Translate

সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৩

পরিবার রেখে দীর্ঘদিনের তাবলীগী সফর বৈধ কিনা ? তাবলীগ করার জন্য আলেম হওয়া কি শর্ত ?

প্রশ্ন   পরিবার রেখে দীর্ঘদিনের তাবলীগী সফর শরিয়ত সন্মত কিনা ?

১- আমাদের নবিজি কি কখনো তার বিবিদের রেখে অন্য জায়গায় গিয়া ৪০ বা ১২০ রাত্রি যাপন করেছেন কি না আর যদি করেন তার রেফারন্স কি?

২-ঘরে বিবি উপযুক্ত বোন বা মেয়ে রেখে কি তাবিলিগে যাওয়া যাবে তার রেফারেন্স ?...

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

আপনি প্রথমে একটি প্রশ্নের জবাব দিন। যদি কোন রেফারেন্স না পাওয়া যায় যে, রাসূল সাঃ বা রাসূল সাঃ এর আদেশে সাহাবায়ে কেরাম ৪০ দিন বা এর চেয়ে বেশি সময় বিবি-বাচ্চা রেখে বাহিরে থেকেছেন। তাহলে কি আপনি বলবেন যে, অর্থ কামানোর জন্য বিবি-বাচ্চা রেখে বিদেশে গিয়ে ৪০ দিন বা এর চেয়ে বেশি সময় থাকা হারাম?

যদি তাই বলে থাকেন, তাহলে আপনি এ প্রশ্ন করতে পারেন। আর যদি বলেন, যে না এটি হারাম নয়। তাহলে দ্বীনের প্রচারের জন্য বাহিরে থাকাতে পরিবারের প্রতি এত অযথা দয়া উপছে উঠছে কেন?

টাকা কামানোর জন্য বিদেশ গমন করে বছরের পর বছর পরে থাকলেও এ নিয়ে প্রশ্ন না করে, দ্বীনের কাজে বাহিরে থাকায় প্রশ্ন কেন? দ্বীনের কাজের সাথে এত দুশমনী কেন?

قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ [٩:٢٤]

বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাস্তায় জেহাদ তথা চেষ্টা-মেহনত [তাবলীগী সফর] করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না। {সূরা তাওবা-২৪}

এ আয়াতে স্পষ্ট ভাষায় সন্তান সন্ততি, স্ত্রী আর বাসস্থানের মোহাব্বতে আল্লাহর রাস্তায় বের না হওয়ার ব্যাপারে কঠিন হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে। যা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, পরিবারের প্রতি খেয়াল রাখার ঠুনকো ওজর দেখিয়ে এ থেকে বিরত থাকা সরাসরি আল্লাহর ধমকিতে নিপতিত হওয়ার নামান্তর।

তবে সফরকালীন সময়ে পরিবারের ভরনপোষনের ব্যবস্থা অবশ্যই করে যেতে হবে। এটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু দ্বীনী সফরই করা যাবে না পরিবার থাকায়। এমনটি ধারণা করা দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচয়।

পরিবার ছাড়া সাহাবাদের দ্বীনী সফর

রাসূল সাঃ পবিত্র স্ত্রীগণকে রেখে একত্রে ২৯ দিন অন্যত্র অবস্থান করেছেন মর্মে স্পষ্ট বর্ণনা হাদীসে এসেছে। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪৯৮৪}

রাসূল সাঃ পরিবার সঙ্গে না নিয়ে একাধিক সফর করেছেন। আর রাসূল সাঃ এর আদেশে সাহাবায়ে কেরাম রাঃ বছরের অধিক সময়ও পরিবার ছাড়া দ্বীনী সফরে রত ছিলেন। কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল,

১-

عن البراء « أن النبي صلى الله عليه وسلم بعث خالد بن الوليد إلى أهل اليمن يدعوهم إلى الإسلام ، قال البراء : فكنت فيمن خرج مع خالد بن الوليد فأقمنا ستة أشهر ندعوهم إلى الإسلام فلم يجيبوه ، ثم إن النبي صلى الله عليه وسلم بعث علي بن أبي طالب رضي الله عنه فأمره أن يقفل خالدا إلى رجل كان ممن يمم مع خالد ، ومن أحب أن يعقب مع علي فليعقب معه ، قال البراء فكنت فيمن عقب مع علي ، فلما دنونا من القوم خرجوا لنا فصلى بنا علي ثم صفنا صفا واحدا ، ثم تقدم بين أيدينا وقرأ عليهم كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ، فأسلمت همدان جمعا ، فكتب علي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بإسلامهم ، فلما قرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم الكتاب خر (1) ساجدا ، ثم رفع رأسه فقال : » السلام على همدان ، السلام على همدان « أخرجه البخاري في الصحيح مختصرا من وجه آخر عن إبراهيم بن يوسف .

