Translate

বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১২

জান্নাতের সার্টিফিকেট দেওয়ার সাধ্য কারও নেই ;

 مولانا عبد الله نظامى
এ পৃথিবীতে জান্নাত প্রদানের অধিকার যদি কারও থাকত তাহলে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই এ অধিকার সবচেয়ে বেশি সংরক্ষণ করতেন। তিনি ছিলেন নবীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।




কিন্তু তিনি তো কাউকে জান্নাতের টিকেট দিয়ে যাননি। বরং তিনি তার কলিজার টুকরা হজরত ফাতেমা (রা.) কে ডেকে বলেছেন, হে ফাতেমা! আমার কাছে অর্থসম্পদ চাও, আমি আমার সাধ্যমতো তোমার দাবি পূরণ করব। আমি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী বলে তুমি আমার ওপর ভরসা করে বসে থেকো না। জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য তুমি আমল করে যাও। তোমার বদ আমলের কারণে যদি আল্লাহ পাক তোমাকে জাহান্নামের বাসিন্দা করেন শ্রেষ্ঠ নবী হয়েও আমি তোমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিতে পারব না। তুমি যদি দুনিয়া থেকে ইমান-আমল ঠিক করে আসতে পার, আর সামান্য ঠেকে যাও তাহলে অন্যান্য উম্মতের মতো আল্লাহর দরবারে তোমার জন্য সুপারিশ করতে পারব; এর চেয়ে বেশি কিছু করতে পারব না।







ফাতেমাকে মহব্বত :



হজরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত ফাতেমা (রা.) কে কেমন মহব্বত করতেন তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ থেকে কিছুটা অনুমান করা যায়। যেমন, রহমতে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও সফরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে যাত্রার প্রারম্ভে অবশ্যই হজরত ফাতেমা (রা.) এর বাড়িতে গিয়ে দেখা করতেন এবং বলতেন, হে ফাতেমা! আমি অমুক স্থানে সফরে যাচ্ছি। আবার সফর থেকে ফেরার পথে নিজ বাড়িতে আসার আগে হজরত ফাতেমার বাড়িতে গিয়ে বলতেন, হে ফাতেমা আমি সফর থেকে ফিরে এসেছি।





কন্যা সন্তান মাতা-পিতার জন্য জান্নাত :



হাদিস শরিফে এসেছে, ‘কন্যা সন্তান হলো মাতা-পিতার জন্য জান্নাত, আর পুত্র সন্তান নে

য়ামত।’ অর্থাৎ ওই মাতা-পিতা আল্লাহ পাক যাদেরকে মেয়ে সন্তান দান করেছেন, অতপর তারা সেই মেয়েকে সঠিকভাবে প্রতিপালন করেছে এবং তার যাবতীয় হক আদায় করেছে।



মাতা-পিতার প্রতি মেয়ের দুটি হক রয়েছে :



১. দ্বীনি, ২. দুনিয়াবী।

দুনিয়াবী হক হলো_ মেয়ের সুস্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখা। তার পোশাক-পরিচ্ছদের প্রতি খেয়াল রাখা।

আর দ্বীনি হক হলো_ তাকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করা, পর্দানশীন বানানো, স্বামীর মর্যাদা শিক্ষা দেওয়া, ধৈর্য-সহ্য শিক্ষা দেওয়া ইত্যাদি।



দ্বীনি শিক্ষা ব্যতীত তাদের উত্তম চরিত্রে চরিত্রবান বানানো আদৌ সম্ভব নয়। মেয়ের পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করে তাকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার পর সে যখন বড় হবে তখন তাকে অন্যত্র বিবাহ দিতে হবে, সে অন্যের ঘরে চলে যাবে, তখন পিতা-মাতা হবে তার দুইনম্বর আপন, আর স্বামী হবে এক নম্বর আপন;

এ বিষয়গুলো বুঝেও যেসব পিতা-মাতা তাদের মেয়েদের পেছনে নিঃস্বার্থভাবে মেধা, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাদের হজরত ফাতেমা (রা.) এর মতো চরিত্রবান করে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালান, সেসব পিতা-মাতার জন্যই তাদের মেয়েরা জান্নাত প্রাপ্তির উছিলা হবে। হাদিসে এ কথাটিই বলা হয়েছে, মেয়ে হলো মাতা-পিতার জন্য জান্নাত।



মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১২

العائلة**عورة الرجل শরীয়তের বিধান মতে

abdullah nezami  عبد الله نظامى
=================================

প্রবাস জীবনে অনেক ধরনের লোক দেখার সূযোগ হয়েছে ,

তন্মধ্যে স্বদেশী ও বিদেশী ও আছে অনেক ,

ডিউটি শেষে ঘরে পিরে রিলেক্স নিতে গিয়ে শরিরের সব বস্র খুলে যেন অমানুষ হয়ে থাকতে চায় , বাসায় অন্যান্য লোক সমপাটি/ সহকর্মিরা যে আছে সেটার কোন তোয়ক্কা না করে হাপ প্যানট বা চিপা চাপা জাইজ্ঞা পরে থাকতে দেখা য়ায় . যাতে শরীরের সমস্ত সদর ঘাট পর্যন্ত দেখাতে কন্ঠবোধ করেনা



বর্তমানে কথিত মোডেল করতে গিয়ে অনেকে আবার পরনের কাপড় ও রাখতে চায়না,

আবার কেউ বা রাখলে ও না রাখারই নামান্তর

এ জন্য কয়েকটি মাসয়ালা

নিন্মে বর্ননা করা হলো



حكم كشف العورة أمام أفراد العائلة [ ১ ]

السؤال

১// পরিবারের সদস্যদের সামনে সতর খোলার হুকূম কি?

অথবা -------



هل يجوز للشاب كشف عورته أمام أفراد عائلته غير زوجته؟ى



২// কোন যুবকের জন্য স্বীয় স্ত্রী ছাডা পরিবারের সদস্যদের সামনে সতর খোলা কি জায়েয? উত্তর:-----------------------





الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وأصحابه أجمعين، والتابعين، ومن تبع هداهم بإحسان إلى يوم الدين، وبعد:

لا يجوز كشف العورة، سواء للرجال أو النساء، ولو أمام نفس الجنس لكل منهم، سوى الزوجين، فيحل لهما ذلك، قال تعالى: ْ (هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ)(البقرة: من الآية187).





উত্তর:----------------------.স্বীয় সতর সে মহিলা বা পুরুষ ইউক পরিবারের সদস্যদের সামনে / বা অন্য কোন স্বজাতীর সামনে সতর খোলা জায়েয নেই . কিন্তু স্বামী -স্ত্রীর জন্য বৈধ

যেমন تعالى: ْ (هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ)(البقرة: من الآية187 তাহারা[ স্ত্রী] তোমাদের পোশাক স্বরুপ , আর তোমরাও {স্বামীগন] তাদের পোশাক স্বরূপ

বাকারাহ; ১৮৭



http://islamic-fatwa.net/fatawa/index.php?module=fatwa&id=1515





:

এ সমপর্কীয় বিভিন্ন মাছয়ালা যা অনূসন্ধানে পাওয়া যায় তা বননা করা হলো

"الحق وجوب ستر العورة في جميع الأوقات إلا وقت قضاء الحاجة وإفضاء الرجل إلى أهله كما في حديث ابن عمر،وعند الغسل على الخلاف الذي مر في الغسل ومن جميع الأشخاص إلا في الزوجة والأمة".

সদা সর্বদা সতর ডেকে রাখা সকল মুসলমান নর-নারীর উপর ফরজ/ওয়াজিব , শুধু মাত্র কজায়ে হাজাত তথা পায়খানা প্রশ্রাব , নির্জনে গোসল করলে, স্বামী-স্ত্রী মিলন , আপারেশন, ডেলীভারী, ও সতরের স্হানে কোন রোগব্যাধি হলে ডাক্তারদের সামনে সতর খোলার অনূমতি আছে



http://www.ahlalhdeeth.com/vb/showthread.php?t=34541









=========================================

هـ - عورة الرجل بالنسبة للرجل:



=======================================

এতক্ষন সতর খোলার হুকুমের ব্যপারে আলোকপত করা হয়েছে



এখন সতরের হুদুদ/ সীমানা সমপর্কে আলোকপাত করা যাক

ঈমাম আযম আবুহানিফা রঃ এর মতে পুরুষের সতর নাভী হইতে হাঁটু পর্যন্ত , তবে নাভী তাঁর মতে সতরের অন্তভূক্ত না হলেও হাঁটু সতরের অন্তভূক্ত৷



عورة الرجل بالنسبة إلى رجل آخر –سواء كان قريبا له أو أجنبيا عنه- هي ما بين سرته إلى ركبته عند الحنفية، ويستدلون بما روى عن النبي –صلى الله عليه وعلى آله وسلم- أنه قال:"ما تحت السرة عورة" والسرة عندهم ليست بعورة استدلالا بما روى أن الحسن بن علي –رضي الله عنهما- أبدى سرته فقبلها أبو هريرة –رضي الله عنه-، ولكن الركبة عورة عندهم، بدليل ما روى عن النبي –صلى الله عليه وعلى آله وسلم- أنه قال:"الركبة من العورة".



وما جاز نظره من الرجل بالنسبة للرجل جاز لمسه.

==================================================

আর ইমাম শাফেয়ীও হানাবেলার মত হলো নাভীও-হাঁটু সতর নয় ,পুরুষের ক্ষেত্রে বরং উভয়ের মর্ধবর্তী জায়গা টুকুই সতর > যা ডেকে রাখা ফরজ



والشافعية والحنابلة في المذهب يرون أن الركبة والسرة ليستا من العورة في الرجل، وإنما العورة ما بينهما فقط.





لما روي عن أبي أيوب الانصاري –رضي الله عنه- قال: قال رسول الله –صلى الله عليه وعلى آله وسلم- :"ما فوق الركبتين من العورة، وما أسفل السرة وفوق الركبتين من العورة".



وجواز نظر الرجل من الرجل إلى ما هو غير عورة منه مشروط بعدم وجود الشهوة وإلا حرم.

এক পুরুষ অপর পুরুষের সতর দেখা জায়েয নেই , তবে সতর ব্যতিরেকে অন্যান্য স্হান দেখা জায়েয থাকলে ও শাহওয়াত তথা কূপ্রবিত্তি/ খারাপ ধারনা নিয়ে দেখা জায়েয নেই .বরং শাহওয়াতের সাথে তাকানো হারাম



ويرى المالكية في المشهور عندهم أن عورة الرجل بالنسبة للرجل ما بين السرة والركبة، وعليه فإن الفخذ عورة لا يجوز النظر إليها في المشهور عندهم،



আর ইমাম মালেক রঃ মতে পুরুষের সতর নাভী হইতে হাঁটু পর্যন্ত , তঁর মতে পুরুষের রান ও সতর যা দেখা জায়েয নেই ৷

وقيل: لا يحرم وإنما يكره، وقيل: يكره عند من يستحى منه،

আবার কেউ বা রান খোলা ারাখাকে মাকরূহ তাহরিমা বলেছন কিন্তু -------------------------------------------------------------- যারা ধার্মীক , লজ্যাশীলা তাদের সামনে স্বীয় রান খোলা রাখা হারাম

بدليل أن النبي –صلى الله عليه وعلى آله وسلم- كشف فخذه عند أبي بكر وعمر –رضي الله عنهما-، ولما دخل عثمان –رضي الله عنه- ستره وقال:"ألا أستحي من رجل تستحي منه الملائكة".



و- عورة الرجل بالنسبة للأجنبية:

====================================



اختلف الفقهاء في عورة الرجل بالنسبة للأجنبية. ومذهب الجمهور أن للمرأة النظر إلى ما عدا ما بين السرة إلى الركبة إن أمنت على نفسها الفتنة.



والمالكية يرون أن لها النظر إلى ما يراه الرجل من محرمه وهو الوجه والأطراف عند أمن الفتنة.



ز- عورة كل من الزوجين بالنسبة للآخر:

======================================



لا خلاف بين الفقهاء في أنه ليس أي جزء من بدن الزوجة عورة بالنسبة للزوج وكذلك أي جزء من بدنه بالنسبة لها وعليه يحل لكل واحد منهما النظر إلى جميع جسم الآخر ومسه حتى الفرج، لأن وطأها مباح، فيكون نظر كل منهما إلى أي جزء من أجزاء الآخر مباحا بشهوة وبدون شهوة بطريق الأولى، والأصل فيه قوله –تعالى-:{وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ (5) إِلاَّ عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ}المؤمنون-5-6، وما ورد عن بهز بن حكيم عن أبيه عن جده قال: قلت يا رسول الله: عوراتنا ما نأتي منها وما نذر؟ قال:"احفظ عورتك إلا من زوجتك أو ما ملكت يمينك".



