় সম্পদ,সমাজের সম্পদ,এবং আপনাদেরই সম্পদ,আপনাদেরই প্রতিষ্ঠান তাই সে হিসাবে এর রক্ষনা-বেক্ষন, সূনাম- দূর্ণাম,উন্নতি-অবনতি সব কিছুই আল্লাহর ইচ্ছা ও আপনাদের উপর নির্ভর তাই অদূর ভবিষ্যতেও আপনাদের সকলের দোয়া পরামর্শ ও সহযোগিতা এ প্রতিষ্ঠানের সাথেই থাকবে এটাই আমার প্রত্যাশা।

সন্মানীত উপস্হিতী,
বর্তমান  বাংলাদেশ সহ বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, এক শ্রেনীর  মানুষ  মুসলিম পরিবারে  জন্ম গ্রহণ  করা সত্বেও 
পারিবারিক ভাবে  ধর্মীয় ও নৈতিক  শিক্ষার অভাবের কারণে সামাজিক বিভিন্ন  অপকর্ম সহ নাস্তিক্যবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে  আল্লাহ কে অস্বীকার  করছে    স্রস্টা কে অস্বীকার করছে। অনুসন্ধানে   এটার বিভিন্ন  কারণের মধ্যে  একটি কারণ  হল পারিবারিক ভাবে  ধর্মীয় শিক্ষার অভাব। 

তাই আমরা  এ নূরানী শিক্ষার মাধ্যমে  ধর্মীয় শিক্ষার প্রাথমিক অভাবটা পুরন করার চেষ্টা করছি মাত্র । কারণ 
আমাদের নূরানী সিষ্টেমের প্রতিষ্ঠান গুলোর মূল উদ্যেশ্য হল কৌমলমতি শিশুদের অন্তরে ইসলামের মূল শিক্ষা তথা কোরআনের শিক্ষা আর ঈমানের নূরটা ঢেলে দেয়া।
কারণ শিশুকালের যে কোন শিক্ষা শিশুদের অন্তরে পাথরে খোদাইকরা নকশার মত অংকৃত হয়ে থাকে।যার ফলশ্রুতিতে এ শিশু বড হয়েও বিজাতীয় অপসংস্কৃতি ঈমান ও ইসলাম বিরোধী যে কোন কার্যকলাপে লিপ্ত হতে তার অন্তরে থাকা 
কোরআন হাদিসের এই নূর বা আলো তাকে বাধা প্রদান করবে। এবং 
নাস্তিক্যবাদে আকৃষ্ট হতে বাধা দিবে
ফলে সে ঈমানহারা হওয়ার থেকে রক্ষা পাবে ইনশাআল্লাহ । 

এই জন্যই আমাদের মূল টার্গেট হল ৩ বছরে পূর্ণাঙ্গ কোরআন শরীফ ছহিহ শুদ্ধ ভাবে পডার সাথে সাথে প্রাথমিক ভাবে অজু গোসল ও নামাজের মাছয়ালা মাছায়েল সহ জরুরীয়াতে দ্বীন গুলো শিক্ষা দান করা।
যার ফলশ্রুতিতেই 
এ শিশু পরবর্তিতে উচ্ছতর কোন শিক্ষা অর্জনে ব্যর্থ হলেও কিন্তু নামাজ রোজা কোরআন তেলাওয়াত ছহীহ শুদ্ধ ভাবে আদায়ে সক্ষম হবে। এবং ঈমান  আমল নিয়ে  বেচে থাকতে পারবে।
যা একজন মুসলিম হিসাবে অত্যন্ত জরুরী।
এবং এর সাথে বাংলা অংক ইংরেজী ও ভূগোল ইত্যাদি পাঠ দানের মাধ্যমে একটা শিশুকে যে কোন প্রতিষ্ঠানে ৪র্থ শ্রেনীতে ভর্তি হওয়ার মত যোগ্যতা সম্পন্ন করে গডে তোলা হয়ে থাকে। 


কিন্তু আপনার শিশুকে প্রাথমিক ভাবে কোরআনের শিক্ষা দেয়া আপনার আমার সকলের ঈমানী দায়িত্ব এবং সন্তানের অধিকার। 
কিন্তু এ দায়িত্ব ও অধিকার নিয়ে আমরা কে  কতটুকু সচেতন বা পালন করছি  সেটা কিন্তু আমাদের সকল কে কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহর দরবারে জবাবদেহী করতে হবে।এ জন্য আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। 


হে সন্মানীত অতিথিবৃন্দ ,
আপনাদের আগমন ও পদচারনায় অত্র একাডেমী ও এলাকাবাসী আজ ধন্য ।আমরা জানি আপনারা অত্যন্ত ব্যস্ততা সত্বেও আমাদের মাঝে উপস্হিত হয়েছেন বলে আমরা এলাকাবাসী ও একাডেমী কর্তৃপক্ষ কৃতজ্ঞ।

অত্র প্রতিষ্ঠান চায় আপনাদের মত যোগ্য খোদাভিরু দানবীর শিক্ষাবিধ ও সমাজসেবকদের অকৃত্রিম ভালবাসা ও পৃষ্ঠপোষকতা ।আমরা দোয়া করি যেন আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের শ্রমকে কবুল করে দ্বীনের একনিষ্ঠ 
খাদেম হিসাবে কবুল করে নেন আমিন। 

পেয়ারে হাজেরীন, 
আপনারা সকলেই   একাডেমির উন্নয়নের অংশীধার তাই 
এখন আপনাদের সামনে  ১ লা জানুয়ারী ২০২১ হ'তে ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত   পুরো এক বছরের  সংক্ষিপ্ত হিসাব  সফলতার কারগুজারী ও  চলতি সনের বাজেট  ঘোষনা করছি।


জমা -- খরচ ২০২১
============ 
জমাঃ★★
ছাত্র ছাত্রী ভর্তির ফিস আদায়-১৯,৮০০
ছাত্র ছাত্রী দের বেতন  আদায়- ১,০৫,৭০০
এককালীন চাঁদা/ উন্নয়ন -  ৮২,০২৫
৩য় বার্ষিক মাহফিলের আয় -১,৩৬,৪১৮ 
মাদরাসা বাডি /ষ্টোর আয় - ৫০০০
জাকাত বাবত  ৪০,৩২৫ 
========= 
সর্বমোট  জমা= ৩,৮৯,২৬৮ টাকা  


খরচঃ ★★
শিক্ষক বেতন/ভাতা -২,৬৩,৫৮৬
নির্মাণ /উন্নয়ন -১৬,৯৬০
অফিসিয়াল -৮,৪২০
৩ য় বার্ষিক মাহফিলের খরচ-৮৬,৭৭৬
মেহমানী-/রমজানের ইফতারী বিতরণ =২,৯৬৫ 
বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য -৪,৩২৬
গরীব ছাত্র ছাত্রীদের সহায়তা-৬,০৬০ 
======== ===========
সর্বমোট খরচ= ৩,৮৯,০৯৩ টাকা     


সর্বমোট  জমা= ৩,৮৯,২৬৮ টাকা 
সর্বমোট  খরচ = ৩,৮৯,০৯৩ টাকা  
=================
 ক্যাশ ১৭৫ টাকা। 

★★
একাডেমির  বর্তমান  কর্জ 

২০১৮ সনের কর্জ =  ১,০৫,৬৫৪
২০২০ সনের কর্জ= ৪,৩৩৬
গত বছরের শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ  ৩১ শে ডিসেম্বর  ২০২১ পর্যন্ত  শিক্ষকদের বেতন ভাতা বকেয়া প্রায়  = ৭১,৪৮৬
============ 
সর্বমোট  কর্জ  ১,৮১,৪৭৬  টাকা।  



২০২২ সনের বাজেট 
================ 
এ বছর  আমাদের এখানে নার্সারি থেকে ৩ য় শ্রেণী পর্যন্ত মোট ৪ ক্লাসে 
প্রায়  ৮৫ জন ছাত্র ছাত্রী অধ্যয়ন রত আছে ও নূরানী বোর্ড কর্তৃক ট্রেনিং প্রাপ্ত  অভিজ্ঞতা  সম্পন্ন  ৪ জন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত করা হচ্ছে। সে হিসাবে  একাডেমির বার্ষিক খরচ দিন দিন   বেড়েই চলেছে তাই আপনাদের সকলের আন্তরিক দোয়া ভালবাসা  ও সহযোগিতা কামনা করছি। 

চলতি বছর আনুমানিক  বাজেট। 

শিক্ষক বেতন/ভাতা = ৩,১৮,০০০
ফ্লোর পাকা করণ=১,২৫,০০০
দমদমা স্হাপন = ২৫,০০০ 
পূর্ব পাশে অফিস কক্ষ তৈরী =২৫,০০০
অফিসিয়াল আসবাব পত্র  = ৪০,০০০
কুতুবখানার  কিতাব খরিদ ২০,০০০ 
বিদ্যুত ও অন্যান্য ১৫,০০০
===========================
সর্বমোট ===== ৫,৬৮,০০০ টাকা 

উক্ত বাজেট পুরনে আপনাদের  সকলের  সহযোগিতা  ও দোয়া কামনা করছি। 

★★সফলতার কারগুজারী★★

সন্মানীত উপস্হিতী,
এখন আপনাদের সামনে প্রতিষ্ঠানের সফলতার কারগুজারী তুলে ধরছি।আমাদের ২টি ফান্ড আছে চাঁদা ও ছদকা ফান্ড,। 
চাঁদা ফান্ড থেকে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় খরচ বহন করা হয়ে থাকে এবং ছদকা ফান্ড থেকে দুস্ত ও গরীব ছাত্র ছাত্রীদের কে বিভিন্ন ধরনের সাহার্য্য সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। 
সে হিসাবে   গত বছর  ২০২১ সনে  মোট ছাত্র ছাত্রী সংখ্যা ছিল প্রায়  ৭৫ জন,  তন্মধ্যে  ২ জন ছাত্র  কে সম্পূর্ণ ভাবে  ফ্রী  এবং  ৫ জন কে আংশিক  ফ্রী  বাবত সহায়তা করা হয়েছে।

২০২১ সনে  অত্র একাডেমীর সর্ব প্রথম  কেন্দ্রীয় সনদ পরীক্ষায় ৩য় শ্রেণী হতে  ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেছিল তন্মধ্যে   শত ভাগ পাশ  করতে সক্ষম হয়েছে । আজকে  সকল ছাত্র ছাত্রী দের মাঝে আনুষ্ঠানিক ভাবে  সনদ পত্র বিতরণ  করা হয়েছে।  এবং  ১ ম ২ য় ও ৩য় স্হান অধিকারকারীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। এর সাথে
বর্তমান  রানিং ছাত্র ছাত্রী যারা ১ ম ২য় ও ৩ য় শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হয়ে ১ম ২য় ও ৩য় স্হান অধিকারী মোট ৯ জন ছাত্র ছাত্রী কে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
এবং ক্লাসে সর্বোচ্চ  উপস্থিতির জন্য  ৩  ক্লাস থেকে ৩ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। এ বছর সর্বমোট  ১৫ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। 

চলতি বছর ও  এখন পর্যন্ত ৩ জন ছাত্র কে সম্পূর্ণ ফ্রীতে অধ্যয়নের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। 

চলতি বছর  ৪  জন শিক্ষকের বেতন ভাতা  ইত্যাদি সহ অন্যান্য  আনুষাঙ্গিক খরচাদী বাবত
প্রায়  ৬  লাখ টাকার মত খরচ  হবে  কিন্তু এর জন্য  নির্ধারিত কোন ফান্ড নেই  এক মাত্র  আল্লাহর  মেহেরবানী  দয়ার উপর নির্ভর। 
এ জন্য বিশেষত  সকল এলাকাবাসী সন্মানীত অতিথিবৃন্দ শুভাকাঙ্খি শুভানুধ্যায়ীদের কাছে দোয়া  পরামর্শ ও সহযোগিতা  কামনা করছি।