অনুবাদ- হযরত বারা রাঃ বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়ামান প্রদেশে তাবলীগের উদ্দেশ্যে হযরত খালীদ ইবেন ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে পাঠান। আমিও তাঁদের সাথে ছিলাম। আমরা দীর্ঘ ৬মাস যাবত সেখানে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ অনবরত করে চলেছিলাম, কিন্তু তাদের কেউ তখনো আমাদের দাওয়াত কবুল করছিলো না। অতপর হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে রাসূল সাঃ আমীরের দায়িত্ব দিয়ে , খালীদ রাযিয়াল্লাহু কে ফিরে যেতে বলেন এবং তাঁর সাথে যারা ফিরতে চায় তারা ফিরতে পারবে আর যারা থেকে যেতে চায় তারা থাকতে পারে। আমি হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে আরো সময় বাড়িয়ে নিলাম।

অতপর, আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে নিয়ে নামাজ আদায় করলেন। পরে আমরা কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালাম, এরপরে তিনি আমাদের মাঝে এগিয়ে এসে রাসূলুল্লাহর দাওয়াতনামা পড়ে শুনালেন। সাথে সাথে হামদান গোত্রের সবাই একই সাথে ইসলাম কবুল করে নিলেন।

এই খুশির সংবাদ লিখে হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নিকট পত্র পাঠালেন। যখন রাসূল সাঃ উক্ত পত্রখানি পড়লেন, তখন সেজদায় লুটিয়ে পড়লেন। অতপর, মাথা উঠিয়ে বললেন, হামদান গোত্রের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, হামদান গোত্রের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।

অন্য রেওয়াতে আছে, উক্ত জামাত নিয়ে হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু ৪ মাস পর ফিরে এলেন, বিদায় হজ্বের সময়। অতএব, উভয় আমীরের নেতৃত্বে আমাদের সময় অতিবাহিত হলো, প্রায় ১ বৎসর। (দালায়েলুন নাবাবিয়্যাহ লিলবায়হাকী, হাদীস নং-২১৩২, হায়াতুস সাহাবাহ, ১ম খ, পৃষ্ঠাঃ ১৭৯/ ১৪০, বুখারী শরীফ ২য় খন্ড, কিতাবুল মাগাজী।

২-

হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রাঃ এর নেতৃত্বে জামাত। ১ম হিজরীর রবিউল আউয়াল মাস থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নাজরান ও ইয়ামেনে অবস্থান করেন। {বুখারী-২/৬২৩, তাবারী-৩/১২৬, ইবনে খালদুন-১/৮২৮}

৩-

হযরত আলী রাঃ এর নেতৃত্বে ১ম হিজরীতে চার মাসের সফর হামাদানও ইয়ামেনে। {বুখারী-২/৬২৩, তাবারী-৩/১৩১-১৩২, ইবনু সাআদ-২/১৬৯-১৭২}

৪-

হযরত জারীর বিন আব্দুল্লাহ রাঃ এর নেতৃত্বে বাজীলাহ ও ইয়ামানে ২ মাসের সফর। {তাবারী-৩/১৫৮, ইবনে সাআদ-২/২৬৬, ইবনে খালদুন-১/৮৪৫}

৫-

হযরত জারীর বিন ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ এর নেতৃত্বে বাজীলাহ ও ইয়ামানে ২ মাসের সফর। {ইবনে খালদুন-২/৮৪৫, তাবারী-৩/১৭৮, বুখারী-২/৬২৫}

৬-

হযরত তামীমে দারী রাঃ এর নেতৃত্বে লাখম উপগোত্রে ৪০ দিনের সফর। {ইবনে সাআদ-১/৩৪৩-৩৪৪, মাজমূআত-৪২-৪৩}

কতিপয় দ্বীন বিরোধী, ঈমানের দুশমনদের কথায় দ্বীনের কাজের ক্ষেত্রে অযথা সন্দেহ সৃষ্টি থেকে আল্লাহ পাক সকলকে হিফাযত করুন। আমীন। ছুম্মা আমীন।



আরও  বিস্তারীত  জানতে 

http://www.youtube.com/watch?v=owSwH1bx4RY&feature=youtu.be 



https://www.facebook.com/photo.php?fbid=162263760630985&set=a.162263743964320.1073741859.100005420863115&type=3&theater 


প্রশ্ন

অনেকেই বলে থাকেন যে, তাবলীগ করার জন্য আলেম হওয়ার শর্ত। তাই বর্তমান প্রচলিত তাবলীগ জামাতে সাধারণ মুসলমানগণ যে, তাবলীগ করছেন, তা ঠিক নয়। তাদের জন্য এ কাজ করা জায়েজ নয়। বরং তাবলীগ করার জন্য আলেম হওয়া শর্ত। তাই আমার প্রশ্ন হল-তাবলীগ করার জন্য কি আলেম হওয়া শর্ত?