ومن التفصيل يمكنك أن تعرف حكم كشف اللاعبين لأفخاذهم-والله أعلم-.



المراجع



http://ejabat.google.com/ejabat/thread?tid=71b36d8cb65c9592







ما حكم إظهار عورة الرجل على الرجل

.



===========================================

=======================================







الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه، أما بعـد:



فإنه لا يجوز للرجل أن يكشف عورته أمام الرجل، ولا يجوز للرجل نظرها أيضاً إلا لحاجة كالتداوي : .



والله أعلم.



http://www.islamweb.net/fatwa/index.php?page=showfatwa&Option=FatwaId&Id=155339





هل لباس سروال قصير فوق الركبة أمام الأم والأخت وبناتها

حرام؟





প্রশ্ন ; মা বোন এবং নিজ মেয়েদের সামনে হাঁটুর উপরে হাপ প্যান্ট পরা জায়েয কিনা

================*********** ============================

উত্তর;;;---------------------------------------------------- প্রত্যেক মুসলমানের ওয়াজিব যে সকল মাখলুক থেকে তার সতর ডেকে রাখা শুধু মাত্র স্ত্রীও বান্দীর থেকে





الإجابــةالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه أما بعد:



فيجب على المسلم أن يستر عورته عن جميع الخلق؛ إلا الزوجة أوأمته التي تحل له. وعورة الرجل أمام محارمه هي ما بين سرته وركبتيه.



لما رواه أبو داود والترمذي عن بهز بن حكيم عن أبيه عن جده أنه قال للنبي صلى الله عليه وسلم : عوراتنا ما نأتي منها وما نذر؟ قال: احفظ عورتك إلا من زوجتك أو ما ملكت يمينك، قال: قلت: يا رسول الله، إذا كان القوم بعضهم في بعض؟ قال: فإن استطعت ألا يرينها أحد فلا يرينها، قال: قلت: يا رسول الله، إذا كان أحدنا خاليا؟ قال: الله أحق أن يستحيا منه من الناس. ولما رواه مالك في الموطأ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: غط فخذك، فإن الفخذ عورة.

ومما تقدم يتبين لنا أنه يجب على المسلم أن يستر ما بين سرته وركبته، وليست السرة والركبة داخلتين في حد العورة، هذا ما ذهب إليه الجمهور وأيدته الأدلة.

فعلى السائل الكريم أن يلبس سروالاً أو غيره يستر حد العورة المذكور أمام أمه وأخواته وبنات أخواته والناس كلهم؛ إلا الزوجة.

والله أعلم.







http://www.islamweb.net/fatwa/index.php?page=showfatwa&Option=FatwaId&lang=A&Id=21786

.ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় প্রতিবেশির গুরুত্ব

ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় প্রতিবেশির গুরুত্ব


এম আবদুল্লাহ ভূঁইয়া

আমাদের পুরো পৃথিবীটাই হল একটা সমাজ বা সংসার। এই সংসারের ক্ষুদ্র একক হল পরিবার। পৃথিবীতে এত অশান্তি, ঝামেলা, বিশৃঙ্খলা দূর করতে হলে আমাদের পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। আমাদের সমাজে এখনো পরিবার টিকে আছে। পশ্চিমি দেশ গুলোতে পরিবার বলে কিছু নেই। মামা নেই, কাকা নেই, ফুফু বা খালাও নেই। বিয়ের আগেই ছেলেরা মা বাবাকে ছেড়ে অন্য জায়গায় থাকে। পরিবারের পরেই আসে প্রতিবেশি। একজন মুসলমানকে প্রতিবেশির সাথে কেমন ব্যবহার করা উচিত সে ব্যাপারে আলোকপাত করতে চাই।





রাসুলুল্লাহ(সা) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের উপর ইমান রাখে তার কর্তব্য হল সে যেন নিজ প্রতিবেশির সাথে একরামের ব্যবহার করে।



সাহাবায়ে কেরাম(রা) জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ(সা) প্রতিবেশির হক কি? নবীজী(সা) বললেন, ‘যদি সে তোমার কাছে কিছু চাই তাহলে তাকে সাহায্য কর, যদি সে নিজের প্রয়োজনে ধার চাই তাকে ধার দাও, যদি সে তোমাকে দাওয়াত করে তা কবুল কর, সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দেখতে যাও, যদি তার ইন্তেকাল হয়ে যায় তাহলে তার জানাযায় শামিল হও, যদি সে কোন মুসিবতে পড়ে তাকে শান্তনা দাও,নিজের পাতিলে গোস্ত রান্নার খুশবু দিয়ে তাকে কষ্ট দিয় না (কেননা হতে পারে অভাবের কারণে সে গোস্ত রান্না করতে পারে না)বরং কিছু মাংস তার ঘরে পৌছে দাও, আপন বাড়ীর ইমারত তার বাড়ীর ইমারত হতে এতটা উচু কর না যাতে তার ঘরে বাতাস বন্ধ হইয়ে যায় অবশ্য তার অনুমতিক্রমে হলে ভিন্ন কথা” (তারগিব)।





একজন মুসলমানের উপর তার প্রতিবেশির কতটা হক তা উপরের হাদিসটা থেজেই বোঝা যাচ্ছে। একবার একব্যক্তি রাসুল(সা) কে বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী(সা) অমুক মহিলা অধিক পরিমানে নামায, রোজা ও দান-খয়রাত করে কিন্তু আপন প্রতিবেশিদেরকে নিজের জবানের দ্বারা কষ্ট দেয় অর্থাৎ গালিগালাজ করে। রাসুল(সা) বললেন সে দোজখে যাবে। আতঃপর সে ব্যক্তি আরজ করলেন হে আল্লাহর নবী(সা)! অমুক মহিলা নফল নামায, নফল রোজা ও দান-খয়রাত কম করে, বরং তার দান-খয়রাত পনীরের একটি টুকরোর থেকে বেশি নয়, কিন্তু নিজের প্রতিবেশিদেরকে জবানের দ্বারা কষ্ট দেয় না। রাসুল(সা) বললেন সে জান্নাতে যাবে” (মুসনাদে আহমাদ)।





একজন মুসলমান যদি নামায রোজা করে অথচ তার প্রতিবাশির সাথে উত্তম ব্যবহার না করে বা প্রতিবেশির খেয়াল রাখে না রাখে তাহলে সে ভালো মুসলমান হতে পারবে না। এই ব্যাপারটা এই হাদিসটি থেকে পরিস্কার হয়ে যাবে।



রাসুল(সা) বলেছেন, ‘ঐ ব্যক্তি (পুর্ণ) মুমিন হতে পারবে না যে নিজে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশি ক্ষুধার্ত থাকে” (তাবারানী, আবু ইয়ালা, মাজমায়ে যাওয়ায়েদ)। প্রতিবেশির সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে, তাকে কোন ভাবেই পরিশান করা চলবে না। নবীজী(সা) বলেছেন, ‘ঐ ব্যক্তি জান্নাতে যেতে পারবে না, যার উপদ্রব থেকে তার প্রতিবেশি নিরাপদে থাকতে পারে না’ (মুসলিম)।



রাসুল(সা) আরও বলেছেন, ‘তোমরা যখন তরকারি পাকাও তখন তাতে জল দাও এবং ঝোল বাড়াও এবং কিছু অংশ তোমার প্রতিবেশির কাছে পৌছে দাও’ (তিরমিযী)।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রা) হতে বর্নিত একবার একব্যক্তি রাসুল(সা)কে জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ(সা)! আমি কিভাবে জানতে পারব এই কাজটি ভালো করেছি বা এই কাজটি খারাপ করেছি? রাসুল(সা) বললেন, ‘যখন তোমার প্রতিবেশিকে বলতে শুনবে তোমার কাজকর্ম ভালো তখন নিশ্চয় তোমার কাজকর্ম ভালো। আর যখন তোমার প্রতিবেশি বলবে তোমার কাজকর্ম খারাপ তখন নিশ্চয় তোমার কাজকর্ম খারাপ’ (তাবারানী, মাযমায়ে যাওয়ায়েদ)।





আল্লাহ তা’আলা সুরা নিসার মধ্যে বলেছেন, “তোমরা সকলেই আল্লাহ তা’আলার সাথে কোন জিনিসকে শরিক করিও না এবং মা বাবার সাথে ভালো ব্যবহার কর এবং আত্মীয় স্বজনদের সাথেও এবং এতিমদের সাথেও মিশকিনদের সাথেও এবং নিকটবর্তী ও দুরবর্তী প্রতিবেশিদের সাথেও এবং নিকটে যারা বসে তাদের সাথেও (অর্থাৎ যারা দৈনিক আসা যাওয়া ও সঙ্গে উঠা বসা করে) এবং মুসাফিরের সাথেও এবং ঐ গোলাম (দাস) দের সাথেও যারা তোমাদের অধিনে আছে। নিসন্দেহে আল্লাহ এমন লোকদের পছন্দ করেন না যারা নিজেদেরকে বড় মনে করে ও অহংকার করে”।





আল্লাহ আমাদের সকলকে প্রতিবেশির সাথে উত্তম ব্যবহার করার তৌফিক দান করুন আমীন!



শিশুর সুন্দর নাম রাখার গুরুত্ব ও সুন্দর নামে ডাকুন

abdullah nezami
আমি যখন লোহাগডা/আমিরাবাদ মাদ্রাসায়ে হোছাইনিয়া আজিজুল উলুম রাজঘাটায় ছিলাম, সে সময়ের কথা। একদিন আমার রুমে কয়েক জন মেহমান আসলেন। তাঁদের মেহমানদারীর জন্য, দুই জনকে দোকানে পাঠালাম।






তাদের এক জনের নাম ছিল মিষ্টি।

কিছু খাবার নিয়ে অন্যজন ফিরে এসে আমাদেরকে নাস্তা দেয়ার সময়, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, মিষ্টি কই?

অন্যান্য মেহমানরা বুঝলেন নাস্তার মধ্যে মিষ্টি না থাকায় আমি মিষ্টির কথা বলছি। তাই তারা বলতে লাগলেন , অনেক নাস্তা হয়েছে, মিষ্টি লাগবেনা। সে সময়ই নীচ থেকে মিষ্টি নামক ভদ্র লোকটি এসে হাজির। তখন আমি তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললাম এর নামই মিষ্টি।



সবাই মিষ্টি খাবার আনন্দের চেয়ে বেশী আনন্দ উপভোগ করলেন। এভাবে আমরা প্রতি নিয়ত অনেক নাম শুনি।



সে সব নাম শুনে বুঝা যায় না, এটা কিসের নাম?



যেমন আমার পরিচিত এক জনের নাম ছিল আকাশ।



রাস্তায় চলতে হঠাৎ যদি তাকে দেখে কোন বন্ধু বলে উঠতো এইতো আকাশ। তখন অনেকের চোখ আকাশের দিকেই নিবদ্ধ হতো। আরেক জনের নাম ছিল পল্লব। এই পল্লব কি গাছের পাতা না আশরাফুল মাখলুকাত কোন এক মানুষের নাম তা বুঝা একটু কঠিন। আমার পরিচিত আরেক জনের নাম ছিল ইতি, ইতি অর্থ শেষ। এ ধরনের আরও কত নাম শুনেছি, যা নিয়ে বন্ধু মহলে হাসাহাসি হত।



সাধারণত নিজের নাম রাখা কেন্দ্রীক নিজের কোন দায়িত্ব নেই। বাবা মা বা আত্মীয় স্বজনরাই নাম রাখেন। কিন্তু বড় হলে নাম কেন্দ্রীক ব্যাঙ্গ তাকেই শুনতে হয়। কেননা বাবা মা বা আত্মীয় স্বজন নাম রাখার সময় চিন্তা করেননি নামের অর্থ কি?