পরিশেষে যারা অত্র একাডেমীর অগ্রযাত্রায়  মেধা, শ্রম, অর্থ ও বুদ্ধিপরামর্শ ও দোয়া দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলের নেক হায়াত ও উজ্জল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।
                                    ইতি 
দোয়ার মোহতাজ 
এম এম আবদুল্লাহ ভূঁইয়া 
            খাদেম নূরুলগনি ইসলামি একাডেমী কাটাছরা জোরারগঞ্জ মিরসরাই চট্টগ্রাম ।
             ২৪/৩/২০২২ 


আমন্ত্রিত ওলামায়ে কেরাম
সন্মানিত  অতিথি বৃন্দ  যে বিষয় ভিত্তিক  তাদের আলোচনা  পেশ করছেন

১,, মাওলানা  শোয়াইব  ছাহেব 
 মুফতি ও মুহাদ্দিস   আল-জামেয়াতুল ইসলামিয়া আজিজিয়া কাসিমুল উলুম  ছাগলনাইয়া  ফেনী।

বিষয় বস্তু ঃ
 রমজানের  গুরুত্ব ও ফাজায়েল বিষয়ক।


২,, মাওলানা  আশরাফুর রহমান ছাহেব। 
মুফতি ও মুহাদ্দিস 
জামেয়াতুল মানহাল্  কওমীয়া   ঢাকা।

বিষয় বস্তু ঃ   সুন্নতের  গুরুত্ব  ও   শীর্ক ও কুসংস্কার এর কুফল  

৩,, মাওলানা  কারী ইব্রাহিম সাহেব 
খতিব  মিঠাছরা বাজার জামে মসজিদ  ও সিনিয়র  শিক্ষক দারুল-উলূম মাদরাসা  ওয়ার্লেস মিরসরাই।

বিষয় বস্তু ঃ   ধর্মীয়  শিক্ষা  তথা  নূরানী  শিক্ষার গুরুত্ব, ও দান ছদকার গুরুত্ব। 

৪,, বিদ্রোহী ইসলামী সংগীত শিল্পী
 আছহাব উদ্দিন আল আজাদ লেকচারার কোরআন ও বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র চট্টগ্রাম।

বিষয় বস্তু ঃ  কোরআন ও বিজ্ঞান, তথা  বিজ্ঞান গবেষণায়  মুসলিমদের অবদান। 
  
পরিশেষে  
মাওলানা মুফতি  শোয়াইব সাহেবের আখেরী মুনাজাত ও সভাপতি সাহেবের  সমাপনি বক্তব্যে  মাধ্যমে  মাহফিলের সমাপ্তি হয়।


বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা উত্থান জনিত সমস্যার সমাধান

ম্যাজিক বটিকা   
কার্যকরীতাঃ

ইরেকটাইল ডিসফাংশন তথা 
উত্থানজনিত সমস্যা, টেস্টোস্টেরণ  হরমোন বাডাতে সাহায্য করবে,ও বিশেষ অঙ্গের  রক্ত সঞ্চালন বাডাতে  কার্যকর।
  
সেবনবিধিঃ 

দৈনিক  সকাল বিকাল 
ভরা পেটে  ৩-৪ টি  বটিকা চিবিয়ে সেব্য কমাজকম লাগাতার ৬০  দিন। 
এমন কি সহবাসের ১০ মিনিট আগেও সেবন করতে পারেন।
তবে যাদের সমস্যা জটিল তাদের জন্য  চিকিৎসক এর পরামর্শে সাথে অন্য খাদ্য পথ্য ও দেয়া যেতে পারে। 

১০০% প্রাকৃতিক  
১২০ বটিকা ৪০০ টাকা মাত্র  ১৫ দিন যাবে। কমাজকম ৬০ দিন সেবন করতে হবে। 

সৌজন্যে 
ভূঁইয়া ন্যাচরাল হার্বস 
০১৮২৯৩১৮১১৪ 


১০০% প্রাকৃতিক ফুড সাপ্লিমেন্ট হিসাবে বিবেচিত। 

 ম্যাজিক বটিকা 

ইরেকটাইল ডিসফাংশন কী?

**যৌন মিলনের পূর্বশর্ত হলো, পুরুষের লিঙ্গের উত্থান ঘটবে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, মিলনের পূর্বে পুরুষের লিঙ্গের পর্যাপ্ত উত্থান ঘটছে না। কিংবা কারো কারো আবার উত্থান ঘটলেও, তা বেশিক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। এর ফলে পরিপূর্ণ যৌন মিলনও সম্ভব হচ্ছে না। একজন পুরুষের লিঙ্গের এরুপ উত্থানজনিত সমস্যাকেই বলা হয়ে থাকে ইরেকটাইল ডিসফাংশন।

তবে মাঝে মাঝে কোনো পুরুষের লিঙ্গের উত্থানে সমস্যা হলেই এমনটা বলা যাবে না যে তিনি ইরেকটাইল ডিসফাংশনের শিকার। এগুলো নিছকই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু বিষয়টি কপালে ভাঁজের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখনই, যখন একজন পুরুষ ক্রমাগত এই সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকেন। এর ফলে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, অবসাদ তাদেরকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে, তারা আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগতে থাকেন, এবং তাদের দাম্পত্য সম্পর্কও ঝুঁকির মুখে পড়ে। লিঙ্গের উত্থানে ব্যর্থতা কিংবা তা ধরে রাখতে না পারার পেছনে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও ভূমিকা রাখ রাখতে পারে।

★★★ইরেকটাইল ডিসফাংশনের লক্ষণ
একজন ব্যক্তি যে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের শিকার, তা বলা যাবে যদি তিনি নিয়মিত নিম্নোক্ত সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হন:

লিঙ্গের উত্থান ঘটাতে না পারা;
লিঙ্গের উত্থান ধরে রাখতে না পারা;
যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস পাওয়া কিংবা কখনোই আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত না হওয়া।

দেখা দিতে পারে কিছু বিরল লক্ষণও;
এছাড়া আরো কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে:

দ্রুত বীর্যপাত হওয়া;
বিলম্বে বীর্যপাত হওয়া;
টেস্টোস্টেরন বা পুরুষের যৌন হরমোনের মাত্রা কম হওয়া;
অ্যানোর্গাজমিয়া দেখা দেয়া, অর্থাৎ পর্যাপ্ত উত্তেজনা সত্ত্বেও অর্গাজম লাভে ব্যর্থ হওয়া।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে
ইরেকটাইল ডিসফাংশন হয়েছে, এমন মনে করলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এবং সেক্ষেত্রে অবশ্যই যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে। তবে যেহেতু অনেকেই লজ্জার কারণে চিকিৎসকের কাছে যেতে সংকোচ বোধ করেন, তাই তারা প্রথমে ব্যক্তিগতভাবে নিজের মধ্যে নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পারেন:

আপনি কি লিঙ্গের উত্থান বা স্থিতাবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট নন?
আপনার কি দ্রুত বা বিলম্বে বীর্যপাত ঘটছে?
আপনার কি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা আছে?
যদি এই তিনটি প্রশ্নেরই, কিংবা যেকোনো দুটি বা একটির উত্তর 'হ্যাঁ' হয়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। তবে ভালো হয় প্রথমে পারিবারিক চিকিৎসক বা যে চিকিৎসকের কাছে নিঃসংকোচে সব সমস্যা শেয়ার করা যায়, তার পরামর্শ গ্রহণ করা।
★★★ইরেকটাইল ডিসফাংশন কেন হয়?

পুরুষের লিঙ্গের উত্থান মূলত যৌনোদ্দীপনার সাথে সম্পর্কিত। আর পুরুষের যৌনোদ্দীপনা খুবই জটিল একটি প্রক্রিয়া, যেটির সাথে সরাসরি সংযোগ রয়েছে তাদের মস্তিষ্ক, হরমোন, আবেগ, স্নায়ু, পেশি ও রক্তসংবহনতন্ত্রের। ইরেকটাইল ডিসফাংশন এগুলোর যেকোনো একটির সমস্যা বা অস্বাভাবিকতার কারণে হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া চাপ, বিষণ্ণতা বা অন্যান্য মানসিক সমস্যার ফলেও ইরেকটাইল ডিসফাংশন হতে পারে, বা আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।

কখনো কখনো ইরেকটাইল ডিসফাংশনের পেছনে শারীরিক ও মানসিক দু'ধরনের কারণই প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন ধরুন, কোনো একটি ছোটখাট শারীরিক সমস্যার কারণে হয়তো সাময়িকভাবে আপনার যৌন উদ্দীপনার মাত্রা কমে গেল। কিন্তু এ নিয়ে আপনি এত বেশি চিন্তিত হয়ে পড়লেন যে, সে কারণে পরবর্তীতে আপনার লিঙ্গের উত্থান ঘটা বা ধরে রাখা আরো বেশি কঠিন হয়ে পড়ল। এভাবেই শারীরিক সমস্যার সাথে মানসিক সমস্যা যোগ হয়ে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের মাত্রা বহু গুণে বাড়িয়ে দিল।

ইরেকটাইল ডিসফাংশনের শারীরিক কারণ
বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে ইরেকটাইল ডিসফাংশন দেখা দিতে পারে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

হৃদরোগ;
রক্তনালী সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া, 
উচ্চ কোলেস্টেরল;
উচ্চ রক্তচাপ;
ডায়াবেটিস;
ওবেসিটি;
 , কোমরের কাছে অতিরিক্ত চর্বি ও উচ্চ কোলেস্টরল জন্মানো;
প্রোস্টেট ক্যান্সার;
স্লিপ ডিজঅর্ডার বা ঘুমের সমস্যা;
শ্রোণী এলাকা বা মেরুদণ্ডে জখম।

ইরেকটাইল ডিসফাংশনের মনস্তাত্ত্বিক কারণঃ

লিঙ্গের উত্থানের পেছনে মস্তিষ্ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মস্তিষ্কের থেকে পাওয়া সংকেতের মাধ্যমেই একজন পুরুষ তার দেহে যৌন উদ্দীপনা অনুভব করতে থাকেন, তার মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন আসতে থাকে, এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে তার লিঙ্গের উত্থান ঘটে। কিন্তু মস্তিষ্ক যদি স্বাভাবিক না থাকে, তার প্রভাব পড়ে লিঙ্গের উত্থানে, ফলে সৃষ্টি হয় ইরেকটাইল ডিসফাংশন। মস্তিষ্ক স্বাভাবিক না থাকার কারণসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

অবসাদ, দুশ্চিন্তা ও অন্যান্য মানসিক সমস্যা;
মানসিক চাপ;
অন্যমনস্কতা;
সম্পর্কের অবনতি বা অধারাবাহিকতার কারণে উদ্ভূত চাপ;
আত্মবিশ্বাসহীনতা;
ভীতি।

রিস্ক ফ্যাক্টরঃ

একজন পুরুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে যৌন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। ফলে একজন মধ্যবয়সী বা প্রৌঢ় পুরুষের তরুণ বয়সের মতো সহজেই লিঙ্গের উত্থান ঘটে না, আর লিঙ্গ খুব বেশি শক্তও থাকে না। তখন বারবার স্পর্শ করে লিঙ্গ উত্থিত ও শক্ত রাখতে হয়।

তবে আজকাল বয়স বিশ বা ত্রিশের কোঠায় আসা মাত্রও অনেকে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের শিকার হচ্ছেন। এর পেছনে পেছনে বেশ কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর কাজ করতে পারে, যেমন:

 বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ;
তামাক ব্যবহার, যেটি রক্তনালী বা ধমনীতে রক্তপ্রবাহ আটকে দেয়, ফলে সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক জটিলতা দেখা যায়, যা ইরেকটাইল ডিসফাংশনের জন্ম দিতে পারে;
অতিরিক্ত শারীরিক ওজন থাকলে, বিশেষত ওবেসিটি বা অতিস্থূলতার শিকার হলে;
কোনো চোট বা জখম, বিশেষত তা যদি স্নায়ু বা উত্থান নিয়ন্ত্রণকারী ধমনীকে আক্রান্ত করে;
কিছু বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করলে, যেমন অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টিহিস্টামিন কিংবা উচ্চ রক্তচাপ, ব্যথা বা প্রোস্টেটে সমস্যার ওষুধ;
বিভিন্ন মানসিক অবস্থা, যেমন- দুশ্চিন্তা, চাপ, অন্যমনস্কতা বা অবসাদ;
মাদকের নেশা, বিশেষত কেউ যদি দীর্ঘদিন ধরে নেশা করে আসে বা মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ করে।
উদ্ভূত জটিলতা
ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ফলে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন:

অসন্তুষ্ট যৌন জীবন;
সঙ্গীর সাথে সম্পর্কে অবনতি;
মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি;
নিজের উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা;
সঙ্গীকে গর্ভবতী করতে না পারা।

বাঁচার উপায়ঃ-
একবার যদি কোনো ব্যক্তি ইরেকটাইল ডিসফাংশনের শিকার হয়েই যান, সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে ওষুধ সেবন করতে হবে,  কিংবা নিছকই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হবে। আর যারা এখনো ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সম্মুখীন হননি, তাদের উচিত হবে সুস্থতা ধরে রাখার জন্য নিম্নোক্ত কাজগুলো যথাযথভাবে পালন করা:

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা;
শারীরিক সমস্যার অতীত ইতিহাস থাকলে, কিংবা না থাকলেও, প্রতিবছর অন্তত একবার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চেক-আপ ও মেডিকেল স্ক্রিনিং টেস্ট করিয়ে আসা;
ধূমপান পুরোপুরি বর্জন করা, অ্যালকোহল গ্রহণের মাত্রা সীমিত করা কিংবা নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা, অবৈধ নেশাদ্রব্য ব্যবহার না করা;
নিয়মিত শরীরচর্চা করা;
অনিয়মিত খাদ্যগ্রহণের বদলে সুষম ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণ করা;
রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো ও কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিশ্রাম নেয়া;
মানসিক চাপ, অবসাদ, দুশ্চিন্তা বা অন্যান্য সমস্যাকে অবহেলা না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

ডা: শ্রী মোহন কুমার
( ডি. এইচ. এম.  এস) বি. এইচ. বি, ঢাকা


শনিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

Korean red Jensen কোরিয়ান রেড জিংসিং কোথায় পাবেন



জিংসিং এর অসাধারণ  স্বাস্থ্য উপকারিতা---

জিংসিং সম্পর্কে সাধারণের একটা ধারণা হল এটা শুধু  যৌন সমস্যার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে আসলে কিন্তু  তা নয় বরং  জিংসিং এর বহুবিধ  ব্যবহার রয়েছে তন্মধ্যে  যৌন সমস্যার সমাধান অন্যতম  
সে হিসাবে  কয়েকটি  উপকারীতা  সম্পর্কে  আলোকপাত করা হল।

সাধারণত  জিংসিং  প্রাপ্ত বয়স্ক  মহিলা পুরুষ উভয়ে ব্যবহার করতে পারেন। 


১। এটি শারিরিক শক্তি বাড়ায় এবং দুশ্চিন্তা ও হতাশা দূর করে।
২।মানসিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৩।পুরুষের যৌন সমস্যার একমাত্র সমাধান। তবে এটি ওয়ানটাইম কোন ঔষধ হিসাবে  নয় বরং  স্হায়ী  ভাবে উপকৃত করে। বিশেষত  উত্থান জনিত সমস্যা, টাইমিং সমস্যার স্হায়ী ভাবে করতে কার্যকর। 
৪।মনযোগ, স্মৃতিশক্তি, কথা শোনার সাথে সাথে বুঝতে পারার ক্ষমতা,শেখার ক্ষমতা,কল্পনাশক্তি, বিচারবুদ্ধি, চিন্তা শক্তি ও সমস্যা সমাধান করে কোন একটা সিদ্ধান্তে পৌছানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

৬।কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমাতে সহায়তা করে।
৭।শক্তি বর্ধক হিসেবে জিনসেং দারুন কার্যকরী। চলাফেরা করতে পারে না এরকম বয়স্ক পিতা ও মাতার   শারীরিক শক্তির জন্য ।
৮।অনিদ্রা জনিত কারনে শারীরিক ও মানসিক সৃষ্ট রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৯।ব্রেনের সক্রিয়তা  বজায় রাখে ও ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।
১০।অস্থিরতা দূর করে মনকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে।
১১।চেহারায় বয়সের ছাপ পড়া থেকে রক্ষা করে।
১২, মেয়েলী হরমোন বৃদ্ধি করে । 
১৩, সকল প্রাপ্ত বয়স্ক  মহিলা পুরুষ উভয়ের জন্য  উপকারী। 


এবার আসুন  আরও বিস্তারিত 

জিনসেং এর উপকারিতা কী ? *

জিনসেং ও লিংগোত্থানে অক্ষমতাঃ

 জিনসেং এর গুনাবলীর মধ্যে সবচেয়ে বেশী যা প্রমানিত তা হলো, পুরুষের লিংগোত্থানে অক্ষমতা রোধে এর ভূমিকা। University of Ulsan এবং the Korea Ginseng and Tobacco Research Institute ৪৫ জন ইরেকটাইল ডিসফাংশন (লিংগোত্থানে অক্ষম ব্যাক্তি) এর রোগীর উপর একটি পরীক্ষা চালান। তাদের কে ৮ সপ্তাহের জন্য দিনে ৩বার করে ৯০০ মিগ্রা জিনসেং খেতে দেয়া হয়, এরপর দুই সপ্তাহ বিরতি দিয়ে আবার ৮ সপ্তাহ খেতে দেয়া হয়। তাদের মধ্যে ৮০% জানান যে, জিনসেং গ্রহনের সময় তাদের লিংগোত্থান সহজ হয়েছে। ২০০৭ সনে Asian Journal of Andrology এ ৬০ জন ব্যাক্তির উপর করা এবং Journal of Impotent Research এ ৯০ জন ব্যাক্তির উপর করা অনুরুপ আরো দুটি গবেষনা প্রকাশিত হয়। ২০০২ সালের একটি গবেষনায় বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন যে, জিনসেং কিভাবে লিংগোত্থানে সহায়তা করে। পুরুষের যৌনাংগে corpus cavernosum নামে বিষেশ ধরণের টিস্যু থাকে। নাইট্রিক অক্সাইডের উপস্থিতিতে এই টিস্যু রক্তে পরিপূর্ণ হয়ে লিংগোত্থান ঘটায়। জিনসেং সরাসরি দেহে নাইট্রিক অক্সাইডের পরিমান বাড়িয়ে লিংগোত্থানে সহায়তা করে।

★★★তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম যে গবেষণার ফলাফল  লাগাতার ৮ সাপ্তাহ বা ২ মাস সেবন করার পর  ১৫ দিন বিরতি দিয়ে  আবার পুনরায়  ২ মাস লাগাতার সেবন করতে হবে। ★★

জিনসেং ও দ্রুত বীর্যস্খলনঃ
যদিও কাচা জিনসেং এর মূল এই রোগে কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানা যায় না তবে জিনসেং এর তৈরী একটি ক্রীম (ss cream) পুরুষদের দ্রুত বীর্যস্খলন রোধে বিশ্বব্যাপী ব্যবহার হয়ে আসছে যা মিলনের একঘন্টা আগে লিঙ্গে লাগিয়ে রেখে মিলনের আগে ধুয়ে ফেলতে হয়। Journal of Urology তে ২০০০ সনে প্রকাশিত একটি গবেষনা অনুযায়ী এটি বীর্যস্খলনের সময় কাল কার্যকরী ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ভাবে বাড়ায়। আসলে, জিনসেং শব্দটাই এসছে চাইনিজ শব্দ “রেনসেং” থেকে। “রেন” অর্থ পুরুষ ও “সেন” অর্থ “পা”, যৌনতা বৃদ্ধিতে এর অনন্য অবদান এর জন্যই এর এইরকম নাম (অবশ্য এটি দেখতেও পা সহ মানুষের মত)।

জিনসেং ও cognitive function:
cognitive function বলতে বুঝায় বিভিন্ন মানসিক ক্ষমতা যেমন মনযোগ, স্মৃতিশক্তি, কথা শোনার সাথে সাথে বুঝতে পারার ক্ষমতা,কল্পনাশক্তি, শেখার ক্ষমতা, বিচারবুদ্ধি, চিন্তা শক্তি ও সমস্যা সমাধান করে কোন একটা সিদ্ধান্তে পৌছানোর ক্ষমতা। সোজা ভাষায় বলতে গেলে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি। জিনসেং স্নায়ুতন্তের উপর সরাসরি কাজ করে মানসিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।


 ২০০৫ সনে Journal of Psychopharmacology তে প্রকাশিত গবেষনা অনুযায়ী ৩০ জন সুস্বাস্থ্যবান যুবার উপর গবেষনা করে দেখা গিয়েছে যে জিনসেং গ্রহন তাদের পরীক্ষার সময় পড়া মনে রাখার ব্যাপারে পজিটিভ ভূমিকা রেখেছিল। একই জার্নালে ২০০০ সালে করা একটি গবেষনা, যুক্তরাজ্যের Cognitive Drug Research Ltd কর্তৃক ৬৪ জন ব্যাক্তির উপর করা একটি গবেষনা এবং চীনের Zhejiang College কর্তৃক ৩৫৮ ব্যাক্তির উপর করা একটি গবেষনা অনুযায়ী জিনসেং মধ্যবয়স্ক ও বৃদ্ধ ব্যাক্তির স্মরণশক্তি ও সার্বিক বৃদ্ধিতেও সহায়ক বলে প্রমাণিত হয়েছে।

 ২০০৫ সনে Annals of Neurology তে প্রকাশিত ইদুরের উপর করা গবেষনা অনুযায়ী জিনসেং মস্তিষ্কের কোষ বিনষ্টকারী রোগ যা স্মৃতিশক্তি বিনষ্ট করে (যেমন পারকিন্সন ডিজিজ, হান্টিংটন ডিজিজ ইত্যাদি) সেসব প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

জিনসেং ও ডায়াবেটিসঃ
২০০৮ সনে ১৯ জন টাইপ ২ ডায়বেটিস এর রোগীর উপর করা গবেষনা অনুযায়ী জিনসেং টাইপ ২ ডায়বেটিস ম্যানেজমেন্টে কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে।

জিনসেং ও কোলেস্টেরলঃ
Pharmacological Research এ ২০০৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষনা অনুযায়ী, দিনে ৬ মিগ্রা হারে ৮ সপ্তাহ জিনসেং গ্রহণ খারাপ কোলেস্টেরল যেমন- total cholesterol (TC), triglyceride (TG) ও low density lipoprotein (LDL) এর মাত্রা কমাতে ও ভালো কোলেস্টেরল (High Density Lipoprotein বা HDL) এর মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে।

জিনসেং ও ত্বকঃ
জিনসেং বিভিন্ন এন্টি-এজিং ক্রীম ও স্ট্রেচ মার্ক ক্রীম এ ব্যবহৃত হয়। এইসব ক্রীম ত্বকের কোলাজেন এর উপর কাজ করে ত্বকের বলিরেখা প্রতিরোধ করে ও গর্ভবতী নারীদের পেটের ত্বক স্ফীতির কারণে তৈরী ফাটা দাগ নিরসন করে। তবে এটির জন্য জিনসেং এর ভূমিকা কতটুকু ও ক্রীমে থাকা অন্যান্য উপাদানের ভূমিকা কতটুকু তা জানা যায়নি।