জনৈক ব্যক্তি

ঢাকা, বাংলাদেশ

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

না, তাবলীগ করার জন্য আলেম হওয়া জরুরী নয়। তবে আলেম হলে উত্তম। এক হল হিফাযতে দ্বীন তথা দ্বীনের মৌলিকত্ব রক্ষা করা। আরেক হল ইশাআতে দ্বীন তথা দ্বীন প্রচার করা।

হিফাযতে দ্বীন তথা দ্বীনের মৌলিকত্ব রক্ষার জন্য আলেম হওয়া জরুরী। কেননা, কোন কাজ বেদআত, কোন কাজ শিরকী? কোন কাজ কুফরী? কোন কাজ হারাম? এসকল বিষয় কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে প্রাজ্ঞতা ছাড়া জানা সম্ভব নয়। তাই এসব বিষয় সমাজে প্রবিষ্ট করলে তা প্রতিরোধ করার জন্য কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে প্রাজ্ঞ উলামা প্রয়োজন। উলামা ছাড়া এসব প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

পক্ষান্তরে দ্বীন প্রচার সাধারণ মুসলমান দিয়েও হতে পারে। এ কারণেই রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছে দাও। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩২৭৪, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-১৪৯, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৪৭, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-৫৪২}

এখানে আলেম, গায়রে আলেম কাউকেই সুনির্দিষ্ট করেননি। বরং সকল মুসলমানদের উপর দায়িত্ব হল, যিনি দ্বীনের যে বিষয় জেনেছেন তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়া। এর নামইতো তাবলীগ।

আর দ্বীনের জটিল বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ ও গায়রে আলেমদের আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নির্দেশনা দিয়েছেন, যেন তারা আলেম ও ফক্বীহ মুজতাহিদদের অনুসরণ করে চলতে। নিজে নিজে মনগড়া মত প্রকাশ না করতে। ইরশাদ হচ্ছে-

فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ [١٦:٤٣]

আপনার পূর্বেও আমি প্রত্যাদেশসহ মানবকেই তাদের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে; {সুরা নাহল-৪৩}

অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে-

وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِّنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ ۖ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَىٰ أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنبِطُونَهُ مِنْهُمْ ۗ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَاتَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلَّا قَلِيلًا [٤:٨٣]তাদের কাছে যখন কোন সংবাদ আসে, তা শান্তির হোক বা ভীতির, তারা তা [যাচাই বাছাই না করেই] প্রচার শুরু করে দেয়। তারা যদি তা রাসূল বা যারা কর্তৃত্বের অধিকারী তাদের কাছে নিয়ে যেত, তবে তাদের মাঝে যারা তার তথ্য অনুসন্ধানী তারা তার বাস্তবতা জেনে নিত। {সূরা নিসা-৮৩}

কিন্তু দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে এরকম কোন বাধ্যবধকতা নেই। বরং মুর্খরাও দ্বীন প্রচার করতে পারে। যেমনটি রাসূল সাঃ এর আরো হাদীস থেকে প্রতিয়মান হয়।

যেমন রাসূল সাঃ বিদায় হজ্বের সময় উপস্থিত লাখো সাহাবাগণকে সম্বোধন করে বলেছেন- فَلْيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ তথা উপস্থিত ব্যক্তিরা অনুপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দাও। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১০৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৪৪৬, ১৩৫৪}

সুনিশ্চিতভাবে বিদায় হজ্বের ঐ ভাষণের সময় উপস্থিত সকল সাহাবাগণ আলেম ছিলেন না। কারণ সেখানে এমন ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন, যাদের অনেকেই তখন নতুন মুসলমান হয়েছেন। অনেকে রাসূল সাঃ কে সর্বপ্রথম দেখেছেন। সুতরাং তাদের আলেম হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। অথচ রাসূল সাঃ সবাইকেই দায়িত্ব দিয়েছেন, যেন তারা দ্বীনের এ দাওয়াতকে অন্যের কাছে পৌঁছে দেন।

সুতরাং এর দ্বারা একথা স্পষ্টভাবে প্রতিয়মান যে, দ্বীন প্রচারের জন্য আলেম হওয়ার দাবিটি বোকামী সূলভ দাবি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের দ্বীনের সহীহ বুঝ দান করুন।

والله اعلم بالصواب


 

রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৩

মওদুদীর আক্বিদা ও চিন্তাধারা

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মওদুদী যে কারনে আলেম সমাজের নিকট প্রত্যাখ্যাত হলেন ৷