তাই অনেককে বড় হয়ে এফিডেভিট দিয়ে নাম সংশোধন করতেও দেখা যায়।



একজন শিশু জন্মগ্রহণ করার পর তার আকীকা করা ও নাম রাখা পিতা মাতার দায়িত্ব। শিশুর জন্মের পর সপ্তম দিন আকীকা ও নাম রাখা সুন্নাত।



কোন কোন হাদীস অনুযায়ী জন্মের পর পরই নাম রাখা যায়। আর কোন কোন হাদীসে জন্মের পর তৃতীয় দিবসে নাম রাখার কথা উল্লেখ আছে। নাম যখনই রাখা হোক না কেন, নামকরণের ক্ষেত্রে উত্তম নাম তালাশ করা উচিত। রাসুল (স.) শিশুর সুন্দর নাম রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন; ‘‘ কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের নাম এবং তোমাদের পিতার নামে।



তাই তোমাদের নাম গুলো সুন্দর রাখো”। তাঁর কাছে কোন নতুন ব্যক্তি এলে তার নাম জিজ্ঞাসা করতেন , অপছন্দ হলে সে নাম পরিবর্তন করতেন। যেমন তিনি আসিয়া ( বিদ্রোহিণী) নাম পরিবর্তন করে জামিলা নাম দিয়েছিলেন আর আসসারম (কঠোর) নাম পরিবর্তন করে সায়ীদ নামকরণ করেছিলেন। তিনি এভাবে অনেকের নাম পরিবর্তন করেন।



মানুষ একে অপরকে নাম ধরেই ডাকে। কারো সাথে পরিচয়ের শুরুতেই জানতে চায় আপনার নাম কি? বিশেষত একজন শিশুর সাথে কারো দেখা বা পরিচয় হলে তার নাম জানতে চায়। তাই শিশুর জীবনে নামকরণের বিরাট প্রভাব পড়ে।



আমার এক আত্মীয়ের এক ছেলের নাম সালেহ, এটা একজন নবীর নাম। তাঁর আরেক ছেলের নাম এহসান। এহসান কোন নবীর নাম কিনা তা কারো জানা নেই। সালেহ প্রায়ই গর্ববোধ করে বলে তার নাম একজন নবীর নাম, কিন্তু তার অপর ভাইর নাম নবীর নাম নয়। এভাবে সকল শিশুই একটু বড় হলেই তার নামের অর্থ জানার চেষ্টা করে।



আরেকটু বড় হলে তার নামের সাথে অন্য কারো নাম মিলে গেলে তার সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। আরও একটু বড় হলে তার নামের সাথে প্রসিদ্ধ কারো নামের মিল খুঁজে বের করার চেষ্টা করে এবং তার জীবনী পড়ে। যার গভীর প্রভাব তার জীবনে গিয়ে পড়ে। অবশ্য সকল ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম থাকে, তার কথা আলাদা।



মুসলিম সমাজে আলেম উলামাদের সাথে পরামর্শ করে সুন্দর নাম রাখার রেওয়াজ ছিল। তাঁরা নামের অর্থ ও ফযীলতের দিকে দৃষ্টি রেখেই নামকরণ করতেন। তাই সে সব নামের মধ্যে মুসলিম কালচারের প্রভাব ছিল।



এ ধরনের নাম শুনলেই আঁচ করা যায় এটা কোন মুসলমানের নাম। কিন্তু আস্তে আস্তে নামকরণের ক্ষেত্রেও তথা কথিত আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে। আরবী অর্থ বহ নামের পরিবর্তে সংস্কৃত, ইংরেজী বা বাংলা এমন সব নাম রাখা শুরু হয়। যার অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়না। আবার অর্থ থাকলেও তা শুনতে শ্রুতিমধুর লাগেনা।



যেমন ডলি, বেনু, অনিল, শ্যামা, শিপ্রা, চপল, চঞ্চল, তুষার, সৈকত, বাদল, শিমুল কাজল, নিশাত, ময়না, টিংকু, শীতল, রীতা, অভি

কপি , ছেন্টু , বলটু , সাগর , সিজার, জিকা, ইত্যাদি।





এ ধরনের নাম শুনে মুসলিম বা অমুসলিম কিছুই বুঝা যায় না। প্রাসঙ্গিক ভাবে এ কথা খেয়াল রাখতে হবে যে, আরবী নাম রাখলেই অর্থ বহ হয়না। কেননা আল্লাহর রাসুল যে সব নাম পরিবর্তন করেছেন, তা আরবীতেই ছিল। যেমন খায়ল (ঘোড়া) যুওয়াইব (ছোট নেকড়ে বাঘ) শিহাব (অগ্নিস্ফুলিঙ্গ) গোরাব (কাক) বাহীর (কানকাটা) হারব (যুদ্ধ) প্রভৃতি নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দিয়েছেন।





শিরকী নাম

===============



এ থেকে বুঝা যায় নাম সুন্দর ও অর্থবহ হওয়া জরুরী। কিন্তু অর্থ না জানা বা চিন্তা করে নাম না রাখার কারণে অনেককে শিরকী নাম পর্যন্ত রাখতে দেখা যায়। শিরকী নাম হলো আল্লাহ ছাড়া আর কারও নামে আবদ বা গোলাম ইত্যাদি যোগ করে নাম রাখা। যেমন কেউ কেউ পীরের এত ভক্ত যে, সন্তান হবার পর নাম রাখেন পীর বখশ (পীরের দান) ।

গোলাম নবী , গোলাম রসুল, আবদুননবী, আবদুর রসুল ,



অথচ এক জন মুসলমানের এ আকীদা থাকতে হবে যে রাসুল,পীর, অলী কারো পক্ষে সন্তান দেয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ ছাড়া আর কেউ সন্তান দিতে পারেনা। আর একজন মুসলমান একমাত্র আল্লাহরই আবদ বা গোলাম। অন্য কারো নয়, তাই একজন শিশুর নামকরণের ক্ষেত্রে এমন নাম রাখা উচিত নয় যার অর্থ দ্বারা অন্য কারো গোলাম হওয়া বুঝায়।



ইসলামী ও উত্তম নাম

================



আল্লাহর নামের আগে আবদ যোগ করে আব্দুল্লাহ কারো নাম রাখা খুবই উত্তম। এ ভাবে আল্লাহর সিফাতী (গুনবাচক) নামের আগে আবদ যোগ করে নাম রাখা ভাল। যেমন আব্দুর রহমান, আব্দুল করিম, আব্দুর রহিম, আব্দুল আউয়াল, আব্দুল কুদ্দুস প্রভৃতি। তবে এ ক্ষেত্রে নাম ডাকার সময় অবশ্যই আবদ যোগ করেই ডাকতে হবে।





কিন্তু অনেককে দেখা যায় আবদ যোগ না করে শুধু রহীম, রহমান, করীম, কুদ্দুস এ ধরনের আল্লাহর সিফাতী নাম ধরে ডাকেন,এটা অনুচিত। কারণ আল্লাহ যেসব গুনে গুনান্বিত সেব গুনে একজন মানুষ গুনান্বিত হতে পারেনা। তাই মানুষকে আল্লাহর সিফাতী নাম ধরে ডাকা উচিত নয়। তাই আল্লাহর নামের পুর্বে আবদ বা অন্য কোন শব্দ (যেমন আতাউল্লাহ,রহমত উল্লাহ ) যোগ করেই ডাকতে হয়।







নামকরণের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরী, শিশুর পরিচয় পিতার সাথেই সম্পৃক্ত। তাই নামকরণের অধিকার পিতার। অবশ্য পিতা মাতা পরামর্শ করেই নাম ঠিক করা ভাল। অনেক সময় দেখা যায় পিতা মাতা দুই জন দুই নাম পছন্দ করেন, তাই দুই জন দুই নামে ডাকেন। শিশুর অর্থবহ সুন্দর একটি নাম রাখাই উত্তম। আবার অনেকের খুবই দীর্ঘ নাম রাখা হয়, যার কারণে পরবর্তীতে নানা ধরনের সমস্যা পোহাতে হয়। যাদের নাম খুব দীর্ঘ তারা অন্য কোন দেশে গেলে অনেক সময় পরিচিত নামটি হারিয়ে যায়। এজন্য আমি মনে করি এক জন শিশুর সুন্দর, অর্থবহ, সংক্ষিপ্ত, শ্রুতিমধুর নাম হওয়া ভাল। তবে কুনিইয়া (উপনাম) রাখা যেতে পারে। কেননা রাসুল (স) অনেককে এ ধরনের কুনিইয়া বা উপনামে ডাকতেন।



শিশুর সুন্দর নাম রাখার গুরুত্ব

======================================





এক জন শিশু জন্মগ্রহণ করার পর তার নাম রাখতে হয়। সে সময় তার যে নাম রাখা হয় সবাই তাকে সেই নামেই ডাকে। সে ডাক শুনেই সে দুধ পানরত অবস্থায়ও বুঝতে পারে, তাকে ডাকছে। তাই কেউ ডাকলে তার দিকে তাকায়। আর বড় হবার পর এ নামেই সে পরিচিতি লাভ করে।



শিশু জন্মগ্রহণ করার পর নিজের নাম নিজে রাখতে পারেনা। এটা পিতা মাতা বা আত্মীয় স্বজনের দায়িত্ব। পিতা মাতা বা যারাই নাম রাখবে তাদের উচিত সুন্দর নাম রাখা। এ প্রসঙ্গে হযরত ইবনে আব্বাস ও আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত আছে যে,রাছুল (সঃ) বলেছেন,যার সন্তান জন্মগ্রহণ করে সে যেন তার সুন্দর নাম রাখে ও সুশিক্ষা দেয় এবং সাবালক হলে তার বিবাহ দেবে। প্রাপ্ত বয়স্ক হলে বিবাহ না দেবার কারণে গুনাহ হলে সে গুনাহ তার পিতার উপর বর্তাবে। (বায়হাকী, হাদীছটি যঈফ)







এ থেকে বুঝা গেল শিশুর সুন্দর নাম রাখা পিতার কর্তব্য। অর্থবোধক, মার্জিত, ইসলামী ভাবধারায় উজ্জীবিত, সুন্দর নাম রাখলে তা শিশুর জীবনে প্রভাব পড়ে।



অন্য আরেক হাদীসে আছে, আবু দারদা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের নামে এবং তোমাদের পিতাদের নামে, তাই তোমাদের নামগুলি সুন্দর রাখো। ( আবু দাউদ)



এ থেকে বুঝা যায় শিশুর নাম রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুখের বিষয় হচ্ছে মুসলিম সমাজে অনেকেই শিশুর এমন নাম রাখেন যা অর্থবোধক নয়। এবং এই নাম শুনে বুঝা যায়না এটা কোন মুসলিম শিশুর নাম কিনা?



ভাল ও মন্দ নামের প্রভাব

====================



এক জন শিশুর যে নামই রাখা হোক না কেন তা তার জীবনে প্রভাব ফেলে। ভাল নামের ভাল প্রভাব আর মন্দ নামের খারাপ প্রভাব পড়ে। এক জন শিশু যখন বড় হয় তখন সে নামের অর্থ জানার চেষ্টা করে। মনে করুন এক জন শিশুর নাম সালেহ, যার অর্থ সৎ কাজ কারী। সে যখন কোন খারাপ কাজ করে তাকে যদি বলা হয় তোমার নামের অর্থ হচ্ছে সৎ কাজ কারী। তুমি যে খারাপ কাজ করলে তা কি ঠিক হলো? নিশ্চয়ই এ কথাটি তার মনে রেখাপাত করবে। এভাবে অনেক শিশু নামের কারণে মন্দ কাজ করতে লজ্জা বোধ করে।

যেমন কারো নাম আবদুল্লহ আর্থ আল্লাহর বান্দা/গোলাম কাজেই তার কাজই হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষে আল্লাহর গোলামী/এবাদত করা , আর তা না করলে স্বভাবতই সে লজ্যা বোধ করবে /মানুষ লজ্যা দিবে,



রাসুল (সঃ) এর সামনে কোন লোক এলে তিনি তার নাম জিজ্ঞাসা করতেন। কারো নাম সুন্দর হলে তিনি খুশী হতেন। আর কারো নাম অসুন্দর হলে তিনি তা পরিবর্তন করে দিতেন।



এক কাহিনী

============





মন্দ নামের করুণ পরিণতির এক কাহিনী ইমাম মালেক তাঁর মুয়াত্তায় উল্লেখ করেছেন।

ইয়্হাইয়া বিন সায়ীদ হতে বর্ণিত আছে যে, উমার ইবনে খাত্তাবের কাছে জুহায়না কবীলার এক ব্যাক্তি এল। তিনি তাকে বললেন, তোমার নাম কি? সে জবাব দিল শিহাব (অগ্নি স্ফুলিঙ্গ)। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন: তুমি কার ছেলে? সে উত্তর দিল ইবনে দেরাম (অগ্নি শিখার ছেলে)। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, তুমি কোন গোত্রের লোক? সে বলল, হারাকা (প্রজ্জলন)। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, তোমার বাসস্থান কোথায়? সে বলল,বাহরুন্নার (অগ্নি গর্ভে)। তিনি সর্বশেষ প্রশ্ন করলেন, কোন অংশে? সে জবাব দিল বিযাতিল লাযা (শিখাময় অংশে)। তখন উমর (রাঃ) তাকে বললেন: যাও তোমার গোত্রের লোকদের কাছে গিয়ে দেখ তারা ভস্মীভুত হয়েছে। লোকটি তাদের কাছে গিয়ে দেখল সত্যিই তারা সকলে ভস্মীভুত হয়েছে।