জিনসেং ও রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থাঃ
একটি গবেষনায় ২২৭ ব্যক্তির উপর ১০০মিগ্রা দিনে এক বার করে ১২ সপ্তাহ এবং আরেকটি গবেষনায় ৬০ ব্যাক্তির উপর ১০০মিগ্রা দিনে ২বার করে ৮ সপ্তাহ জিনসেং প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে যে তাদের দেহের রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলো ( যেমন T Helper cell, NK Cell, Antibody ইত্যাদি) কার্যকর পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে। তার মানে জিনসেং রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়।

★★ব্যবহারবিধিঃ ★★

University of Maryland Medical Center এর মত অনুযায়ী এশিয়ান জিনসেং পূর্নবয়স্করা ২-৩ সপ্তাহ টানা খেয়ে ২ সপ্তাহ বিরতি দিয়ে আবার খেতে পারবেন। 

আমেরিকান জিনসেং টানা ৮ সপ্তাহ খেয়ে ২ সপ্তাহ বিরতি দিয়ে আবার খেতে পারবেন। যেহেতু এটি একটি অতি কার্যকরী ওষুধ, তাই দীর্ঘদিন ব্যবহারের কোন রকম ক্ষতি হতে পারে ভেবে এটি বেশিদিন ব্যবহার করতে মানা করা হয় (যদিও দীর্ঘ ব্যবহারে ক্ষতির কথাটার কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই).. জিনসেং সাধারণত ট্যাবলেট, পাউডার, ড্রিঙ্কস হিসেবে খাওয়া হয়, এবং এদের গায়েই ব্যবহারবিধি লেখা থাকে।

 ট্যাবলেট বা পাউডার এর জন্য ডোজঃ University of Michigan Health System এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মানসিক ক্ষমতা বৃদ্ধি ও লিংগ উত্থান এর জন্য ৯০০ মিগ্রা পাউডার করে দৈনিক ৩ বার সেবন করতে হবে। 

★★উল্লেখ্য  ১ গ্রাম = ১০০০ মিলি গ্রাম । 
সে হিসাবে পাউডার সেবন করতে হলে দৈনিক ১ গ্রাম  সমপরিমাণ ৩ বার মিলে ৩ গ্রাম   তথা প্রতিবার ১ চা চামচের  ৪ ভাগের এক  ভাগ পরিমাণ সেবন করতে হবে। 

 শক্তি বা স্ট্যামিনা বৃদ্ধি ও ডায়বেটিস এর জন্য এর ডোজ হলো ২০০ মিগ্রা পাঊডার করে দিনে ১ বার, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ১০০ মিগ্রা করে দিনে ২ বার। ss cream এর জন্য ডোজ হলো ০.২ মিগ্রা। সরাসরি মূল খেলে ০.৫-২ গ্রাম মুল খাওয়া যাবে দৈনিক ১ বার। মূল কিনে খাওয়া টাই সবচেয়ে সাশ্রয়ী হয়। মূল টা চিবিয়ে খাওয়া যায়, গুড়া করে জিভের নীচে রেখে দিয়ে খাওয়া যায়, পানিতে এক ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে পানি সহ খাওয়া যায় অথবা পানিতে ৫ মিনিট ফুটিয়ে পানি সহ খাওয়া যায়। 

সার্বিক  যোগাযোগ  করতে পারেন। 
ভূঁইয়া ন্যাচরাল হার্বস 
০১৮২৯৩১৮১১৪ 


কেরিবিয়ান রেড জিংসিং এর  বিভিন্ন প্রোডাক্ট এর ছবি

জিংসিং  শুকনো মূল 
৩০০ গ্রাম  ও ৬০০ গ্রাম 

জিংসিং  ট্যাবলেট 

জিংসিং  কাঁচা মূল


জিংসিং  জেলী বা হালুয়া 


জিংসিং




জিংসিং মূল   পাউডার কালো

জিংসিং  মূল রেড এন্ড হোয়াইট 
 
 

আপনার পছন্দ মতো যে কোন জিংসিং এর প্রোডাক্ট এর জন্য  যোগাযোগ করতে পারেন 
ভূঁইয়া ন্যাচরাল হার্বস 
০১৮২৯৩১৮১১৪। 





জিংসিং


জিংসিং মূল চূর্ণ  হোয়াইট এন্ড রেড, কোরিয়ান  এন্ড  --  

সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২২

তাজিমী সেজদাহ শির্ক

তা'জীমী সিজদা:রাসূল কারীম (ﷺ)'র সুন্নাহ্ নয় বরং ধর্ম ব্যবসায়ীদের আবিষ্কার তথা বিদ'আত-কুসংস্কার ও শীর্কের অন্তর্ভুক্ত 

এ কথাটি সকল মুসলমানের জানা আবশ্যক যে, মহান আল্লাহ যা কিছু নিষেধ করেছেন, তা যেমন নিষিদ্ধ, রাসূল কারীম (ﷺ) যা কিছু নিষেধ করেছেন, তাও ঠিক তেমনিভাবে নিষিদ্ধ। এতে কোনো পার্থক্য নেই। এর অমান্যকারী মূলত প্রিয় নবীজি (ﷺ)'র প্রচারিত দ্বীন অমান্যকারী নিঃসন্দেহে কাফির। মহান রাব্বুল আলামীন বলেন,
وَما آتاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَما نَهاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا
" আর রাসূল (ﷺ) তোমাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন, তা গ্রহণ করো এবং তিনি তোমাদেরকে যা কিছু থেকে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকো।"(সূরা-হাশর, আয়াত-৭)
মহান আল্লাহ অপর আয়াতে বলেন,
وما ينطق عن الهوى * إن هو إلا وحي يوحى
" আর তিনি (রাসূল কারীম) প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। তিনি যা কিছু বলেন, তা হল- প্রত্যাদেশ, যা তাঁর উপর অবতীর্ণ করা হয়।" (সূরা-নাজম, আয়াত-৩) পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতে এরকম বর্ণনা এসেছে।

এ বিষয়ে রাসূল কারীম (ﷺ) বলেন,
. أَلاَ وَإِنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ
 "সাবধান! নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যা কিছু হারাম ঘোষণা করেছেন, তা আল্লাহ যা কিছু হারাম ঘোষণা করেছেন তার অনুরূপ।"(ইবনে মাজাহ, হাদীছ নং-১২)
এ বিষয়ে কুরআন-হাদীছের বর্ণনা সমূহ উল্লেখ করার পর আল্লামা ইবনে তাইমিয়াহ বলেন,
وقد اقامه الله مقام نفسه في أمره ونهيه واخباره وبيانه، فلا يجوز أن يفرق بين الله ورسوله في شيء من هذه الأمور.
" আর আল্লাহ তায়ালা রাসূল (ﷺ)কে কোনো বিষয়ের আদেশ দেয়া, কোনো কাজ থেকে নিষেধ করা, কোনো কিছুর সংবাদ দেয়া এবং কোনো কিছু বর্ণনা করার বিষয়ে নিজের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। অতএব এ সকল বিষয়ের কোনো একটিতেও মহান আল্লাহ এবং রাসূল কারীম (ﷺ)'র মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করা জায়েজ নেই।" ( ইবনে তাইমিয়াহ, আস্ সা'রিমুল মাসলূল আলা শা'তিমির্ রাসূল, মাকতাবা দারুল হাদীছ, কাহেরা, পৃ.৩৯)

 আলেমগণ বলেন, সিজদা দু' প্রকার। যেমন,
১). সিজদায়ে তা'ব্বুদী বা ইবাদতের উদ্দেশ্যে সিজদা,
২). সিজদায়ে তা'জীমী বা কারো সম্মানার্থে সিজদা।

                      #শরয়ী_হুকুম:
                       ------------------

প্রথম প্রকার তথা সিজদায়ে তা'ব্বুদীর শরয়ী হুকুম বর্ণনায় সকল আলেম ঐক্যমত পোষণ করে বলেন, এ সিজদা যদি কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য করে, তাহলে নিঃসন্দেহে কাফির হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় প্রকার সিজদা তথা সিজদায়ে তা'জীমীর শরয়ীয় হুকুম বর্ণনায় আলেমগণ বলেন, কারো সম্মানার্থে সিজদা করা কাবিরাহ গোনাহ্। কেউ কেউ কুফরীও বলেছেন। যেমন, প্রখ্যাত হানাফী ফকীহ শামসূল আইয়িম্মাহ আস্ সারাখসী (রা:) বলেন,
السجود لغير الله تعالي على وجه التعظيم كفر
" আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য সিজদা করা কুফরী"(ইবনে আবেদীন রাহ., রদ্দুল মুহ্তার, কিতাবুল ইকরাহ)

মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা হারাম ঘোষণা করে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা বলেন,
لا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ.
"তোমরা সূর্যকে সিজদা করো না, চাঁদকেও নয়। সিজদা করো আল্লাহকেই, যদি তোমরা একান্ত মনে তাঁর ইবাদতকারী হয়ে থাকো।(সূরা-হা-মীম আস্ সাজদা, আয়াত-৩৭)
কিন্তু কুর'আনের অন্যান্য আয়াতে এ রকম ও আছে যে, আল্লাহ তায়ালা ফেরেস্তাগণকে হযরত আদম (আ:)কে সম্মান সূচক সিজদা দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন এবং তাঁরা তাঁকে (আদম) সিজদা করেছিলেন। হযরত ইউসুফ (আ:)কেও তাঁর ভাইয়েরা সিজদা করেছিলেন,(সূরা বাকারাহ, সূরা-ইউসূফ) যা দ্বারা এ যুগের কিছু পথভ্রষ্ট লোক তা'জীমী সিজদা বৈধ বলে মনগড়া দলিল দিয়ে থাকে।
 এ ব্যাপারে মুফাচ্চিরগণ বলেন, পূর্ববর্তী নবীগণের শরিয়তে কাউকে সম্মান সূচক সিজদা করা বৈধ ছিল। কোনো কোনো মুফাচ্চির এ কথাও বলেছেন যে, তা মূলত সিজদা ছিল না, ছিল সম্মানার্থে মাথা ঝুঁকিয়ে অভিবাদন জানানো। "সিজদা" শব্দ দ্বারা রুকু করা বা মাথা ঝুঁকানোও বুঝানো হয়। যেমন, সূরা বাকারার ৫৮ নং এবং সূরা-আ'রাফের ১৬১ নং আয়াতে এসেছে,
وادخلوا الباب سجدا
" আর তোমরা সিজদারত অবস্থায় দরজা দিয়ে প্রবেশ করো।" এ আয়াতের তাফসীরে রয়ীসূল মুফাচ্চিরীন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, এ আয়াতে সিজদা দ্বারা রুকুকেই বুঝানো হয়েছে।(তাফসীরে ইবনে কাছীর)
 সূরা বাকারার ৫৮ নং আয়াতের তাফসীরে (যে আয়াতে ফেরেস্তাগণ আদম আলাইহিস্ সালামকে সিজদা করার কথা বলা হয়েছে)  প্রখ্যাত মুফাচ্চির আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরতুবী (রা:) তাঁর সর্বজন সমাদৃত তাফসীর গ্রন্থ "আল-জামেউ লিআহকামিল কুরআ"এ তা'জীমী সিজদার নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক রাসূল কারীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত হাদীছ সমূহ উল্লেখ করার পর বলেন,
وَهَذَا السُّجُودُ الْمَنْهِيُّ عَنْهُ قَدِ اتَّخَذَهُ جُهَّالُ الْمُتَصَوِّفَةِ عَادَةً فِي سَمَاعِهِمْ وَعِنْدَ دُخُولِهِمْ عَلَى مَشَايِخِهِمْ وَاسْتِغْفَارِهِمْ، فَيُرَى الْوَاحِدُ مِنْهُمْ إِذَا أَخَذَهُ الْحَالُ بِزَعْمِهِ يَسْجُدُ لِلْأَقْدَامِ لِجَهْلِهِ سَوَاءٌ أَكَانَ لِلْقِبْلَةِ أَمْ غَيْرِهَا جَهَالَةً مِنْهُ، ضَلَّ سَعْيُهُمْ وَخَابَ عَمَلُهُمْ.
" এ সব হাদীছে যে সিজদা নিষেধ করা হয়েছে, মূর্খ সূফীরা সে সিজদাকেই তাদের রীতিতে পরিণত করে নিয়েছে তাদের সামা'র মজলিসে, তাদের পীর-মাশাইখের নিকট প্রবেশের সময় এবং ইস্তিগফারের সময়। তাদের কাউকে কাউকে দেখা যায় যে, যখন তার ধারণা মত তার হাল এসে যায়, তখন সে কিবলামুখী হয়ে কিংবা অন্যমুখী হয়ে (পীরের) পায়ের কাছে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। মূর্খতার কারণে সে এরূপ করে। তাদের প্রচেষ্টা নিষ্ফল হয়েছে এবং তাদের কর্ম বিফল হয়ে গেছে।"