এ ব্যপারে বলতে গেলে হয়তো অনেকে ব্যথিত হবেন ,  তবে আমি জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের ভাইদের কোনরুপ হেয় বা খাটো করার উদ্দেশে মাওলানা মওদুদীর উক্তিগুলো এখানে তুলে ধরতে চাইনা । আমি জানি, তারা এগুলো সম্পর্কে কমই জানেন অথবা তাদের জানতে দেওয়া হয়না। কেউ যদি জেনেও ফেলেন এবং বড়দের নিকট প্রকাশ করেন, তাদের এমন বোঝান হয় যে এগুলো সব শত্রুদের ষড়যন্ত্র। আবার এমনটিও বলা হয়- আমরা তো আর মাওলানা মওদুদীকে অনুসরন করিনা বা তার সব কথা মানিও না। কিন্তু একথা গ্রহনযোগ্য নয়, কারন জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের পাঠ্যসূচিতে মাওলানা মওদুদী লিখিত প্রায় সব পুস্তকই রয়েছে।
 উত্তম খাবারের সাথে যেমন সুক্ষ পরিমাণ বিষাক্ত খাবার গ্রহন করলে বাহ্যিকভাবে তার প্রভাব তেমন অনুভূত হয়না এবং ধীরে ধীরে ঐ বিষাক্ত খাবার সহনীয় হয়ে যায় তেমনি মাওলানা মওদুদীর ত্রুটিযুক্ত কথা ও কাজগুলোকেও জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের ভাইয়েরা একসময় তাদের আক্বীদায় পরিনত করেন।
‘তাফহিমুল কোরআন’কে আলেম সমাজ নিষিদ্ধের দাবী করায় বর্তমান সংস্করনগুলো থেকে কিছু আপত্তিকর কথা বাদ দেওয়া হয়েছে যদিও এতটুকুই যথেষ্ট নয়। তাছাড়া মাওলানা মওদুদী জীবিত থাকাকালীন বা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অদ্যাবধি কোন ভুল স্বীকার করে তওবা করা হয়নি। তাই মুসলিম ভাইদের ঈমানের হেফাজতের জন্য এগুলো  বর্ননা করা অত্যন্ত জরুরী মনে করছি ৷
যদি মওদুদী সাহেবের সেই ভ্রান্ত আক্বিদা থেকে পরিশুদ্ধ হয়ে আহলে সুন্নাতের আক্বিদার মতাদর্শে অনূপ্রানীত  হয়ে দ্বীন কায়েমের চেষ্টা করেন তবেই সফলতা আসবে ৷ সমগ্র পৃথিবীর ঈমান দার মুসলমানদের আক্বিদা হল
নবী-রাসুলগণ সকলেই মাসুম, তারা সকলেই নিষ্পাপ- তাদের মত পূত পবিত্র মহা মানব আল্লাহর জমিনে আকাশের নীচে আর দ্বিতীয় কেউ নেই ৷ এই হলো ইসলামী আকীদা।
 তবে জনাব আবুল আলা মওদুদী ইসলামের বদ্ধমূল এ আকীদার উপর কুঠারাঘাত করে এবং কুরআন ও সুন্নাহর চিরন্তন শিক্ষাকে পদদলিত করে আম্বিয়ায়ে কেরামের এ পূত পবিত্র জামাতের প্রতি কলংক লেপন করার উদ্দেশ্যে এমন ধৃষ্টতাপূর্ন কথা বলেছেন, যা কোন মুসলমানের পক্ষে বরদাশত করা সম্ভব নয়।  মওদুদীর এআক্বিদা - বিশ্বাস এর কথা  যদি ও জমাতের কোন কেন্দ্রিয়  ভাইয়েরা  এখন প্রকাশ্যে বলেনা তার পরও মাঝে মধ্যে তাদের অনেক নেতা কর্মিদের মুখে শুনে থাকি যে "ওরাও তো মানুষ  সে হিসাবে কেউ সমালোচনার উর্দ্ধে নয়"  ইত্যাদি  নাউযুবিল্লাহ ৷ 