উমার (রাঃ) দুরদর্শিতার মাধ্যমে এটা উপলব্ধি করেছিলেন। এ থেকে বুঝা যায় মন্দ নাম রাখা ভাল নয়। তাই এক জন শিশু জন্মগ্রহণ করার পর উত্তম নাম তালাশ করা পিতা মাতা বা অভিভাবকদের উচিত।



নামকরণের সময়

==================



শিশু জন্মগ্রহণ করার পর কখন নামকরণ করা সুন্নাত এ সম্পর্কে আলেমদের কয়েকটি মত আছে। কেউ কেউ বলেছেন শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে নামকরণ ও আকীকা করা সুন্নাত।



হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে রাসুলুল্লাহ (সঃ) হযরত হাসান ও হোসাইনের (রাঃ) আকীকা করলেন জন্মের সপ্তম দিনে এবং তাদের দুই জনের নাম রাখলেন। (ইবনে হাব্বান ও আল মুস্তাদরাক)



আর কেউ কেউ মনে করেন শিশুর জন্ম হবার পর পরই তার নামকরণ করা সুন্নাত। তাঁরা হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস দলীল হিসেবে পেশ করেন





আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহার জন্ম হলে তাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর কাছে গেলাম। তখন তিনি উটকে হাত বুলিয়ে আদর করছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তোমার কাছে কি খেজুর আছে? আমি বললাম হ্যাঁ। তারপর আমি তাঁকে খেজুর দিলাম। তিনি তা চিবিয়ে নরম করলেন এবং শিশুটির মুখ ফাঁক করে তার মুখের ভিতর ভরে দিলেন, শিশুটি তখন তার মুখ নাড়াতে শুরু করলো। নবী (সঃ) বললেন আনসারদের প্রিয় হচ্ছে খেজুর। পরে তার নাম রাখলেন আব্দুল্লাহ। (বায়হাকী)



এ থেকে বুঝা যায় শিশু জন্মেও পর পরই তার নাম রাখা যায়।





নামকরণে কুসংস্কারের উদাহরণ

==========================







বাংলাদেশের একটি দ্বীপে আমার জন্ম হয়। আমি ছোট বেলা গ্রামেই কাটিয়েছি। গ্রামে নামকরণ কেন্দ্রীক অনেক কুসংস্কার প্রত্যক্ষ করেছি। গ্রাম থেকে এসে রাজধানী ঢাকায় বেশ কয়েক বছর ছিলাম। অনেক শিক্ষিত লোকদেরকেও দেখেছি, তাঁদের মধ্যে গ্রামের সেই কুসংস্কার বিরাজ করছে।



আমি গ্রামে লক্ষ করেছি যাদের ছেলে বা মেয়ে জন্ম নেয়ার পর পরই মারা যেত, পরবর্তীতে তাদের সন্তান হলে কপালে কালি মেখে দেয়া হতো এবং তাদের অদ্ভুত ধরনের নাম রাখা হতো। যেমন ধুলো, কালো, গজা, পচা ইত্যাদি। এ ধরনের নামকরণের পিছনে উদ্দেশ্য ছিল ভুত, পেত্নী, জ্বিন এমনকি যমদুতের কুদৃষ্টি এড়ানো। এটা এক ধরনের কুসংস্কার। সকল মানুষের জীবন ও মৃত্যু আল্লাহর হাতে। তাই এ ধরনের কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে শিশুর নামকরণ করা ঠিক নয়।



শেরকী আকীদা।

=============





আবার অনেককে দেখেছি দীর্ঘ দিন সন্তান না হবার কারণে পীরের দরবারে বা আওলিয়াদের মাজারে গিয়ে সন্তান ভিক্ষা করতে। এটা সম্পূর্ণ শেরকী আকীদা। কেননা আল্লাহ ছাড়া কারও পক্ষে সন্তান দেয়া সম্ভব নয়। তাঁদের অনেককে দেখেছি দীর্ঘদিন পর সন্তান লাভ করলে এটাকে পীরের দান বলে মনে করতে। তাই তাদের নাম রাখা হতো পীর বখশ বা পীরের দান, খাজা বখশ বা খাজার দান। এ ধরনের নাম রাখাও ঠিক নয়।



এভাবে মুসলমানদের কারো কারো মধ্যে নামকরণ কেন্দ্রীক অনেক কুসংস্কার বিদ্যমান।



নামকরণে কতিপয় লক্ষ্যণীয় দিক

====================





একজন শিশু জন্মগ্রহণ করার পর তার নাম রাখা হয়। শিশুর নামকরণের ক্ষেত্রে কতিপয় বিষয় লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।



১. নাম সুন্দর, মার্জিত, শ্রুতিমধুর ও অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।



২. আব্দুল্লাহ বা আব্দুর রহমান তথা আল্লাহর সত্তাবাচক বা গুণবাচক নামের আগে আবদ বা অন্য শব্দ যোগ করে নামকরণ করা ভাল। তবে এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে ডাকার সময় যেন আবদ বা অন্য শব্দ যোগ করে ডাকা হয়। শুধু রহমান, রহীম, রাজ্জাক ইত্যাদি গুণবাচক নামে যেন ডাকা না হয়।



৩. নামের আগে কুনিইয়া রাখা যায়। আল্লাহর রাছুল এ ধরনের কুনিইয়া রাখতেন।



৪. মুসলিম শিশুর এমন নাম রাখা উচিত যা শোনার সাথে সাথে বুঝা যায় এটা এক জন মুসলিম শিশুর নাম। অনেক সময় দেখা যায় এমন নাম রাখা হয় যা শুনে বুঝা যায় না এটা কি মুসলিম শিশুর নাম না অন্য কোন ধর্মাবলম্বীর? আবার অনেক সময় ছেলে বা মেয়ের নামের মধ্যে ফারাক করা যায়না। যেমন কাজল, নিশাত, ময়না, টিংকু, শীতল, রীতা, অভি ইত্যাদি।



৫. যে সকল গুণবাচক নামের হকদার একমাত্র রাসুলে কারীম (সঃ) সে সব নামে কারও নামকরণ করা ঠিক নয়। যেমন খাতামুন্নাবীয়্যীন (সর্বশেষ নবী), সাইয়েদুল মুরসালীন (রাসুলগণের নেতা)।



৬. আল্লাহ পাকের যাতী নামে কারও নামকরণ করা হারাম। শুধু আল্লাহ কারও নাম রাখা জায়েয নাই। অনুরূপভাবে আল্লাহর সাথে খাস এমন কোন নাম কারো সাথে লাগোনো যাবেনা। যেমন মালেকুল মুলক (জগতের বাদশাহ) সুলতানুস সালাতীন (বাদশাহদের বাদশাহ) ইত্যাদি।



৭. ফেরেশতাদের নামে নামকরণ করাও অধিকাংশ আলেমের মতে নিষিদ্ধ। তাই জিবরীর, ইসরাফীল, আজরাঈল, মীকাঈল ইত্যাদি নামে নামকরণ করা ঠিক নয়।





৮. যে সকল নাম ইসলামের ইতিহাসে খুবই ঘৃণিত সে সকল নামে কোন শিশুর নামকরণ করা ঠিক নয়। যেমন ইবলীশ, শাদ্দাদ, কারুন, ফেরাউন, আবু জেহেল, আবু লাহাব প্রভৃতি নাম রাখা উচিত নয়।



৯. যে সব নামে আল্লাহর সাথে বিদ্রোহের অর্থ বুঝা যায় সে ধরনের নাম রাখাও ঠিক নয়, যেমন আচিয়া (বিদ্রোণী)।



১০. শিশুর একটি সুন্দর নাম রাখা ভাল। তবে কোন কারণে একাধিক নাম রাখা যেতে পারে।



১১. কারও নাম যদি অসুন্দর হয়, সে বড় হয়ে গেলেও তার নাম পরিবর্তন করা যায়।



১২.এমন কোন নাম রাখা ঠিক নয় যার অর্থ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও আবদ বা গোলাম হওয়া বুঝায়। যেমন গোলাম মোস্তফা, গোলাম নবী, গোলাম রাসুল, আব্দুন্নবী, আব্দুস শামস ইত্যাদি।



তাহনীক ও আকীকা

============

সন্তান জন্মগ্রহণ করার পর মিষ্টি জাতীয় কোন নরম খাদ্য কিংবা খেজুর চিবিয়ে নরম করে শিশুর মুখের ভিতর দেয়াকেই তাহনীক বলা হয়। তাহনীক করা সুন্নাত। আল্লাহর রাসুল (সঃ) খেজুর দিয়ে তাহনীক করতেন। আমাদের সমাজে মধু দিয়ে তাহনীক করার প্রচলন আছে।



সন্তান জন্মগ্রহণ করার পর তাহনীক ও নামকরণ করার সাথে সাথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সন্তানের আকীকা করা। হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুলে কারীম (সঃ) হযরত হাসান (রাঃ) ও হোসাইন (রঃ) এর জন্মেও সপ্তম দিনে আকীকা করেছেন।



পুত্র সন্তান হলে দুইটি ছাগি, বকরী বা কোরবানীর গরুর মধ্যে দুই অংশ দেয়া ভাল। ছেলে সন্তান হলে সামর্থ না থাকলে এক অংশ দেয়াও জায়েয আছে। আর মেয়ে সন্তান হলে একটি ছাগি, বকরী বা এক অংশ দিতে হয়।



আকীকার গোশত ফকীর মিসকীনকে, আত্বীয় স্বজনকে দেয়া যায় এবং নিজেও খাওয়া যায়। আর আকীকা সপ্তম দিন করতে না পারলে পরে করলেও চলবে।



আল্লাহর যাতী ও সিফাতী নামের আগে আবদ বা অন্য শব্দ যোগে শিশুর নামকরন



আল্লাহ তায়ালার অনেকগুলো গুণবাচক নাম রয়েছে। তিনি সুরা আল-আরাফের ১৮০ নম্বর আয়াতে নিজের গুণগত নামের বর্ণনা দিয়ে বলেন,

আল্লাহর অনেক সুন্দর নাম রয়েছে। সে নাম গুলোতে তোমরা তাঁকে ডাকো। (আল-আরাফ ১৮০) আলেম গণ আল্লাহ পাকের নামগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন।



১.সত্তাবাচক নাম

২. গুণবাচক নাম



আল্লাহর এ সব নামের পুর্বে আবদ শব্দ যোগ করে শিশুর নামকরণ আল্লাহ খুবই পছন্দ করেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর কাছে তোমাদের নামগুলোর মধ্যে প্রিয়তম হলো আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। (সহীহ মুসলিম, তিরমিযি ও আবু দাউদ)



এ ভাবে আল্লাহর অন্যান্য গুণগত নামের আগে আবদ বা অন্য শব্দযোগ করে নাম রাখা ভাল। তবে খেয়াল রাখতে হবে আবদ বাদ দিয়ে শুধু আল্লাহর গুণগত নামে কাউকে ডাকা যাবেনা।





যেমন কারো নাম আব্দুর রহমান,আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল খালেক, আব্দুর রব, আব্দুল মালেক, আতা উররহমান আব্দুর রহীম রাখার পর শুধু রহমান, রহীম, খালেক, মালেক, রাজ্জাক.রব নামে ডাকা ঠিক নয়।



কেননা এ নামগুলোর হকদার হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। তবে আল্লাহর এমন কিছু গুণবাচক নাম আছে-যেগুলো আবদ ছাড়াও ডাকা বৈধ। যেমন ওদুদ মানে স্নেহময়। স্নেহের গুণ আল্লাহ ছাড়াও মানুষের মধ্যে আছে। তাই এ নামে মানুষকে ডাকা যায়। উল্লেখ্য যে, আল্লাহর স্নেহ মমতা আর মানুষের স্নেহ মমতার মাঝে আকাশ পাতাল ফারাক। আল্লাহর মমতার সাথে মানুষের স্নেহ মমতা তুলনা করার সুযোগ নেই।













শুধু আরবদের নয়, হিজরী মুসলমানদের সন, ইসলামী সন

m  abdullah nezami bhuiya
হিজরী সনের প্রথম মাস মুহাররম। শুরু হয়েছে কয়েকদিন আগে। এই হিজরী সনের সূচনা, প্রেক্ষাপট, মুসলিম-জীবনে এর প্রভাব, হিজরী ক্যালেন্ডার ও একদিনে বিশ্বব্যাপী ঈদ-রোযা করা বিষয়ে মাসিক আলকাউসারের সম্পাদক, মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকার মুদীর মুফতী আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ একটি সাক্ষাৎকার দেন। এ সাক্ষাৎকারের একটি চুম্বক অংশ গত ২৫ নভেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এ মুদ্রিত হয়। সাক্ষাৎকারের পূর্ণরূপ এখানে মুদ্রিত হল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন-শরীফ মুহাম্মদ।




হিজরী সনের সূচনা কখন কীভাবে?