অতএব ঐ সকল আয়াতের মনগড়া ব্যাখ্যা করে তা'জীমী সিজদা কখনোই বৈধ বলা যাবে না। কারণ, এ প্রকার সিজদা (তা'জীমী) স্বয়ং শরিয়ত প্রণেতা, তাজেদারে কায়েনাত, হাবীবুর রহমান, শাফীউল মুযনিবীন, রাহমাতুল্লিল আলামীন, প্রিয় নবীজি (ﷺ)ই হারাম ঘোষণা করেছেন, যা অনেক সহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। যেমন, 

১. গাছপালা ও বোধশক্তিহীন জন্তু রাসূল কারীম (ﷺ)কে সিজদা করতে দেখে সাহাবায়ে কেরামও তাঁকে সিজদা করার অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি বলেন, 
لا آمُرُ أَحَدًا أن يَسجُدَ لأَحَدٍ ولو أَمَرْتُ أَحَدًا أن يسجُدَ لأَحَدٍ لأمرتُ المرأةَ أن تسجُدَ لزوجِها.
" আমি কোনো মানুষ (আল্লাহ ছাড়া) অন্য কাউকে সিজদা করার অনুমতি দেই না। যদি আমি কোনো মানুষ (আল্লাহ ছাড়া) অন্য কাউকে সিজদা করার অনুমতি দিতাম, তাহলে অবশ্যই মহিলাদের তাদের স্বামীকে সিজদা করার আদেশ দিতাম।"(ইবনে কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, খ. ৬, পৃ.১৪৪,
আলবানী, সিলসিলা সহীহা, খ.৭,পৃ.১৪৩৫)

২. অপর বর্ণনায় এসেছে, একবার হযরত মা'আয বিন জাবাল (রা:) সিরিয়ায় (অপর বর্ণনা মতে ইয়ামেনে) থাকাকালীন তথাকার লোকজন তাদের ধর্মীয় নেতা ও শাসকদের সিজদা করতে দেখলে মদীনা শরীফ ফিরে রাসূল কারীম (ﷺ)'র সাথে সাক্ষাৎ হওয়া মাত্র (সম্মানসূচক) সিজদা করেছিলেন, যার জন্য ভবিষ্যতে আর কখনো ঐ ধরনের সিজদা করতে বারণ করে রাসূল কারীম (ﷺ) বলেন,
فلا تفعلوا فإني لو كنت آمرا أحدا أن يسجد لغير الله لأمرت المرأة أن تسجد لزوجها.
" তোমরা এ কাজ (তা'জীমী) সিজদা আর কখনোই করবে না। যদি আমি কোনো মানুষ মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করার অনুমতি দিতাম, তাহলে অবশ্যই মহিলাদের তাদের স্বামীকে সিজদা করার আদেশ দিতাম।(ইবনে মাজাহ, হাদীছ নং-১৯২৬) 

৩. অপর বর্ণনায় এসেছে, একবার এক আ'রাবি (গ্রাম্য লোক) রাসূল কারীম (ﷺ)'র নিকট এসে তাঁকে সিজদা করার অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি বলেন,
لو كنت آمرا أحدا يسجد لأحد لأمرت المرأة تسجد لزوجها
"যদি আমি কোনো মানুষ (আল্লাহ ছাড়া) অন্য কাউকে সিজদা করার অনুমতি দিতাম, তাহলে অবশ্যই মহিলাদের তাদের স্বামীকে সিজদা করার আদেশ দিতাম।"(প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আবু আব্দুর রহমান আদ্ দারেমী (রা:) তাঁর সূনানে কিতাবুস্ সালাতের অন্তর্গত "باب النهي أن يسجد لأحد"এ বর্ণনা করেছেন)  হাদীছের এ বক্তব্যটি সুনানে তিরমীযি, সূনানে ইবনে মাজাহ, সূনানে দারেমী, মুসনাদে আহমদ ও সহীহ ইবনে হিব্বান সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ হাদীছ গ্রন্থে (হাসান ও সহীহ সনদে) হযরত মু'আয বিন জাবাল, আবু হুরায়রা, আব্দুল্লাহ বিন উমার, আনাস বিন মালিক, যায়েদ বিন আরকাম, বুরাইদাহ, সুরাকাহ বিন মালিক, মা আয়েশা ছিদ্দীকা, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস,  আব্দুল্লাহ বিন আবী আওফা ও মা উম্মে সালামাহ (رضوان الله عليهم اجمعين) থেকে বর্ণিত আছে। এমনকি দ্বয়ীফ হাদীছও যদি এভাবে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়, তাহলে তা আর দ্বয়ীফ থাকে না। অতএব, এ সকল বর্ণনা দ্বয়ীফ বলে দিয়ে মনগড়া ব্যাখ্যার মাধ্যমে তা'জীমী সিজদা বৈধ ঘোষণা হয় সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সাথে ধোঁকাবাজি, না হয় উলূমুল হাদীছ বিষয়ে গণ্ড মূর্খতা।

৪. মাজার বা কবরে সিজদা করার ভয়াবহ পরিণতি বর্ণনায় রাসূল কারীম (ﷺ) তাঁর ইন্তেকালের পূর্বমুহূর্তে বলেন,
لعن الله اليهود والنصارى، اتخذوا قبور أنبيائهم مسجدا
"ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহর লা’নত করেছেন। (কারণ,) তারা তাদের নবীদের কবরকে সিজদা করার স্থানে পরিণত করেছিল।"
 এ প্রসঙ্গে হযরত উম্মুল মু'মিনীন আয়িশা ছিদ্দিকা (রা:) বলেন, সে আশঙ্কা (সিজদার স্থানে পরিণত করার আশঙ্কা) না থাকলে নাবী কারীম (ﷺ)'র
 কবর শরীফ উম্মুক্ত রাখা হত, কিন্তু আমার আশংকা হয় যে, তা খুলে দেয়া হলে সিজদার স্থানে পরিণত করা হবে।

অতএব, কুরআন মতে তা'জীমী সিজদা বৈধ হওয়ার কথা বলে রাসূলে পাক (ﷺ) কর্তৃক হারাম ঘোষণাকে অগ্রাহ্য করা পুরো ইসলামী শরীয়ত অমান্য করারই নামান্তর। 

এ বিষয়ে অমুক হুজুর-তমুক হুজুর বলেছেন বলে রাস্তা বের করার নির্লজ্জ চেষ্টা করা মূলত অমুক-তমুক হুজুরকে রাসূল কারীম (ﷺ)'র উপরে প্রাধান্য দেয়া।(নাঊযূবিল্লাহ্) 

 শরীয়তের মালিক কোনো পীর-মৌলভী নয়, শরীয়তের মালিক হলেন- মহান রাব্বুল আলামীন যার উসিলায় পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন,শরীয়ত সৃষ্টি করেছেন তিনি তথা মুহাম্মাদুর্ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ). 
এক কথায় তাজিমী সেজদাহ  শির্ক  এর থেকে সকল কে বিরত থাকার তাওফিক দান করুক আমিন। 


হে আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের ইমান-আকিদাহ হেফাজত করুন!প্রকৃত আহলে সুন্নাতের অনুসারী হওয়ার তাওফিক দান করুক আমিন। 

শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১

টুপির ব্যবহার কি ইসলামে নেই?

আজকাল ইসলামের শি'য়ার টুপি নিয়ে এক শ্রেনীর মানুষ যাদের কাজই হল ইসলামের যে কোন কাজ কর্ম  আর আমল নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরী করে সংশয় সন্দেহ তৈরী  করে  উম্মতের মধ্যে  ফাটল সৃষ্টি করা তাই  আমি এ নিয়ে 

মুহাররম ১৪৩৫   ||   নভেম্বর ২০১৩ প্রকাশিত প্রবন্ধটি হুবহু পাঠকের জন্য তুলে ধরছি। 


হাদীসে কি টুপির কথা নেই?

মাওলানা মুহাম্মাদ ইমদাদুল হক

টুপি মুসলিম উম্মাহর শিআর জাতীয় নিদর্শন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীনের যুগ থেকে প্রতি যুগে এর উপর ব্যাপকভাবে আমল ছিল। কিন্তু, যেমনটা আমি বিভিন্ন জায়গায় লিখেছি, আমলে মুতাওয়ারাছের (উম্মাহর ও অবিচ্ছিন্ন কর্মের) সূত্রে বর্ণিত সুন্নাহ্র দলীল যখন সনদসহ বর্ণনারসূত্রে খোঁজ করা হয় তখন কখনো কখনো এমনও হয় যে, তা সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে পাওয়া যায় না যা পাওয়া যায় তার সনদ সহীহ হয় না। এ কারণে যারা দু চার কিতাবের দু চার জায়গায় দেখেই কোনো বিষয়কে ভিত্তিহীন বলে দিতে অভ্যস্থ তারা খুব দ্রুত এ ধরণের সুন্নাহকে অস্বীকার করে বসেন। টুপির ক্ষেত্রেও এ ব্যাপার ঘটেছে।

আযীযম মাওলানা ইমদাদুল হক কুমিল্লায়ী এ বিষয়ে কিছু হাদীস-আছার একত্র করেছে। এ বিষয়ে আরো দলিল আছে এবং এমন রেওয়ায়েতও আছে, যার সনদ সব রকমের আপত্তির উর্ধ্বে। এ প্রবন্ধ তার সংকলনের প্রথম ধাপ। অবশিষ্ট রেওয়ায়াত ইনশাআল্লাহ আগামী কোনো অবসরে পেশ করা হবে।-আব্দুল মালেক


‘‘টুপি পরা সুন্নত’’ কথাটি শৈশব থেকেই শুনে আসছি এবং সুন্নতের অনুসারী আলিম-উলামা ও দ্বীনদার মানুষকে তা পরতে দেখেছি। এই ব্যাপক অনুসৃত সুন্নাহর বিষয়ে কখনোই মনে সংশয় জাগেনি। একসময় উচ্চস্তরের পড়াশোনার জন্য গ্রাম থেকে চলে এলাম দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বড় মাদরাসায়। সেখানে গিয়েই ছাত্রভাইদের কাছে প্রথম শুনলাম টুপি নিয়ে ভিন্ন কথা, সংশয় সন্দেহ। টুৃপি নাকি হাদীসে নেই। তাই কোনো কোনো আলেম তা পরেন না। শুধু রুমাল ব্যবহার করেন।

এদিকে কিছু প্রবাসী ভাই যারা আরব দেশগুলোতে থাকেন তারা এসে বলেন, আরবে নাকি টুপির গুরুত্ব বা রেওয়াজ নেই। খালি মাথায়ই তারা নামায পড়ে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করে সেই একই কথা-হাদীসের ভান্ডারে টুপির কথা নেই!