এর মানে  মুখে বা জন সন্মুক্ষে প্রকাশ না করলে ও বাস্তবে তারা মওদুদীর আদর্শই বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর ৷
তাহলে আসুন সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু তথ্য জেনে নি
  { ১ }  প্রসিদ্ধ নবী দাউদ (আ.) সম্পর্কে:
“হযরত দাউদ (আ.) এর কাজের মধ্যে নফস ও আভ্যন্তরীন কুপ্রবৃত্তির কিছুটা দখল ছিল। অনুরুপভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের সাথেও তার কিছুটা সম্পর্ক ছিল। আর তা ছিল এমন ধরনের কাজ, যা হক পন্থায় শাসনকারী কোন মানুষের পক্ষেই শোভা পায়না।” [তাফহিমুল কোরআন(উর্দু):৪র্থ খন্ড, সুরা সাদ, ৩২৭পৃ. ১ম সংস্করণ, অক্টোবর ১৯৬৬ইং]
“হযরত দাউদ (আ.)ত-কালীন যুগে ইসরাঈলী সোসাইটির দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এক বিবাহিতা যুবতীর উপর আসক্ত হয়ে তাকে বিবাহ করার জন্য তার স্বামীর নিকট তালাক দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন” [তাফহিমাত ২য় খন্ড: ৪২পৃ. ২য় সংস্করণ ; নির্বাচিত রচনাবলী(বাংলা) ২য় খন্ড, ৭৩ পৃ, আধুনিক প্রকাশনী, ১ম প্রকাশ ১৯৯১ইং]
 { ২ } হযরত নূহ (আ.) সম্পর্কে:
“হযরত নূহ (আ.) চিন্তাধারার দিক থেকে দ্বীনের চাহিদা হতে দূরে সরে গিয়েছিলেন। তার মধ্যে জাহিলিয়াতের জযবা স্থান পেয়েছিল।” [তাফহিমুল কোরআন: ২য়খন্ড, ৩৪৪পৃ. ৩য় সংস্করণ, ১৯৬৪ ইং]
{ ৩ } হযরত ইউনুস (আ.) সম্পর্কে:
“হযরত ইউনুস (আ.) থেকে রিসালাতের দায়িত্ব আদায় করার ব্যাপারে কিছু দুর্বলতা হয়ে গিয়েছিল।সম্ভবত তিনি ধৈর্যহারা হয়ে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই আপন স্থান ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন।” [তাফহিমুল কোরআন: ২য়খন্ড, সূরা ইউনুস (টিকা দ্রষ্টব্য) ৩য় সংস্করণ, ১৯৬৪ ইং]
  { ৪ }  [হযরহ আদম (আ.) সম্পর্কে:
“হযরহ আদম (আ.) মানবিক দূর্বলতায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি শয়তানী প্রলোভন হতে সৃষ্ট তরি- জযবায় আত্মভোলা হয়ে নিজ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেন। ফলে আনুগত্যের উচ্চ শিখর হতে নাফারমানীর অতল গহ্বরে গিয়ে পড়েন।” [তাফহিমুল কোরআন(উর্দু): ৩য়খন্ড, ১২৩ পৃ.]
 { ৫ }  হযরত মুহাম্মাদ (স.) সম্পর্কে:
“আল্লাহ তা’য়ালার নিকট কাতর কন্ঠে এই আবেদন করুন, যে কাজের দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হয়েছিল, তা সম্পন্ন করার ব্যাপারে আপনার দ্বারা যে ভুল ত্রুটি হয়েছে কিম্বা তাতে যে অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে তা যেন তিনি ক্ষমা করে দেন।” [তাফহিমুল কোরআন (বাংলা) ১৯শ খন্ড, ২৮০পৃ. মুদ্রনে ওরিয়েন্টাল প্রেস, ঢাকা ১৯৮০ ইং; কোরআনের চারটি মৌলিক পরিভাষা(বাংলা) ১১২পৃ. ৮ম প্রকাশ, আধুনিক প্রকাশনী:জুন ২০০২]
{৬} “মহানবী (স.) মানবিক দূর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না। অর্থাৎ তিনি মানবিক দূর্বলতার বশীভূত হয়ে গুনাহ করেছিলেন।” [তরজমানুল কোরআন ৮৫ তম সংখ্যা, ২৩০পৃ.]
“মহানবী (স.) নিজে মনগ ড়া কথা বলেছেন এবং নিজের কথায় নিজেই সন্দেহ পোষন করেছেন।” [তরজমানুল কোরআন, রবিউল আউয়াল সংখ্যা, ১৩৬৫ হিজরী]
(৭) আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে মওদূদী আকীদাঃ
 আল্লাহ তা'আলা যালেম। কেননা যেক্ষেত্রে নর ও নারীর অবাধ মেলামেশা রয়েছে, সেক্ষেত্রে ব্যাভিচারের কারণে আল্লাহর নির্দেশ রজম প্রয়োগ করা নিঃসন্দেহে জুলুম। (তাফহীমাতঃ ২/২৮১)
(৮) ফেরেশতাদের সম্পর্কে মওদূদী আকীদাঃ
 ফেরেশতারা ঐসব মাখলূকের মত যাদেরকে গ্রীক, ভারত ও অন্যান্য অঞ্চলের মুশরিকরা দেব-দেবী স্থির করেছে। (তাফহীমাত)
৯) নবীগণ সম্পর্কে মওদূদী আকীদাঃ
 অন্যদের কথাতো স্বতন্ত্র, প্রায়শই পয়গম্বরগণও তাদের কুপ্রবৃত্তির মারাত্মক আক্রমণের শিকার হয়েছেন। (তাফহীমাতঃ ২/১৯৫)
(১০) নবীজী(সাঃ) সম্পর্কে মওদূদী আকীদাঃ
 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের উর্ধে নন এবং মানবীয় দূর্বলতা থেকেও মুক্ত নন। (তরজমানুল কুরআনঃ এপ্রিল ১৯৭৬)
আল্লাহ তা’য়ালার নিকট কাতর কন্ঠে এই আবেদন করুন, যে কাজের দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হয়েছিল, তা সম্পন্ন করার ব্যাপারে আপনার দ্বারা যে ভুল ত্রুটি হয়েছে কিম্বা তাতে যে অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে তা যেন তিনি ক্ষমা করে দেন।
[তাফহিমুল কোরআন (বাংলা) ১৯শ খন্ড, ২৮০পৃ. মুদ্রনে ওরিয়েন্টাল প্রেস, ঢাকা ১৯৮০ ইং; কোরআনের চারটি মৌলিক পরিভাষা(বাংলা) ১১২পৃ. ৮ম প্রকাশ, আধুনিক প্রকাশনী:জুন ২০০২]
(১১) কুরআনুল কারীম সম্পর্কে মওদূদী আকীদাঃ
"কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় এ শব্দগুলোর (ইলাহ, রব, দ্বীন, ইবাদত) যে মৌল অর্থ প্রচলিত ছিল, পরবর্তী শতকে তা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত এক একটি শব্দ ব্যাপকতা হারিয়ে একান্ত সীমিত, বরং অস্পষ্ট অর্থের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে পড়ে।" এক পৃষ্ঠা পর লিখেন- "এটা সত্য যে, কেবল এ চারটি মৌলিক পরিভাষার তাৎপর্যে আবরণ পড়ে যাওয়ার কারণেই কুরআনের তিন চতুর্থাংশের চেয়েও বেশি শিক্ষা এবং তার সত্যিকার স্পিরিটই দৃষ্টি থেকে প্রচ্ছন্ন হয়ে যায়।"
 (কুরআন কী চার বুনিয়াদী ইসতিলাহেঃ ৮-১০)
(12) হাদীস সম্পর্কে মওদূদী আকীদাঃ
 বুখারী শরীফে বর্ণিত হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও হযরত সারা (আঃ) এর ঘটনা সম্বন্ধে বলেন, "এটি একটি মিথ্যা নাটক।"
 (রাসায়েল ও মাসায়েলঃ ৩/৩৬)
হাদীস তো কতিপয় মানুষ সুত্রে বর্ণিত হয়ে কতিপয় মানুষের কাছে পৌছেছে। কাজেই এসবের সত্যতা সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাস জন্মিতে পারে না। বড়জোর ধারনা জন্মিতে পারে।
(তাফহীমাতঃ ১/৩৫৬)
(13) উসূলে হাদীস সম্পর্কে মওদূদী আকীদাঃ
 এ আধুনিক যুগে পূর্ব যুগের বাজে কথা কে শোনে?
 (তরজমানুল কুরআন ৪র্থ সংখ্যাঃ ১১১)
(14) সাহাবায়ে কিরাম সম্পর্কে মওদূদী আকীদাঃ
 সাহাবায়ে কিরাম সত্যের মাপকাঠি বলে জানবে না এবং তাদের অনুসরন করবে না।
(দস্তুরে জামাতে ইসলামীঃ ৭)
(15) দাড়ি সম্পর্কে মওদূদী আকীদাঃ
 হাদীসে শুধু দাড়ি রাখার হুকুম আছে। সুতরাং পরিমাণ যাই হোক হাদীসের উপর আমল হয়ে যাবে।
(১6) তাকলীদ সম্পর্কে মওদূদী আকীদাঃ
 আমার মতে দ্বীনী ইলমে বুৎপত্তি রাখেন এমন ব্যক্তির জন্য তাকলীদ (মাযহাবের অনুসরণ) শুধু না-জায়েয ও গোনাহ নয় বরং এর চেয়েও জঘণ্যতম।
(রাসায়েল ও মাসায়েলঃ ১/২৪৪)