হজরত ওমর রা. তার খিলাফতকালে হিজরতের ১৭তম বর্ষে হিজরী সন গণনা শুরু করেন। এর প্রেক্ষাপট ছিল এরকম—হজরত ওমর রা.-এর কাছে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় চিঠি আসত। সেখানে মাসের নাম ও তারিখ লেখা হতো। কিন্তু সনের নাম থাকত না। এতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতো। তখন পরামর্শের ভিত্তিতে একটি সন নির্ধারণ ও গণনার সিদ্ধান্ত হয়। বিভিন্ন উপলক্ষ থেকে সন গণনার মতামত আসলেও শেষ পর্যন্ত হিজরতের ঘটনা থেকে সন গণনার সিদ্ধান্ত হয়।

হিজরতের বছর থেকেই সন গণনার তাৎপর্য কী?

সন গণনার আলোচনার সময় প্রস্তাব উঠেছিল,ঈসায়ী সনের সূচনার সঙ্গে মিল রেখে নবীজীর জন্মের সন থেকে ইসলামী সনের শুরু হওয়া। এ রকম আরও কিছু কিছু উপলক্ষের কথাও আলোচিত হয়। কিন্তু হিজরতের সন থেকে সন গণনা চূড়ান্ত হওয়ার পেছনে তাৎপর্য হল,হিজরতকে মূল্যায়ন করা হয় ‘আল ফারিকু বাইনাল হাক্কি ওয়াল বাতিল’ অর্থাৎ সত্য-মিথ্যার মাঝে সুস্পষ্ট পার্থক্যকারী বিষয় হিসেবে। হিজরতের পর থেকেই মুসলমানরা প্রকাশ্য ইবাদত ও সমাজ-গঠনের রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলেন।

প্রকাশ্যে আযান,নামায,জুমা,ঈদ সবকিছু হিজরতের পর থেকেই শুরু হয়েছে। এসব তাৎপর্যের দিকে লক্ষ্য করেই মুসলমানদের সন গণনা হিজরত থেকেই শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

হিজরী সনের মাসগুলো তো আগে থেকেই ছিল। সে হিসেবে এ সনটিকে কেবল আরবী সন হিসেবে সাব্যস্ত করা যায় কি না?

মাসগুলো আরবী মাস হলেও সনটিকে গোটা মুসলিম উম্মাহর সন হিসেবেই গ্রহণ করতে হবে। মাসগুলো আসলে চান্দ্র বর্ষের মাস। আরবীতে ‘আশশুহূরুল কামারিয়্যা’ বলা হয়। এজন্য হিজরী সনও একটি চান্দ্রবর্ষ। যেমন ঈসায়ী সনের মাসগুলোকে বলা হয় ‘আশশুহূরুশ শামসিয়্যা’ বা সৌরবর্ষের মাস। এই চান্দ্রবর্ষকে তাই কেবল আরবদের সন হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় না।

এই চান্দ্রবর্ষ বা হিজরী সনের প্রভাব কোন কোন ক্ষেত্রে কতটুকু?

এই চান্দ্রবর্ষের ও চান্দ্রমাসের প্রভাব মুসলমানদের জীবনে ব্যাপক। জীবনের সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব ও গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষত ইবাদতের তারিখ,ক্ষণ ও মৌসুম নির্ধারণের ক্ষেত্রে হিজরী সনের প্রভাব ও গুরুত্ব অপরিসীম। একারণে হিজরী সনের হিসাব স্মরণ রাখা মুসলমানদের জন্য জরুরি। অনেক ক্ষেত্রেই এর প্রভাব রয়েছে। যেমন রমযানের রোযা,দুই ঈদ,হজ্ব,যাকাত ইত্যাদি ক্ষেত্রগুলোতে চান্দ্রবর্ষ বা হিজরী সন ধরেই আমল করতে হয়। রোযা রাখতে হয় চাঁদ দেখে, ঈদ করতে হয় চাঁদ দেখে। এভাবে অন্যান্য আমলও। এমনকি স্বামীর মৃত্যুর পর মহিলাদের ইদ্দতের ক্ষেত্রগুলোতেও চান্দ্রবর্ষের হিসাব গণনা করতে হয়। অর্থাৎ মুসলমানদের ধর্মীয় কতগুলো দিন-তারিখের হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্র রয়েছে,সেগুলোতে চাঁদের হিসাবে দিন,তারিখ,মাস ও বছর হিসাব করা আবশ্যকীয়।

চান্দ্রবর্ষের হিসাব মেলালে দেখা যায়,একটি ইবাদতের মৌসুম কয়েক বছরের ব্যবধানে শীত-গরম-বর্ষায় পরিবর্তিত হতে থাকে। সৌরবর্ষের হিসাবে এটা হয় না। এতে কি কোনো হিকমত বা কল্যাণ রয়েছে?

আসলে ইসলাম হচ্ছে ‘দ্বীনুল ফিতরাহ’ বা স্বভাব-অনুকূল ধর্ম। ইসলামের বিধিবিধান এমনভাবে দেয়া হয়েছে যে, শিক্ষিত-অশিক্ষিত,শহুরে-গ্রাম্য, সমতলবাসী বা পাহাড়ি,তথ্য ও প্রযুক্তির সুবিধাপ্রাপ্ত ও বঞ্চিত-সবাই যেন স্বাচ্ছন্দে আল্লাহর বিধিবিধানগুলো পালন করতে পারে। চাঁদের মাস ও বছরের হিসাবেই সহজে এটা করতে পারা যায়। জোতির্বিদ্যা বা আবহাওয়া বিষয়ক তথ্য যাদের কাছে থাকে না তারাও চাঁদ দেখে স্বাচ্ছন্দ্যে এ বিধানগুলো পালন করতে পারে।

আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে,চান্দ্রবর্ষের হিসাব অনুযায়ী হওয়ায় একটি ইবাদত বিভিন্ন মৌসুমে পালনের সুযোগ মুসলমানরা পান। কখনও রোযা ছোট দিনের হয়,কখনও দীর্ঘ দিনের। কখনও ঈদ ও হজ্ব হয় শীতকালে,কখনও গ্রীষ্মকালে। মৌসুমের এই বৈচিত্র্যের কারণে মুসলমানরা একটি ইবাদত বা উৎসব আল্লাহর দেওয়া সব ক’টি মৌসুমেই পালন করতে পারেন।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়,ইসলামের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর দিন-তারিখগুলোকে খ্রিস্টীয় সন-তারিখে রূপান্তরিত করে পালন করা হয় বা স্মরণ করা হয়। এটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত?

আমার মনে হয় এটা যুক্তিযুক্ত নয় এবং এমনটি করা উচিত নয়। কারণ, এসব ঘটনা যেসব মাস বা দিনে হয়েছে সেগুলোর আলাদা তাৎপর্য আছে। যেমন বদর যুদ্ধের দিনের কথা বলতে পারেন। যুদ্ধটি হয়েছে রমযান মাসে। কোরআন নাযিলের মাসে। এখন এ যুদ্ধদিনের তারিখকে খ্রিস্টীয় সনে অনুসরণ করে স্মরণ করলে একসময় দেখা যাবে যে,দিনটি আর রমযান মাসে নেই। তখন এ যুদ্ধের ইতিহাসের যে আবেদন রয়েছে,তা কিছুটা হারিয়ে যাবে। তাই এজাতীয় ঘটনা ও দিবসকে হিজরী সন ও তারিখ দিয়েই গণনা করা উচিত। তবে হিজরী সন ঠিক রেখে কেউ যদি এর সঙ্গে খ্রিস্টীয় সনকে মিলিত করে উল্লেখ করেন,সেটা দোষণীয় নয়।

হিজরী সন বা ইসলামী সনকে স্মরণ ও অনুশীলনে রাখা মুসলমানদের জন্য কতটা দরকারি?

শুধু হিজরী সন নয়,হিজরী সনের মাসগুলোর তারিখ ব্যবহারে ও চর্চায় রাখা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কর্তব্য। মুসলমানদের হিসাব-নিকাশগুলো হিজরী তারিখ উল্লেখ করেই করা উচিত। অন্য সনের হিসাব অনুগামী হিসেবে আসতে পারে।

মনে রাখতে হবে,ইসলামী তারিখ বা চান্দ্রবর্ষের হিসাব রক্ষা করা মুসলমানদের জন্য ফরযে কেফায়া। একথা মনে করার কোনোই অবকাশ নেই যে,হিজরী সনটি আসলে আরবী বা কেবল আরবদের একটি সন; বরং এটি মুসলমানদের সন এবং ইসলামী সন। এক্ষেত্রে শুধু একটা চাঁদ দেখা কমিটি করে একটি মুসলিম-রাষ্ট্রের দায়িত্ব পুরোপুরি পালিত হয় না। বরং সব মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্রের উচিত,তাদের স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা বজায় রেখে ইসলামী বা হিজরী সনকে প্রাধান্য দেওয়া।

আমার মনে হয়,এক্ষেত্রে ওআইসি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রত্যেক মুসলিম রাষ্ট্রও এটা করতে পারে। অনেক মুসলিম রাষ্ট্রে এর নজিরও আছে।

কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেন যে, চাঁদ দেখা নয়, গণনার ভিত্তিতে হিজরী সনের হিসাব রাখা এবং এজন্য স্থায়ী হিজরী ক্যালেন্ডার বানানোর উদ্যোগ নেওয়া যায়। এ বিষয়ে আপনি কী বলেন?

গণনার ভিত্তিতে হিজরী ক্যালেন্ডার করার বিষয়টির আসলে দুটি রূপ হতে পারে। একটি হচ্ছে, সৌরবর্ষের মতো হিজরী সনেরও ১২ টি মাস এবং প্রতি মাসের দিন ২৯/৩০ হওয়ার হিসাব করা (যা এখন প্রচলিত আছে।) এভাবে ক্যালেন্ডার করা দোষনীয় নয়। তবে সেখানে উল্লেখ থাকতে হবে, এটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। অনেক আরব দেশেও এ জাতীয় ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয়। পরবর্তীতে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে বেশ-কম হলে তারা ক্যালেন্ডার সংশোধন করে নেন।

আরেকটিরূপ হচ্ছে, চাঁদ না দেখেই গণনার ভিত্তিতে নিশ্চয়তার সঙ্গে অগ্রিম বলে দেওয়া যে, এবার অমুক মাসের এক তারিখ অমুক বারে হবে। এ চিন্তাটা ভুল। শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে

চান্দ্রমাসের কথা উল্লেখ হয়েছে এবং সেগুলোকে গণনার মাধ্যম হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। এখানে ‘গণনার মাধ্যম’ বলার উদ্দেশ্য প্রথম রূপটি। অর্থাৎ সৌরবর্ষ যেমন গণনার মাধ্যম চান্দ্রবর্ষও সেভাবে গণনার মাধ্যম। কুরআন মজীদের মৌলিক জ্ঞান না থাকার কারণে কেউ কেউ ওই শব্দগুলোর দ্বারা এ কথা বুঝে নিয়েছে যে, চাঁদ দেখার বিষয়ে নিশ্চিত না হয়েও হিজরী বর্ষের প্রত্যেক মাসের প্রথম তারিখ ও শেষ তারিখ নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করে হিজরী ক্যালেন্ডার বানিয়ে নেওয়া উচিত। অথচ হিজরী মাসের বিষয়টি যে চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল তা একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়।