ইদানিং আবার আমাদের দেশে একটি মহল তৈরী হচ্ছে, যারা নির্দিষ্ট কিছু হাদীসের উপর আমল করে আর অন্যগুলোকে বিভিন্ন খোঁড়া অজুহাত দেখিয়ে এক প্রকার অস্বীকার করে। দ্বীনের অনেক স্বতসিদ্ধ বিষয় এবং নবী-যুগ থেকে অবিচ্ছিন্ন কর্মধারায় সর্বযুগে বিদ্যমান অনেক বিষয়কে স্থুল ও মুখরোচক কিছু অজুহাত দেখিয়ে ভ্রান্ত বলে আর নিজেদের ছাড়া অন্য সকলকে বাতিল বলতে থাকে। ওদের তরফ থেকেও ‘টুপি নেই’ জাতীয় কথা মিডিয়াতেও প্রচারিত হয়েছে। এসব কারণে এ বিষয়ে কিছু কিতাব ঘাঁটাঘাঁটি করলাম যা কিছু সংগ্রহ হল পাঠক মহলের নিকট পেশ করার ইচ্ছা করলাম।

টুপি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরেছেন, সাহাবায়ে কেরাম পরেছেন, তাবেয়ীন তাবে-তাবেয়ীন পরেছেন এবং পরবর্তীতে সব যুগেই মুসলিমগণ তা পরিধান করেছেন। টুপি, পাগড়ীর মতোই একটি ইসলামী লেবাস। হাদীসে, আছারে ও ইতিহাসের কিতাবে এ বিষয়ে বহু তথ্য আছে এবং অনেক আলিম-মনীষীর বক্তব্য আছে। এমন প্রতিষ্ঠিত একটি বিষয়কেও যারা ভিত্তিহীন মনে করেন তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উপর সত্যিই করুণা হয়। নিম্নে এ সম্পর্কে কিছু দলীল পেশ করছি। প্রথমে হাদীস থেকে।

হাদীস-১  

হাসান বিন মেহরান থেকে বর্ণিত-

عن رجل من الصحابة : قال : أكلت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، ورأيت عليه قلنسوة بيضاء

 একজন সাহাবী বলেছেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাঁর দস্তরখানে খেয়েছি এবং তাঁর মাথায় সাদা টুপি দেখেছি’ (আল ইসাবাহ ৪/৩৩৯)

এ হাদীসটি ইমাম ইবনুস সাকান তার কিতাবুস সাহাবায় সনদসহ বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর এ বর্ণনায় সাহাবীর নাম আসেনি। তা এসেছে তাঁর অন্য বর্ণনায় এবং ইমাম বুখারী ও ইমাম আবু হাতেমের বর্ণনায়। তাঁর নাম ফারকাদ। (দ্র. আততারীখুল কাবীর ৭/১৩১; কিতাবুল জারহি ওয়াত তা’দীল ৭/৮১) উল্লেখ্য, ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. ইমাম ইবনুস সাকানের উপরোক্ত বর্ণনার দ্বারা আবু নুআইম আল আসবাহানী রহ.এর এ দাবি খন্ডন করেছেন যে, ফারকাদ সাহাবী আল্লাহর নবীর দস্তরখানে খাবার খাননি। বরং হাসান ইবনে মেহরান খাবার খেয়েছেন সাহাবী ফারকাদের সাথে। (মারিফাতুস সাহাবা ৪/১০৪)

হাফেজ ইবনে হাজার রহিমাহুল্লাহ বলেন, এ ক্ষেত্রে আবু নুআইমই ভুলের শিকার হয়েছেন। প্রমাণ হিসেবে তিনি ইমাম ইবনুস সাকানের উপরোক্ত বর্ণনাটি উল্লেখ করেন। এতে প্রমাণিত হয় এ বর্ণনা সহীহ। অন্যথায় প্রমাণ-গ্রহণ শুদ্ধ হতো না। এবং আবু নুআইম এর মত ইমাম এর কথাকে খন্ডন করা যেত না।

তাছাড়া সাহাবী ফারকাদ রা.এর আল্লাহর নবীর দস্তরখানে খাবার খাওয়ার কথা ইমাম বুখারী, ইমাম আবু হাতেম ও ইবনু আবদিল বারও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

হাদীস-২

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন

أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يلبس من القلانس في السفر ذوات الآذان، وفي الحضر المشمرة يعني الشامية.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর অবস্থায় কান বিশিষ্ট টুপি পরতেন আর আবাসে শামী টুপি পরতেন। (আখলাকুন নুবুওয়্যাহ, আল জামে লি আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামে পৃ. ২০২)

এ হাদীসের সকল রাবী ‘‘ছিকা’’। উরওয়া ও হিশাম তো প্রসিদ্ধ ইমাম। আর মুফাদদাল ইবনে ফাদালা নামে দুইজন রাবী আছেন। একজন মিসরী, তিনি অনেক বড় ইমাম ছিলেন। মিসরের কাযী ছিলেন। সর্বসম্মতিক্রমে তিনি ‘‘ছিকা’’। আসমাউর রিজালের কিতাবাদি থেকে প্রতীয়মান হয় সনদে উল্লেখিত ব্যক্তি ইনিই। কারণ তিনিই হিশাম ইবনে উরওয়া ও ইবনে জুরাইজ থেকে রেওয়ায়েত করেন যা আল্লামা ইবনে আদী ও আল্লামা মুহাম্মাদ বিন হাসান বিন কুতায়বা তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন। (আল-কামিল ৭/৪০৯ ইকমালু তাহযীবিল কামাল ১১/৩৩৮)

অপর জন বসরী। তাঁর স্মৃতিশক্তির বিষয়ে কিছু আপত্তি থাকলেও ইবনে হিববান তাকে ছিকা রাবীদের মধ্যে গণ্য করেছেন।

আবু হাতেম বলেছেন يكتب حديثه

আর ইমাম ইবনে আদী তার একটি বর্ণনাকে ‘মুনকার’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাকিগুলো সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন-

‘তার অন্য বর্ণনাগুলো সঠিক।’ সুতরাং সনদে উল্লেখিত রাবী যদি বসরীও হন তবুও তার এ বর্ণনা সঠিক।

হাদীস-৩

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, একবার আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। ইতিমধ্যে একজন আনসারী সাহাবী তাঁর কাছে এলেন। এবং তাঁকে সালাম দিলেন। তিনি ফিরে যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আনসারী! আমার ভাই সাদ ইবনে উবাদাহ কেমন আছে? আনসারী বললেন, ভাল আছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কে কে তাকে দেখতে যাবে? অতপর তিনি দাঁড়ালেন আমরাও দাঁড়ালাম। আমরা সংখ্যায় দশের অধিক হব। আমাদের পায়ে মোজাও ছিল না। চপ্পলও না। গায়ে জামাও ছিল না, টুপিও না। ঐ কংকরময় ভূমিতে আমরা চলছিলাম। অবশেষে আমরা সাদ এর নিকট পৌঁছলাম তখন তার পাশ থেকে মানুষজন সরে গেল। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সঙ্গীরা প্রবেশ করলেন।

এখানে সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. এর বাক্য ‘‘আমাদের পায়ে মোজাও ছিল না, চপ্পলও না। গায়ে জামাও ছিল না টুপিও না’’ থেকে বোঝা যায়, ঐ যুগে টুপিও ছিল লিবাসের অংশ এবং কোথাও যাওয়ার জন্য সেগুলো রীতিমত আবশ্যকীয় এর ন্যয় ছিল। তাই এখানে এগুলো না থাকায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর তা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।

বিষয়টি ঠিক এরকম যেমন ইমাম বুখারী রহ. সহীহ বুখারীতে বুরনুস প্রমাণ করেছেন। সহীহ বুখারীতে কিতাবুল লিবাসে باب البرانس নামে শিরোনাম দাঁড় করেছেন আর দলীল হিসেবে উল্লেখ করেছেন হজের একটি হাদীস।

لا يلبس المحرم القميص ولا العمائم ولا البرانس

 ‘‘ইহরাম গ্রহণকারী জামাও পরবে না, পাগড়ীও না, বুরনুস (এক প্রকার টুপি)ও না।’’

আল্লামা আবু বকর ইবনুল আরাবী এ হাদীস থেকে পাগড়ী প্রমাণ করেছেন। তিনি বলেন, এ হাদীস প্রমাণ করে যে, তৎকালে পাগড়ী পরিধানের রীতি ছিল। এ কারণে ইহরাম অবস্থায় তা পরিধান করা নিষেধ করেছেন।

একইভাবে আলোচিত হাদীস দ্বারাও টুপি ও তার প্রচলন প্রমাণে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়।

হাদীস -৪

উমর ইবনে খাত্তাব রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন-

الشهداء ثلاثة : رجل مؤمن ... ورفع رسول الله صلى الله عليه وسلم رأسه حتى وقعت قلنسوته أو قلنسوة عمر.

শহীদ হল তিন শ্রেণীর লোক : এমন মুমিন ... এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা তুললেন। তখন তাঁর টুপি পড়ে গেল। অথবা বলেছেন উমরের টুপি পড়ে গেল। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ১৪৬ জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৬৪৪ ইত্যাদি)

হাদীসটির ক্ষেত্রে ইমাম তিরমিযী বলেছেন, ‘হাসানুন গারীবুন।’

হাদীসটির সনদ এই,

عن عبد الله بن لهيعة عن عطاء بن دينار أبي يزيد الخولاني عن فضالة بن عبيد عن عمر بن الخطاب رضي الله عنهم

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া এর ক্ষেত্রে যদিও মুহাদ্দিসীনদের বিভিন্ন রকম বক্তব্য আছে, কিন্তু এ হাদীসটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক। আর এক্ষেত্রে ইমামগণ এক মত যে ইবনে লাহিয়া থেকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক কর্তৃক বর্ণনাকৃত হাদীসগুলো সঠিক।

উপরন্তু আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়ার একজন ‘মুতাবি’ও আছেন সায়ীদ ইবনে আবী আইয়ূব। যা ইমাম বুখারী ও ইমাম আবু হাতিম এর কথায় পাওয়া যায়।

قال الترمذي : سمعت محمدا يقول : قد روى سعيد بن أبي أيوب هذا الحديث عن عطاء بن دينار عن أشياخ من خولان، ولم يذكر فيه عن أبي زيد.

وقال أبو حاتم : وروى سعيد بن أبي أيوب عن عطاء بن دينار عن أشياخ من خولان عن فضالة عن عمر.

আর এ সনদের আরেকজন রাবি, আবু ইয়াযিদ আল খাওলানী। মুতাআখখিরীনদের মাঝে কেউ কেউ তাকে মাজহুল বলেছেন।

এক্ষেত্রে প্রথম কথা এই যে, হাদীসটি শুধু তিনিই বর্ণনা করেননি; বরং খাওলান শহরের আরো অনেক মুহাদ্দিস তা বর্ণনা করেন, যা ইমাম বুখারী ও ইমাম আবু হাতেম এর উপরোক্ত কথায় পাওয়া যায়।

দ্বিতীয় কথা এই যে, ইমাম বুখারী, ইমাম আবু হাতেম, ইমাম তিরমিযীসহ মুতাকাদ্দিমীন ইমামগণের কেউ তাকে মাজহুল বলেন নি; বরং সকলে তাঁর জীবনীতে তাঁর নাম উল্লেখ করে এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। কেউ তাঁর সম্পর্কে ভালোও বলেননি মন্দও বলেননি। এটাকে হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষায় বলা হয় سكوت المتكلمين في الرجال অর্থাৎ ইমামগণের নীরব থাকা। এই কারণে রাবী মাজহুল হওয়া আবশ্যক নয় বরং এটাকে এক প্রকার তা’দীল হিসেবে ধরা হয়। বিশেষত রাবী যদি তাবেয়ী স্তরের হন। আর এখানেও তা ঘটেছে। সম্ভবত এ নিশ্চুপ থাকাকেই পরবর্তীদের কেউ মাজহুল বলে দিয়েছেন, যা ঠিক নয়।

থাকল এ বিষয় যে, উপরোক্ত হাদীসে কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর টুপি সম্পর্কে বলা হয়েছে না ওমর রা.এর টুপি সম্পর্কে? যদি ধরেও নেয়া হয় যে, ওমর রা. এর টুপি সম্পর্কে তাহলেও তো একজন খলীফায়ে রাশেদের টুপি পরা প্রমাণিত হচ্ছে। আর খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ তো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ্রই অংশ, বিশেষত যখন একাধিক হাদীসে স্বয়ং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরও টুপি পরা প্রমাণিত হচ্ছে।