এখানে আরও  মওদুদী সাহেবের  কিছু ইসলাম বিকৃতির নমুনা তুলে ধরছি। এখানে পবিত্র কুরআন, হাদীস এবং মওদুদীর বিভিন্ন লেখা ও ভাষন থেকে উদ্ধৃতি তুলে ধরা হয়েছে; এখানে পরিষ্কার যে মওদুদী জেনেশুনে ইসলামের বিকৃতি ঘটানোর অপচেষ্টা করেছে।
 আল্লাহ আমাদের এধরনের দুরাত্মার খপ্পড় থেকে রেহাই দিন।

{17 }“শাসন ও কর্তৃত্ব করার নামই হচ্ছে ধর্ম, শাসন ব্যবস্থার আইন হল শরিয়া এবং উপাসনা হচ্ছে শাসন ব্যবস্থার ঐতিহ্যকে অনুসরন করা’’ - খুতবা, পৃষ্ঠা ২১৭।

{ 18} “লোকে সাধারণত বলে ইসলামের পাচটি স্তম্ভ: এক আল্লাহর ওপর বিশ্বাস, নামাজ, যাকাত, রোযা এবং হজ্জ। এবং এ গুলোই ইসলাম, এই ভুল ধারণার মধ্যে তারা অনেকদিন ধরে আছে। আসলে এটা একটা বড় বিভ্রান্তি যা মুসলমানদের পথ এবং কর্মকে ধ্বংস করেছে।“
(কাউসার, ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫১- মওদুদীর ভাষণ থেকে উদ্ধৃত)
অথচ সহীহ বুখারী এবং মুসলিম শরীফে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে ইসলামের মূল স্তম্ভ পাচটি: ১. শাহাদাহ ২. সালাত ৩. বাধ্যতামূলক যাকাত প্রদান ৪. সাওম এবং ৫. হজ্জ।

{19}  শুধু তাই নয়, মওদুদী হাদীস শরিফের ও সমালোচনা করতে ছাড়েনি। মওদুদী এ সম্পর্কে বলেছে:
“কোন সত্যবাদী মানুষই এই দাবী করতে পারবেনা যে ৬ - ৭ হাজার হাদীসের (সহীহ বুখারী শরিফ) সবগুলোই পুরোপুরি ঠিক।“
(১৯৫৫ সালের ১৫ মে বরকত হলে মওদুদীর দেয়া ভাষণ থেকে; যা পরে আল-ইতেশাম পত্রিকায় ২৭ মে ১৯৫৫ এবং ৩ জুন ১৯৫৫ তারিখে প্রকাশিত হয়।)