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখে ইফতার কর।-সহীহ বুখারী, হাদীসহ : ১৯০৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১০৮৯; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৯৫৫৬

কুরআন মজীদেও (সূরা বাকারা : ১৮৯) হজ্বের বিষয়কে চাঁদের ওপর নির্ভরশীল ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি হাজার বছর ধরে মুসলমানদের মাঝে মীমাংসিত। সুতরাং এ বিষয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ নেই।

একটি মহল বিশ্বব্যাপী একদিনে ঈদ পালন ও একসঙ্গে রোযা রাখার দাবি তুলেছে। এ দেশের কিছু কিছু গ্রামে এভাবে পালিতও হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

দেখুন, সাহাবায়ে কেরামের যুগেও ইসলাম যখন বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল তখনও ভিন্ন ভিন্ন এলাকা ভেদে ঈদ ও রোযার দিন ভিন্ন হয়েছে। সিরিয়া ও মদীনায় একই দিনে ঈদ হয়নি। হাদীসের কিতাবে

لكل أهل بلد رؤيتهم

নামে একটি অধ্যায় রয়েছে। সুতরাং পুরো বিশ্বে একই দিনে রোযা ও ঈদ করার নামে দেশের কোনো কোনো গ্রামে অগ্রিম রোযা বা ঈদ করে ফেলা ঐক্যের নামে অনৈক্যেরই একটি নিদর্শন। তবে এসব বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করা বা পরস্পর তিক্ততার সৃষ্টি করা কিছুতেই কাম্য নয়।

মনে রাখতে হবে যে, মুসলমানদের মূল সৌন্দর্য এবং ঐক্যের ভিত্তি হচ্ছে শরীয়তের অনুসরণের মধ্যে। পুরো পৃথিবীতে একই দিনে রোযা ও ঈদ করা জরুরি কোনো বিষয় নয়।

যেমনিভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ তাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামায বিভিন্ন সময়ে পড়ে থাকে। যেমন আপনি যখন ফজর পড়ছেন জাপানে তা পড়া হয়ে গেছে আরো ৩ ঘণ্টা আগে। আর সৌদী আরবে তা পড়া হবে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় পরে। এতে তো কোনো অনৈক্য সৃষ্টি হয় না।

শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১১

কাদিয়ানী মতবাদ : বাংলাদেশের সম্প্রীতির জন্য বিরাট হুমকি

mawlana  abdullah nezami bhouiya

কাদিয়ানী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা গোলাম আহমেদ কাদিয়ানী (১৮৩৫-১৯০৮) ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের গুরুদাস পুরের কাদিয়ান নামক স্থানে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি স্ববিরোধী কিছু দাবীর মাধ্যমে নিজেকে একটি মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চেষ্টা করেছেন। ইতিহাসে তার মত আরো অনেকে এভাবে বহু মতবাদ এনেছেন। শিয়া, বাহাই, ইসমাইলীয়া সম্প্রদায় সহ বিশটির অধিক মতবাদ এখনও দুনিয়াতে বিদ্যমান রয়েছে। তবে তারা কেউ কাদিয়ানীদের মত এতটুকু সমস্যা নিয়ে হাজির হয়নি। যার কারণে প্রতিটি সচেতন মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে তারা গ্রহণযোগ্য হয়নি বরং তাদের অবস্থান মুসলিম সমাজে নিত্য নতুন সমস্যা তৈরি করে চলছে।




মির্জা গোলাম আহমেদ নিজেকে কখনও ‘নবী’ কখনও ‘মসীহ’ কখনও ‘ইমাম মাহদী’ দাবী করেছেন। এখানে মসীহ আর মাহদী এক চরিত্র নয়। মসীহ হলেন ঈসা (আঃ) এবং তিনি একজন রাসুল। ইমাম মাহদী হবেন একজন জগৎবিখ্যাত ঈমাম যিনি দুনিয়াতে আসবেন। ইসলামের ইতিহাসে ইমাম বুখারী, ইমাম আবু হানিফা, ইমাম গাজ্জালী সহ বহু ইমাম গত হয়েছেন। তাঁদের কাছে কখনও ওহী আসেনি এবং তারা কোন নতুন শরীয়তও ঘোষণা করেন নি। তাঁরা বরং কোরআন হাদিসের আলোকে আধুনিক সমস্যার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ইমাম মাহদীও সে ধরনের একজন বিখ্যাত ব্যক্তি হবেন, যার কাছে নবী-রাসুলের মত ওহী আসার সম্ভাবনা নাই। মির্জা গোলাম আহমেদ আবার দাবী করেছেন তার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী এসেছিল। যুক্তির খাতিরে যদি ধরা হয়, তার কাছে ওহী আসে। তাহলে তিনি আর কোন অবস্থাতেই ইমাম মাহদী হতে পারেন না। ইসলামের মৌলিক দাবী হল মোহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর শেষ নবী ও রাসুল, তাঁর পরে পৃথিবীতে আর কোন নবী আসবেন না। যদি কোন নবী আসতেন তাহলে হযরত ওমরকেই আল্লাহ নবী করে পাঠাতেন। সুতরাং মির্জা গোলাম আহমেদ যে নবী নয়, তা রাসুল (সাঃ) এর এই হাদিসে প্রমাণিত হয়। আবার তিনি কখনও নিজেকে মসীহ হিসেবে দাবী করেছেন। অথচ মসীহ হলেন ঈসা (আঃ) এবং তিনি একজন রাসুল ছিলেন। মসীহের মর্যাদা অর্থাৎ একজন রাসুলের মর্যাদার সাথে ইমাম মাহদী তথা একজন ইমামের মর্যাদা কিভাবে তুলনা করা যায়? যেখানে দুটোর মর্যাদাই তুলনা করা যায়না সেখানে মির্জা গোলাম আহমেদ, সেই দুটি চরিত্রই নিজের বলে দাবী করেছেন! সুতরাং তার প্রতিটি দাবী একটির সাথে অন্যটি সাংঘার্ষিক এবং সরাসরি স্ববিরোধী। অথচ পৃথিবীর কোন রাসুল এবং নবীদের কথা বার্তার একটি অক্ষরও স্ববিরোধী এবং সাংঘার্ষিক ছিলনা। এই স্ববিরোধিতার যাঁতাকলে পড়ে কাদিয়ানীরা ও দ্বিধা বিভক্ত। পাকিস্তানের কাদিয়ানীরা বলেন তিনি একজন ইমাম ছিলেন, ভারতীয় কাদিয়ানীরা বলেন তিনি একজন নবী ছিলেন, বাংলাদেশের কাদিয়ানীরা বলেন মোহাম্মাদ (সাঃ) কে তারাও নবী হিসেবে মানে। মূলত প্রতিকূল অবস্থা সামাল দিতেই কাদিয়ানীরা এই পদ্ধতির অবলম্বন করে।



নবী রাসুলদের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত কয়েকটি মৌলিক দিকের কথা না বললে লেখাটির তাৎপর্য বুঝা যাবেনা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী রাসুলদের জন্য দুনিয়ার কোন ব্যক্তিকে শিক্ষক বানায় নাই। জিবরাঈলের (আঃ) মাধ্যমে আল্লাহ নবীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। অন্যদিকে মির্জা সাহেব পুরো বাল্যকালেই বিভিন্ন মক্তব, খৃষ্টান মিশনারি থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন। আল্লাহ কোন পরাশক্তির কাছে নবীদের রিজিকের ব্যবস্থা করে নাই, আল্লাহ বিরোধী কথা বলার কারণে শিশু মুসা (আঃ) ফেরাউনের গালে প্রচণ্ড থাপ্পড় মেরেছিলেন। অথচ মির্জা গোলাম আহমেদ রিজিকের তাড়নায় ব্রিটিশের অধীনে দীর্ঘদিন কেরানীর চাকুরী করেছেন। যাদের অধীনে চাকুরী করে জীবন ধারণ করা নবী তো বহু দূরের কথা, একজন ইমামের জন্যও হারাম। সম সাময়িক খোদা-দ্রোহী শক্তির বিরুদ্ধে নবী রাসুলদের পাঠানো হয়েছে, আর নবীরা সেই শক্তিকে উৎখাত করে আল্লাহর বিধান কায়েম করেছে। মির্জা সাহেবের আমলে চরম খোদা-দ্রোহী শক্তি ছিল ব্রিটিশ। তিনি ব্রিটিশের বিরুদ্ধে কোন কথা বলেনি বরং অনুসারীদেরকে ব্রিটিশের গোলামী করার জন্য খোদার পক্ষ থেকে ওহী জোগাড় করে এনেছেন। উপরের তিনটি ধারার কোনটিতেই মির্জা গোলাম আহমদের পরিষ্কার অবস্থান ছিলনা। তাই কোন যুক্তিতেই তাকে নবী, রাসুল কিংবা ইমাম মানার কোন সুযোগ নাই।



ব্রিটিশেরা ভারতে মুসলমানদের থেকেই ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল। নবাব সিরাজদ্দৌলার পতনের পরও মুসলমানদের নিকট থেকে পরিপূর্ণ ক্ষমতা কেড়ে নিতে আরো একশত বছর লেগেছিল। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লব মূলত মুসলমানেরাই ঘটিয়েছিল। সেই বিপ্লবের ফলে হাজার হাজার মুসলিম আলেম শাহাদাত বরণ করেন। যার কারণে মুসলমানদের নিয়ে ব্রিটিশ তেমন স্বস্তিতে ছিলনা। ফলে এসব সমস্যা পর্যবেক্ষণ করে ব্রিটিশ সরকারকে পরামর্শ দিতে, স্যার উইলিয়াম হান্টার (১৮৪০-১৯০০খৃ) কে দিয়ে একটি কমিশন গঠন করে ভারতে পাঠানো হয়। হান্টার কমিশন ব্রিটিশ সরকারকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছিল তার মধ্যে একটি বড় অধ্যায় ছিল মুসলমানদের কে নিয়ে। তিনি তাঁর লিখিত গ্রন্থ ‘দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস’ বইয়ে স্বীকার করেছেন, ‘যখন আমরা অস্ত্রবলে মুসলমানদের নির্মূল করতে চেয়েছি, তখন তারা আমাদের নেতাদের হতবুদ্ধি করে দিয়েছে এবং আমাদের সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে’। তিনি অন্যত্র বলেছেন ‘ভারতে ব্রিটিশ শাসনের জন্য মুসলমানেরা হল স্থায়ী বিপদ স্বরূপ’। হান্টার কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, "ভারতীয় মুসলমানরা কঠোরভাবে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে। তাদের ধর্মগ্রন্থ কোরআনেই নির্দেশ রয়েছে বিজাতীয়দের শাসন মানা যাবে না এবং শাসকদের জুলুমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে জিহাদ করতে হবে”। কমিশন বুঝতে পারেন জিদাহী চেতনার কারণেই মুসলমানদের পর্যদুস্ত করা যায়নি এবং কোনভাবে তাদের মধ্যে বিবাদ ঢুকিয়ে দিতে পারলে তারা হীনবল হয়ে পড়বে। হান্টার কমিশন মুসলমানদের এই প্রেরণা কিভাবে নষ্ট করা যাবে সে সম্পর্কে একটি সুপারিশও পেশ করেছিলেন। তিনি সুপারিশ করেছেন, "ভারতের মুসলমানদের বিরাট সংখ্যা গরিষ্ঠ অংশ পীর ভক্ত। তাই মুসলমানদের মধ্য হতে আমাদের আস্থা-ভাজন এমন একজন পণ্ডিত ব্যক্তিকে দাঁড় করাতে হবে, যিনি বংশ পরম্পরায় আমাদের আস্থা-ভাজন বলে প্রমাণিত হবেন এবং মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টিতে সহযোগিতা করবেন”।