আপাতত এ চারটি হাদীস উল্লেখ করা হল। হাদীসের কিতাবসমূহে এ বিষয়ে আরো হাদীস আছে এবং টুপি নিয়ে আলাদা শিরোনামও আছে। আসহাবুস সিয়ার তথা সীরাত প্রণেতা ইমামগণও আল্লাহর নবীর পোষাকের অধ্যায়ে তাঁর টুপির জন্যও আলাদা পরিচ্ছেদ কায়েম করেন। যেমন করেছেন ইবনে হাইয়ান, ইবনুল কায়্যিম, ইবনে আসাকির, ইবনুল জাওযী, গাযালী, শায়খ ইউসুফ সালেহী, আল্লামা দিময়াতী, বালাযুরীসহ আরো অনেক ইমাম। সকলের বক্তব্য তুলে ধরলে আলোচনা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে তাই শুধু আল্লামা  ইবনুল কায়্যিম রহ. এর বক্তব্য তুলে ধরছি। তিনি তাঁর সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘‘যাদুল মাআদে’’ লেখেন, তাঁর একটি পাগড়ি ছিল, যা তিনি আলী রা. কে পরিয়েছিলেন। তিনি পাগড়ি পরতেন এবং পাগড়ির নিচে টুপি পরতেন। তিনি কখনো পাগড়ি ছাড়া টুপি পরতেন। কখনো টুপি ছাড়াও পাগড়ি পরতেন। (যাদুল মাআদ ১/১৩৫)

সাহাবায়ে কেরামের টুপি

জানা কথা যখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টুপি পরেছেন তখন সাহাবায়ে কেরামও পরবেন। বরং কোনো হাদীসে আল্লাহর নবীর টুপির উল্লেখ না এলেও যদি সাহাবায়ে কেরামের টুপি পরা প্রমাণিত হয় তাহলে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর টুপি পরিধানেরই প্রমাণ বহন করবে। হাদীস ও আছারের কিতাবে সাহাবায়ে কেরামের টুপি পরার অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে একটি পুস্তিকা হয়ে যাবে। এখানে সামান্য কিছু বর্ণনা উল্লেখ করা হল।

1.            হাসান বসরী রাহ. বলেন,

وكان القوم يسجدون على العمامة والقلنسوة

তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম গরমের দিনে) পাগড়ি বা টুপির উপর সিজদা করতেন।-সহীহ বুখারী, কিতাবুস সালাত ‘প্রচন্ড গরমের কারণে কাপরের উপর সিজদা করা’ অধ্যায়।

উল্লেখ্য, হাসান বসরী রাহ. অনেক বড় মনীষী তাবেয়ী, যিনি অনেক সাহাবীকে দেখেছেন এবং তাদের সাহচর্য গ্রহণ করেছেন।

2.            সুলাইমান ইবনে আবি আবদিল্লাহ বলেন,

أدركت المهاجرين الأولين يعتمون بعمائم كرابيس سود وبيض وحمر وخضر وصفر، يضع أحدهم العمامة على رأسه ويضع القلنسوة فوقها، ثم يدير العمائم هكذا على كوره لا يخرجها من ذقنه

আমি প্রথম সারির মুহাজিরগণকে দেখেছি তাঁরা সুতির পাগড়ি পরিধান করতেন। কালো, সাদা, লাল, সবুজ, হলুদ ইত্যাদি রংয়ের। তারা পাগড়ির কাপড় মাথায় রেখে তার উপর টুপি রাখতেন। অতপর তার উপর পাগড়ি ঘুরিয়ে পরতেন।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১২/৫৪৫

3. হেলাল ইবনে ইয়াসাফ বলেন,

قدمت الرقة فقال لي بعض أصحابي : هل لك في رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم؟ فقلت : غنيمة. فدفعنا إلى وابصة، فقلت  لصاحبي : نبدأ فننظر إلى دله فإذا عليه قلنسوة لا طية ذات أذنين.

আমি রাক্কায় গিয়েছিলাম তখন আমার এক সাথী আমাকে বললেন, তুমি কি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাললাম-এর একজন সাহাবীর নিকট যেতে ইচ্ছুক? আমি বললাম, ‘এ তো গনীমত।’ তারপর আমরা ওয়াবেছা রা.-এর নিকট গেলাম। আমি আমার সাথীকে বললাম, দাঁড়াও, প্রথমে আমরা তাঁর আচার-আখলাক দেখব। তাঁর মাথায় দুই কান বিশিষ্ট টুপি ছিল, যা মাথার সঙ্গে মিশে ছিল।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৯৪৯

4.    হিশাম বলেন,

رأيت على ابن الزبير قلنسوة

আমি ইবনে যুবায়ের রা.-এর মাথায় টুপি দেখেছি।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২৫৩৫৩

5.    আশআছ রাহ. তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন-

أن أبا موسى خرج من الخلاء وعليه قلنسوة،

আবু মুসা আশআরী রা. হাম্মাম থেকে বের হলেন। তার মাথায় টুপি ছিল।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১০/৫১০

6.   আববাদ ইবনে আবী সুলাইমান বলেন,

رأيت على أنس بن مالك قلنسوة بيضاء

আমি আনাস ইবনে মালেক রা.-এর  মাথায় একটি সাদা টুপি দেখেছি।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৫/১২১

7.    আবু হাইয়ান বলেন,

كانت قلنسوة علي لطيفة

হযরত আলী রা.-এর টুপি ছিল পাতলা।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৩/২৩

ইবনে সাদ আলী রা.-এর জীবনীতে তাঁর পোশাকের আলোচনায় তার টুপি সম্পর্কে আলাদা শিরোনাম এনেছেন।

8.    আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. মাথা মাসাহর সময় টুপি উঠিয়ে নিতেন এবং অগ্রভাগ মাসাহ করতেন।-সুনানে দারা কুতনী, হাদীস : ৫৫; সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস : ২৮৮

9.    ফাযারী রাহ. বলেন,

10.  رأيت على علي قلنسوة بيضاء مصرية

আমি আলী রা.-এর মাথায় সাদা মিসরী টুপি দেখেছি।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৩/২৩

11. সায়ীদ ইবনে আবদুল্লাহ বলেন,

رأيت أنس بن مالك أتى الخلاء، ثم خرج وعليه قلنسوة بيضاء مزرورة

আমি আনাস ইবনে মালেক রা. কে দেখেছি, তিনি হাম্মাম থেকে বের হলেন। তার মাথায় বোতাম বিশিষ্ট সাদা টুপি ছিল।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ১/১৯০

12. আবদুল হামীদ বিন জাফর তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. ইয়ারমূক যুদ্ধের দিন তার একটি টুপি হারিয়ে ফেললেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তা পাওয়া গেল। তা ছিল একটি পুরানো টুপি। খালেদ রা. বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরার  পর মাথা মুন্ডন করলেন। সাহাবীগণ তাঁর চুল নেওয়ার জন্য ছুটতে লাগলেন। আমি গিয়ে তাঁর মাথার অগ্রভাগের চুলগুলি পেলাম। তা এ টুপিতে লাগিয়ে রেখেছি। যে যুদ্ধেই এ টুপি আমার সাথে ছিল তাতেই আল্লাহর সাহায্য পেয়েছি।-দালাইলুন নুবুওয়াহ ৬/২৪৯

সাহাবায়ে কেরামের টুপি ব্যবহারের প্রমাণ স্বরূপ আপাতত এ কয়টি আছার উল্লেখ করা হল। প্রথম দুই বর্ণনা ব্যাপকভাবে সাহাবায়ে কেরামের টুপি ব্যবহারের প্রমাণ বহন করছে। আর পরবর্তী বর্ণনাগুলোতে অনেক সাহাবীর টুপি ব্যবহার উল্লেখিত হয়েছে। টুপির শুধু ব্যবহার নয়, ব্যাপক প্রচলন এ বর্ণনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয়। এ প্রসঙ্গে আরেকটি বর্ণনা উল্লেখ করে তাবেয়ী-যুগের বর্ণনায় যাব, যার পর অতি সংশয়গ্রস্ত লোকেরও সংশয় থাকা উচিত নয়।

দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর রা.-এর যুগে যখন ‘নাজরান’ শহরের খৃস্টানরা সন্ধিতে রাজি হল এবং কর দিতে সম্মত হল তখন তারা হযরত উমর রা.-এর সাথে একটি চুক্তিনামা করেছিল। সেই চুক্তির অংশবিশেষ এই-

بسم الله الرحمن الرحيم، هذا كتاب لعبد الله عمر أمير المؤمنين من نصارى مدينة كذا كذا، لما قدمتم سألناكم الأمان لأنفسنا وذرارينا وأهل ملتنا وشرطنا لكم على أنفسنا أن لا نحدث في مدينتنا ولا فيما حولها ديرا ولا كنيسة ... ولا نتشبه بهم (المسلمين) في شيء من لباسهم من قلنسوة ولا عمامة.

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

এ অমুক শহরের নাসারাদের পক্ষ থেকে আল্লাহর বান্দা আমীরুল মুমিনীন উমরের সাথে লিখিত চুক্তি। যখন আপনারা (মুসলমানগণ) আমাদের শহরে এলেন তখন আমরা আপনাদের নিকট আমাদের, আমাদের সন্তান-সন্ততি ও স্বধর্মের লোকদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করেছি। আমরা নিজেদের উপর এ শর্ত গ্রহণ করছি যে, এ শহরে এবং এর আশপাশে আমরা কোনো গির্জা তৈরি করব না ... এবং আমরা মুসলমানদের পোশাক-টুপি, পাগড়ি ইত্যাদিতে সাদৃশ্য গ্রহণ করব না ...।-সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস : ১৯১৮৬

চুক্তিনামার এ অংশে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যণীয় :

এক. টুপিকে মুসলমানদের পোশাক বলা হয়েছে। যেমন পাগড়িকে বলা হয়েছে। একটি বস্ত্তর কতটুকু প্রচলন হলে তা একটি দল বা গোষ্ঠীর সাথে সম্বন্ধ করা হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

দুই. টুপিকে একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তিনামায় উল্লেখ করা দ্বারা সহজেই অনুমান করা যায়, সে যুগে মুসলমানদের নিকট টুপির গুরুত্ব কেমন ছিল এবং তার প্রচলন কত ব্যাপক ছিল।

তিন. এ চুক্তিনামা যখন লেখা হয় তখন বহু সাহাবী জীবিত ছিলেন। ইতিহাসে এমন একটি বর্ণনাও নেই যে, তাদের কেউ এ বিষয়ে আপত্তি করেছেন; বরং পরবর্তী খলীফাগণও এ চুক্তি বলবৎ রেখেছেন। এমনকি হযরত আলী রা.-এর যুগে এ নাসারারা এ চুক্তির কোনো একটি বিষয়ে কথা বলতে এসেছিল। তখন তিনি তাদেরকে সাফ বলে দেন-

إن عمر كان رشيد الأمر، لن أغير شيئا صنعه عمر

নিশ্চয়ই উমর সঠিক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি যা করেছেন আমি তার কিছুই কোনোরূপ পরিবর্তন করতে পারব না।

হযরত উমর রা.-এর এ চুক্তিনামাটিকে যিম্মীদের ক্ষেত্রে শরীয়তের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উসূল বা মানদন্ড হিসেবে ধরা হয়। পরবর্তী যুগের আলিম-মনীষী ও মুসলিম খলীফাগণ যিম্মিদের সাথে কোনো চুক্তিনামা করলে এর শর্তগুলোকে মানদন্ড হিসেবে সামনে রাখতেন।

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. বলেন, এ শর্তগুলো এতই প্রসিদ্ধ যে, এগুলোর সনদ উল্লেখের প্রয়োজন নেই। কেননা ইমামগণ তা সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন ও এগুলো দ্বারা প্রমাণ গ্রহণ করেছেন। আর হযরত উমর রা.-এর এসব শর্ত ছিল তাঁদের কিতাবে ও মুখে মুখে। পরবর্তী খলীফাগণ তা বলবৎ রেখেছেন এবং এর অনুসরণ করেছেন। -আহকামু আহলিয যিম্মাহ, পৃষ্ঠা : ৪৫৪

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. এ কিতাবটি শুধু হযরত উমর রা.-এর এ চুক্তিনামার শরহ বা ব্যাখ্যাতেই প্রণয়ন করেছেন।

যাহোক, উপরোক্ত উদ্ধৃতি থেকে বোঝা যায়, সকল যুগেই টুপি মুসলমানদের পোশাক ছিল। আশা করি, খিলাফতে রাশিদা-যুগের এ চুক্তিনামা দেখার পর কারো কোনো সংশয় থাকবে না। কোনো হাদীস বা আছারে টুপির কথা উল্লেখিত না হলেও এ দলীলটি আলোচ্য বিষয়ে যথেষ্ট হত।

তাবেয়ীগণের টুপি

যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টুপি পরেছেন, সাহাবায়ে কেরাম পরেছেন এবং তা ছিল মুসলিমদের পোশাকের অংশ তখন জানা কথা, তাবেয়ীগণও তা পরেছেন। উপরের আলোচনা থেকেই তাবেয়ীন-যুগও পরবর্তী যুগেও মুসলিম-সমাজে টুপির সুন্নাহ প্রতিষ্ঠিত থাকা প্রমাণিত হয়। তাই আলাদাভাবে তাবেয়ীদের টুপি প্রমাণের আর প্রয়োজন থাকে না। এরপরও কিছু নমুনা পেশ করছি।

1.    আবদুল্লাহ ইবনে আবি হিন্দ রাহ. বলেন,

رأيت على علي بن الحسين قلنسوة بيضاء لاطئة

আমি আলী ইবনে হুসাইন রাহ.-এর মাথায় একটি সাদা টুপি দেখেছি, যা মাথার সাথে মিলিত ছিল।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৩/২৪৩

2.   আবুল গুছ্ন বলেন-

رأيت نافع بن جبير يلبس قلنسوة سماطا وعمامة بيضاء

আমি নাফে ইবনে জুবাইরকে পুঁতিবিশিষ্ট টুপি ও সাদা পাগড়ি পরতে দেখেছি।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৫/২০৬ (শামেলা)

3.      খালেদ ইবনে বকর বলেন,

رأيت على سالم قلنسوة بيضاء

আমি সালেম রাহ.-এর মাথায় সাদা টুপি দেখেছি। (সালেম হলেন সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর পুত্র)।-তবাকাতে ইবনে সাআদ ৫/১৯৭; সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/৪৬৪ (শামেলা)

4.    আইয়ূব বলেন,

رأيت على القاسم بن محمد قلنسوة من خز

আমি কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ রাহ.-এর মাথায় পশমের টুপি দেখেছি।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৫/১৮৯; হিলইয়াতুল আওলিয়া ২/১৮৫ (শামেলা)

5.      মুহাম্মাদ ইবনে হিলাল বলেন,

رأيت سعيد بن المسيب يعتم وعليه قلنسوة لطيفة بعمامة بيضاء

আমি সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়িবকে একটি পাতলা টুপির উপর পাগড়ি বাঁধতে দেখেছি।-তবাকাতে ইবনে সাদ, ৫/১৩৮; সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/২৪২ (শামেলা)

6.      কাসিম ইবনে মালিক এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন-

رأيت على الضحاك قلنسوة ثعالب

অর্থ : আমি যাহহাক রাহ.-এর মাথায় একটি চামড়ার টুপি দেখেছি।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৬/৩০১ (শামেলা)

7.      যুহাইর বলেন,

رأيت أبا إسحاق السبيعي وهو يصلي بنا، يأخذ قلنسوته من الأرض فيلبسها أو يأخذها عن رأسه فيضعها.

আমি আবু ইসহাক আসসাবীয়ীকে দেখেছি তিনি আমাদের নিয়ে নামায পড়েছেন। তিনি টুপি খুলে মাটিতে রাখছেন কিংবা তা উঠিয়ে মাথায় পরছেন।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৬/৩১৪ (শামেলা)

8.      ইয়াযিদ ইবনে আবী যিয়াদ রাহ. বলেন,

رأيت إبراهيم النخعي يلبس قلنسوة ثعالب

আমি ইবরাহীম নাখায়ী রাহ.-এর মাথায় চামড়ার টুপি দেখেছি।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৬/২৮০ (শামেলা)

9.      আবুল হাইসাম আলকাসসাব বলেন, আমি ইবরাহীম নাখায়ীর মাথায় তায়লাসার টুপি দেখেছি, যার অগ্রভাগে চামড়া ছিল।-প্রাগুক্ত

10.   বাক্কার ইবনে মুহাম্মাদ বলেন, আমি ইবনে আউস-এর মাথায় একটি টুপি দেখেছি, যা এক বিঘত উঁচু ছিল।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৭/২৬৭ (শামেলা)

11.   ফযল ইবনে দুকাইন বলেন, আমি দাউদ আততায়ীকে দেখেছি। তাঁর টুপি আলিমগণের টুপির মতো ছিল না। তিনি কালো লম্বা টুপি পরতেন, যা ব্যবসায়ীরা পরে থাকে।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৬/৩৬৭ (শামেলা)

12.   ইমাম মালেক বলেন, আমি রবীয়া ইবনে আবদুর রহমান আররায়ীর মাথায় একটি টুপি দেখেছি, যার বাইরে ও ভেতরে রেশমজাতীয় কাপড় ছিল।-তবাকাতে ইবনে সাদ (আলকিসমুল মুতাম্মিম) ১/৩২১ (শামেলা)

13.  শুআইব ইবনে হাবহাব বলেন, প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আবুল আলিয়ার একটি টুপি ছিল, যার পাটের ভিতর চামড়া ছিল।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৭/১১৬ (শামেলা)

14.   আফফান ইবনে মুসলিম বলেন, আবু আওয়ানা টুপি পরতেন।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৭/২৮৭ (শামেলা)

15.   আফফান ইবনে মুসলিম বলেন, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ একটি সাদা পাতলা লম্বা টুপি পরতেন।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৭/২৮৬ (শামেলা)

16.  হযরত সায়ীদ ইবনে জুবাইর রাহ.-এর শাহাদতের ঘটনায় আছে, যখন হাজ্জাজ জল্লাদকে বলল, তার গর্দান উড়িয়ে দাও তখন সে তা করল (নাউযুবিল্লাহ)। সায়ীদ ইবনে জুবাইর এর শীর একদিকে ছিটকে পড়ল। তখন তার মাথার সাথে একটি সাদা টুপি মিলিত ছিল।-তবাকাতে ইবনে সাদ ৬/২৬৫ (শামেলা)

17.   হযরত সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা বলোনিশরীক ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিয়ে জানাযার নামায পড়লেন এবং তার টুপিকে সুতরা হিসেবে সামনে রাখলেন।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৬৯১

উল্লেখ্য, কারো কারো ধারণা, ঐ যুগে টুপি এত লম্বা ছিল যে, তা দিয়ে সুতরাও দেওয়া যেত। আসলে তা নয়। সুতরার ক্ষেত্রে এ কথাও আছে যে, সুতরা দেওয়ার মতো কোনো কিছু পাওয়া না গেলে কমপক্ষে একটি রেখা হলেও যেন টেনে দেওয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতেই তারা রেখা না টেনে কমপক্ষে টুপিটা হলেও রাখতেন। যেন কিছু একটা রাখা হয়। এটা টুপি লম্বা হওয়া বা ছোট হওয়া আবশ্যক করে না।

তাবেয়ীনের টুপি সম্পর্কে আপাতত এ কয়েকটি রেওয়ায়েত উল্লেখ করা হল।

বিজ্ঞ পাঠক আমাদের বরাতগুলো দেখে সম্ভবত অনুমান করতে পেরেছেন যে, হাদীস ও তারীখের দু’ চারটি কিতাব থেকেই তা সংগ্রহ করা হয়েছে। যদি হাদীস-আছার ও তারীখের কিতাবাদিতে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয় তাহলে এ বিষয়ে বিশাল সংগ্রহ প্রস্ত্তত হবে। কিন্তু আমরা এখানে এতটুকুই যথেষ্ট মনে করছি।

আমরা এখানে সতেরজন তাবেয়ীর বরাত উল্লেখ করেছি। এদের মধ্যে আছেন হুসাইন রা.-এর পুত্র, যিনি আহলে বাইতের একজন। আছেন সালেম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর, যিনি মক্কা নগরীর ফকীহদের একজন। আরো আছেন সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়্যিব ও সায়ীদ ইবনে জুবাইর এবং ইবরাহীম নাখায়ীর মতো অকুতোভয় ফকীহ ইমাম।

তাঁদের মতো মনীষী ব্যক্তিত্ব কোনো বিষয়ে একমত হবেন আর তা নবী ও সাহাবীদের যুগে থাকবে না তা কি চিন্তা করা যায়?

মুজতাহিদ ইমামগণের টুপি

মুজতাহিদ ইমামগণ হলেন কুরআন-সুন্নাহর ভাষ্যকার এবং কুরআন-সুন্নাহর বিধানের সংকলক। গোটা মুসলিম জাহানের অধিকাংশ মুসলিম তাঁদের ব্যাখ্যা অনুসারেই কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক আমল করেন। তাই তাদের টুপি ব্যবহারের বিষয়টিও উল্লেখ করছি।

ইমাম আবু হানীফা রাহ.-এর টুপি

ইমাম আবু হানীফা উঁচু টুপি পরতেন।-আলইনতিকা, পৃষ্ঠা : ৩২৬; উকুদুল জুমান, পৃষ্ঠা : ৩০০-৩০১

ইমাম মালিক রাহ.-এর টুপি

كان مالك بن أنس إذا أراد أن يخرج يحدث توضأ وضوءه للصلاة ... ولبس قلنسوته ومشط لحيته ...

অর্থ : ইমাম মালেক রাহ. যখন হাদীস বর্ণনার জন্য বের হতেন তখন অযু করতেন, টুপি পরতেন ও দাঁড়ি আঁচড়ে নিতেন।-আলজামে, খতীব বাগদাদী ১/৩৮৮, বর্ণনা : ৯০৩

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ.-এর টুপি

ফযল ইবনে যিয়াদ বলেন-

رأيت على أبي عبد الله (الإمام أحمد) ... عليه عمامة فوق القلنسوة ... وربما لبس القلنسوة بغير عمامة.

অর্থ : আমি ইমাম আহমদকে টুপির উপর পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। ... তবে কখনো কখনো তিনি পাগড়ি ছাড়া টুপি পরেছেন।-সিয়ারু আলামিন নুবালা ১১/২২০ (শামেলা)

এ পর্যন্ত আমরা টুপির ক্ষেত্রে নবী-যুগ, সাহাবা-যুগ ও তাবেয়ী-যুগের ইতিহাস পেলাম। আল্লাহর রহমতে আমরা সংশয়হীনভাবে বুঝতে পারলাম যে, এসব যুগে টুপি ছিল এবং মুসলমানদের পোশাক হিসেবে অন্যান্য পোশাকের মতো টুপিরও ব্যাপক প্রচলন ছিল। বলাবাহুল্য, প্রত্যেক প্রজন্ম তার পূর্ববর্তী প্রজন্ম থেকেই দ্বীন শেখে।

সুতরাং তাবেয়ীন থেকে তাবে তাবেয়ীন তাদের থেকে তাদের পরবর্তীগণ এভাবে নবী-যুগ, সাহাবা-যুগের এ সুন্নাহ আমাদের পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে। দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ের মতো এ বিষয়েও আমরা আমাদের স্বর্ণোজ্জ্বল অতীতের সাথে যুক্ত। 