{20} শুধু এই নয়, হযরত মুহাম্মদ (স) চুক্তি ভিত্তিক অস্থায়ী বিয়ে (মুতাহ) হারাম ঘোষনা করেছেন। কিন্তু মওদুদী হাস্যকর উদাহরণ টেনে তা হালাল করতে চেয়েছে:
“ধরেন সমুদ্রের মাঝে একটি নৌকা ডুবে গেল। একজন পুরুষ ও একজন মহিলা বেচে গিয়ে এক নির্জন দ্বীপে গিয়ে ওঠে। এ অবস্থায় তাদের একসাথে থাকতেই হবে। কিন্তু ইসলামী আইন মতে তারা নিকাহ করতে পারবে না। তাই তাদের কাছে যে একমাত্র রাস্তাটা খোলা আছে তা হল নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে অস্থায়ী বিয়ে করা ততদিনের জন্য যতদিন না তারা লোকালয়ে পৌছাতে পারে বা লোকেরা তাদের খুজে পায়। অস্থায়ী বিয়ে (মুতাহ) এ ক্ষেত্রে বা এর মত পরিস্থিতিতে জায়েজ।“
-তারজুমামুল কুরআন, ১৯৫৫, পৃষ্ঠা: ৩৭৯

{21} যুদ্ধবন্দী মহিলাদের ব্যাপারে মওদুদীর মতামত দেখুন:
“এমনকি বর্তমান যুগেও যুদ্ধবন্দী মহিলাদের সৈনিকদের মধে বন্টন করে দেয়া উচিৎ এবং সৈন্যদেরকে তাদের (মহিলাদের) ভোগ করার অনুমতি দেয়া উচিৎ।“
অথচ পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়া আছে। আল্লাহ বলেন:
“অবশেষে যখন তাদেরকে (কাফিরদের) পূর্ণরূপে পরাভূত কর তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে ফেল। অতঃপর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, না হয় তাদের নিকট হতে মুক্তিপণ লও (এবং মুক্তি দাও) ।”
- সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ৪

 {22} বাল্য বিবাহ নিয়ে মওদুদী বলেছে:
“নাবালিকা মেয়েদের (বয়:প্রাপ্তির আগে) বিয়ে করা যায়। স্বামীরাও তাদের সাথে সহবাস করতে পারে।“তাহফীমুল কুরআন, পঞ্চম খন্ড, পৃষ্ঠা: ৫৭১


{23}  বিভিন্ন নবী-রাসূলদের নিয়ে মওদুদীর সমালোচনার বিস্তর উদাহারণ আছে। যেমন নিচের মন্তব্যে সে হযরত ইউসুফ (আ) কে মানুষ হত্যাকারী জঘন্য মুসোলিনীর সাথে তুলনা করেছে -
“কিছু মানুষ যে ধারনা পোষণ করে যে তিনি [হযরত ইউসুফ (আ)] মিশরের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব চেয়েছিলেন শুধু সেখানকার অর্থ মন্ত্রী হবার জন্য তা আদপে ঠিক নয়; প্রকৃত পক্ষে তিনি একজন সৈরশাসক হতে চেয়েছিলেন। এমতাবস্থায় হযরত ইউসুফ (আ) যে পদ পান তা বর্তমানকালের ইতালির মুসোলিনীর অবস্থার সমতুল্য।“
- তাহফিমাত, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১২২, ৫ম সংস্করণ


 {24 } মওদুদী হযরত সুলাইমান (আ) এর ১০০ স্ত্রী থাকার ব্যাপারে মন্তব্য করেছে:
“হয় আবু হুরাইরা (রা) নবীর কথা শুনতে ভুল করেছেন অথবা তিনি পুরো ব্যাখ্যা শোনেননি।“
-রাসাইল -ও-মাসাইল, খন্ড ২, পৃষ্ঠা: ২৭
 এখন বলেন কিভাবে কোন সভ্য ও বিবেকবান মানুষ এই লোকের মতবাদে বিশ্বাস করতে পারে এবং একে ইসলাম বলে দাবী করতে পারে?
উপরোক্ত আকীদাসমূহ ছাড়াও মাওলানা মওদুদীর আরো অনেক ভ্রান্ত আকীদা রয়েছে। নমুনা হিসেবে মাত্র কয়েকটি উল্লেখ করা হল।


 মওদুদী  সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে হলে পড়ুন:
**********************************
১. ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ) -জাস্টিস তাকী উসমানী (রশীদ কল্যান ট্রাস্ট)
২. মাওলানা মওদূদীর সাথে আমার সাহচার্যের ইতিবৃত্ত – মাওলানা মনজুর নোমানী (রহঃ) (ঐ)
৩. মওদূদী সাহেব ও ইসলাম -মুফতি রশীদ আহমাদ লুধীয়ানভী (রঃ) (দারুল উলুম লাইব্রেরী-৩৭,নর্থব্রুক হল রোড, বাংলাবাজার)
৪. মওদূদীর চিন্তাধারা ও মওদূদী মতবাদ -ইজহারে হক ফাউন্ডেশান; প্রাপ্তিস্থানঃ (দারুল উলুম লাইব্রেরী-৩৭,নর্থব্রুক হল রোড, বাংলাবাজার)
৫. ফিতনায়ে মওদুদীয়াত – মাওলানা যাকারিয়া (রহ.)
৬. ভুল সংশোধন -মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)
৭. সতর্কবাণী -মাওলানা মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)
৮. হক্ব বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ্ব- আল্লামা আহমাদ শফী, হাটহাজারী।
 ৯. ঈমান ও আক্বীদা -ইসলামিক রিসার্স সেন্টার, বসুন্ধরা।
 ১০. ফতোয়ায়ে দারুল উলূম (আংশিক)
১১. বিদেশী ও স্বদেশী ফেরাকে বাতেলাহ

(আল-কাউসার প্রকাশনী, ইসলামী টাওয়ার, বাংলাবাজার, ঢাকা

 বিঃ দ্রষ্টব্য ---- জমাতের ভাইয়েরা যদি মওদুদীর ভ্রান্ত আক্বিদা পোষন না করে , ইসলামী আন্দোলন করেন {যদিও মওদুদী এ সকল আক্বিদা পোষন করতেন }আহলে সুন্নাতের আক্বিদা মোতাবেক জীবন-যাপন সহ ইসলামী আন্দোলন করেন তাহলে  কোন অসুবিধা হওয়ার কথা না ৷ আল্লাহ সকল কে হক্ব বুঝার তাওফিক দান করুন আমিন ৷

 
 

শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৩

زهور داليا النزهة مكة المكرمة للمسكات عرائيس كوش افراح تغليف هدايات و تشريع سيارات 2014 / 1435

   زهور داليا النزهة
  مكة المكرمة
  المملكة العربية السعودية 

يوجد لدينا تشريع كامل للأفراح والزواجات  و وكمن يوجد لدينا مسكات عرائيس كوش افراح  تشريع سيارات تغليف هدليات   والمعلوم ان يوجد لدينا اكثر من 10 الاف صورة / موديلات مختلفة 
     للتولصل    abdllahnezami123@gmail.com  



ডালিয়া ফ্লাওয়ার সপ্
 মক্কা মোকাররমা
 সৌদি আরব 
আমাদের কাছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডিজাইন করার মত প্রায় ১০ হাজারের উপর ডিডাইন আছে আপনাদের পছন্দ মত ডিজাইন বেছে নিতে পারেন
যোগাযোগ  ৷
abdllahnezami123@gmail.com






 
 
এটাই ডালিয়া প্লাওয়ার সপ  هذا هو زهور داليا النزهة
 
 


                                                          এটাই ডালিয়া প্লাওয়ার সপ  هذا هو زهور داليا النزهة





















ডালিয়া ফ্লাওয়ার সপ্
 মক্কা মোকাররমা
 সৌদি আরব 
আমাদের কাছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডিজাইন করার মত প্রায় ১০ হাজারের উপর ডিডাইন আছে আপনাদের পছন্দ মত ডিজাইন বেছে নিতে পারেন
যোগাযোগ  ৷
abdllahnezami123@gmail.com













































{ 1}
 স্বীয় কর্ম স্হল ডালিয়া প্লাওয়ার সপ্ মক্কা { মন নিংডানো একটি ফুলের দোকান } ছবি ব্লগ زهور داليا مكة المكرمة 
 
 
 
{ 2 } 
 
زهور داليا النزهة مكة المكرمة للمسكات عرائيس كوش افراح تغليف هدايات و تشريع سيارات 2014 / 1435
   زهور داليا النزهة
  مكة المكرمة
  المملكة العربية السعودية 
 
 
{ 3 }  
dalia flower an-nuzha makkah al-mokarramah saudi arabia
   
 
 

আপনার যে কোন অনুষ্ঠানের যেমন বিবাহ ,জন্ম দিন , সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফুল সরবরাহের জন্য আমাদের আছে প্রায় ১০,০০০ হাজারের মত ডিজাইন

মক্কা সৌদি আরব
বাংলাদেশে ওঅতি সত্বর নতুন ব্রান্স খোলা হচ্ছে
 
 
 
 
{4 } আমি ফুল ও ফুলের কাজকে মনে প্রানে ভালবাসি ও পছন্দ করি, এবং ফুলের মতই জীবন গঠতে চাই ছবি ব্লগ زهور داليا مكة المكرمة للديكورات والمسكات
আমি ফুল ও ফুলের কাজকে মনে প্রানে ভালবাসি ও পছন্দ করি , এবং ফুলের মতই জীবন গঠতে চাই  তাইতো প্রবাস জীবনের প্রথম থেকেই ফুলের দোকানেই কাজ করছি, ফুল কে ভাল বাসেনা এমন কোন লোক পৃথিবীতে আছে বলে মনে হয় না ৷

নিচে স্বীয় হাতের করা কিছু ডিজাইন আপনাদের সাথে শেয়ার না করে কৃপনতা করতে চাইনা ৷
abdullahnezami123@gmail.com