উপরের তথ্যগুলো হল ইতিহাসের পাতা থেকে তোলা। ব্রিটিশ সরকার সর্বদা এ ধরণের একজন ব্যক্তির সন্ধানে ছিলেন। অবশেষে তারা তাদের ইচ্ছে বাস্তবায়নের জন্য তাদেরই অধীনে কেরানী হিসেবে চাকুরীরত মির্জা গোলাম আহমেদকে পেয়ে যান। অর্থ কড়ির লোভ, পদের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে কিনতে পারা ব্রিটিশ পলিসির অন্যতম দিক। ইরাকের আইয়াদ আলাভী, নুরী আল মালিকি, হামিদ কারজাই, ড. ফখরুদ্দীন দের মত মানুষকে তারা পালন করেই পরবর্তীতে কাজে লাগিয়েছিল। সেভাবেই তারা মির্জা গোলাম আহমেদকে কাজে লাগানোর জন্য এক অভিনব পন্থা বের করে। ইসলাম ধর্মের মাঝে বিভেদ, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দীর্ঘদিন তাকে জিইয়ে রাখার মত এমন এক পন্থা আবিষ্কার করেন যা আজ পর্যন্ত কার্যকর হয়ে আছে। পৃথিবীর ইতিহাসে যত নবী-রাসুল এসেছেন তারা মানুষকে আল্লাহর পথে ডাক দিয়েছেন এবং সে অঞ্চলের মানুষের ভাষা অনুযায়ী কিতাব এনেছেন, স্থানীয় ভাষাতেই মানুষকে আল্লাহর প্রতি আহবান করেছেন। এক্ষেত্রে মির্জা গোলাম আহমেদ ভারতে জন্ম নিলেও তিনি তার দাবী অনুযায়ী ওহী এনেছেন আরবি ভাষায় অথচ তা হবার কথা ছিল হিন্দি কিংবা উর্দু ভাষায়। আরো আশ্চর্য যে, তিনি হাদিসের স্টাইলে যত বক্তব্য দিয়েছেন তা আরবি ভাষায় না হয়ে, বেশীর ভাগই উর্দু ভাষায় দিয়েছে। তার অনুসারীদের মাঝে পরবর্তী জীবনে কাউকে আর আরবি ভাষায় দক্ষ পাওয়া যায়নি। কোন নবীরা এমন কাজ করে নাই, এমনকি কোন ইমামেরা পর্যন্ত এ জাতীয় কুটিল পদ্ধতির আশ্রয় নেয় নাই। অথচ মির্জা গোলাম আহমেদ এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, ইসলাম ধর্মকে দুর্বল, আভ্যন্তরীণ গোলযোগ বাড়িয়ে দেবার প্রত্যয়ে এবং ব্রিটিশের সরকারের সহযোগিতায়।



সকল নবীরা এক আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেও তাঁদের ভাষা, শব্দ প্রয়োগ এবং পরিভাষা ছিল ভিন্ন, তবে সকল নবীদের লক্ষ্য ছিল এক ও অভিন্ন। যেমন, মুসলমানেরা যাঁদের ‘আদম-হাওয়া’ বলে খৃষ্টানেরা তাকে 'এডাম-ইভ' বলে। মুসলমানেরা যাকে জান্নাত-জাহান্নাম বলে ইহুদী-খৃষ্টানেরা সেসব বিশ্বাস করলেও অন্য নামে চিনে। মুসলমানেরা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনার্থে যাকে মসজিদ বলে, খৃষ্টানেরা তাকে গির্জা বলে, ইহুদীরা তাকে সিনাগগ বলে। ইহুদীর ধর্মগ্রন্থ ওল্ড টেস্টামেন্ট হিব্রু ভাষায় রচিত, খৃষ্টান ধর্মগ্রন্থ সুরীয়ানী ভাষায় রচিত আর পবিত্র কোরআন আরবি ভাষায় রচিত। এসব কিতাব এক আল্লাহর নিকট থেকে উৎসারিত হলেও, কোন কিতাবের পরিভাষা এক ধরনের ছিলনা। ফলে এসব ধর্মের মানুষ আলাদা বৈশিষ্ট্য ও স্বভাব নিয়ে, পরিপূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করে মুসলিম দেশে বাস করে আসছে। তবে মির্জা গোলাম আহমেদ এক্ষেত্রে এক নতুন ফন্দির আশ্রয় গ্রহণ করে। যেমন, তার কিতাবের কথাগুলোকে কোরআনের কথা বলা হয়। তার বর্ণিত কথাগুলোকে হাদিস বলা হয়। তাদের নির্মিত উপাসনালয়কে মসজিদ বলে, তাদের মত করে পালন করা প্রার্থনা কে নামাজ বলে। তাদের উপোষ করার পদ্ধতিকে উপবাস ব্রত, চীবর দান, ফাষ্টথিং কিংবা নতুন নামে না ডেকে বলা হয় রোজা রাখা হয়েছে! গোলাম আহমদের আনিত ধর্ম নতুন এবং তিনি একজন ভারতীয় নাগরিক নাগরিক হওয়া স্বত্বেও হিন্দি ভাষার প্রাধান্যের জায়গায় আরবি ভাষাকে প্রাধান্য দিয়েছে। মুসলমানদের রেওয়াজ অনুসারে আরবি শব্দ আল্লাহকে, তিনিও আল্লাহ বলেছেন; নবীদের কে তিনিও নবী বলেছেন। সেভাবে জিবরাঈল, মিকাঈল, ইসরাফিল, নাজিল, নফল, ফরজ, আসমান, ফেরেশতা, জান্নাত, জাহান্নাম, সাওম, সালাত, ইমান থেকে শুরু করে ইসলামী যত পরিভাষা আছে সকল পরিভাষা তার ধর্মের জন্যও ব্যবহার করেছেন। অথচ এসব শব্দ ও পরিভাষা আরবি এবং ইসলাম ধর্মের জন্যই ব্যবহৃত হয়। অথচ তার নতুন ধর্মের জন্য শব্দ, বাক্য, পরিভাষা অবশ্যই হিন্দি হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল। এসব শব্দ আরবি হওয়া সত্ত্বেও, তিনি তা হিন্দিভাষী ভারতীয়দের মাঝে ঢুকাতে চেষ্টা করেছেন। ইসলাম পরবর্তী সময়ে আরো বহু ধর্মের জন্ম হলেও, তারা আলাদা স্বতন্ত্রতা নিয়ে গড়ে উঠেছে। আল্লাহ যদি ভারতীয় এলাকায় কোন নবী পাঠাতেন, তিনি হিন্দি ভাষায় কথা বলতেন, তাঁর আনিত কিতাব হিন্দি ভাষায় হত এবং ইবাদত বন্দেগীর জন্য হিন্দি ভাষায় নতুন পরিভাষা সৃষ্টি হত। গোলাম আহমদের আনিত ধর্মে সেটা কোথাও পরিলক্ষিত হয়নি বরং তিনি ইসলাম ধর্মের সকল কিছু ধারণ করে, ইসলামী অনুশাসনে অভ্যস্ত মানুষদের পথভ্রষ্ট করার নীতি গ্রহণ করেছে, এটি একটি মহা প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। উল্লেখ্য আশির দশকে খৃষ্টান মিশনারিরা বাইবেল কে বঙ্গানুবাদ করতে, কোরআনের পরিভাষা গ্রহণ করেছিল। তারা ইঞ্জিল শরীফ নাম দিয়ে বাইবেল ছেপেছিল। আমি ইঞ্জিল শরীফ নামক সেই বাইবেল নিয়ে তাদের তত্ত্বাবধানে লেখাপড়া করেছিলাম। তাদের সার্টিফিকেট সহ সেই ইঞ্জিল কিতাব এখনও আমার সংগ্রহ শালায় আছে। তবে অজানা কারণে খৃষ্টানেরা সেই পদ্ধতি নিজেরাই বাতিল করে ইংরেজি পরিভাষায় বাইবেল প্রকাশ করে। কাদিয়ানীদের কু-মতলব ছিল বলে, আরবি পরিভাষা ত্যাগ না করে, সেটাকে বিভ্রান্তির পূঁজি বানিয়েছে! সমস্যাটা এখানেই।



কাদিয়ানী ধর্মের সকল পরিভাষা যেহেতু ইসলাম থেকে নিয়েছে সেহেতু অল্প শিক্ষিত মুসলমানেরা কাদিয়ানীর কিতাব আর ইসলামী কিতাবের পার্থক্য ধরতে পারে না। কম জানা সে সকল মুসলমান আন্তরিকতার সাথে মুহাম্মদ (সাঃ) কর্তৃক হাদিসের জ্ঞান মনে মনে করে কাদিয়ানীর কিতাব পড়ে থাকে। কাদিয়ানী কিতাবের কথা বিশ্বাসের কারণে একজন অসহায় মুসলমান জানতেই পারবেনা কখন তার ঈমান নষ্ট হয়ে গিয়েছে। জিহাদ সম্পর্কিত হান্টারের পরামর্শ অবিকল আমল করেছেন মির্জা গোলাম আহমেদ। তিনি মুসলমানদেরকে জিহাদের প্রেরণা থেকে দূরে রাখতে লিখনির মাধ্যমে সেই কাজ সফলতার সহিত আঞ্জাম দিয়েছেন। জিহাদের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত গোলাম আহমেদ নিজেই বলেছেন, ‘আমি জিহাদের বিরুদ্ধে এত লিখেছি যে, সে সব যদি জমা রাখা হত, তাহলে ৫০ টি আলমারি লাগত হেফাজতের জন্য’। কাদিয়ানীরা লোক দেখানো, দৃশ্যত আকর্ষণীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে কাজ করে থাকে। বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে মানুষকে দাওয়াত দেয়। যেমন, এস ভাল মুসলমান হই, আসুন প্রকৃত মুসলমান হিসেবে গড়ে উঠি ইত্যাদি। এসব চটকদার সুন্দর কথায় সাধারণ মানুষ প্রভাবিত হয় এবং বিস্তারিত না জেনে তাদের সাথে ভিড়ে যায়। তাদের প্রতি উৎসাহী মানুষদের মাঝ থেকে যোগ্য ব্যক্তিকে প্রলোভনে ফেলা হয়। কাউকে বৃত্তির প্রলোভন, কাউকে বিদেশী ডিগ্রীর লোভ, উচ্চতর ডিগ্রী পাইয়ে দিতে সহযোগিতার আশ্বাস, বেশী বেতনের চাকুরীর প্রস্তাব, বিদেশী কোম্পানির বড় পদ ভাগিয়ে দেবার লোভ সহ নানাবিধ ভাবে মানুষকে ঘায়েল করা হয়। মানুষকে সাহায্যের নামে ঈমান বরবাদ করা, মুসলিম দেশে মুসলিম নাম নিয়ে বেশী সুবিধা আদায় করা, মুসলমানদের হীনবল করা, নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করা এবং মুসলমান ছপ্দনামে খৃষ্টান বিশ্বের জন্য বিশ্বস্ত গুপ্তচর বাড়ানো মূলত এই ধর্মের অন্যতম প্রধান কাজ। এই ধর্মের মূল পরিকল্পনা দাতা হল ব্রিটিশ সরকার, যার ফলে তাদের সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতার উপর ভিত্তি করেই পৃথিবীতে এই ধর্মের বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ব্রিটিশ শাসনকে রক্ষা ও ব্রিটিশকে আজীবন সেবা করার জন্য গোলাম আহম্মদ কাদিয়ানী তার উম্মতদের কে বহু যায়গায় প্রচুর উপদেশ দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেছেন, “শুন, ইংরেজদের রাজত্ব তোমাদের জন্য একটি বরকত এবং খোদার তরফ হইতে তাহা তোমাদের জন্য ঢাল স্বরূপ। অতএব তোমরা নিজেদের জান প্রাণ দিয়া ঢালের যত্ন কর, হেফাজত কর, সম্মান কর। আমাদের বিরোধী মুসলমানদের তুলনায় তারা হাজার গুনে শ্রেষ্ঠ”। তবলীগে রিসালাত, ২য় খণ্ড, ১২৩ পৃষ্ঠা।



কাদিয়ানীদের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে শুরু থেকই এই মতবাদের বিরুদ্ধে মুসলমানেরা প্রতিবাদ করেছে। বহু বিতর্ক সভা হয়েছে সর্বত্র তারা পরাজিত হয়েছে। কয়েকবার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংগঠিত হয়েছে। প্রত্যেক বারই ব্রিটিশ সরকার তাদের রক্ষার্থে জোরালো ভূমিকা রেখেছে। ব্রিটিশ সরকার মুসলিম এবং কাদিয়ানীদের সংঘাতের মধ্যে বরাবরই কাদিয়ানীর পক্ষ নিয়েছে। পরবর্তীতে ব্রিটিশের অনুসরণে কাদিয়ানীদের কে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ সকল খৃষ্টান সম্প্রদায় তাদের পক্ষ নিতে কসুর করেনি। অন্যদিকে কাদিয়ানীদের বই-পুস্তক, বক্তৃতা-বিবৃতিতে ব্রিটিশের পক্ষে সুনাম গাওয়া থেকে প্রমাণিত হয় মূলত কাদিয়ানীরা ইসলাম ধর্মের ভিতর একটি নতুন সম্প্রদায় গড়ে তুলতে সদা সচেষ্ট। তারা ইসলাম ধর্মের ভিতরে থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, তারা নিজেদের মুসলিম বলে পরিচয় দেবে এবং পরগাছার মত ইসলাম ধর্মের ক্ষতি করার যতটুকু সম্ভব তার সবটাই করবে। পৃথিবীর ইতিহাসে ধর্মের নামে প্যারাসাইট বা পরগাছা হয়ে নতুন মতবাদ ঢুকানোর জন্য কাদিয়ানীর মত দ্বিতীয় ভয়ঙ্কর কোন উদাহরণ নাই। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে পৃথিবীর বেশীর ভাগ মুসলিম দেশেই কাদিয়ানীদের অমুসলিম সম্প্রদায় ঘোষণা করে এবং তাদেরকে সে সব দেশে গমন নিষিদ্ধ করা হয়। সকল ধর্মের মানুষ মুসলিম দেশে যেতে পারলেও কাদিয়ানীরা যেহেতু ইসলাম ধর্মের পরগাছা হিসেবে সৃষ্ট, তাদের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সংঘাত বাড়ার সম্ভাবনা বেশী, তাই তাদের মুসলিম দেশে ঢুকাটা নিষেধ করা হয়েছে। এই আইনের কার্যকারিতা রহিত কল্পে ব্রিটিশ সরকার কাদিয়ানীদের জন্য তড়িৎ গতিতে প্রোটেকশনের ব্যবস্থা করেছে। কাদিয়ানীরা মূলত ভারত ও পাকিস্তান থেকে সৃষ্ট, আর ভারত সরকার হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং ব্রিটিশের কাছে বিশ্বস্ত। ফলে ভারত সরকার তাদের পাসপোর্ট তৈরিতে কাদিয়ানীদের ধর্মের কোন পরিচিতি উল্লেখ না করে মুসলিম হিসেবে লিখে থাকে। ফলে কাদিয়ানীরা ভারত থেকে যে কোন মুসলিম দেশে প্রবেশ করার সুযোগ পেয়ে যায়। মুখে দাড়ি, নামে মুসলমান সেজে এসব ইসলাম বিনষ্টকারী ব্যক্তিরা পাসপোর্টের এই কারসাজির মাধ্যমে অতি সহজেই প্রতিটি মুসলিম দেশে ঢুকে পড়তে পারে।



১৯৪৮ সালে পাকিস্তান নামে মুসলমানদের জন্য নূতন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হবার প্রাক্কালে কাদিয়ানীরা দুঃচিন্তা গ্রস্ত হয়ে পড়ে। প্রথমত পাকিস্তান সৃষ্টিতে কোন ভূমিকা না রাখা, দ্বিতীয়ত নতুন মুসলিম দেশে তাদের কি পরিচিতি হবে এটাই ছিল দুঃচিন্তার কারণ। তাদের জন্য কঠিন এই বিপদের দিনে ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিয়ে আবারো হাজির হন ব্রিটিশ সরকার। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে পাকিস্তানের স্বাধীনতা প্রাপ্তির দর কষাকষিতে, পাকিস্তান নামক নতুন মুসলিম দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় চালানোর জন্য কিছু নামধারী মুসলিম ব্যক্তিকে বাছাই করে নিয়েছিলেন, যারা নামে মুসলিম জাতে কাদিয়ানী ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন স্যার জাফর উল্লাহ খান (১৮৯৩-১৯৮৫)। তিনি ব্রিটিশ আমলে ভারতের প্রথম রেল মন্ত্রী ছিলেন। পাকিস্তান স্বাধীন হবার প্রাক্কালে ১৯৪৭-১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের ১ম পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ব্রিটিশ সরকার কাদিয়ানীদের রক্ষা করতে কায়দা করে জাফর উল্লাহ খানকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে যান। উল্লেখ্য ব্রিটিশ রাজত্বে প্রকৃত সুন্নি মুসলমানেরা কখনও চাকুরী পেত না, এসব পদ মুসলমানদের দেবার কথা বলে, কাদিয়ানীদের বসিয়ে দেওয়া হত। তারা প্রচার করত দেখ কত বড় বড় পদ মুসলমানদের দেওয়া হয়েছে। এসব বড় কর্মকর্তাদের মুসলমান মনে করে সাধারণ মুসলিম জন সাধারণ খুবই উৎসাহ বোধ করত। ফলে ব্রিটিশ আমলেই বহু কাদিয়ানী সরকারী বড় কর্মকর্তা হবার সুযোগ পেয়ে যায়।



নতুন সৃষ্ট রাষ্ট্র পাকিস্তানের জন্য যখন পাসপোর্ট বানাবার দরকার পড়ে, তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাফর উল্লাহ খান পাসপোর্ট গুলোকে এমনভাবে তৈরি করেন যাতে কাদিয়ানীদের পরিচয় মুসলিম হিসেবে থাকে। কাউকে যাতে কাদিয়ানী হিসেবে সনাক্ত করতে না পারা যায়, সে জন্য পাসপোর্টের জন্য দরখাস্ত করতে যে সব তথ্য লাগে সেখান থেকেও তাদের বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। কাদিয়ানীরা এই পলিসি নিরাপত্তার ভীতির জন্য করেনি! মুসলিম পরিচয়ে তারা যেন ইসলামী দেশ গুলোতে বিনা বাধায় প্রবেশ করতে পারে, সেই ধান্ধায় এটি করেছে। গোলাম আহমেদ কাদিয়ানী তার নিজের ধর্মের জন্য যতটুকু করতে পেরেছে, পাকিস্তানী কাদিয়ানীদের রক্ষা করতে তার চেয়ে অনেক বেশী সার্ভিস দিয়েছে স্যার জাফর উল্লা খান। সদ্য গঠিত নূতন রাষ্ট্র পাকিস্তান কে পরিচালনা করার জন্য যোগ্য মানুষের দরকার হয়ে পড়ে, নূতন নতুন পদের জন্য নতুন ধরনের কর্মকর্তার অভাব দেখা দেয়। সে সব শূন্য পদে দলে দলে কাদিয়ানী ঢুকানোর জন্য জাফর উল্লা ও তার অন্যান্য সহকারী যারা পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরুতে কর্মকর্তা ছিল তারা বিরাট ভূমিকা রাখে। কাদিয়ানীদের মধ্যে যার যে ধরণের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল সেই ব্যক্তি তার মত করে প্রশাসনে ঢুকে যেতে পেরেছে। পুরো দেশের সকল শিক্ষিত কাদিয়ানীদের শহরে হাজির করা হয় এবং তাদের ধরে ধরে সরকারী চাকুরীতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। হিন্দু মুসলমানের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সৃষ্ট দুটি দেশের মধ্যে ভারতে হিন্দুরা আর পাকিস্তানে দৃশ্যত কাদিয়ানীরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল..

শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১১

প্রসংগ মাজার/ ও কবর সেজদা

মৌলানা আবদুল্লাহ নিজামী ভূঁইয়া


আল্লাহর রাসুল সা: আলী রা: কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, সকল উচু কবর ধ্বংস করার জন্য। আমাদেরও এখন একই কাজ সকল উচু কবর, মাজার নামের ব্যবসা ধ্বংস করে দেওয়া, মাটির সাথে সমান। আফসোসের বিষয় সেই আলী রা: এর কবরই এখন মাজারে পরিনত করছে।



মাজার শব্দের অর্থ হলো দর্শনীয় স্থান। যেটা দেখলে মন ভাল হয়। যেমন সমুদ্র সৈকত একটা মাজার বা দর্শনীয় স্থান।



সহীহ হাদিসগুলোতে আছে, কবর পাকা করা নিষেধ, কবরে বাতি দেওয়া নিষেধ, কবরের উপর ঘর নির্মাণ নিষেধ, কবরকে উৎসরেব স্থান বানানো নিষেধ, কবরে গিলাফ লাগানো নিষেধ। কিন্তু আমাদের মুসলমান নামধারীরা সবগুলো নিষেধ করা কাজই বেশী করে করে।



বলতে পারে সেগুলো পীরদের মাজার। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই পীরগুলার অস্তিত্ব কেন সাহাবাদের যুগে নাই, কেন তাবেয়ীদের যুগে নাই। কারণ এটা একটা ব্যবসা যা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে।



আল্লাহ কোরআনে বলেছেন

সূরা ফাতির-২২> হে নবী, তুমি কবরে শায়িতদের কথা শুনাতে সক্ষম না।

আর আমাদের কবরগুলোতে এমনই আক্বিদাহ পোষন করে যে কবর বাসী শুনে।



আল্লাহ কোরআনে বলেছেন

সূরা আহকাফ-৯> হে নবী, বল, আমি জানি না আমার সাথে আল্লাহ কি ব্যবহার করবেন এবং আমি জানি না আল্লাহ তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করবেন।



বুঝার চেষ্টা করুন, নবী নিজেই যেখানে জানেন না তার সাথে কি ব্যবহার হবে, সেখানে আমাদের দেশের অনেক মূর্খ মানুষরা মনে করে আব্দুল কাদের জিলানী, শাহ জালাল, শাহ পরান (র রা জান্নাতি। তারা জান্নাতের সার্টিফিকেটই দিয়া দেয়।



অনেকে তাদের মুখে জান্নাতি না বললেও মনে মনে সেটা বিশ্বাস করে। আর ঈমান হলো সেটাই যা অন্তরে বিশ্বাস করা হয়, মুখে স্বীকার করা হয় এবং কার্য দ্বারা সম্পাদন করা হয়।









কবরপুজারী, মাজারপুজারীরা মুখে অস্বীকার করলেও তাদের অন্তর এই স্বাক্ষ্যই দেয় যে তারা জান্নাতি।



আল্লাহ আমাদের কবর পুজা, মাজার পুজা ইত্যাদি থেকে বাচার তৌফিক দান করুন। আল্লাহ এই পীর পুজারী, কবর পুজারীদের হেদায়েত দান করুন।







সম্মানিত (?) পীরগণ ও তাদের মুরিদগণ কোরআন থেকে দলিল দেন যে আদম আ: কে সিজদাহ করতে বলা হইছিল ফেরেশতাদের। কারণ কি? কারণ তিনি তাদের চেয়ে বেশী জ্ঞান সম্পন্ন ছিলেন। পাশাপাশি আদম আ: ও ফেরেশতাদের মধ্যে জ্ঞান এর প্রতিযোগীতায় তিনি জয়লাভ করেছিলেন।



তো আদম আ: এর যদি জ্ঞান বেশী থাকার কারণে ফেরেশতারা তাকে সিজদাহ করে। তাহলে পীরের জ্ঞান বেশী থাকার কারণে কেন মুরীদরা তার সিজদাহ করতে পারবে না?

শয়তান যেহেতু আদম আ: কে সিজদাহ করেনি, তাই সে জাহান্নামী। তেমনি বর্তমানে যে পীরদের সিজদাহ করবে না তারাও শয়তান, জাহান্নামী।



--------------------------------------------------------------------



তাদের এই দলিল এক কথাতেই খন্ডন করা যায় যে,

-===================================



জ্ঞান বেশী থাকার কারণে যদি কাউকে সিজদা করা যেত তাহলে বিশ্ব নবী, সর্বশেষ ও চুড়ান্ত নবী, আমাদের প্রাণপ্রিয় নবী মোহাম্মদ সা: ছিলেন সেই সিজদাহ পাওয়ার সর্বপ্রথম দাবীদার এবং সবচেয়ে যোগ্য। সকল পীরের থেকেও যোগ্য।



=> কিন্তু সাহাবাগণ কি তাকে সিজদাহ করেছিলেন?

=> মহানবী সা: কি তাদের সিজদাহ করতে বলেছিলেন তাকে। নাকি এক আল্লাহকে?







আল্লাহু আকবার।

সিজদাহ একমাত্র আল্লাহর প্রাপ্য। পীর নামক শয়তানগুলো আল্লাহর এই অধিকারেও হাত দিয়েছে। তাদের মতে যারা পীরকে সিজদাহ করে না তারা শয়তানের মতো জাহান্নামী। মূলত যারা পীরকে সিজদাহ করে তারা আল্লাহর ইবাদাত কে খন্ড খন্ড করে আল্লাহর পাশাপাশি মানুষের ইবাদাত এ লিপ্ত যা শিরকে আকবর।



সত্য প্রকাশিত হওয়ার পরও এমনটি যে করে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে।





আল্লাহ আমাদের সত্য বুঝার ও আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন।